hadith book logo

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি নূরের তৈরি

লেখকঃ শাইখ আব্দুর রাকীব (মাদানী) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৭

বাড়াবাড়ির শেষ সীমা

যেহেতু নবী (সা:) নূরের তৈরী বিশ্বাসটি, তাঁর প্রতি অতিভক্তি এবং অতিরঞ্জনের ফলাফল। তাই অসঙ্গত হবে না যদি আমরা তাদের বাড়াবাড়ির বৃত্তান্ত হতে কয়েকটি নযীর পেশ করার প্রচেষ্টা করি। তার পূর্বে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, দশরথপুত্র রামচন্দ্র হিন্দুদের নিকট একজন অবতার এবং ভগবানরূপে স্বীকৃত। অবতার এইরূপে যে, তিনি ভগবান বিষ্ণুর সপ্তম অবতার ছিলেন। [ সংসদ বাংলা অভিধান/ ৫২৫ ] আর ভগবান এইরূপে যে, কারো কারো নিকট স্বয়ং ভগবান মানুষরূপী রাম হয়ে পৃথিবীতে এসেছিলেন। এই মতবাদ স্মরণে রেখে এবার নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই হি ওয়া সাল্লামের সম্পর্কে অতিরঞ্জনকারীদের কয়েকটি ভক্তিকথা পড়–ন। দেখবেন মতবাদদ্বয়ের মধ্যে কি কোনো অমিল পাওয়া যায় ?

নূর নবী আক্কীদাহ পোষনকারীদের জনৈক কবি বলেছেনঃ

(ক) وهى جو مستوى عرش تها خدا هو كر

اتر يرا هى مد ينه مين مصطفى هو كر

তিনিই যিনি আরশে ছিলেন খোদারূপে, অবতরণ করেন পৃথিবীতে মুস্তফারূপে।

(খ) আবার কেউ বলেনঃ ‘ আরশে যিনি আহাদ্ ছিলেন, ফরশে (যমিনে) তিনি আহমদ হলেন’। [আহাদ হচ্ছেন আল্লাহ আর আহমদ্ হচ্ছেন নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই হি ওয়া সাল্লাম]।

(গ) আবার কেউ বলেনঃ

‘ আহমদের ঐ মীমের পর্দা উঠিয়ে দে রে মন

দেখবি সেথা বিরাজ করেছে আহাদ নিরঞ্জন’।

অর্থাৎ আহাদ ও আহমদের মাঝে শুধু মীম অক্ষরের পার্থক্য রয়েছে, মীমকে মাঝ থেকে সরিয়ে দিলে আহাদ আর আহমদের মাঝে কোনো পার্থক্য থাকবে না, এক হয়ে যাবে।

(ঘ) আবার কারো উক্তিঃ ‘ রাসূলে খোদা খুদ খোদা বানকে আয়া’। আল্লাহর রসূল স্বয়ং খোদা হয়ে আগমন করেছিলেন।

(ঙ) কেউ আবার এভাবে বলেনঃ

“ محمد كرجه خدا نهين ليكن خدا سى جدا بهى نهي “

‘ মুহাম্মদ যদিও খোদা নন, কিন্তু তিনি খোদা থেকে পৃথকও নন’।

(চ) এই মর্মে কারো মত এভাবে প্রকাশ পেয়েছেঃ

محمد با شكل عرب آمده است * عين را حذف كن كه رب آمده است

‘ মুহাম্মদ (সাঃ) একজন আরবী মানুষের আকৃতিতে আগমন করেছেন, আরব শব্দের ‘আইন’ অক্ষরকে বিলুপ্ত করে দিলে দেখতে পাবে প্রকৃতপক্ষে রবই আগমন করেছেন’।

[ দেখুন, শির্ক কি ও কেন ? ২৮০-২৮১ ]