১
সূরা ফাতিহা
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৩
(আর-রহমান) ও (আর-রাহীম) এর অর্থ
اَلرَّحْمٰنِ (আর-রহমান) ও الرَّحِيْمِ (আর-রাহীম) এগুলো হচ্ছে আলস্নাহর বিশেষ দুটি গুণ। এ দুটি গুণের মাধ্যমে আলস্নাহ তা‘আলা সৃষ্টিজগতের উপর অনুগ্রহ প্রদর্শন করে থাকেন।
اَلرَّحْمٰنِ (আর-রহমান) গুণের মাধ্যমে আলস্নাহ তা‘আলা সাধারণভাবে সকল সৃষ্টির উপর অনুগ্রহ প্রদর্শন করে থাকেন। আর তা দুনিয়াতেও হতে পারে, আবার আখিরাতেও হতে পারে। আলস্নাহ তা’আলা দুনিয়াতে আমাদেরকে কীভাবে অনুগ্রহ করছেন, তা আমরা সহজেই অনুধাবন করতে পারি। হাদীসে এসেছে,
عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِنَّ لِلّٰهِ مِائَةَ رَحْمَةً قَسَمَ مِنْهَا رَحْمَةً بَيْنَ جَمِيْعِ الْخَلَائِقِ فَبِهَا يَتَرَاحَمُوْنَ وَبِهَا يَتَعَاطَفُوْنَ وَبِهَا تَعَطَّفُ الْوَحْشِ عَلٰى أَوْلَادِهَا وَأٰخِرُ تِسْعَةِ وَّتِسْعِيْنَ رَحْمَةً يَرْحَمُ بِهَا عِبَادَه يَوْمَ الْقِيَامَةِ
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী ﷺ বলেন, নিশ্চয় আলস্নাহ তা‘আলা কাছে ১০০টি রহমত রয়েছে। অতঃপর তিনি এর থেকে একটি ভাগ সমসত্মসৃষ্টিজীবের জন্য ভাগ করে দিয়েছেন। এ কারণেই তারা একে অপরকে দয়া, নম্রতা প্রদর্শন করে থাকে। আর এ কারণেই হিংস্র জন্তুও তার বাচ্চাদেরকে দয়া প্রদর্শন করে থাকে। আর অবশিষ্ট ৯৯ ভাগ রহমত তিনি কিয়ামতের দিন তার বান্দাদের সামনে প্রদর্শন করবেন। [ইবনে মাজাহ, হা/৪২৮৩; মুসনাদে আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক, হা/৩৫।]
আর এ কারণেই দুনিয়াতে কাফির, মুশরিক সহ সকলেই সমান হারে আলস্নাহর অনুগ্রহ প্রাপ্ত হচ্ছে। অন্যথায় যারা আলস্নাহর অবাধ্য হতো আলস্নাহ তা‘আলা তাদেরকে কোন কিছুই প্রদান করতেন না। আর এটাই স্বাভাবিক বিবেকের দাবি।
অতএব দুনিয়াতে আলস্নাহ তা‘আলার এসব অনুগ্রহ এত ব্যাপক যে, এগুলো গণনা করে শেষ করার মতো নয়। আলস্নাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَإِنْ تَعُدُّوا نِعْمَةَ اللهِ لَا تُحْصُوهَا إِنَّ اللَّهَ لَغَفُورٌ رَحِيمٌ﴾
আর যদি তোমরা আলস্নাহর নিয়ামত গণনা করতে শুরম্ন করো তাহলে তা গুনে শেষ করতে পারবে না। নিশ্চয় আলস্নাহ পরম ক্ষমাশীল, অসীম দয়ালু। (সূরা নাহ্ল- ১৮)
অপর আয়াতে বলেন,
﴿قُلْ لَّوْ كَانَ الْبَحْرُ مِدَادًا لِّكَلِمَاتِ رَبِّيْ لَنَفِدَ الْبَحْرُ قَبْلَ اَنْ تَنْفَدَ كَلِمَاتُ رَبِّيْ وَلَوْ جِئْنَا بِمِثْلِهٖ مَدَدًا﴾
বলো, আমার প্রতিপালকের কথা লিপিবদ্ধ করার জন্য (গোটা) সমুদ্রও যদি কালিতে পরিণত হয়, তবুও আমার প্রতিপালকের কথা শেষ হওয়ার পূর্বেই সমুদ্র নিঃশেষ হয়ে যাবে- যদিও আমরা এর সাহায্যার্থে অনুরূপ আরো সমুদ্র নিয়ে আসি। (সূরা কাহফ- ১০৯)
তাছাড়া হাদীসে এসেছে,
عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ - - قَالَ : لَوْ يَعْلَمُ الْمُؤْمِنُ مَا عِنْدَ اللهِ مِنَ الْعُقُوبَةِ مَا طَمِعَ بِجَنَّتِهِ أَحَدٌ، وَلَوْ يَعْلَمُ الْكَافِرُ مَا عِنْدَ اللهِ مِنَ الرَّحْمَةِ مَا قَنِطَ مِنْ جَنَّتِهِ أَحَدٌ
যদি মুমিন ব্যক্তি জানতো আলস্নাহর নিকট কত কঠোরতম শাসিত্মরয়েছে, তাহলে কেউই জান্নাতের আকাঙ্খী হতো না। অনুরূপভাবে যদি কোন কাফির জানতো আলস্নাহর নিকট কি অপার অনুগ্রহ রয়েছে, তাহলে কেউই জান্নাত হতে নিরাশ হতো না। [সহীহ মুসলিম, হা/২৭৫৫; তিরমিযী, হা/৩৫৪২; সহীহ ইবনে হিববান, হা/৪৩২; মুসনাদে আহমাদ, হা/৯১৭৪; মিশকাত, হা/২৩৬৭।]
তবে আখিরাতে আলস্নাহ তা‘আলা কেবল কেবল তাদেরকেই অনুগ্রহ করবেন, যারা দুনিয়াতে তাকে রব বলে স্বীকার করত এবং তার হুকুম মেনে চলত। আর এ ক্ষেত্রে তারা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাত। অতঃপর আলস্নাহ তা‘আলা তাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করবেন এবং জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। আর সেদিন আলস্নাহর অনুগ্রগ ছাড়া কেউ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবেনা। হাদীসে এসেছে,
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا عَنِ النَّبِيِّ - صَلَّى الله عَلَيْهِ وسَلَّمَ- أَنَّهُ قَالَ : ( سَدِّدُوْا وَقَارِبُوْا وَأَبْشِرُوْا، فَإِنَّهُ لَا يُدْخِلُ أَحَداً الْجَنّة َعَمَلُه، قَالُوْا : وَلَا أَنْتَ يَا رَسُوْلَ اللهِ؟ قَالَ : وَلَا أَنَا إِلَّا أَنْ يَتَغَمَّدَنِيَ اللهُ بِمَغْفِرَةٍ وَرَحْمَةٍ
আয়েশা রা: থেকে বার্ণত, নবী বলেন, মধ্যমপন্থা অবলম্বন করো, আলস্নাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করো এবং সুসংবাদ গ্রহন করো। কেননা নিশ্চয় কোন বান্দা তার নিজের আমল দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবেনা। সাহাবীরা জিজ্ঞেস করলেন, আপনিও না হে আলস্নাহর রাসূল? তিঁনি বললেন না আমিও না । তবে আলস্নাহ তাঁর মাগফিরাত ও রহমত দ্বারা আমাকে বেষ্টন কওে রেখেছেন। [সহীহ বুখারী, হা/৬৪৬৭; মুসনাদে আহমাদ, হা/১০০১১; বায়হাকী হা/৪৯২৮; ইবনে মাজাহ, হা/৪২০১; সুনানে দারেমী, হা/২৭৮৯; শুআবুল ঈমান, হা/৭৬৬ সহীহ মুসলিম, হা/৭২৮৯-৯৫]
اَلرَّحْمٰنِ (আর-রহমান) গুণের মাধ্যমে আলস্নাহ তা‘আলা সাধারণভাবে সকল সৃষ্টির উপর অনুগ্রহ প্রদর্শন করে থাকেন। আর তা দুনিয়াতেও হতে পারে, আবার আখিরাতেও হতে পারে। আলস্নাহ তা’আলা দুনিয়াতে আমাদেরকে কীভাবে অনুগ্রহ করছেন, তা আমরা সহজেই অনুধাবন করতে পারি। হাদীসে এসেছে,
عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِنَّ لِلّٰهِ مِائَةَ رَحْمَةً قَسَمَ مِنْهَا رَحْمَةً بَيْنَ جَمِيْعِ الْخَلَائِقِ فَبِهَا يَتَرَاحَمُوْنَ وَبِهَا يَتَعَاطَفُوْنَ وَبِهَا تَعَطَّفُ الْوَحْشِ عَلٰى أَوْلَادِهَا وَأٰخِرُ تِسْعَةِ وَّتِسْعِيْنَ رَحْمَةً يَرْحَمُ بِهَا عِبَادَه يَوْمَ الْقِيَامَةِ
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী ﷺ বলেন, নিশ্চয় আলস্নাহ তা‘আলা কাছে ১০০টি রহমত রয়েছে। অতঃপর তিনি এর থেকে একটি ভাগ সমসত্মসৃষ্টিজীবের জন্য ভাগ করে দিয়েছেন। এ কারণেই তারা একে অপরকে দয়া, নম্রতা প্রদর্শন করে থাকে। আর এ কারণেই হিংস্র জন্তুও তার বাচ্চাদেরকে দয়া প্রদর্শন করে থাকে। আর অবশিষ্ট ৯৯ ভাগ রহমত তিনি কিয়ামতের দিন তার বান্দাদের সামনে প্রদর্শন করবেন। [ইবনে মাজাহ, হা/৪২৮৩; মুসনাদে আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক, হা/৩৫।]
আর এ কারণেই দুনিয়াতে কাফির, মুশরিক সহ সকলেই সমান হারে আলস্নাহর অনুগ্রহ প্রাপ্ত হচ্ছে। অন্যথায় যারা আলস্নাহর অবাধ্য হতো আলস্নাহ তা‘আলা তাদেরকে কোন কিছুই প্রদান করতেন না। আর এটাই স্বাভাবিক বিবেকের দাবি।
অতএব দুনিয়াতে আলস্নাহ তা‘আলার এসব অনুগ্রহ এত ব্যাপক যে, এগুলো গণনা করে শেষ করার মতো নয়। আলস্নাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَإِنْ تَعُدُّوا نِعْمَةَ اللهِ لَا تُحْصُوهَا إِنَّ اللَّهَ لَغَفُورٌ رَحِيمٌ﴾
আর যদি তোমরা আলস্নাহর নিয়ামত গণনা করতে শুরম্ন করো তাহলে তা গুনে শেষ করতে পারবে না। নিশ্চয় আলস্নাহ পরম ক্ষমাশীল, অসীম দয়ালু। (সূরা নাহ্ল- ১৮)
অপর আয়াতে বলেন,
﴿قُلْ لَّوْ كَانَ الْبَحْرُ مِدَادًا لِّكَلِمَاتِ رَبِّيْ لَنَفِدَ الْبَحْرُ قَبْلَ اَنْ تَنْفَدَ كَلِمَاتُ رَبِّيْ وَلَوْ جِئْنَا بِمِثْلِهٖ مَدَدًا﴾
বলো, আমার প্রতিপালকের কথা লিপিবদ্ধ করার জন্য (গোটা) সমুদ্রও যদি কালিতে পরিণত হয়, তবুও আমার প্রতিপালকের কথা শেষ হওয়ার পূর্বেই সমুদ্র নিঃশেষ হয়ে যাবে- যদিও আমরা এর সাহায্যার্থে অনুরূপ আরো সমুদ্র নিয়ে আসি। (সূরা কাহফ- ১০৯)
তাছাড়া হাদীসে এসেছে,
عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ - - قَالَ : لَوْ يَعْلَمُ الْمُؤْمِنُ مَا عِنْدَ اللهِ مِنَ الْعُقُوبَةِ مَا طَمِعَ بِجَنَّتِهِ أَحَدٌ، وَلَوْ يَعْلَمُ الْكَافِرُ مَا عِنْدَ اللهِ مِنَ الرَّحْمَةِ مَا قَنِطَ مِنْ جَنَّتِهِ أَحَدٌ
যদি মুমিন ব্যক্তি জানতো আলস্নাহর নিকট কত কঠোরতম শাসিত্মরয়েছে, তাহলে কেউই জান্নাতের আকাঙ্খী হতো না। অনুরূপভাবে যদি কোন কাফির জানতো আলস্নাহর নিকট কি অপার অনুগ্রহ রয়েছে, তাহলে কেউই জান্নাত হতে নিরাশ হতো না। [সহীহ মুসলিম, হা/২৭৫৫; তিরমিযী, হা/৩৫৪২; সহীহ ইবনে হিববান, হা/৪৩২; মুসনাদে আহমাদ, হা/৯১৭৪; মিশকাত, হা/২৩৬৭।]
তবে আখিরাতে আলস্নাহ তা‘আলা কেবল কেবল তাদেরকেই অনুগ্রহ করবেন, যারা দুনিয়াতে তাকে রব বলে স্বীকার করত এবং তার হুকুম মেনে চলত। আর এ ক্ষেত্রে তারা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাত। অতঃপর আলস্নাহ তা‘আলা তাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করবেন এবং জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। আর সেদিন আলস্নাহর অনুগ্রগ ছাড়া কেউ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবেনা। হাদীসে এসেছে,
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا عَنِ النَّبِيِّ - صَلَّى الله عَلَيْهِ وسَلَّمَ- أَنَّهُ قَالَ : ( سَدِّدُوْا وَقَارِبُوْا وَأَبْشِرُوْا، فَإِنَّهُ لَا يُدْخِلُ أَحَداً الْجَنّة َعَمَلُه، قَالُوْا : وَلَا أَنْتَ يَا رَسُوْلَ اللهِ؟ قَالَ : وَلَا أَنَا إِلَّا أَنْ يَتَغَمَّدَنِيَ اللهُ بِمَغْفِرَةٍ وَرَحْمَةٍ
আয়েশা রা: থেকে বার্ণত, নবী বলেন, মধ্যমপন্থা অবলম্বন করো, আলস্নাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করো এবং সুসংবাদ গ্রহন করো। কেননা নিশ্চয় কোন বান্দা তার নিজের আমল দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবেনা। সাহাবীরা জিজ্ঞেস করলেন, আপনিও না হে আলস্নাহর রাসূল? তিঁনি বললেন না আমিও না । তবে আলস্নাহ তাঁর মাগফিরাত ও রহমত দ্বারা আমাকে বেষ্টন কওে রেখেছেন। [সহীহ বুখারী, হা/৬৪৬৭; মুসনাদে আহমাদ, হা/১০০১১; বায়হাকী হা/৪৯২৮; ইবনে মাজাহ, হা/৪২০১; সুনানে দারেমী, হা/২৭৮৯; শুআবুল ঈমান, হা/৭৬৬ সহীহ মুসলিম, হা/৭২৮৯-৯৫]