১
অন্তর বিধ্বংসী বিষয় প্রবৃত্তির অনুসরণ
লেখকঃ মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জেদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪২
পরিশিষ্ট
মনে রাখতে হবে নফসের বিরোধিতা করা অত্যন্ত কঠিন কাজ, আত্মার জন্য তা অতি কষ্টদায়ক এবং শরীরের উপর অনেক চাপ। কিন্তু এর পরিণতি অত্যন্ত ভালো এবং ফলাফল খুবই মধুর। নফসের বিরোধিতা করার ফলাফল লাভ হতে একমাত্র তারাই বঞ্চিত হয়, যাদের সাহস দুর্বল ও মানসিকতা কুলসিত। আবুল আতাহিয়া রহ. বলেন,
أَشَدُّ الجِهَادِ جِهَادُ الهَوَى
وَمَا كَّرمَ المَرْءَ إِلَّا التُّقَى
“সবচেয়ে বড় যুদ্ধ হল নফসের সাথে যুদ্ধ করা। আর তাকওয়া ছাড়া একজন মানুষকে আর কিছুই সম্মান দিতে পারে না”।
অপর একজন কবি বলেন,
صَبَرْتُ علَىَ الأيَامِ حَتَّى تَوَلَّتِ
وَأَلْزَمْتُ نَفْسِي صَبْرَهَا فَاسْتَمَرَّتِ
وََما النفّْسُ إلَا حَيْثُ يجْعَلُهَا الفَتَى
فَإِنْ أُطْمِعَتْ تَاقَتْ وَإِلَّا تَسَلَّتِ
“আমি যুগের মুসিবতের উপর ধৈর্যধারণ করি, ফলে তা আমাকে পৃষ্ট পদর্শন করে। আর আমি আমার আত্মার উপর ধৈর্য ধারণ করাকে চাপিয়ে দেই, ফলে তার কখনো বিচ্যুতি ঘটেনি। আর হে যুবক তুমি মনে রাখবে, নফসের বৈশিষ্ট্য হল, তুমি তাকে যেখানে লাগাবে সে সেখানেই ব্যবহৃত হবে। যখন তুমি তাকে প্রলোভন বা যোগান দিবে তখন সে শক্তিশালী হবে, অন্যথায় সে নিস্তেজ হয়ে থাকবে”।
প্রবৃত্তির অনুসরণ না করার বড় আলামত হল, দুনিয়ার জীবনের চাকচিক্য ও সৌন্দর্য হতে বিরত থাকা। মালেক ইব্ন দীনার রহ. বলেন, যে ব্যক্তি দুনিয়ার জীবনের সৌন্দর্য ও ধোঁকা হতে দূরে থাকতে পারবে প্রকৃত পক্ষে সেই তার নফসের উপর বড় বিজয়ী বলে বিবেচিত হবে।
প্রবৃত্তির অনুসরণ করা শুধু মূর্খ-জাহেল বা বাচ্চাদের বৈশিষ্ট্য নয় যা তাদের পথহারা করে বরং প্রবৃত্তির অনুসরণ সব ধরনের মানুষের বৈশিষ্ট্য। এমনকি আলেম-ওলামা, জ্ঞানী, বুদ্ধিজীবী ও পরামর্শক সব ধরনের লোকের অন্তরে প্রবৃত্তি বা খারাপ আত্মা বিদ্যমান থাকে। নারী-পুরুষ, ছোট-বড়, আবাল-বৃদ্ধা কেউ নফস বা প্রবৃত্তির চাহিদা হতে নিরাপদ নয়।
কোন এক জ্ঞানী বলেছিল, একজন অভিজ্ঞ, বুদ্ধিজীবী ও জ্ঞানী সেও অপরের থেকে পরামর্শ গ্রহণ করতে বাধ্য যাতে সে তার মতামতকে তার নফসের প্রভাব থেকে মুক্ত করতে পারে।
সুতরাং, কেউ এ কথা বলতে পারবে না যে, প্রবৃত্তির অনুসরণ হতে যে নিষেধ করা হয়েছে, আমি তার আওতার বাহিরে। কারণ, আমিতো প্রবৃত্তির অনুসরণ করি না। মনসুর আল-ফকীহ রহ. বলেন,
إنَِّ المَرَائِيَ لَا تُرِيكَ خُدُوشَ وَجْهِكَ فِي صَدَاهَا
وَكَذَاكَ نَفْسُكَ لَا تُرِيكَ عُيُوبَ نَفْسِكَ فِي هَوَاهَا
তোমার চেহারায় যে সব দাগ রয়েছে তা তুমি প্রত্যক্ষ করতে পারবে না। [বরং তোমার চেহারার দাগগুলো অপরের চোখে প্রদর্শিত হবে।] অনুরূপভাবে তুমি তোমার নফসের দোষ-ত্রুটিগুলো কখনোই দেখতে পারবে না। [অপরের নিকট তা অবশ্যই ধরা পড়বে।]
অনেক সময় দেখা যায় আমরা যাদের সবচেয়ে জ্ঞানী, বুদ্ধিমান ও দ্বীনদার বলে বিবেচনা করি সেও তার নফসের ধোঁকায় পড়ে এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ হতে বিরত থাকতে পারে না।
আমরা আল্লাহ রাব্বূল আলামীনের দরবারে কামনা করি আল্লাহ রাব্বূল আলামীন যেন আমাদের প্রবৃত্তির অনুসরণের উপকরণ থেকে রক্ষা করে, আর আমাদের থেকে গোমরাহিকে দূর করে এবং আমাদের যেন তিনি ভালো ও সৎ কাজ করার তাওফিক দান করে।
وصلى الله وسلم على نبينا محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين .
মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জেদ
أَشَدُّ الجِهَادِ جِهَادُ الهَوَى
وَمَا كَّرمَ المَرْءَ إِلَّا التُّقَى
“সবচেয়ে বড় যুদ্ধ হল নফসের সাথে যুদ্ধ করা। আর তাকওয়া ছাড়া একজন মানুষকে আর কিছুই সম্মান দিতে পারে না”।
অপর একজন কবি বলেন,
صَبَرْتُ علَىَ الأيَامِ حَتَّى تَوَلَّتِ
وَأَلْزَمْتُ نَفْسِي صَبْرَهَا فَاسْتَمَرَّتِ
وََما النفّْسُ إلَا حَيْثُ يجْعَلُهَا الفَتَى
فَإِنْ أُطْمِعَتْ تَاقَتْ وَإِلَّا تَسَلَّتِ
“আমি যুগের মুসিবতের উপর ধৈর্যধারণ করি, ফলে তা আমাকে পৃষ্ট পদর্শন করে। আর আমি আমার আত্মার উপর ধৈর্য ধারণ করাকে চাপিয়ে দেই, ফলে তার কখনো বিচ্যুতি ঘটেনি। আর হে যুবক তুমি মনে রাখবে, নফসের বৈশিষ্ট্য হল, তুমি তাকে যেখানে লাগাবে সে সেখানেই ব্যবহৃত হবে। যখন তুমি তাকে প্রলোভন বা যোগান দিবে তখন সে শক্তিশালী হবে, অন্যথায় সে নিস্তেজ হয়ে থাকবে”।
প্রবৃত্তির অনুসরণ না করার বড় আলামত হল, দুনিয়ার জীবনের চাকচিক্য ও সৌন্দর্য হতে বিরত থাকা। মালেক ইব্ন দীনার রহ. বলেন, যে ব্যক্তি দুনিয়ার জীবনের সৌন্দর্য ও ধোঁকা হতে দূরে থাকতে পারবে প্রকৃত পক্ষে সেই তার নফসের উপর বড় বিজয়ী বলে বিবেচিত হবে।
প্রবৃত্তির অনুসরণ করা শুধু মূর্খ-জাহেল বা বাচ্চাদের বৈশিষ্ট্য নয় যা তাদের পথহারা করে বরং প্রবৃত্তির অনুসরণ সব ধরনের মানুষের বৈশিষ্ট্য। এমনকি আলেম-ওলামা, জ্ঞানী, বুদ্ধিজীবী ও পরামর্শক সব ধরনের লোকের অন্তরে প্রবৃত্তি বা খারাপ আত্মা বিদ্যমান থাকে। নারী-পুরুষ, ছোট-বড়, আবাল-বৃদ্ধা কেউ নফস বা প্রবৃত্তির চাহিদা হতে নিরাপদ নয়।
কোন এক জ্ঞানী বলেছিল, একজন অভিজ্ঞ, বুদ্ধিজীবী ও জ্ঞানী সেও অপরের থেকে পরামর্শ গ্রহণ করতে বাধ্য যাতে সে তার মতামতকে তার নফসের প্রভাব থেকে মুক্ত করতে পারে।
সুতরাং, কেউ এ কথা বলতে পারবে না যে, প্রবৃত্তির অনুসরণ হতে যে নিষেধ করা হয়েছে, আমি তার আওতার বাহিরে। কারণ, আমিতো প্রবৃত্তির অনুসরণ করি না। মনসুর আল-ফকীহ রহ. বলেন,
إنَِّ المَرَائِيَ لَا تُرِيكَ خُدُوشَ وَجْهِكَ فِي صَدَاهَا
وَكَذَاكَ نَفْسُكَ لَا تُرِيكَ عُيُوبَ نَفْسِكَ فِي هَوَاهَا
তোমার চেহারায় যে সব দাগ রয়েছে তা তুমি প্রত্যক্ষ করতে পারবে না। [বরং তোমার চেহারার দাগগুলো অপরের চোখে প্রদর্শিত হবে।] অনুরূপভাবে তুমি তোমার নফসের দোষ-ত্রুটিগুলো কখনোই দেখতে পারবে না। [অপরের নিকট তা অবশ্যই ধরা পড়বে।]
অনেক সময় দেখা যায় আমরা যাদের সবচেয়ে জ্ঞানী, বুদ্ধিমান ও দ্বীনদার বলে বিবেচনা করি সেও তার নফসের ধোঁকায় পড়ে এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ হতে বিরত থাকতে পারে না।
আমরা আল্লাহ রাব্বূল আলামীনের দরবারে কামনা করি আল্লাহ রাব্বূল আলামীন যেন আমাদের প্রবৃত্তির অনুসরণের উপকরণ থেকে রক্ষা করে, আর আমাদের থেকে গোমরাহিকে দূর করে এবং আমাদের যেন তিনি ভালো ও সৎ কাজ করার তাওফিক দান করে।
وصلى الله وسلم على نبينا محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين .
মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জেদ