১
সূরা ফাতিহা
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৯
ইবাদাত নিয়ে মানুষের বিভ্রামিত্ম :
বর্তমান সমাজে মানুষ عِبَادَةٌ (ইবাদাত) নিয়ে মারাত্মক বিভ্রামিত্মতে পতিত রয়েছে। অনেক মানুষ শুধু সালাত, সিয়াম, হজ্জ ও যাকাতকে ইবাদাত মনে করে থাকেন। তারা ব্যবসা-বাণিজ্য, লেন-দেন, ইসলামী আইন বাসত্মবায়ন এসব বিষয়কে ইবাদত মনে করেনা। আসলে এ ধারণা মোটেও সঠিক নয়। কেননা একজন মানুষ তার জীবন পরিচালনা করতে আলস্নাহর সন্তুষ্টি ও নবীর সুন্নাহ মোতাবেক যে সকল কাজ করবে, তাই ইবাদতের মধ্যে গণ্য হবে।
ইবাদাতকে কোনভাবেই নির্দিষ্ট কিছু ইবাদাতের সাথে সীমাবদ্ধ করা যায় না। কেননা عِبَادَةٌ (ইবাদাত) শব্দটির মূল উৎপত্তি হচ্ছে عَبْدٌ (‘আবদুন) শব্দ থেকে, যার অর্থ হচ্ছে দাস। সুতরাং দাসত্ব প্রকাশের যাবতীয় কাজের নামই হচ্ছে ইবাদাত। আর এ কথা সত্য যে, কেবল সালাত, সিয়াম, হজ্জ, যাকাত ইত্যাদি কয়েকটি কাজ সম্পন্ন করলেই প্রকৃত দাসত্ব প্রকাশ পায় না। বরং এর সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে, তাকওয়া, ইখলাস, সদাচরণ, হালাল উপার্জন ইত্যাদি বিষয়সমূহ। সুতরাং যারা এসব বিষয়কে বাদ দিয়ে কেবলমাত্র সালাত, সিয়ামকে ইবাদাত হিসেবে নির্দিষ্ট করে নিয়েছে, পরকালে তাদের মুক্তির উপায় খুবই ক্ষীণ। নিম্নে এসকল মানুষের কিছু উদাহরণ পেশ করা হলো :
১. একদল মানুষ রয়েছে, যারা পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, সিয়াম মসজিদে গিয়ে যথাযথভাবে পালন করে এবং বিভিন্ন খাতে অনেক সম্পদ দান করে। কিন্তু তাদের উপার্জনের মূল উৎস হচ্ছে সূদ, ঘুষ, যুলুম ইত্যাদি। অর্থাৎ তারা এসকল অবৈধ পন্থায় অর্থ উপার্জন করে, আবার নিজেদের এসব কুকীর্তি ঢেকে রেখে সমাজে সাধু সাজার জন্য বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা, ইয়াতীমখানা, ফকীর ও মিসকীনকে দানও করে। আলস্নাহ তা‘আলার কাছে তাদের এসব ইবাদাত একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা ইবাদাত কবুলের পূর্বশর্ত হচ্ছে হালাল উপার্জন করা। অর্থাৎ মানুষ দুনিয়াতে হারাম উপার্জন করে যত ভালো কাজই করম্নক না কেন তা আলস্নাহর কাছে পরিত্যাজ্য। হারাম উপার্জন থেকে তওবা না করে মৃত্যুবরণ করলে পরকালে আলস্নাহর নিকট কঠিন শাসিত্মর সম্মুখীন হতে হবে।
২. আরো একদল মানুষ রয়েছে, যারা সালাত, সিয়াম, হজ্জ, যাকাত ইত্যাদি ইবাদাতসমূহ খুব সুন্দরভাবেই পালন করে। আর তারা সমাজের মধ্যে বিরাট সম্মানের অধিকারীও বটে। অথচ তারা নিজ স্ত্রী, সমত্মান, ভাই, বোন, প্রতিবেশী ইত্যাদি নিকটাত্মীয়ের হক আদায় করে না। আবার অনেকে মানুষের সাথে খুবই খারাপ ব্যবহার করে থাকে। প্রকৃতপক্ষে এরাও পরিপূর্ণ আলস্নাহর ইবাদাতকারী নয়।
৩. আরো একদল মানুষ রয়েছে, যারা সালাত, সিয়াম সঠিকভাবে পালন করার সাথে সাথে অন্যান্য ভালো কাজগুলোও করে থাকে। কিন্তু তারা নিজের পরিবারের ব্যাপারে একেবারেই উদাসীন। যেমন- নিজের সমত্মানকে ইসলামী শিক্ষা দেয় না, পরিবারের কেউ আলস্নাহর হুকুম পালন না করলেও তার ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা নেয় না। তাদের স্ত্রী ও মেয়েরা পর্দা করে না, তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ ও জীবনাচার থাকে অমুসলিমদের অনুকরণে, তাদের বিয়ের অনুষ্ঠানও হয় অমুসলিম রীতিতে। এসব লোককে দাইয়ুস বলা হয়েছে। আর দাইয়ুস ব্যক্তি কখনো জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।
৪. কিছু মহিলা রয়েছে, তারা কিছু কিছু ধর্মীয় কাজ করলেও ইসলামের অনেক ফরজ বিধানের তোয়াক্কা করে না। তারা ইসলামিক অনুষ্ঠানে ইসলামী পোশাক পরিধান করেই গমন করে; কিন্তু বন্ধু-বান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজনের বাসায় অথবা অন্য কোন অনুষ্ঠানে তারা অনৈসলামিক পোশাক পরিধান করে গমন করে; তখন তাদের মধ্যে ইসলামের কোন চিহ্নই খুঁজে পাওয়া যায় না। তারা অনেন ক্ষেত্রে ইসলাম কর্তৃক নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত হয়ে যায়। প্রকৃতপক্ষে এরাও আলস্নাহর ইবাদাতকারী নয়।
৫. সমাজে আরো কিছু লোক রয়েছে, যারা সালাত, সিয়াম, হজ্জ, যাকাত, সদাচরণ ইত্যাদি উত্তম কাজসমূহ যথাযথভাবেই পালন করে। কিন্তু দেখা যায় যে, তারা তাগুতের আইন-কানুনের সাথে তাল মিলিয়ে বেঁচে থাকাকেই পছন্দ করে। ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে এরাও আলস্নাহর ইবাদাতকারী নয়। কেননা ইবাদাত কবুলের অন্যতম পূর্বশর্ত হচ্ছে বিশুদ্ধ ঈমান। আর বিশুদ্ধ ঈমানের পূর্বশর্ত হচ্ছে প্রথমে তাগুতকে বর্জন করা।
অতএব আমাদের উচিত, عِبَادَةٌ (ইবাদাত) এর ব্যাপারে কোনরূপ বিভ্রামিত্মতে পতিত না হয়ে নিজেদেরকে পরিপূর্ণভাবে আলস্নাহর দাস হিসেবে গড়ে তোলা এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আলস্নাহর দাসত্ব করা।
ইবাদাতকে কোনভাবেই নির্দিষ্ট কিছু ইবাদাতের সাথে সীমাবদ্ধ করা যায় না। কেননা عِبَادَةٌ (ইবাদাত) শব্দটির মূল উৎপত্তি হচ্ছে عَبْدٌ (‘আবদুন) শব্দ থেকে, যার অর্থ হচ্ছে দাস। সুতরাং দাসত্ব প্রকাশের যাবতীয় কাজের নামই হচ্ছে ইবাদাত। আর এ কথা সত্য যে, কেবল সালাত, সিয়াম, হজ্জ, যাকাত ইত্যাদি কয়েকটি কাজ সম্পন্ন করলেই প্রকৃত দাসত্ব প্রকাশ পায় না। বরং এর সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে, তাকওয়া, ইখলাস, সদাচরণ, হালাল উপার্জন ইত্যাদি বিষয়সমূহ। সুতরাং যারা এসব বিষয়কে বাদ দিয়ে কেবলমাত্র সালাত, সিয়ামকে ইবাদাত হিসেবে নির্দিষ্ট করে নিয়েছে, পরকালে তাদের মুক্তির উপায় খুবই ক্ষীণ। নিম্নে এসকল মানুষের কিছু উদাহরণ পেশ করা হলো :
১. একদল মানুষ রয়েছে, যারা পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, সিয়াম মসজিদে গিয়ে যথাযথভাবে পালন করে এবং বিভিন্ন খাতে অনেক সম্পদ দান করে। কিন্তু তাদের উপার্জনের মূল উৎস হচ্ছে সূদ, ঘুষ, যুলুম ইত্যাদি। অর্থাৎ তারা এসকল অবৈধ পন্থায় অর্থ উপার্জন করে, আবার নিজেদের এসব কুকীর্তি ঢেকে রেখে সমাজে সাধু সাজার জন্য বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা, ইয়াতীমখানা, ফকীর ও মিসকীনকে দানও করে। আলস্নাহ তা‘আলার কাছে তাদের এসব ইবাদাত একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা ইবাদাত কবুলের পূর্বশর্ত হচ্ছে হালাল উপার্জন করা। অর্থাৎ মানুষ দুনিয়াতে হারাম উপার্জন করে যত ভালো কাজই করম্নক না কেন তা আলস্নাহর কাছে পরিত্যাজ্য। হারাম উপার্জন থেকে তওবা না করে মৃত্যুবরণ করলে পরকালে আলস্নাহর নিকট কঠিন শাসিত্মর সম্মুখীন হতে হবে।
২. আরো একদল মানুষ রয়েছে, যারা সালাত, সিয়াম, হজ্জ, যাকাত ইত্যাদি ইবাদাতসমূহ খুব সুন্দরভাবেই পালন করে। আর তারা সমাজের মধ্যে বিরাট সম্মানের অধিকারীও বটে। অথচ তারা নিজ স্ত্রী, সমত্মান, ভাই, বোন, প্রতিবেশী ইত্যাদি নিকটাত্মীয়ের হক আদায় করে না। আবার অনেকে মানুষের সাথে খুবই খারাপ ব্যবহার করে থাকে। প্রকৃতপক্ষে এরাও পরিপূর্ণ আলস্নাহর ইবাদাতকারী নয়।
৩. আরো একদল মানুষ রয়েছে, যারা সালাত, সিয়াম সঠিকভাবে পালন করার সাথে সাথে অন্যান্য ভালো কাজগুলোও করে থাকে। কিন্তু তারা নিজের পরিবারের ব্যাপারে একেবারেই উদাসীন। যেমন- নিজের সমত্মানকে ইসলামী শিক্ষা দেয় না, পরিবারের কেউ আলস্নাহর হুকুম পালন না করলেও তার ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা নেয় না। তাদের স্ত্রী ও মেয়েরা পর্দা করে না, তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ ও জীবনাচার থাকে অমুসলিমদের অনুকরণে, তাদের বিয়ের অনুষ্ঠানও হয় অমুসলিম রীতিতে। এসব লোককে দাইয়ুস বলা হয়েছে। আর দাইয়ুস ব্যক্তি কখনো জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।
৪. কিছু মহিলা রয়েছে, তারা কিছু কিছু ধর্মীয় কাজ করলেও ইসলামের অনেক ফরজ বিধানের তোয়াক্কা করে না। তারা ইসলামিক অনুষ্ঠানে ইসলামী পোশাক পরিধান করেই গমন করে; কিন্তু বন্ধু-বান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজনের বাসায় অথবা অন্য কোন অনুষ্ঠানে তারা অনৈসলামিক পোশাক পরিধান করে গমন করে; তখন তাদের মধ্যে ইসলামের কোন চিহ্নই খুঁজে পাওয়া যায় না। তারা অনেন ক্ষেত্রে ইসলাম কর্তৃক নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত হয়ে যায়। প্রকৃতপক্ষে এরাও আলস্নাহর ইবাদাতকারী নয়।
৫. সমাজে আরো কিছু লোক রয়েছে, যারা সালাত, সিয়াম, হজ্জ, যাকাত, সদাচরণ ইত্যাদি উত্তম কাজসমূহ যথাযথভাবেই পালন করে। কিন্তু দেখা যায় যে, তারা তাগুতের আইন-কানুনের সাথে তাল মিলিয়ে বেঁচে থাকাকেই পছন্দ করে। ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে এরাও আলস্নাহর ইবাদাতকারী নয়। কেননা ইবাদাত কবুলের অন্যতম পূর্বশর্ত হচ্ছে বিশুদ্ধ ঈমান। আর বিশুদ্ধ ঈমানের পূর্বশর্ত হচ্ছে প্রথমে তাগুতকে বর্জন করা।
অতএব আমাদের উচিত, عِبَادَةٌ (ইবাদাত) এর ব্যাপারে কোনরূপ বিভ্রামিত্মতে পতিত না হয়ে নিজেদেরকে পরিপূর্ণভাবে আলস্নাহর দাস হিসেবে গড়ে তোলা এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আলস্নাহর দাসত্ব করা।