hadith book logo

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি নূরের তৈরি

লেখকঃ শাইখ আব্দুর রাকীব (মাদানী) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৯

দ্বিতীয় কারণঃ ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য।

 নবী (সা:) কে আল্লাহর নূরের তৈরী বলার পিছনে আর একটি অভ্যন্তরীণ কারণ থাকতে পারে যা সাধারণ জনগণের কাছে অস্পষ্ট, তা হল : যদি প্রমাণ করতে পারা যায় যে, নবী (সা:) আল্লাহর নূরের তৈরী। তাহলে প্রমাণিত হল যে নবী হচ্ছেন আল্লাহরই একটি অংশ বা তাঁর মধ্যে আল্লাহর বিশেষ অংশ নিহিত আছে। তাই যেমন আল্লাহ তাআলা সর্বসম্মানীয় তেমনি তাঁর নবীও। যেমন আল্লাহ তাআলার কাছে দু’আা করা, চাওয়া, ফরিয়াদ করা, নযর-মান্নত করা, কুরবানী করা ইত্যাদী জায়েয। তেমনি এসব তাঁর নবীর কাছেও করা যায় এবং এই ধারণা রাখা যায়। আর নবীর কাছে যদি এসব করা বৈধ হয়, তাহলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এও বলে গেছেনঃ

 “ و إن العلماء ورثة الأنبيا ”অর্থঃ-‘‘উলামাগণ নবীদের উত্তরাধিকারী ।’’ [আবু দাউদ, কিতাবুল ইলম, হাদীসটিকে শাইখ আলবানী (রহ:) সহীহ বলেছেন।

 ফলে আমরা পীর-ফকীররাই হচ্ছি আলেমের দল। প্রকৃতপক্ষে আলেম কে সেটা পরের কথা। আমরাই হচ্ছি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর দায়িত্ব বহনকারী। তাই যেমন নবী (সা:) সম্মান ও ভালবাসার পাত্র,তেমন আমাদেরকেও সম্মান ও খতির করা জনসাধারণদের জরূরী। যেমন নবীজীকে সাহাবায়ে কেরামগণ সম্মান করতেন, তেমন জনসাধারণকেও আমাদের করতে হবে। মুরগি পোলাও তৈরী করা, হাথ-পা ধুয়ে দেওয়া, ব্যবহৃত পানি পান করা, হাতে-কপালে চুমু খাওয়া, তাযীমী সিজদা গ্রহণ করা, নযরানা-উপঢৌকন পেশ করা সব জায়েয। অনুরূপ আমাদের সন্তুষ্ট রাখলে আমরা সুপারিশ করে তোমাদের ক্ষমা করাব। তাই অবুঝ লোকেরা পীরের সন্তুষ্টির জন্য যাবতীয় কাজ করে। নিজের আব্বা-আম্মার জন্য যা করা হয়না পীরের জন্য তা করা হয়। শুধু তাই নয় সাধারণ জনগণকে বুঝান হয়, তারা নাকি মৃত্যুবরণ করেনা। ফলে জীবিত ও মৃত উভয় সময়েই মানুষ তাদের জন্য নযর-মান্নত, শিরনি, চাদর দান ইত্যাদি করে থাকে। মোট কথা ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য ও স্বার্থ-সিদ্ধির কারণে তারা বলে থাকে যে, নবী নূরের তৈরী যা, জনসাধারণ বুঝতে পারেনা।