hadith book logo

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি নূরের তৈরি

লেখকঃ শাইখ আব্দুর রাকীব (মাদানী) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৪

‘‘বাশার’’ শব্দের অপব্যাখ্যা

প্রিয় পাঠকবৃন্দ! আয়াতে বর্ণিত ‘‘বাশার’’ শব্দের অর্থ ‘‘মানুষ’’। কিন্তু নূরী ভাইয়েরা যেন কসম খেয়ে বসেছে যে নবীজীকে নূরের প্রমাণ করাতেই হবে। আর সে কারণে তারা এই শব্দটির অপব্যাখ্যা করতেও দ্বিধা করেন না। এই আয়াতটি যখন তাদের সামনে পেশ করা হয় তখন অনেকেই বলে যে, ‘বাশার’ মানে যে শুধু মানুষ তা কে বলল? বাশারের মানে তো চামড়াও হয় এবং এখানে চামড়াকেই বুঝান হয়েছে। সে কারণে নবী (সাঃ) এর শরীরের উপরাংশ চামড়া দিয়ে আবৃত ছিল আর ভিতরটা ছিল নূরের।

এবার ‘বাশার’ শব্দের অর্থ আরবী অভিধান হতে তুলে ধরা হলঃ বিশিষ্ট অভিধানিক ফিরূযাবাদী, আলকামুস আল মুহীতে বলেনঃ

‘‘আলবাশার’’ অর্থাৎ ইনসান বা মানুষ, পুংলিঙ্গ স্ত্রীলিঙ্গ, এক বচন দ্বীবচন এবং বহুবচন সব ক্ষেত্রে একই ভাবে ব্যবহৃত হয়। কোন কোন সময় দ্বীবচন ও বহুবচন লক্ষ্য করা যায়। বহু বচনে বলা হয় ‘আবশার’। এবং বাশার শব্দটি চামড়ার অর্থেও ব্যবহার হয়। (আল কামুস আল মুহীত, বাবুর রা, ফাসলুল বা, পৃঃ ৪৪৭) অনুরূপ দেখুন, আল মুজাম আল ওয়াসীত ১ম খন্ড পৃঃ ৫৮। তবে তিনি চামড়ার অর্থবোধক শব্দ আলাদা করে বন্ধনীর মধ্যে ‘‘আলবাশারাহ’’ লিখেছেন। মোট কথাঃ- যে কোন আরবী অভিধান খুললেই ‘বাশার’ শব্দের অর্থ ইনসান বা মানুষ রূপে পাওয়া যায়। আর উপ অর্থ চামড়া লক্ষ্য করা যায়। এখন কথা হল আসল অর্থ নেব না গৌণ অর্থ নেব? তর্কের খাতিরে উপঅর্থ চামড়া ধরেই নিলাম কিন্তু এই অর্থে কুরআন মজীদের আয়াতটি কি ব্যবহৃত হয়েছে? চামড়ার অর্থ নিলে আয়াতটির অনুবাদ হবে এই রকমঃ (হ নবী তুমি বলে দাও। আমি তো তোমাদের মতই এক চামড়া…) আর আসল অর্থ নিলে অর্থ হবেঃ (আমি তো তোমাদের মতই একজন মানুষ…)। প্রথম অর্থটি একটি বেমানান ও হাস্যকর কথা। মহান আল্লাহর বাণী এই রকম কথা বার্তা হতে পূত-পবিত্র। কারণ মানুষ নিজের পরিচয় দেয়ার সময় বিশেষ গুনের বর্ণনা দেয়, যেমন বলে আমি আপনাদের মতই একজন সাধারণ মানুষ। বা আমি একজন শিক্ষক বা আমি একজন ব্যবসায়ী। কিন্তু কেউ যদি বলে আমি তোমাদের মতই হাড় বা মাংস বা চামড়া। তাহলে কথাটি হবে হাস্যকর ও বেমানান। সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন ব্যক্তি এই ধরণের উত্তর দিতে পারেনা। প্রকৃতপক্ষে মানুষ কুরআনের মধ্যে পরিবর্তন করতে পারবেনা। কারণ আল্লাহ তাআলা কুরআনের হিফাজতের দায়িত্ব নিজে নিয়েছেন। কিন্তু নিজের মতলবের উদ্দেশ্যে অর্থের বিকৃতি ও অপব্যাখ্যা অনেকে করেছে এটি তার একটি দৃষ্টান্ত মাত্র।