১
ফিতনাতুত-তাকফীর
লেখকঃ শায়খ নাসিরুদ্দীন আলবানী (রহ), শায়খ আব্দুল্লাহ বিন বায (রহ), শায়খ সফিউর রহমান মুবারকপুরী (রহ), বিভিন্ন মুফাসসির ও মুহাদ্দিসদের (রহ) উদ্ধৃতি • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩৭
ইবাদাত ও ইস্তিআনাত (সাহায্য চাওয়া) আল্লাহর জন্য সুনির্দিষ্ট
ইবাদাত সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন :
وَاعْبُدُوْا اللهَ وَلاَ تُشْرِكُوْا بِه شَيْئًا
‘‘আল্লাহর ইবাদাত কর এবং তাঁর সাথে কোন কিছুরই শরীক করো না।’’ [. সূরা নিসা : ৩৬ আয়াত।]
তিনি অন্যত্র বলেন :
إِلَٰهُكُمْ اِلهٌ وَّاحِدٌ فَمَنْ كَانَ يَرْجُوْا لِقَاءِ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلاً صَالِحًا وَلاَ يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّه اَحَدًا
‘‘তোমাদের ইলাহ, কেবলই এক ইলাহ। সুতরাং যে নিজের রবের সাথে সাক্ষাতের আশা রাখে, সে যেন নেক আমল করে এবং নিজের রবের ইবাদাতে কাউকে শরীক না করে।’’ [. সূরা কাহাফ : ১১০ আয়াত।]
ইস্তিআনাত বা সাহায্য চাওয়া সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন : وَاسْتَعِيْنُوْا بِالصَّبْرِ وَالصَّلاَةِ ‘‘তোমরা সবর ও সালাতের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য চাও।’’ [. সূরা বাক্বারাহ : ৪৫ আয়াত। অনুরূপ দ্র : সূরা বাক্বারাহ : ১৫৩ আয়াত।]
অন্যত্র বলেন :
قَالَ مَوْسي لِقَوْمِهِ اسْتَعِيْنُوْا بِاللهِ وَاصْبِرُوْا
‘‘মূসা তাঁর ক্বওমকে বলল, আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা কর এবং সবর কর।’’ [. সূরা আ‘রাফ : ১২৮ আয়াত।]
সুতরাং ইবাদাত ও ইস্তিআনাত (সাহায্য চাওয়া) উভয়টিই আল্লাহ ছাড়া অপর কারো জন্য আমল করা জায়েয নয়। প্রথমোক্ত আয়াতটি দ্বারা শিরকের দুয়ার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু যাদের অন্তরে শিরকের রোগ আছে তারা সাধারণ লোকদের মানুষের আয়ত্বাধীন ( ماتِحت الاسباب ) বস্তুর সাথে, মানুষের আয়ত্বাধীন নয় ( مافوق الاسباب ) এমন বস্তুর মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে সে ব্যাপারে বিভ্রান্তির মধ্যে নিমজ্জিত করেছে। তারা বলে যে, ‘‘দেখ আমাদের রোগ হলে আমরা ডাক্তারের সাহায্য নিয়ে থাকি, স্ত্রীর নিকট সহযোগিতা চাই, ড্রাইভার ও অন্যান্য লোকদের সাহায্য কামনা করি।’’ এভাবে তারা এটা প্রমাণ করার চেষ্টা করে যে, আল্লাহ ছাড়া অন্যান্যদের নিকট সাহায্য চাওয়াও বৈধ। কিন্তু মানুষের আয়ত্বাধীন বস্তুর মাধ্যমে একে অপরের কাছে সাহায্য চাওয়া বৈধ এবং এটা শিরক নয়। এটাতো আল্লাহর সৃষ্ট ব্যবস্থাপনা মাত্র। যা সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ্য বস্তুসমূহ দ্বারা সম্পন্ন করা হয়। এমনকি নবী (স)-গণও এক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের কাছে সাহায্য সহযোগিতা চেয়েছেন। [. সালাহুদ্দীন ইউসুফ, কুরআনে কারীম মাআ উর্দূ তরজমা ও তাফসীর পৃ. ৪।]
ঈসা (আ) বলেছিলেন : مَنْ اَنْصَارِىْ اِلَى اللهِ ‘‘আল্লাহ দ্বীনের জন্য কে আমাকে সাহায্য করবে?’’ [. সূরা সফ : ১৪ আয়াত।]
আল্লাহ তাআলা ঈমানদারগণকে সম্বোধন করে বলেছেন :
وَتَعَاوَنُوْا عَلَي الْبِرِّ وَالتَّقْوى
‘‘নেকি ও তাক্বওয়া অর্জনে একে অপরকে সাহায্য কর।’’ [. সূরা মায়িদা : ২ আয়াত।]
সুস্পষ্ট হল, একে অপরের সাহায্য করা ( تَعَاوُن ) নিষিদ্ধ বা শিরক নয়। বরং প্রয়োজনীয় ও প্রশংসার কাজ। এর সাথে পারিভাষিক শিরকের বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই। শিরক হল এমন কোন ব্যক্তির কাছে সাহায্য চাওয়া যে প্রকাশ্য বস্তুজগতের নিয়মানুযায়ী সাহায্য করতে অক্ষম। যেমন- মৃত ব্যক্তির কাছে সাহায্য চাওয়ার জন্য তাকে ডাকা, তাকে ‘মুশকিল কুশা’ (সমস্যা দূরকারী) এবং ‘হাজত রুওয়া’ (উদ্দেশ্য পূরণকারী) মনে করা। তাকে উপকার ও ক্ষতি করার ক্ষমতাসম্পন্ন জ্ঞান করা এবং দূরের ও কাছের সকল ফরিয়াদ শুনে তা সমাধান করার অধিকারী মনে করা। এরই নাম হল আয়ত্বাধীন নয় ( ما فوق الاسباب ) এমন বিষয়ে সাহায্য চাওয়া এবং তাকে আল্লাহর গুণে গুণান্বিত করা। আর এটাই শিরক- যা দুর্ভাগ্যবশত ‘মুহাব্বাতে আওলিয়া’ নামে মুসলিম দেশগুলোতে ব্যাপকভাবে চালু আছে। [ اعاذنا الله منه ] [. সালাহুদ্দীন ইউসুফ, কুরআনে কারীম মাআ উর্দূ তরজমা ও তাফসীর পৃ. ৪।]
সুতরাং ইস্তিআনাত বা সাহায্য চাওয়ার দু’টি দিক রয়েছে-
১.যে সমস্ত বিষয়ের একক অধিকারী স্বয়ং আল্লাহ তাআলা এবং যেগুলো কোন বস্তুগত কর্তৃত্ব মানুষকে দেন নি সেক্ষেত্রে কোন মানুষের কাছে সাহায্য চাওয়া, প্রার্থনা বা আবেদন-নিবেদন বা সুপারিশ করা- এ সবই শিরক। কেননা এগুলোর ক্ষেত্রে ইবাদাতের ন্যায় আল্লাহ কাউকে নিজের সাথে শরীক করেননি
২.পক্ষান্তরে যে সব ব্যাপারে মানুষকে শক্তি, ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব দান করেছেন, সেসব ক্ষেত্রে মানুষের পরস্পরের মধ্যে সাহায্য চাওয়াটা বৈধ। তবে এক্ষেত্রে শর্ত হল, তা অবশ্যই আল্লাহ কর্তৃক নিষেধকৃত বিষয়ে হবে না। অর্থাৎ যেসব ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা নেই সেসব ক্ষেত্রে এটা বৈধ। প্রথমোক্তটি ইবাদাতের এবং পরবর্তীটি মুআমালাতের অন্তর্ভুক্ত।
وَاعْبُدُوْا اللهَ وَلاَ تُشْرِكُوْا بِه شَيْئًا
‘‘আল্লাহর ইবাদাত কর এবং তাঁর সাথে কোন কিছুরই শরীক করো না।’’ [. সূরা নিসা : ৩৬ আয়াত।]
তিনি অন্যত্র বলেন :
إِلَٰهُكُمْ اِلهٌ وَّاحِدٌ فَمَنْ كَانَ يَرْجُوْا لِقَاءِ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلاً صَالِحًا وَلاَ يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّه اَحَدًا
‘‘তোমাদের ইলাহ, কেবলই এক ইলাহ। সুতরাং যে নিজের রবের সাথে সাক্ষাতের আশা রাখে, সে যেন নেক আমল করে এবং নিজের রবের ইবাদাতে কাউকে শরীক না করে।’’ [. সূরা কাহাফ : ১১০ আয়াত।]
ইস্তিআনাত বা সাহায্য চাওয়া সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন : وَاسْتَعِيْنُوْا بِالصَّبْرِ وَالصَّلاَةِ ‘‘তোমরা সবর ও সালাতের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য চাও।’’ [. সূরা বাক্বারাহ : ৪৫ আয়াত। অনুরূপ দ্র : সূরা বাক্বারাহ : ১৫৩ আয়াত।]
অন্যত্র বলেন :
قَالَ مَوْسي لِقَوْمِهِ اسْتَعِيْنُوْا بِاللهِ وَاصْبِرُوْا
‘‘মূসা তাঁর ক্বওমকে বলল, আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা কর এবং সবর কর।’’ [. সূরা আ‘রাফ : ১২৮ আয়াত।]
সুতরাং ইবাদাত ও ইস্তিআনাত (সাহায্য চাওয়া) উভয়টিই আল্লাহ ছাড়া অপর কারো জন্য আমল করা জায়েয নয়। প্রথমোক্ত আয়াতটি দ্বারা শিরকের দুয়ার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু যাদের অন্তরে শিরকের রোগ আছে তারা সাধারণ লোকদের মানুষের আয়ত্বাধীন ( ماتِحت الاسباب ) বস্তুর সাথে, মানুষের আয়ত্বাধীন নয় ( مافوق الاسباب ) এমন বস্তুর মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে সে ব্যাপারে বিভ্রান্তির মধ্যে নিমজ্জিত করেছে। তারা বলে যে, ‘‘দেখ আমাদের রোগ হলে আমরা ডাক্তারের সাহায্য নিয়ে থাকি, স্ত্রীর নিকট সহযোগিতা চাই, ড্রাইভার ও অন্যান্য লোকদের সাহায্য কামনা করি।’’ এভাবে তারা এটা প্রমাণ করার চেষ্টা করে যে, আল্লাহ ছাড়া অন্যান্যদের নিকট সাহায্য চাওয়াও বৈধ। কিন্তু মানুষের আয়ত্বাধীন বস্তুর মাধ্যমে একে অপরের কাছে সাহায্য চাওয়া বৈধ এবং এটা শিরক নয়। এটাতো আল্লাহর সৃষ্ট ব্যবস্থাপনা মাত্র। যা সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ্য বস্তুসমূহ দ্বারা সম্পন্ন করা হয়। এমনকি নবী (স)-গণও এক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের কাছে সাহায্য সহযোগিতা চেয়েছেন। [. সালাহুদ্দীন ইউসুফ, কুরআনে কারীম মাআ উর্দূ তরজমা ও তাফসীর পৃ. ৪।]
ঈসা (আ) বলেছিলেন : مَنْ اَنْصَارِىْ اِلَى اللهِ ‘‘আল্লাহ দ্বীনের জন্য কে আমাকে সাহায্য করবে?’’ [. সূরা সফ : ১৪ আয়াত।]
আল্লাহ তাআলা ঈমানদারগণকে সম্বোধন করে বলেছেন :
وَتَعَاوَنُوْا عَلَي الْبِرِّ وَالتَّقْوى
‘‘নেকি ও তাক্বওয়া অর্জনে একে অপরকে সাহায্য কর।’’ [. সূরা মায়িদা : ২ আয়াত।]
সুস্পষ্ট হল, একে অপরের সাহায্য করা ( تَعَاوُن ) নিষিদ্ধ বা শিরক নয়। বরং প্রয়োজনীয় ও প্রশংসার কাজ। এর সাথে পারিভাষিক শিরকের বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই। শিরক হল এমন কোন ব্যক্তির কাছে সাহায্য চাওয়া যে প্রকাশ্য বস্তুজগতের নিয়মানুযায়ী সাহায্য করতে অক্ষম। যেমন- মৃত ব্যক্তির কাছে সাহায্য চাওয়ার জন্য তাকে ডাকা, তাকে ‘মুশকিল কুশা’ (সমস্যা দূরকারী) এবং ‘হাজত রুওয়া’ (উদ্দেশ্য পূরণকারী) মনে করা। তাকে উপকার ও ক্ষতি করার ক্ষমতাসম্পন্ন জ্ঞান করা এবং দূরের ও কাছের সকল ফরিয়াদ শুনে তা সমাধান করার অধিকারী মনে করা। এরই নাম হল আয়ত্বাধীন নয় ( ما فوق الاسباب ) এমন বিষয়ে সাহায্য চাওয়া এবং তাকে আল্লাহর গুণে গুণান্বিত করা। আর এটাই শিরক- যা দুর্ভাগ্যবশত ‘মুহাব্বাতে আওলিয়া’ নামে মুসলিম দেশগুলোতে ব্যাপকভাবে চালু আছে। [ اعاذنا الله منه ] [. সালাহুদ্দীন ইউসুফ, কুরআনে কারীম মাআ উর্দূ তরজমা ও তাফসীর পৃ. ৪।]
সুতরাং ইস্তিআনাত বা সাহায্য চাওয়ার দু’টি দিক রয়েছে-
১.যে সমস্ত বিষয়ের একক অধিকারী স্বয়ং আল্লাহ তাআলা এবং যেগুলো কোন বস্তুগত কর্তৃত্ব মানুষকে দেন নি সেক্ষেত্রে কোন মানুষের কাছে সাহায্য চাওয়া, প্রার্থনা বা আবেদন-নিবেদন বা সুপারিশ করা- এ সবই শিরক। কেননা এগুলোর ক্ষেত্রে ইবাদাতের ন্যায় আল্লাহ কাউকে নিজের সাথে শরীক করেননি
২.পক্ষান্তরে যে সব ব্যাপারে মানুষকে শক্তি, ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব দান করেছেন, সেসব ক্ষেত্রে মানুষের পরস্পরের মধ্যে সাহায্য চাওয়াটা বৈধ। তবে এক্ষেত্রে শর্ত হল, তা অবশ্যই আল্লাহ কর্তৃক নিষেধকৃত বিষয়ে হবে না। অর্থাৎ যেসব ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা নেই সেসব ক্ষেত্রে এটা বৈধ। প্রথমোক্তটি ইবাদাতের এবং পরবর্তীটি মুআমালাতের অন্তর্ভুক্ত।