১
অন্তর বিধ্বংসী বিষয় প্রবৃত্তির অনুসরণ
লেখকঃ মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জেদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩২
প্রবৃত্তির অনুসরণ অপমান অপধস্তের কারণ:
আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক রহ. বলেন,
وَمنَ البَلَاءِ وَللْبلَاءِ عَلَامَةٌ
أَنْ لَا تَرَى لَكَ عَنْ هَوَاكَ نُزُوعُ
العَبْدُ عَبْدُ النفَّسِ فِي شَهَوَاتهَ
وَالحُرُّ يَشْبَعُ مَرَّةً وَيَجُوعُ
“বিপদ শুধু বিপদ নয়, বরং সুস্পষ্ট বিপদ, যার আলামত হল, তুমি কখনোই তোমার প্রবৃত্তি থেকে বের হতে পারবে না। আর পরাধীন সে ব্যক্তি যে তার নফসের গোলামী করে এবং নফসের চাহিদা হতে বের হতে পারে না। আর স্বাধীন সে ব্যক্তি যে এক সময় পেট ভরে খায়, আবার ক্ষুধায় কষ্ট পায়”।
কোন এক হাকীমকে প্রবৃত্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে, সে বলে প্রবৃত্তি হল ‘হাওয়ানুন’ অর্থাৎ অপমান, তা হতে শুধু নুন শব্দকে বাদ দেয়া হয়েছে। একই অর্থ একজন কবি তার আবৃত্তিতে উল্লেখ করেন এবং তিনি বলেন,
نُونُ الهَوَانِ مِنَ الهَوَى مَسْرُوقَةٌ
فَإِذَا هَوَيْتَ فَقَدْ لَقِيتَ هَوَانَا
“হাওয়ানুন শব্দটি হাওয়া শব্দ থেকে নির্গত, তার নুনকে চুরি করা হয়েছে। যখত তুমি নফসের চাহিদা মেটাতে যাও, তখন তুমি অবশ্যই হাওয়ানুন অর্থাৎ, অপমান ও লাঞ্চনার মুখোমুখি হবে”।
অপর একজন কবি বলেন,
وَلَقَدْ رَأَيْتُ مَعَاشراً جَمَحَتْ بِهِمْ
تِلْكَ الطَّبِيعَةُ نَحْوَ كُلِّ تَبَارِ
تْهوَى نُفُوسُهُمُ هَوَى أَجْسَامِهِمْ
شُغْلاً بِكلِّ دَنَاءَةٍ وَصَغَارِ
تَبعِوا الهَوَى فَهَوَى بِهِمْ وَكَذَا الهَوَى
مِنْهُ الهَوَانُ بِأَهْلِهِ فَحَذَارِ
فَانْظُرْ بِعَيْنِ الحَقِّ لَا عَيْنَ الهَوَى
فَالحَقُّ لِلْعَينِ الجَلِيَّةِ عَارِي
قَادَ الهَوَى الفُجَّارَ فَانْقَادُوا لَهُ
وأبتْ عَلَيْهِ مَقَادَةُ الأبْرَارِ
অর্থ, আমি একটি জামাতকে দেখলাম তাদের স্বভাব বা নফস তাদের যাবতীয় সব ধ্বংস এ সর্বনাশী কর্মের প্রতি বাধ্য করে, তাদের নফস শত অপমান, অপদস্ত ও বঞ্চনা সত্বেও তাদের দেহের চাহিদা মেটাতে সচেষ্ট থাকে। তারা তাদের নফসের অনুকরণ করল, ফলে তারা নফসের চাহিদা নিয়েই তারা ব্যস্ত থাকতে থাকল। আর তাদের প্রবৃত্তি তাদের জন্য কেবল অপমান ও লাঞ্চনাই বয়ে আনল, কোন সুফল দেখাতে পারল না। তুমি তোমার সঠিক দৃষ্টি দিয়ে চিন্তা করে দেখ, প্রবৃত্তির দৃষ্টি দিয়ে নয়। আম মনে রাখবে, সত্য, সত্যের অনুসন্ধানকারীদের সামনে একেবারেই স্পষ্ট ও উম্মুক্ত। ফাজের লোককে তার নফস সব সময় অন্যায়ের দিকে টানতে থাকে। ফলে তারা তারই অনুসরণ করে। আর যারা সত্যিকার জ্ঞানী তারা তাদের নফসের চাহিদা মেটাতে অস্বীকার করে এবং নফসের চাহিদাকে প্রত্যাখ্যান করে।
ওমর ইব্ন আব্দুল আজীজ রহ. বলেন, সর্বোত্তম জিহাদ হল, নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ করা। আর সুফিয়ান সাওরী রহ. বলেন, সবচেয়ে বড় বাহাদুর ব্যক্তি হল, যে ব্যক্তি তার প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে সর্বাধিক বেশি কঠোর হয়। মনে রাখবে, কোন কিছুকে ছোট মনে করা ধ্বংস ডেকে আনে। অন্তরের ব্যাধিসমূহের সত্যিকার চিকিৎসা ও প্রতিষেধক হল, প্রবৃত্তির বিরোধিতা করা।
সাহাল ইব্ন আব্দুল্লাহ রহ. বলেন, তোমার প্রবৃত্তি হল তোমার অন্তরের রোগ। আর যখন তুমি তোমার প্রবৃত্তির বিরোধিতা করবে তখন তা হবে চিকিৎসা।
সুতরাং বান্দা হিসেবে আমাদের উচিত হল, নফসের বিরোধিতা করা। আর নফসের বিরোধিতার অন্তরের চিকিৎসা করতে হবে।
وَمنَ البَلَاءِ وَللْبلَاءِ عَلَامَةٌ
أَنْ لَا تَرَى لَكَ عَنْ هَوَاكَ نُزُوعُ
العَبْدُ عَبْدُ النفَّسِ فِي شَهَوَاتهَ
وَالحُرُّ يَشْبَعُ مَرَّةً وَيَجُوعُ
“বিপদ শুধু বিপদ নয়, বরং সুস্পষ্ট বিপদ, যার আলামত হল, তুমি কখনোই তোমার প্রবৃত্তি থেকে বের হতে পারবে না। আর পরাধীন সে ব্যক্তি যে তার নফসের গোলামী করে এবং নফসের চাহিদা হতে বের হতে পারে না। আর স্বাধীন সে ব্যক্তি যে এক সময় পেট ভরে খায়, আবার ক্ষুধায় কষ্ট পায়”।
কোন এক হাকীমকে প্রবৃত্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে, সে বলে প্রবৃত্তি হল ‘হাওয়ানুন’ অর্থাৎ অপমান, তা হতে শুধু নুন শব্দকে বাদ দেয়া হয়েছে। একই অর্থ একজন কবি তার আবৃত্তিতে উল্লেখ করেন এবং তিনি বলেন,
نُونُ الهَوَانِ مِنَ الهَوَى مَسْرُوقَةٌ
فَإِذَا هَوَيْتَ فَقَدْ لَقِيتَ هَوَانَا
“হাওয়ানুন শব্দটি হাওয়া শব্দ থেকে নির্গত, তার নুনকে চুরি করা হয়েছে। যখত তুমি নফসের চাহিদা মেটাতে যাও, তখন তুমি অবশ্যই হাওয়ানুন অর্থাৎ, অপমান ও লাঞ্চনার মুখোমুখি হবে”।
অপর একজন কবি বলেন,
وَلَقَدْ رَأَيْتُ مَعَاشراً جَمَحَتْ بِهِمْ
تِلْكَ الطَّبِيعَةُ نَحْوَ كُلِّ تَبَارِ
تْهوَى نُفُوسُهُمُ هَوَى أَجْسَامِهِمْ
شُغْلاً بِكلِّ دَنَاءَةٍ وَصَغَارِ
تَبعِوا الهَوَى فَهَوَى بِهِمْ وَكَذَا الهَوَى
مِنْهُ الهَوَانُ بِأَهْلِهِ فَحَذَارِ
فَانْظُرْ بِعَيْنِ الحَقِّ لَا عَيْنَ الهَوَى
فَالحَقُّ لِلْعَينِ الجَلِيَّةِ عَارِي
قَادَ الهَوَى الفُجَّارَ فَانْقَادُوا لَهُ
وأبتْ عَلَيْهِ مَقَادَةُ الأبْرَارِ
অর্থ, আমি একটি জামাতকে দেখলাম তাদের স্বভাব বা নফস তাদের যাবতীয় সব ধ্বংস এ সর্বনাশী কর্মের প্রতি বাধ্য করে, তাদের নফস শত অপমান, অপদস্ত ও বঞ্চনা সত্বেও তাদের দেহের চাহিদা মেটাতে সচেষ্ট থাকে। তারা তাদের নফসের অনুকরণ করল, ফলে তারা নফসের চাহিদা নিয়েই তারা ব্যস্ত থাকতে থাকল। আর তাদের প্রবৃত্তি তাদের জন্য কেবল অপমান ও লাঞ্চনাই বয়ে আনল, কোন সুফল দেখাতে পারল না। তুমি তোমার সঠিক দৃষ্টি দিয়ে চিন্তা করে দেখ, প্রবৃত্তির দৃষ্টি দিয়ে নয়। আম মনে রাখবে, সত্য, সত্যের অনুসন্ধানকারীদের সামনে একেবারেই স্পষ্ট ও উম্মুক্ত। ফাজের লোককে তার নফস সব সময় অন্যায়ের দিকে টানতে থাকে। ফলে তারা তারই অনুসরণ করে। আর যারা সত্যিকার জ্ঞানী তারা তাদের নফসের চাহিদা মেটাতে অস্বীকার করে এবং নফসের চাহিদাকে প্রত্যাখ্যান করে।
ওমর ইব্ন আব্দুল আজীজ রহ. বলেন, সর্বোত্তম জিহাদ হল, নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ করা। আর সুফিয়ান সাওরী রহ. বলেন, সবচেয়ে বড় বাহাদুর ব্যক্তি হল, যে ব্যক্তি তার প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে সর্বাধিক বেশি কঠোর হয়। মনে রাখবে, কোন কিছুকে ছোট মনে করা ধ্বংস ডেকে আনে। অন্তরের ব্যাধিসমূহের সত্যিকার চিকিৎসা ও প্রতিষেধক হল, প্রবৃত্তির বিরোধিতা করা।
সাহাল ইব্ন আব্দুল্লাহ রহ. বলেন, তোমার প্রবৃত্তি হল তোমার অন্তরের রোগ। আর যখন তুমি তোমার প্রবৃত্তির বিরোধিতা করবে তখন তা হবে চিকিৎসা।
সুতরাং বান্দা হিসেবে আমাদের উচিত হল, নফসের বিরোধিতা করা। আর নফসের বিরোধিতার অন্তরের চিকিৎসা করতে হবে।