hadith book logo

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি নূরের তৈরি

লেখকঃ শাইখ আব্দুর রাকীব (মাদানী) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৮

নূরের নবী আকীদার ক্ষতিকারক ১০টি দিক

১- খৃষ্টানরা ঈসা (আঃ) কে আল্লাহর পুত্র বিশ্বাস করে তাঁর সাথে যে অংশী স্থাপন করেছে। মুসলমান নামধারী এই দলটি তার চাইতেও ভয়ানক এবং জঘন্য কথা বলেছে। কেননা তারা নবী (সাঃ) কে আল্লাহর নূর থেকে তৈরী বিশ্বাস করার মাধ্যমে , তাঁকে আল্লাহর অংশ হিসেবে সাব্যস্ত করেছে। তাই এ বিশ্বাস স্থাপনে খৃষ্টানি এবং ইসলামি আকীদাহ এক হয়ে যায়। মুসলিম এবং মুশরেকের আক্কীদাহ সমান হয়ে যায়।

২- এ বিশ্বাস স্থাপনে জরূরী হয়ে যায় আর এক বিশ্বাসের তা হল , নবী (সাঃ) কবরে পৃথিবীর জীবনের ন্যায় জীবিত। কারণ যেমন আল্লাহ চিরঞ্জীব তার মৃত্যু নেই তেমন তাঁর নূরও চিরঞ্জীব, তারও মৃত্যু নেই।

৩- এ বিশ্বাসের রেশ ধরেই পীর এবং ওলীরা জনসাধারণকে ধোকায় ফেলে এবং বলে ওলীরাও কবরে জীবিত। কারণ তারা নাকি নবীগণের উত্তরাধিকারী। তাই নবীগণ যেমন কবরে জীবিত তেমন তাঁদের উত্তরাধিকারী ওলীরাও জীবিত। আর জীবিত প্রমাণ হলে রাস্তা সাফ। এবার বুঝান হবে মৃত্যুর পরেও আমরা জীবিত তাই আমাদের কবর-দর্গাহে আস, নজর-মান্নত কর, বাবাকে খুশি কর, তাহলে আমরা তোমাদের জন্য সুপারিশ করে দেব।

৪- পৃথিবীর প্রারম্ভ থেকে আজ পর্যন্ত আল্লাহ মানব জাতির হিদায়েতের উদ্দেশ্যে মানবকেই নবী করে প্রেরণ করেছেন। উল্লেখিত আকীদার দ্বারা আল্লাহ তাআলার সেই সুন্দর নিয়মে হস্তক্ষেপ করা হয়। অর্থাৎ সর্বশেষ উম্মতের হেদায়েতের জন্য আল্লাহ কোন মানুষকে নবীরূপে প্রেরণ না করে তাঁর নূরের তৈরী ভিন্ন স্বভাবলম্বী কাউকে নবী করে পাঠান।

৫- নবী (সাঃ) কে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানব জাতির সারি থেকে বহির্ভূত করা হয়। কারণ মানুষ মাটির তৈরী এবং তাদেরকে সৃষ্টির সেরা জাতি বলা হয়েছে কিন্তু নূরের তৈরী কোনো জাতি বা কোনো ব্যক্তিকে তা বলা হয়নি।

৬- যে সমস্ত আয়াতে আল্লাহ নবীকে বাশার বা মানুষ বলেছেন এবং যে সমস্ত সহীহ হাদীসে নবীজী নিজেকে বাশার বলেছেন, তার অস্বীকার করা এবং তার অপব্যাখ্যা করা জরূরী হয়ে যায়।

৭- অমুসলিমদের নবীজীর প্রতি ঈমান আনয়নে বাহানা করার দরজা উম্মুক্ত করে দেওয়া হয়। কারণ তারা বলার সুযোগ পায় যে, মুহাম্মদ তো আমাদের মত মাটির তৈরী মানুষ নয়। যদি আমাদের মত মাটির হত তাহলে ঈমান আনতাম।

৮- নবী (সাঃ) এর অসংখ্য সৎগুণাবলীকে হেয় নজরে দেখার সুযোগ করে দেয়া হয়। কারণ তারা বলবে: তিনি নূরের বলে এসব সম্ভব হয়েছিল মানুষ হলে অসম্ভব ছিল।

৯- কয়েকটি সহীহ হাদীসকে অস্বীকার করা হয়। যে সমস্ত হাদীসে কলমকে প্রথম সৃষ্টি বলা হয়েছে।

১০- উম্মতের শ্রেষ্ঠ মনিষীগণ, যেমন সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীন এবং আইম্মাহগণ যে বিষয়কে কেন্দ্র করে আলোচনা বা বিতর্ক করার প্রয়োজন মনে করেননি এমন এক বিষয়ের অবতারনা করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হয়।

সমাপ্ত