hadith book logo

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি নূরের তৈরি

লেখকঃ শাইখ আব্দুর রাকীব (মাদানী) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩০

ছায়া না থাকার আর একটি বড় সংশয়

নবীজীর ছায়া ছিলনা এর প্রমাণে আবার কেউ বলেনঃ ‘ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ছায়া জমীনে পতিত হতনা। না সূর্যের আলোতে আর না চাঁদের কিরণে তাঁর ছায়া দেখা যেত বরং তাঁর নূর সূর্য ও প্রদীপের আলোকে ঢেকে ফেলত’।

আসলে মানুষ যদি ইসলামের মূল প্রমাণ অর্থাৎ কুরআন হাদীসের অধ্যায়ন ছেড়ে কেচ্ছা কাহিনী তথা বাজারী বই পুস্তকের আশ্রয় নেয় এবং সে গুলিকে শরীয়তের দলীল- প্রমাণ মনে করে বসে তাহলে এরকম ভ্রান্ত যুক্তির উদ্ভব হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু পাঠক ভাইদের জ্ঞাতার্থে বলে দেয়া ভাল মনে করছি যে, শুধু বুখারী ও মুসলিম শরীফে এক ডজনেরও বেশী হাদীস আছে যাতে বর্ণনা হয়েছে যে, নবী (সাঃ) স্বয়ং অনেক ক্ষেত্রে ছায়ায় আশ্রয় নিয়েছেন কিংবা তাঁকে ছায়া করা হয়েছে। এরকম নয় যে তাঁর নূর সূর্য বা প্রদীপের আলোকে ঢেকে ফেলত আর তাঁকে ছায়া করা যেতনা। তন্মধ্যে দুটি হাদীসের উল্লেখ নিুে করা হলঃ

(১) হিজরতের লম্বা হাদীসে বর্ণিত, রাবী বলেনঃ.. .. .. নবী (সাঃ) বানু আমর বিন আউফ গোত্রে রবীউল আউয়াল মাসের সোমবারে অবতরণ করেন। আবু বকর লোকেদের অভ্যর্থনার উদ্দেশ্যে দাঁড়িয়ে থাকেন। আর নবী (সাঃ) চুপ-চাপ বসে থাকেন। ইতিপূর্বে আনসারদের মধ্যে যারা নবী (সাঃ) কে দেখেনি তারা আবু বকর কে সালাম করতে থাকে। ( ভুলবসতঃ নবী মনে করে) তারপর যখন আল্লাহর রাসূলের উপর রোদ পড়ে, তখন আবু বকর এসে নিজের চাদর দিয়ে তাঁকে ছায়া করে দেন। এ কারণে মানুষেরা নবী (সাঃ) কে চিনতে পারে। [ বুখারী, কিতাবু মানাকিবিল আনসার, বাবু হিজরাতিন্নাবী.. হাদীস নং ৩৯০৬]

(২) জাবির বিন আব্দুল্লাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমরা আল্লাহর রাসূলের সাথে নাজদে লড়াই করি। রাস্তার মাঝে নবী (সাঃ) এর ‘‘কায়লূলার’’ দুপুর বিশ্রামের প্রয়োজন হয়। জায়গাটিতে ছিল বহু কাটাওয়ালা গাছ। তিনি (সাঃ) একটি গাছের নিচে যান এবং সেই গাছের ছায়ার নিচে বিশ্রাম করেন। আর তরবারিটি ডালে টেঙ্গে রাখেন। [বুখারী, কিতাবুল মাগাযী, বাবু গাযওয়াতি বানিল মুস্ তালিক হাদীস নং ৪১৩৯]

তাছাড়া এই সমস্ত ভাইদের গজল এবং ওয়ায মহফিলে হয়ত: অনেকে শুনে হবেন। গাওয়া হয় এবং বলা হয় নবীজী যখন বাল্যকালে ছাগল চরাতেন তখন, মেঘ এসে তাঁকে ছায়া করত। দাবী একরকম আর আলোচনা আর এক রকম?