১
অন্তর বিধ্বংসী বিষয় প্রবৃত্তির অনুসরণ
লেখকঃ মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জেদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৯
প্রবৃত্তির অনুসরণ স্বাভাবিক জীবন-যাপন ব্যাহত করা ও মানুষের রোষানলে পড়ার কারণ:
একটি কথা অবশ্যই মনে রাখতে হবে, প্রবৃত্তির অনুসরণের কারণেই মানুষের মধ্যে হিংসা, বিদ্বেষ, অন্যায়, অনাচার ও দুশমনি সৃষ্টি হয়। প্ক্ষান্তরে যে ব্যক্তি তার প্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে বিরত থাকে এবং তার বিরোধিতা করে, সে তার দেহ, মন ও যাবতীয় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে শান্তি দেয়। তাকে এদিক সেদিক ছুটাছুটি করতে হয় না। আর যে ব্যক্তি তার প্রবৃত্তির অনুসরণ করল, সে যেন একটি দুর্বিষহ জীবন যাপন করল। সে কোথাও কোন প্রকার শান্তি পায় না। সব সময় দুশ্চিন্তা ও হতাশায় লিপ্ত থাকে। তার পেরেশানির কোন অন্ত থাকে না। সে মানুষকে খারাপ জানবে আর মানুষ তাকে খারাপ জানবে। তার জীবনে বিপর্যয় ছাড়া কিছুই জুটবে না। তার চাহিদার শেষ নাই। যাদের চাহিদা যত বেশি হবে, সে ততবেশি অশান্তি ভোগ করবে।
ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, তোমরা তোমাদের নফসকে তার চাহিদা থেকে ফিরিয়ে রাখ। কারণ, নফস হল এমন একটি চালক, যে তোমাকে অতীব এমন খারাপ পরিণতির দিকে নিয়ে যাবে, যার থেকে মুক্তি পাওয়ার মত কোন উপায় তোমার থাকবে না। মনে রাখবে সত্য খুব ভারি ও কঠিন, সত্যের দায়িত্ব মহান। যারা সত্যের দিশারী হয়, তাদের অবশ্যই গুরু দায়িত্ব পালন করতে হয়। আর বাতিল খুব সহনীয় ও সহজলভ্য। এর জন্য খুব কষ্ট করতে হয় না। দুনিয়ার শ্রোতের সাথে গা বাসিয়ে দিলেই চলে। বর্তমান যুগটাই হল, খারাপের যুগ। এ যুগে গুনাহ, অন্যায়, অনাচারকে সহজ করে দেয়া হয়েছে। শয়তান মানুষের জন্য অপরাধকে সুশোভিত করে দিয়েছে এবং গুনাহের যাবতীয় উপকরণ মানুষের দোরগড়ায় পৌঁছে দিয়েছে। আর গুনাহের কাজ ছেড়ে দেয়া, তাওবার মাধ্যমে প্রতিকার করা হতে উত্তম। অনেকে মনে করে আমরা এখন গুনাহ করব, তারপর তাওবা করে আল্লাহর নিকট ক্ষমা চেয়ে নিব। তাদের এ ধরনের ধারণা ভ্রান্ত ও বাতিল। আর অনেক দৃষ্টি আছে মানুষের অন্তরে প্রেমের বীজ বপন করে। সুতরাং, খারাপ বস্তু থেকে দৃষ্টিকে ফিরিয়ে রাখতে হবে। কারণ, দৃষ্টিকে শয়তানের তীর বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তীর দিয়ে যেমন শিকার করা হয়, অনুরুপভাবে দৃষ্টির মাধ্যমে মানুষ অন্যায় অপকর্ম শিকার করে। আর সামান্য সময়ের জন্য প্রবৃত্তিতে লিপ্ত হওয়া তোমার মধ্যে দীর্ঘকালের জন্য পেরেশানি ও দুশ্চিন্তা সৃষ্টি করবে। অর্থাৎ, তুমি হয়ত অল্প সময় উপভোগ করবে, কিন্তু তা তোমার জন্য খুব তিক্ত পরিণতি ডেকে আনবে। তোমাকে আমরণ তার যন্ত্রনা সইতে হবে। আল্লাহ আমাদের হেফাযত করুক।
আবু বকর আল-ওররাক রহ. বলেন, যখন মানুষের উপর প্রবৃত্তি প্রাধান্য বিস্তার করে, তখন তার অন্তর আচ্ছন্ন হয়। আর যখন অন্তর আচ্ছন্ন হয়, তখন তার আত্মা সংকীর্ণ ও ব্যাধিগ্রস্ত হয়। আর যখন আত্মা ব্যাধিগ্রস্ত হয়, তার চরিত্র খারাপ হয়। আর যখন চরিত্র খারাপ হয়, তখন সমগ্র মাখলুক তাকে খারাপ জানবে। আর যখন মানুষ তাকে খারাপ জানবে তখন সেও মানুষকে খারাপ জানবে। তারপর যখন মানুষ বুড়ো হয় এবং শাইখের বয়সে উপনীত হয়, তখন সে তার প্রবৃত্তির অনুসরণ করার পরিণতি জানতে পারবে। সে তখন বুঝতে পারবে তার অতীত কত মূল্যবান ছিল। কোন এক কবি বলেন,
مَآرِبُ كَانَتْ فِي الشَّبَابِ لَأهْلِهَا
عِذَابُ فَصَارَتْ فِي المَشِيبِ عَذَاباً
অর্থাৎ, যখন একজন মানুষ জোয়ান ছিল, তখন তার নিকট যৌন চাহিদা ও মানবিক চাহিদাগুলো খুব মিষ্টি ও মধুর ছিল এবং অতীব সুন্দর ছিল। কিন্তু যখন সে যৌবনকে পাড়ি দিয়ে, বার্ধক্যে পৌঁছল, তখন তা তিক্ততা ও অশান্তিতে রূপ নিলো।
ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, তোমরা তোমাদের নফসকে তার চাহিদা থেকে ফিরিয়ে রাখ। কারণ, নফস হল এমন একটি চালক, যে তোমাকে অতীব এমন খারাপ পরিণতির দিকে নিয়ে যাবে, যার থেকে মুক্তি পাওয়ার মত কোন উপায় তোমার থাকবে না। মনে রাখবে সত্য খুব ভারি ও কঠিন, সত্যের দায়িত্ব মহান। যারা সত্যের দিশারী হয়, তাদের অবশ্যই গুরু দায়িত্ব পালন করতে হয়। আর বাতিল খুব সহনীয় ও সহজলভ্য। এর জন্য খুব কষ্ট করতে হয় না। দুনিয়ার শ্রোতের সাথে গা বাসিয়ে দিলেই চলে। বর্তমান যুগটাই হল, খারাপের যুগ। এ যুগে গুনাহ, অন্যায়, অনাচারকে সহজ করে দেয়া হয়েছে। শয়তান মানুষের জন্য অপরাধকে সুশোভিত করে দিয়েছে এবং গুনাহের যাবতীয় উপকরণ মানুষের দোরগড়ায় পৌঁছে দিয়েছে। আর গুনাহের কাজ ছেড়ে দেয়া, তাওবার মাধ্যমে প্রতিকার করা হতে উত্তম। অনেকে মনে করে আমরা এখন গুনাহ করব, তারপর তাওবা করে আল্লাহর নিকট ক্ষমা চেয়ে নিব। তাদের এ ধরনের ধারণা ভ্রান্ত ও বাতিল। আর অনেক দৃষ্টি আছে মানুষের অন্তরে প্রেমের বীজ বপন করে। সুতরাং, খারাপ বস্তু থেকে দৃষ্টিকে ফিরিয়ে রাখতে হবে। কারণ, দৃষ্টিকে শয়তানের তীর বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তীর দিয়ে যেমন শিকার করা হয়, অনুরুপভাবে দৃষ্টির মাধ্যমে মানুষ অন্যায় অপকর্ম শিকার করে। আর সামান্য সময়ের জন্য প্রবৃত্তিতে লিপ্ত হওয়া তোমার মধ্যে দীর্ঘকালের জন্য পেরেশানি ও দুশ্চিন্তা সৃষ্টি করবে। অর্থাৎ, তুমি হয়ত অল্প সময় উপভোগ করবে, কিন্তু তা তোমার জন্য খুব তিক্ত পরিণতি ডেকে আনবে। তোমাকে আমরণ তার যন্ত্রনা সইতে হবে। আল্লাহ আমাদের হেফাযত করুক।
আবু বকর আল-ওররাক রহ. বলেন, যখন মানুষের উপর প্রবৃত্তি প্রাধান্য বিস্তার করে, তখন তার অন্তর আচ্ছন্ন হয়। আর যখন অন্তর আচ্ছন্ন হয়, তখন তার আত্মা সংকীর্ণ ও ব্যাধিগ্রস্ত হয়। আর যখন আত্মা ব্যাধিগ্রস্ত হয়, তার চরিত্র খারাপ হয়। আর যখন চরিত্র খারাপ হয়, তখন সমগ্র মাখলুক তাকে খারাপ জানবে। আর যখন মানুষ তাকে খারাপ জানবে তখন সেও মানুষকে খারাপ জানবে। তারপর যখন মানুষ বুড়ো হয় এবং শাইখের বয়সে উপনীত হয়, তখন সে তার প্রবৃত্তির অনুসরণ করার পরিণতি জানতে পারবে। সে তখন বুঝতে পারবে তার অতীত কত মূল্যবান ছিল। কোন এক কবি বলেন,
مَآرِبُ كَانَتْ فِي الشَّبَابِ لَأهْلِهَا
عِذَابُ فَصَارَتْ فِي المَشِيبِ عَذَاباً
অর্থাৎ, যখন একজন মানুষ জোয়ান ছিল, তখন তার নিকট যৌন চাহিদা ও মানবিক চাহিদাগুলো খুব মিষ্টি ও মধুর ছিল এবং অতীব সুন্দর ছিল। কিন্তু যখন সে যৌবনকে পাড়ি দিয়ে, বার্ধক্যে পৌঁছল, তখন তা তিক্ততা ও অশান্তিতে রূপ নিলো।