১
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি নূরের তৈরি
লেখকঃ শাইখ আব্দুর রাকীব (মাদানী) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৬
খ- প্রথম সৃষ্টি নবীর নূর না কলম ?
প্রতিপক্ষের দ্বিতীয় দলীলটি জাল হওয়ার আর একটি বড় কারণ হচ্ছে এই যে, হাদীসটি সহীহ বা বিশুদ্ধ হাদীসের বিপরীত। উলামায়ে কিরামগণ জাল হাদীসের আলামত বা নিদর্শন বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন: কোন হাদীস জাল হওয়ার অন্যতম লক্ষণ হচ্ছে কুরআন বা সহীহ হাদীসের বিপরীত হওয়া। অন্যদিকে সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা সর্বপ্রথম কলমকে সৃষ্টি করেছেন। রাসূল (সাঃ) বলেনঃ
” إن أوَّل شىءخلقه الله تعالى القلم، و أمره أن يكتب كل شىء يكون “
‘‘সর্বপ্রথম আল্লাহ তাআলা যা সৃষ্টি করেন, তা হল কলম। তার পর কলমকে লিখতে আদেশ করেন যা কিছু ভবিষ্যতে হবে’’। হাদীসটিকে ইবনু আসেম আস্ সুন্নাহ গ্রন্থে (১০৮), ও আল্ আওয়ায়েল্ গ্রন্থে (৩), আবূ ইয়ালা তার মুসনাদ গ্রন্থে ১/ ১২৬, বায়হাকী সুনান আল্ কুবরাতে ৯/৩ এবং আল্ আসমা ওয়াস্ সিফাত গ্রন্থের পৃঃ নঃ২৭১ এ বর্ণনা করেন। [ দেখুন সিলসিলা সহীহা, প্রথম খন্ড হাদীস নং ১৩৩)
অনুরূপ তিরমিযী (রহঃ) হাদীসটিকে আবওয়াবু তাফসীরিল কুরআনের পরিচ্ছেদ, তাফসীর সূরা নূন ওয়াল কালাম এ বর্ণনা করেছেন এবং শাইখ আলবানী (রহঃ) সহীহ বলেন। [ দেখুন সহীহ তিরমিযী পৃঃ ৭৫২, হাদীস নং ৩৩১৯, শাইখ আলবানীর হুকুম সহ ]
অন্যদিকে সহীহ মুসলিমে আয়েশা (রা) হতে বর্ণিত একটি হাদীসে নবী (সাঃ) বলেনঃ
“ خُلقت الملائكة من نور، و خُلق الجانُّ من مارجٍ من نار، و خُلق آدم مما وصف لكم “
অর্থঃ ‘‘ ফেরেশ্তাগণকে নূর দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে, জিন সম্প্রদায়কে অগ্নিশিখা হতে তৈরী করা হয়েছে এবং আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে সেই বস্তু দ্বারা যার বর্ণনা তোমাদের দেয়া হয়েছে’’। ( অর্থাৎ কুরআনে বলা হয়েছে যে, তিনি মাটির তৈরী।) [মুসলিম, কিতাবুয্ যুহুদ, হাদীস নং ৭৪২০]
এই হাদীসটিতে নবী (সাঃ) তিনটি জাতির সৃষ্টির মূল ধাতুর বর্ণনা দিয়েছেন। বলেছেন: জিন জাতিকে আগুন দ্বারা, মানব জাতিকে মাটি দ্বারা এবং ফেরেশতাগণকে নূর দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে। এখন কথা হল, যদি নবী (সাঃ) ও নূরের তৈরী হতেন, তাহলে তাঁর উম্মতকে জানিয়ে দেয়া দরকার ছিল যে, ফেরেশতাদের সাথে সাথে আমাকেও নূর দ্বারা তৈরী করা হয়েছে। কিন্তু তিনি তা বলেননি যা দ্বারা বুঝা যায় যে, নবী (সাঃ) কে নূর দ্বারা সৃষ্টি করা হয়নি।
উপরোক্ত সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হল যে, সৃষ্টির প্রথম বস্তু হচ্ছে কলম। নবীর নূর নয়। প্রথম সৃষ্টি নবীর নূর বলে যে হাদীস প্রচার করা হয় তা জাল কথা । হাদীস নয়।
উল্লেখ থাকে যে, নবীজী আল্লাহর নূরের তৈরী বলে যতগুলো হাদীস বর্ণনা করা হয় সবই জাল-যয়ীফ এবং বানোয়াট। তাছাড়া কুতুবে সিত্তা এবং প্রসিদ্ধ হাদীসের বইসমূহে তার কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়না।
” إن أوَّل شىءخلقه الله تعالى القلم، و أمره أن يكتب كل شىء يكون “
‘‘সর্বপ্রথম আল্লাহ তাআলা যা সৃষ্টি করেন, তা হল কলম। তার পর কলমকে লিখতে আদেশ করেন যা কিছু ভবিষ্যতে হবে’’। হাদীসটিকে ইবনু আসেম আস্ সুন্নাহ গ্রন্থে (১০৮), ও আল্ আওয়ায়েল্ গ্রন্থে (৩), আবূ ইয়ালা তার মুসনাদ গ্রন্থে ১/ ১২৬, বায়হাকী সুনান আল্ কুবরাতে ৯/৩ এবং আল্ আসমা ওয়াস্ সিফাত গ্রন্থের পৃঃ নঃ২৭১ এ বর্ণনা করেন। [ দেখুন সিলসিলা সহীহা, প্রথম খন্ড হাদীস নং ১৩৩)
অনুরূপ তিরমিযী (রহঃ) হাদীসটিকে আবওয়াবু তাফসীরিল কুরআনের পরিচ্ছেদ, তাফসীর সূরা নূন ওয়াল কালাম এ বর্ণনা করেছেন এবং শাইখ আলবানী (রহঃ) সহীহ বলেন। [ দেখুন সহীহ তিরমিযী পৃঃ ৭৫২, হাদীস নং ৩৩১৯, শাইখ আলবানীর হুকুম সহ ]
অন্যদিকে সহীহ মুসলিমে আয়েশা (রা) হতে বর্ণিত একটি হাদীসে নবী (সাঃ) বলেনঃ
“ خُلقت الملائكة من نور، و خُلق الجانُّ من مارجٍ من نار، و خُلق آدم مما وصف لكم “
অর্থঃ ‘‘ ফেরেশ্তাগণকে নূর দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে, জিন সম্প্রদায়কে অগ্নিশিখা হতে তৈরী করা হয়েছে এবং আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে সেই বস্তু দ্বারা যার বর্ণনা তোমাদের দেয়া হয়েছে’’। ( অর্থাৎ কুরআনে বলা হয়েছে যে, তিনি মাটির তৈরী।) [মুসলিম, কিতাবুয্ যুহুদ, হাদীস নং ৭৪২০]
এই হাদীসটিতে নবী (সাঃ) তিনটি জাতির সৃষ্টির মূল ধাতুর বর্ণনা দিয়েছেন। বলেছেন: জিন জাতিকে আগুন দ্বারা, মানব জাতিকে মাটি দ্বারা এবং ফেরেশতাগণকে নূর দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে। এখন কথা হল, যদি নবী (সাঃ) ও নূরের তৈরী হতেন, তাহলে তাঁর উম্মতকে জানিয়ে দেয়া দরকার ছিল যে, ফেরেশতাদের সাথে সাথে আমাকেও নূর দ্বারা তৈরী করা হয়েছে। কিন্তু তিনি তা বলেননি যা দ্বারা বুঝা যায় যে, নবী (সাঃ) কে নূর দ্বারা সৃষ্টি করা হয়নি।
উপরোক্ত সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হল যে, সৃষ্টির প্রথম বস্তু হচ্ছে কলম। নবীর নূর নয়। প্রথম সৃষ্টি নবীর নূর বলে যে হাদীস প্রচার করা হয় তা জাল কথা । হাদীস নয়।
উল্লেখ থাকে যে, নবীজী আল্লাহর নূরের তৈরী বলে যতগুলো হাদীস বর্ণনা করা হয় সবই জাল-যয়ীফ এবং বানোয়াট। তাছাড়া কুতুবে সিত্তা এবং প্রসিদ্ধ হাদীসের বইসমূহে তার কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়না।