১
অন্তর বিধ্বংসী বিষয় প্রবৃত্তির অনুসরণ
লেখকঃ মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জেদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২১
প্রবৃত্তি মানুষকে গোমরাহীর দিকে নিয়ে যায়:
একটি কথা অবশ্যই মনে রাখতে হবে, সব গোমরাহীর মুল হল, খারাপ ধারনা ও প্রবৃত্তির অনুসরণ করা। ধারণা মানুষকে ধ্বংস করে, মানুষের মনোবলকে দূর্বল করে এবং মানুষের মধ্যে পারস্পরিক ঐক্য ও সংঘবদ্ধতাকে বিনষ্ট করে। আর প্রবৃত্তি মানুষকে সঠিক পথ হতে দূরে সরিয়ে দেয়। যারা প্রবৃত্তির অনুসরণ করে তারা সঠিক পথের উপর থাকতে পারে না। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন গোমরাহ লোকদের সম্পর্কে বলেন,
﴿ إِنۡ هِيَ إِلَّآ أَسۡمَآءٞ سَمَّيۡتُمُوهَآ أَنتُمۡ وَءَابَآؤُكُم مَّآ أَنزَلَ ٱللَّهُ بِهَا مِن سُلۡطَٰنٍۚ إِن يَتَّبِعُونَ إِلَّا ٱلظَّنَّ وَمَا تَهۡوَى ٱلۡأَنفُسُۖ وَلَقَدۡ جَآءَهُم مِّن رَّبِّهِمُ ٱلۡهُدَىٰٓ ٢٣﴾ [ سورة النجم : 23 [.
“এগুলো কেবল কতিপয় নাম, যে নামগুলো তোমরা ও তোমাদের পিতৃপুরুষেরা রেখেছ। এ ব্যাপারে আল্লাহ কোন দলীল প্রমাণ নাযিল করেননি। তারা তো কেবল অনুমান এবং নিজেরা যা চায়, তার অনুসরণ করে। অথচ তাদের কাছে তাদের রবের পক্ষ থেকে হিদায়াত এসেছে”। [সূরা নজম, আয়াত: ২৩]
মানুষ তাদের নফসের অনুকরণ ও খারাপ ধারণার পূজা করার কারণেই গোমরাহীতে পড়ে। প্রবৃত্তির পূজা করা শুধু তাকে গোমরাহ করেই ক্ষান্ত হয় না, বরং তা অন্য লোকদের গোমরাহ করা এবং তাদের সঠিক পথের অনুকরণ করা হতে বিরত রাখে। আল্লাহ রাব্বূল আলামীন বলেন,
﴿ وَإِنَّ كَثِيرٗا لَّيُضِلُّونَ بِأَهۡوَآئِهِم بِغَيۡرِ عِلۡمٍۚ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعۡلَمُ بِٱلۡمُعۡتَدِينَ ١١٩﴾ [ سورة الأنعام : 119 [.
“এবং নিশ্চয় অনেকে না জেনে তাদের খেয়াল-খুশি দ্বারা পথভ্রষ্ট করে। নিশ্চয় তোমার রব সীমালঙ্ঘনকারীদের সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত”। [সূরা আনয়াম, আয়াত: ১১৯]
অর্থাৎ, তারা তাদের প্রবৃত্তির দ্বারা অন্য লোকদের গোমরাহ করে। কুরআন, হাদিস ও উপদেশ দ্বারা তারা কোন উপকার লাভ করে না।
প্রবৃত্তির অনুসরণ মানুষকে কুরআন বুঝা, কুরআন দ্বারা উপদেশ গ্রহণ করা ও তার বিধান দ্বারা উপকৃত হওয়া থেকে বিরত রাখে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে প্রবৃত্তির অনুসারীরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুখ থেকে সরাসরি কুরআনের তিলাওয়াত শুনত, কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা কুরআন দ্বারা কোন উপকার লাভ করতে পারেনি। তারা আল্লাহ ও তার রাসূলের উপর ঈমান আনেনি। প্রবৃত্তির অনুসরণই তাদের আল্লাহ ও তার রাসূলের উপর ঈমান আনা হতে বিরত রাখে। অনেক সময় দেখা যায়, মানুষ সত্যকে উপলব্ধি করতে পারা সত্ত্বেও তারা তা গ্রহণ করে না। কারণ, তারা তাদের প্রবৃত্তির বিরোধিতা করতে পারে না। আল্লাহ রাব্বূল আলামীন তাদের বিষয়ে বলেন,
﴿وَمِنۡهُم مَّن يَسۡتَمِعُ إِلَيۡكَ حَتَّىٰٓ إِذَا خَرَجُواْ مِنۡ عِندِكَ قَالُواْ لِلَّذِينَ أُوتُواْ ٱلۡعِلۡمَ مَاذَا قَالَ ءَانِفًاۚ أُوْلَٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ طَبَعَ ٱللَّهُ عَلَىٰ قُلُوبِهِمۡ وَٱتَّبَعُوٓاْ أَهۡوَآءَهُمۡ ١٦﴾ [ سورة محمد : 16 [.
“আর তাদের মধ্যে এমন কতক রয়েছে, যারা তোমার প্রতি মনোযোগ দিয়ে শুনে। অবশেষে যখন তারা তোমার কাছ থেকে বের হয়ে যায় তখন তারা যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে তাদের উদ্দেশ্যে বলে, ‘এই মাত্র সে কী বলল?’ এরাই তারা, যাদের অন্তরসমূহে আল্লাহ মোহর মেরে দিয়েছেন এবং তারা নিজদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করেছে”। [সূরা মুহাম্মদ, আয়াত: ১৬]
কোরআন ও সুন্নাহের প্রমাণসমূহের অনুকরণ না করা প্রমাণ করে যে, তারা ছিল প্রবৃত্তির অনুসারী। কারণ, কুরআন ও সুন্নাহ হল, মানুষের স্বভাবের অভিন্ন বস্তু। তাই কুরআন ও সুন্নাহের অনুসরণ বাদ দিয়ে প্রবৃত্তির অনুসরণ করার অর্থই হল, মানবতার বিরোধিতা করা ও চতুস্পদজন্তু জানোয়ারের স্বভাবের অনুকরণ করা। আল্লাহ রাব্বূল আলামীন আরও বলেন,
﴿فَإِن لَّمۡ يَسۡتَجِيبُواْ لَكَ فَٱعۡلَمۡ أَنَّمَا يَتَّبِعُونَ أَهۡوَآءَهُمۡۚ وَمَنۡ أَضَلُّ مِمَّنِ ٱتَّبَعَ هَوَىٰهُ بِغَيۡرِ هُدٗى مِّنَ ٱللَّهِۚ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يَهۡدِي ٱلۡقَوۡمَ ٱلظَّٰلِمِينَ ٥٠﴾ [ سورة القصص : 50 [.
“অতঃপর তারা যদি তোমার আহবানে সাড়া না দেয়, তাহলে জেনে রাখ, তারা তো নিজদের খেয়াল খুশীর অনুসরণ করে। আর আল্লাহর দিকনির্দেশনা ছাড়া যে নিজের খেয়াল খুশীর অনুসরণ করে তার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে? নিশ্চয় আল্লাহ যালিম কওমকে হিদায়াত করেন না”। [সূরা কাসাস, আয়াত: ৫০]
আলী রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি তোমাদের জন্য দুটি জিনিষ ভয় করি। এক-তোমাদের দীর্ঘ আশা, দুই-প্রবৃত্তির অনুসরণ। কারণ, লম্বা আশা মানুষকে আখিরাত বিমুখ করে আর প্রবৃত্তির অনুসরণ মানুষকে হকের অনুকরণ হতে বিরত রাখে। মনে রাখবে, দুনিয়া মানুষকে পিট দেখিয়ে পলায়ন করে আর আখিরাত মানুষের সামনে অগ্রসর হতে থাকে। আর উভয় জগতের জন্য রয়েছে, সন্তান। তোমরা আখিরাতের সন্তান হও, দুনিয়ার সন্তান হইও না। কারণ, আজকের দিন, অর্থাৎ দুনিয়ার জীবন হল কর্মস্থল এখানে কোন হিসাব নাই আর আখিরাত হল হিসাবের জায়গা সেখানে কোন কর্ম বা আমল করার সুযোগ নাই।
﴿ إِنۡ هِيَ إِلَّآ أَسۡمَآءٞ سَمَّيۡتُمُوهَآ أَنتُمۡ وَءَابَآؤُكُم مَّآ أَنزَلَ ٱللَّهُ بِهَا مِن سُلۡطَٰنٍۚ إِن يَتَّبِعُونَ إِلَّا ٱلظَّنَّ وَمَا تَهۡوَى ٱلۡأَنفُسُۖ وَلَقَدۡ جَآءَهُم مِّن رَّبِّهِمُ ٱلۡهُدَىٰٓ ٢٣﴾ [ سورة النجم : 23 [.
“এগুলো কেবল কতিপয় নাম, যে নামগুলো তোমরা ও তোমাদের পিতৃপুরুষেরা রেখেছ। এ ব্যাপারে আল্লাহ কোন দলীল প্রমাণ নাযিল করেননি। তারা তো কেবল অনুমান এবং নিজেরা যা চায়, তার অনুসরণ করে। অথচ তাদের কাছে তাদের রবের পক্ষ থেকে হিদায়াত এসেছে”। [সূরা নজম, আয়াত: ২৩]
মানুষ তাদের নফসের অনুকরণ ও খারাপ ধারণার পূজা করার কারণেই গোমরাহীতে পড়ে। প্রবৃত্তির পূজা করা শুধু তাকে গোমরাহ করেই ক্ষান্ত হয় না, বরং তা অন্য লোকদের গোমরাহ করা এবং তাদের সঠিক পথের অনুকরণ করা হতে বিরত রাখে। আল্লাহ রাব্বূল আলামীন বলেন,
﴿ وَإِنَّ كَثِيرٗا لَّيُضِلُّونَ بِأَهۡوَآئِهِم بِغَيۡرِ عِلۡمٍۚ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعۡلَمُ بِٱلۡمُعۡتَدِينَ ١١٩﴾ [ سورة الأنعام : 119 [.
“এবং নিশ্চয় অনেকে না জেনে তাদের খেয়াল-খুশি দ্বারা পথভ্রষ্ট করে। নিশ্চয় তোমার রব সীমালঙ্ঘনকারীদের সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত”। [সূরা আনয়াম, আয়াত: ১১৯]
অর্থাৎ, তারা তাদের প্রবৃত্তির দ্বারা অন্য লোকদের গোমরাহ করে। কুরআন, হাদিস ও উপদেশ দ্বারা তারা কোন উপকার লাভ করে না।
প্রবৃত্তির অনুসরণ মানুষকে কুরআন বুঝা, কুরআন দ্বারা উপদেশ গ্রহণ করা ও তার বিধান দ্বারা উপকৃত হওয়া থেকে বিরত রাখে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে প্রবৃত্তির অনুসারীরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুখ থেকে সরাসরি কুরআনের তিলাওয়াত শুনত, কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা কুরআন দ্বারা কোন উপকার লাভ করতে পারেনি। তারা আল্লাহ ও তার রাসূলের উপর ঈমান আনেনি। প্রবৃত্তির অনুসরণই তাদের আল্লাহ ও তার রাসূলের উপর ঈমান আনা হতে বিরত রাখে। অনেক সময় দেখা যায়, মানুষ সত্যকে উপলব্ধি করতে পারা সত্ত্বেও তারা তা গ্রহণ করে না। কারণ, তারা তাদের প্রবৃত্তির বিরোধিতা করতে পারে না। আল্লাহ রাব্বূল আলামীন তাদের বিষয়ে বলেন,
﴿وَمِنۡهُم مَّن يَسۡتَمِعُ إِلَيۡكَ حَتَّىٰٓ إِذَا خَرَجُواْ مِنۡ عِندِكَ قَالُواْ لِلَّذِينَ أُوتُواْ ٱلۡعِلۡمَ مَاذَا قَالَ ءَانِفًاۚ أُوْلَٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ طَبَعَ ٱللَّهُ عَلَىٰ قُلُوبِهِمۡ وَٱتَّبَعُوٓاْ أَهۡوَآءَهُمۡ ١٦﴾ [ سورة محمد : 16 [.
“আর তাদের মধ্যে এমন কতক রয়েছে, যারা তোমার প্রতি মনোযোগ দিয়ে শুনে। অবশেষে যখন তারা তোমার কাছ থেকে বের হয়ে যায় তখন তারা যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে তাদের উদ্দেশ্যে বলে, ‘এই মাত্র সে কী বলল?’ এরাই তারা, যাদের অন্তরসমূহে আল্লাহ মোহর মেরে দিয়েছেন এবং তারা নিজদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করেছে”। [সূরা মুহাম্মদ, আয়াত: ১৬]
কোরআন ও সুন্নাহের প্রমাণসমূহের অনুকরণ না করা প্রমাণ করে যে, তারা ছিল প্রবৃত্তির অনুসারী। কারণ, কুরআন ও সুন্নাহ হল, মানুষের স্বভাবের অভিন্ন বস্তু। তাই কুরআন ও সুন্নাহের অনুসরণ বাদ দিয়ে প্রবৃত্তির অনুসরণ করার অর্থই হল, মানবতার বিরোধিতা করা ও চতুস্পদজন্তু জানোয়ারের স্বভাবের অনুকরণ করা। আল্লাহ রাব্বূল আলামীন আরও বলেন,
﴿فَإِن لَّمۡ يَسۡتَجِيبُواْ لَكَ فَٱعۡلَمۡ أَنَّمَا يَتَّبِعُونَ أَهۡوَآءَهُمۡۚ وَمَنۡ أَضَلُّ مِمَّنِ ٱتَّبَعَ هَوَىٰهُ بِغَيۡرِ هُدٗى مِّنَ ٱللَّهِۚ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يَهۡدِي ٱلۡقَوۡمَ ٱلظَّٰلِمِينَ ٥٠﴾ [ سورة القصص : 50 [.
“অতঃপর তারা যদি তোমার আহবানে সাড়া না দেয়, তাহলে জেনে রাখ, তারা তো নিজদের খেয়াল খুশীর অনুসরণ করে। আর আল্লাহর দিকনির্দেশনা ছাড়া যে নিজের খেয়াল খুশীর অনুসরণ করে তার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে? নিশ্চয় আল্লাহ যালিম কওমকে হিদায়াত করেন না”। [সূরা কাসাস, আয়াত: ৫০]
আলী রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি তোমাদের জন্য দুটি জিনিষ ভয় করি। এক-তোমাদের দীর্ঘ আশা, দুই-প্রবৃত্তির অনুসরণ। কারণ, লম্বা আশা মানুষকে আখিরাত বিমুখ করে আর প্রবৃত্তির অনুসরণ মানুষকে হকের অনুকরণ হতে বিরত রাখে। মনে রাখবে, দুনিয়া মানুষকে পিট দেখিয়ে পলায়ন করে আর আখিরাত মানুষের সামনে অগ্রসর হতে থাকে। আর উভয় জগতের জন্য রয়েছে, সন্তান। তোমরা আখিরাতের সন্তান হও, দুনিয়ার সন্তান হইও না। কারণ, আজকের দিন, অর্থাৎ দুনিয়ার জীবন হল কর্মস্থল এখানে কোন হিসাব নাই আর আখিরাত হল হিসাবের জায়গা সেখানে কোন কর্ম বা আমল করার সুযোগ নাই।