hadith book logo

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি নূরের তৈরি

লেখকঃ শাইখ আব্দুর রাকীব (মাদানী) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬

পর্যালোচনা: ক- শুধু উপাদানের কারণে কোন সৃষ্ট জীব কি শ্রেষ্ঠ হয়?

ইসলাম প্রিয় ভাইয়েরা! সৃষ্টি জগতে বা পৃথিবীতে আমরা যা কিছু দেখতে পাচ্ছি, সব কিছুর সৃষ্টির একটি মূল ধাতু বা উপাদান আছে। যেমনটি মুসলিম শরীফের হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। ফেরেশতাগণকে যে উপাদান দ্বারা তৈরী করা হয়েছে তা হল নূর বা জ্যোতি। জিনদেরকে যা দ্বারা তৈরী করা হয়েছে তাহল আগুন এবং মানব জাতিকে যা দ্বারা তৈরী করা হয় তা হল মাটি। এখন প্রশ্ন হল, উপাদান হিসাবে জ্যোতি, আগুন বা মাটি কি এক অপরের উপর অধিক মর্যাদা রাখে, না রাখেনা? এর জবাব হচ্ছে, না কোন মর্যদা রাখেনা। কারণ সকল উপাদানের সৃষ্টিকর্তা হচ্ছেন মহান আল্লাহ তাআলা এবং ঐসকল উপাদান দ্বারা তৈরীকৃত জীব বা বস্তুরও স্রষ্টা মহান আল্লাহ। আর তিনি কোন বিশেষ উপাদানকে অন্য উপাদানের উপর সম্মান দেননি। তাই উপাদান হিসাবে সব সমান এবং উপাদান দ্বারা যা তৈরী তাও সমান। সে মানুষ হোক বা জ্বিন হোক বা ফেরেশতা। হ্যাঁ! যে কারণে সৃষ্টির মর্যাদা বৃদ্ধি হয়, তাহল তাদের গুণ এবং তাদের নেক আমল। ফেরেশতাগণ নূরের তৈরী হওয়া সত্ত্বেও সমষ্টিগতভাবে মানুষের চেয়ে উত্তম নয়। তবে এটা সত্য যে বিশেষ কিছু ফেরেশতা, বিশেষ কিছু মানুষের চেয়ে উত্তম কিন্তু সাধারণতঃ আদম (আঃ) ও আদম সন্তান ফেরেশতাদের থেকে উত্তম । কারণ তাদের মধ্যে শুধু সৎ কাজ করার স্বভাব নেই বরং অসৎ কাজে লিপ্ত হওয়ারও ক্ষমতা আছে। চাইলে সৎ পথে থাকতে পারে না চাইলে অসৎ পথে চলতে পারে। পক্ষান্তরে ফেরেশতাগণের স্বভাবে আছে আনুগত্বতা তাই তারা সবসময় সৎ কাজে নিয়োজিত। এই সব কারণে নেক বান্দা ফেরেশতার চেয়েও উত্তম। পৃথিবীর অসংখ্য লোভ লালসা এবং শয়তানের অবিরাম চক্রান্ত ও কুমন্ত্রণা থাকা সত্ত্বেও সৎ পথে অটল থাকে এবং মহান আল্লাহ তাআলার আদেশ লংঘন করেনা। (দেখুন, শারহুত্ তাহাবিয়াহ ২৮১-২৯০ এবং মাউযু আউর মুনকার রিওয়ায়িত)