১
অন্তর বিধ্বংসী বিষয় প্রবৃত্তির অনুসরণ
লেখকঃ মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জেদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩৫
কিয়ামত দিবসের ভয়াবহ পরিণতি হতে নাজাত লাভ:
কিয়ামতের দিন মানুষের যে ভয়াবহ অবস্থা হবে তার থেকে মুক্তি পাবে। আবু হুরাইরা রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
« سَبْعَةٌ يُظلِّهُمُ الله تَعَالَى فِي ظلِهِ يَوْمَ لَا ظلَِّ إلِّا ظلِّهُ : إمَامٌ عَدْلٌ، وَشَابٌّ نَشَأ فِي عِباَدَة الله، وَرَجُلٌ قَلْبهُ مُعَلَّقٌ فِي المَسَاجِدِ، وَرَجُلَانِ تَحَابَّا فِي الله اجْتَمَعَا عَلَيْهِ وَتَفَرَّقَا عَلَيْهِ، وَرَجُلٌ دَعَتْهُ امْرَأَةٌ ذَاتُ مَنصْبٍ وَجمَالٍ فَقَالَ : إنِّي أَخَافُ الله، وَرَجُلٌ تَصَدَّقَ بِصَدَقَةٍ فَأَخْفَاهَا حَتَّى لَا تَعْلَم شِمَالُهُ مَا تُنْفِقُ يَمِينُهُ، وَرَجُلٌ ذَكَرَ الله خَالِياً فَفَاضتْ عَيْنَاهُ»
“কিয়ামতের দিন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সাত ব্যক্তিকে তার আরশের ছায়ার তলে আশ্রয় দেবেন। সেদিন আল্লাহর আরশের ছায়া ছাড়া আর কোন ছায়া থাকবে না। তারা হলেন, ন্যায় পরায়ন বাদশা, যুবক যে তার যৌবনকে আল্লাহর রাহে ব্যয় করে, যে ব্যক্তির অন্তর মসজিদের সাথে সম্পৃক্ত, দুই ব্যক্তি যারা একে অপরকে আল্লাহর জন্য ভালোবাসে। আল্লাহর ভালোবাসার ভিত্তি করে তারা একত্র হয় এবং তার উপর ভিত্তি করে তারা পৃথক হয়, এক ব্যক্তি যাকে কোন সন্দর ও সম্ভান্ত রমণী তার সাথে অপকর্মের জন্য ডাকলে সে বলে আমিতো আল্লাহকে ভয় করি। গোপনে সাদকাকারি ব্যক্তি যার বাম হাত জানে না ডান হাতে কি দান করল। যে নির্জনে বসে আল্লাহর জিকির করল এবং তার উভয় চোখ অশ্রু বিসর্জন দিল”।
আল্লামা ইবনুল কাইয়ুম রহ. বলেন, যেদিন আল্লাহর আরশের ছায়া ছাড়া আর কোন ছায়া থাকবে না, সেদিন যাদের আরশের ছায়ার তলে স্হান দেয়া হবে, তাদের বিষয়ে চিন্তা করল দেখতে পাবে, তাদের এত বড় মর্যাদা লাভের কারণ হল, তারা তাদের নফসের বিরোধিতা করত এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ হতে বিরত থাকত। কারণ, এখানে যে সাতজনের কথা বলা হয়েছে, তাদের প্রত্যেকেই নফসের বিরোধিতা করত। যেমন- ক্ষমতাশীল ও শক্তিশালী বাদশা, ইনসাফ করতে সক্ষম হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত সে তার নফসের বিরোধিতা না করবে। তার নফস তাকে ন্যায় বিচার না করতে আদেশ দেয়। কিন্তু সে তার নফসের যা চায় তার বিরোধিতা করে এবং আল্লাহর আদেশ অনুযায়ী ন্যায় বিচার করে। সুতরাং বলা বাহুল্য যে, তাকে ইনসাফ করতে হলে অবশ্যই তার নফসের বিরোধিতা করতে হবে। আর যে যুবক আল্লাহ রাব্বূল আলামীনের ভয়ে অপকর্ম হতে বিরত থাকল, তাকেও তার নফসের বিরোধিতা করতে হয়েছে। কারণ, তার নফসের বিরোধিতা ছাড়া সে তার যৌবনকে আল্লাহর রাহে কাজে লাগাতে সক্ষম হবে না। অনুরূপভাবে যে লোকটির অন্তর মসজিদের সাথে সম্পৃক্ত তাকে আজীবন তার নফসের বিরোধিতা করেই এ অভ্যাস গড়ে তুলতে হয়েছে। অন্যথায় সে দুনিয়ার ভোগ-বিলাসের সাথে সম্পৃক্ত থেকে প্রবৃত্তির স্রোতে ঘুরে বেড়াত।
আর যে ব্যক্তি গোপনে সদকা করে এবং তার ডান হাত কি দান করল তা বাম হাত জানে না ইত্যাদি তখন সম্ভব হয় যখন সে তার প্রবৃত্তির সাথে অনবরত যুদ্ধ করে। কারণ, মানবাত্মার স্বভাব হল সে সব সময় তার নিজের গুনাগুণ ও প্রশংসা শোনতে চায়। আর গোপনে সাদকাকারীকে অবশ্যই তার আত্মার চাহিদার সাথে সংগ্রাম করতে হয়। আর যাকে সুন্দর রমণী অপকর্মের দিকে ডাকার পর সে তা হতে একমাত্র আল্লাহ রাব্বূল আলামীনের ভয়ে বিরত থাকল এবং যে লোকটি একান্তে আল্লাহ রাব্বূল আলামীনের স্মরণে দু-চোখ হতে অশ্রু বিসর্জন দিল এবং নির্জনে বসে বসে কেবল আল্লাহ রাব্বূল আলামীনের ভয়ে কাঁদল, একমাত্র নফসের বিরোধিতা ও প্রবৃত্তির প্রতি অবিচার করাই তাদের এ অবস্থায় পৌঁছিয়েছে। তারা তাদের জীবনে দুনিয়াতে নফসের বিরোধিতা করেন বলেই কিয়ামতের দিন কিয়ামতের ভয়াবহতা হতে নাজাত পাবে। কিয়ামতের দিনের প্রচণ্ড উত্তাপ, গরম ও ঘাম তাদের কোন প্রকার স্পর্শ করতে পারবে না। অন্যদিকে প্রবৃত্তির পূজারীরা সেদিন অত্যন্ত অসহনীয় বিপদের মুখোমুখি হবে। প্রচণ্ড গরম ও সূর্যের তাপের কারণে তাদের ঘাম তাদের গলদেশ পর্যন্ত পৌছবে। তারা তাদের ঘামের মধ্যে সাঁতরাতে থাকবে। তারপর তারা এ ভয়াবহ শাস্তির বোঝা মাথায় নিয়ে জাহান্নামের জন্য অপেক্ষা করতে থাকবে। তারপর তাদের প্রবৃত্তির শাস্তি জেলখানায়-জাহান্নামে-তাদের প্রবেশ করানো হবে।
« سَبْعَةٌ يُظلِّهُمُ الله تَعَالَى فِي ظلِهِ يَوْمَ لَا ظلَِّ إلِّا ظلِّهُ : إمَامٌ عَدْلٌ، وَشَابٌّ نَشَأ فِي عِباَدَة الله، وَرَجُلٌ قَلْبهُ مُعَلَّقٌ فِي المَسَاجِدِ، وَرَجُلَانِ تَحَابَّا فِي الله اجْتَمَعَا عَلَيْهِ وَتَفَرَّقَا عَلَيْهِ، وَرَجُلٌ دَعَتْهُ امْرَأَةٌ ذَاتُ مَنصْبٍ وَجمَالٍ فَقَالَ : إنِّي أَخَافُ الله، وَرَجُلٌ تَصَدَّقَ بِصَدَقَةٍ فَأَخْفَاهَا حَتَّى لَا تَعْلَم شِمَالُهُ مَا تُنْفِقُ يَمِينُهُ، وَرَجُلٌ ذَكَرَ الله خَالِياً فَفَاضتْ عَيْنَاهُ»
“কিয়ামতের দিন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সাত ব্যক্তিকে তার আরশের ছায়ার তলে আশ্রয় দেবেন। সেদিন আল্লাহর আরশের ছায়া ছাড়া আর কোন ছায়া থাকবে না। তারা হলেন, ন্যায় পরায়ন বাদশা, যুবক যে তার যৌবনকে আল্লাহর রাহে ব্যয় করে, যে ব্যক্তির অন্তর মসজিদের সাথে সম্পৃক্ত, দুই ব্যক্তি যারা একে অপরকে আল্লাহর জন্য ভালোবাসে। আল্লাহর ভালোবাসার ভিত্তি করে তারা একত্র হয় এবং তার উপর ভিত্তি করে তারা পৃথক হয়, এক ব্যক্তি যাকে কোন সন্দর ও সম্ভান্ত রমণী তার সাথে অপকর্মের জন্য ডাকলে সে বলে আমিতো আল্লাহকে ভয় করি। গোপনে সাদকাকারি ব্যক্তি যার বাম হাত জানে না ডান হাতে কি দান করল। যে নির্জনে বসে আল্লাহর জিকির করল এবং তার উভয় চোখ অশ্রু বিসর্জন দিল”।
আল্লামা ইবনুল কাইয়ুম রহ. বলেন, যেদিন আল্লাহর আরশের ছায়া ছাড়া আর কোন ছায়া থাকবে না, সেদিন যাদের আরশের ছায়ার তলে স্হান দেয়া হবে, তাদের বিষয়ে চিন্তা করল দেখতে পাবে, তাদের এত বড় মর্যাদা লাভের কারণ হল, তারা তাদের নফসের বিরোধিতা করত এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ হতে বিরত থাকত। কারণ, এখানে যে সাতজনের কথা বলা হয়েছে, তাদের প্রত্যেকেই নফসের বিরোধিতা করত। যেমন- ক্ষমতাশীল ও শক্তিশালী বাদশা, ইনসাফ করতে সক্ষম হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত সে তার নফসের বিরোধিতা না করবে। তার নফস তাকে ন্যায় বিচার না করতে আদেশ দেয়। কিন্তু সে তার নফসের যা চায় তার বিরোধিতা করে এবং আল্লাহর আদেশ অনুযায়ী ন্যায় বিচার করে। সুতরাং বলা বাহুল্য যে, তাকে ইনসাফ করতে হলে অবশ্যই তার নফসের বিরোধিতা করতে হবে। আর যে যুবক আল্লাহ রাব্বূল আলামীনের ভয়ে অপকর্ম হতে বিরত থাকল, তাকেও তার নফসের বিরোধিতা করতে হয়েছে। কারণ, তার নফসের বিরোধিতা ছাড়া সে তার যৌবনকে আল্লাহর রাহে কাজে লাগাতে সক্ষম হবে না। অনুরূপভাবে যে লোকটির অন্তর মসজিদের সাথে সম্পৃক্ত তাকে আজীবন তার নফসের বিরোধিতা করেই এ অভ্যাস গড়ে তুলতে হয়েছে। অন্যথায় সে দুনিয়ার ভোগ-বিলাসের সাথে সম্পৃক্ত থেকে প্রবৃত্তির স্রোতে ঘুরে বেড়াত।
আর যে ব্যক্তি গোপনে সদকা করে এবং তার ডান হাত কি দান করল তা বাম হাত জানে না ইত্যাদি তখন সম্ভব হয় যখন সে তার প্রবৃত্তির সাথে অনবরত যুদ্ধ করে। কারণ, মানবাত্মার স্বভাব হল সে সব সময় তার নিজের গুনাগুণ ও প্রশংসা শোনতে চায়। আর গোপনে সাদকাকারীকে অবশ্যই তার আত্মার চাহিদার সাথে সংগ্রাম করতে হয়। আর যাকে সুন্দর রমণী অপকর্মের দিকে ডাকার পর সে তা হতে একমাত্র আল্লাহ রাব্বূল আলামীনের ভয়ে বিরত থাকল এবং যে লোকটি একান্তে আল্লাহ রাব্বূল আলামীনের স্মরণে দু-চোখ হতে অশ্রু বিসর্জন দিল এবং নির্জনে বসে বসে কেবল আল্লাহ রাব্বূল আলামীনের ভয়ে কাঁদল, একমাত্র নফসের বিরোধিতা ও প্রবৃত্তির প্রতি অবিচার করাই তাদের এ অবস্থায় পৌঁছিয়েছে। তারা তাদের জীবনে দুনিয়াতে নফসের বিরোধিতা করেন বলেই কিয়ামতের দিন কিয়ামতের ভয়াবহতা হতে নাজাত পাবে। কিয়ামতের দিনের প্রচণ্ড উত্তাপ, গরম ও ঘাম তাদের কোন প্রকার স্পর্শ করতে পারবে না। অন্যদিকে প্রবৃত্তির পূজারীরা সেদিন অত্যন্ত অসহনীয় বিপদের মুখোমুখি হবে। প্রচণ্ড গরম ও সূর্যের তাপের কারণে তাদের ঘাম তাদের গলদেশ পর্যন্ত পৌছবে। তারা তাদের ঘামের মধ্যে সাঁতরাতে থাকবে। তারপর তারা এ ভয়াবহ শাস্তির বোঝা মাথায় নিয়ে জাহান্নামের জন্য অপেক্ষা করতে থাকবে। তারপর তাদের প্রবৃত্তির শাস্তি জেলখানায়-জাহান্নামে-তাদের প্রবেশ করানো হবে।