১
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি নূরের তৈরি
লেখকঃ শাইখ আব্দুর রাকীব (মাদানী) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২
ভূমিকা
আল্লাহ তাআলার যাবতীয় প্রশংসা এবং নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি অসংখ্য দরূদ এবং সালাম বর্ষিত হোউক!
সউদী আরবে আল খাফজী শহরে ইসলামিক গাইডেন্স সেন্টারে সাপ্তাহিক আলোচনা অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রকমের প্রশ্নের সম্মুখিন হতাম। তম্মধ্যে একটি অন্যতম প্রশ্ন প্রায় প্রায় করা হত।
প্রশ্নটি হলঃ ‘নবী (সা:) নূরের তৈরী না মাটির তৈরী?’ আদম সন্তান তো মাটিরই হয় কিন্তু লোক কেন এ প্রশ্ন করছিল?
অধিক জানার আগ্রহ মনকে নাড়া দেয়। বিষয়টি নিয়ে গবেষনা করতে গিয়ে যখনই অভ্যন্তরে পৌঁছালাম তখন এর গুড় রহস্য প্রষ্ফুটিত হতে লাগল। দেখা গেল সুফীবাদ বা পীরবাদের এটি একটি আক্বীদাহ, যা তারা জনসাধারণের মধ্যে প্রচার করে থাকে। অভ্যন্তরে আছে এমন কিছু তথ্য যা মানুষকে পীর-ফকীর মাযার-দরগাহ তথা দৈনন্দীন ঘটিত শির্কী কার্যকলাপের দিকে আহবান করে। এই বিশ্বাসের রেশ ধরে নবী (সা:) কে কবরে জীবিত এবং তাঁর সাথে সাথে কথিত মৃত ওলীদেরকেও জীবিত প্রমাণ করার অপচেষ্টা করা হয়েছে। এতটুকু প্রমাণ করতে পারলেই তাদের আসল উদ্দেশ্য হাসিল হয়। ফলে কবরের কাছে ওলী বা পীরের নিকট দুআ-প্রার্থনা করা, তাদের সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নযরানা-উপঢৌকন পেশ করে তাদের অসীলা তথা মাধ্যম ধরা, সব জায়েয হয়ে যায়। এই ধারনায় রয়েছে নবী (সা:) এর ব্যাপারে বাড়াবাড়ি । খৃষ্টান ও ঈহুদীরা তাদের নবীগণের ব্যাপারে অতিরঞ্জন করতে গিয়ে তাঁদেরকে আল্লাহর পুত্র হিসেবে আখ্যা দেয়, ফলে তারা মুশরিক হয়ে যায়। আল্লাহ ও তার রাসূল এ বিষয়ে উম্মতকে সতর্ক করে দেন। কিন্তু তার পরও যদি নবী (সা:) কে কেউ বলে যে তিনি (নূরূন মিন্ নূরিল্লাহ) আল্লাহর নূরের তৈরী, তাহলে ইহুদী খৃষ্টানদের বিশ্বাস এবং এই বিশ্বাসের মধ্যে কি আসলে কোন পার্থক্য থাকল? কারণ কেউ বলল আল্লাহর পুত্র আর কেউ বলল আল্লাহর সত্তারই একটি অংশ।
এই ধরণের তথ্য দ্বারা সহজ সরল ভাষায় অলংকৃত হয়েছে পুস্তকখানি। পক্ষ ও বিপক্ষের মূল দলীলসমূহ একত্রিত করা হয়েছে। উলামায়ে সালাফগণের ব্যাখ্যা পেশ করা হয়েছে। হাদীস জাল কিংবা দুর্বল হলে কারণ উল্লেখ করা হয়েছে এবং তথ্যাবলীর সুক্ষè বরাত দেয়া হয়েছে। উদ্দেশ্য, পাঠক যেন সঠিক আক্বীদা (ধর্মবিশ্বাসের) অধিকারী হয় এবং ভ্রান্ত ও ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যের কারণে প্রচারিত ধ্যান ধারণা ও শির্ক বিদআতের বেড়াজাল থেকে মুক্তি পায়। আর তা হলে আমার শ্রম সার্থক হবে, আমি হব সৌভাগ্যবান। আল্লাহ তুমি আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াসকে কবূল কর। আমীন!
এই শুভ সময়ে আমি সর্বপ্রথমে মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করি । তার পরে শুকরিয়া জ্ঞাপন করি শ্রদ্ধেয় শাইখ মতিউর রহমান সালাফী সাহেবের ( অনুবাদক ও গবেষক দাম্মাম ইসলামিক কালচারাল সেন্টার ) এবং বড় ভাই শাইখ আব্দুল্লাহ আল কাফী সাহেবের ( অনুবাদক ও গবেষক জুবাইল দাওয়া এন্ড গাইডেন্স সেন্টার) যাঁরা প্রচুর ব্যস্ততার মাঝেও পুস্তকটির ভুল-ভ্রান্তি কারেক্শন এবং সুপরামর্শ দ্বারা সহযোগিতা করেছেন। আল্লাহ তাঁদের উত্তম জাযা দিন।
উল্লেখ থাকে যে,প্রণয়ন ও গবেষনার সফরে এটি আমার নব প্রয়াস, তাই ভূল-ত্রƒটি থাকা স্বাাভাবিক। বিজ্ঞ মহল হতে সুপরামর্শ পেলে কৃতজ্ঞতায় বাধিত হব।
লেখক: আব্দুর রাকীব মাদানী
আল্ খাফজী, সউদী আরব।
সউদী আরবে আল খাফজী শহরে ইসলামিক গাইডেন্স সেন্টারে সাপ্তাহিক আলোচনা অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রকমের প্রশ্নের সম্মুখিন হতাম। তম্মধ্যে একটি অন্যতম প্রশ্ন প্রায় প্রায় করা হত।
প্রশ্নটি হলঃ ‘নবী (সা:) নূরের তৈরী না মাটির তৈরী?’ আদম সন্তান তো মাটিরই হয় কিন্তু লোক কেন এ প্রশ্ন করছিল?
অধিক জানার আগ্রহ মনকে নাড়া দেয়। বিষয়টি নিয়ে গবেষনা করতে গিয়ে যখনই অভ্যন্তরে পৌঁছালাম তখন এর গুড় রহস্য প্রষ্ফুটিত হতে লাগল। দেখা গেল সুফীবাদ বা পীরবাদের এটি একটি আক্বীদাহ, যা তারা জনসাধারণের মধ্যে প্রচার করে থাকে। অভ্যন্তরে আছে এমন কিছু তথ্য যা মানুষকে পীর-ফকীর মাযার-দরগাহ তথা দৈনন্দীন ঘটিত শির্কী কার্যকলাপের দিকে আহবান করে। এই বিশ্বাসের রেশ ধরে নবী (সা:) কে কবরে জীবিত এবং তাঁর সাথে সাথে কথিত মৃত ওলীদেরকেও জীবিত প্রমাণ করার অপচেষ্টা করা হয়েছে। এতটুকু প্রমাণ করতে পারলেই তাদের আসল উদ্দেশ্য হাসিল হয়। ফলে কবরের কাছে ওলী বা পীরের নিকট দুআ-প্রার্থনা করা, তাদের সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নযরানা-উপঢৌকন পেশ করে তাদের অসীলা তথা মাধ্যম ধরা, সব জায়েয হয়ে যায়। এই ধারনায় রয়েছে নবী (সা:) এর ব্যাপারে বাড়াবাড়ি । খৃষ্টান ও ঈহুদীরা তাদের নবীগণের ব্যাপারে অতিরঞ্জন করতে গিয়ে তাঁদেরকে আল্লাহর পুত্র হিসেবে আখ্যা দেয়, ফলে তারা মুশরিক হয়ে যায়। আল্লাহ ও তার রাসূল এ বিষয়ে উম্মতকে সতর্ক করে দেন। কিন্তু তার পরও যদি নবী (সা:) কে কেউ বলে যে তিনি (নূরূন মিন্ নূরিল্লাহ) আল্লাহর নূরের তৈরী, তাহলে ইহুদী খৃষ্টানদের বিশ্বাস এবং এই বিশ্বাসের মধ্যে কি আসলে কোন পার্থক্য থাকল? কারণ কেউ বলল আল্লাহর পুত্র আর কেউ বলল আল্লাহর সত্তারই একটি অংশ।
এই ধরণের তথ্য দ্বারা সহজ সরল ভাষায় অলংকৃত হয়েছে পুস্তকখানি। পক্ষ ও বিপক্ষের মূল দলীলসমূহ একত্রিত করা হয়েছে। উলামায়ে সালাফগণের ব্যাখ্যা পেশ করা হয়েছে। হাদীস জাল কিংবা দুর্বল হলে কারণ উল্লেখ করা হয়েছে এবং তথ্যাবলীর সুক্ষè বরাত দেয়া হয়েছে। উদ্দেশ্য, পাঠক যেন সঠিক আক্বীদা (ধর্মবিশ্বাসের) অধিকারী হয় এবং ভ্রান্ত ও ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যের কারণে প্রচারিত ধ্যান ধারণা ও শির্ক বিদআতের বেড়াজাল থেকে মুক্তি পায়। আর তা হলে আমার শ্রম সার্থক হবে, আমি হব সৌভাগ্যবান। আল্লাহ তুমি আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াসকে কবূল কর। আমীন!
এই শুভ সময়ে আমি সর্বপ্রথমে মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করি । তার পরে শুকরিয়া জ্ঞাপন করি শ্রদ্ধেয় শাইখ মতিউর রহমান সালাফী সাহেবের ( অনুবাদক ও গবেষক দাম্মাম ইসলামিক কালচারাল সেন্টার ) এবং বড় ভাই শাইখ আব্দুল্লাহ আল কাফী সাহেবের ( অনুবাদক ও গবেষক জুবাইল দাওয়া এন্ড গাইডেন্স সেন্টার) যাঁরা প্রচুর ব্যস্ততার মাঝেও পুস্তকটির ভুল-ভ্রান্তি কারেক্শন এবং সুপরামর্শ দ্বারা সহযোগিতা করেছেন। আল্লাহ তাঁদের উত্তম জাযা দিন।
উল্লেখ থাকে যে,প্রণয়ন ও গবেষনার সফরে এটি আমার নব প্রয়াস, তাই ভূল-ত্রƒটি থাকা স্বাাভাবিক। বিজ্ঞ মহল হতে সুপরামর্শ পেলে কৃতজ্ঞতায় বাধিত হব।
লেখক: আব্দুর রাকীব মাদানী
আল্ খাফজী, সউদী আরব।