hadith book logo

সূরা ফাতিহা

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৩

সাহায্য চাওয়ার প্রকারভেদ ও হুকুম

إسْتِعَانَةٌ (ইসতি‘আনা) তথা সাহায্য চাওয়াটা সাধারণত দুই প্রকার। যেমন-

১. আলস্নাহর কাছে সাহায্য চাওয়া :

সাহায্য কেবলমাত্র আলস্নাহর কাছেই চাইতে হবে। কেননা সর্বময় ক্ষমতার মালিক একমাত্র আলস্নাহ তা‘আলা। ইহকালীন ও পরকালীন সকল বিষয়ে সাহায্য করার ক্ষমতা একমাত্র আলস্নাহর কাছেই রয়েছে। এজন্যই অত্র আয়াতে বলা হয়েছে,

﴿إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِيْنُ﴾

আমরা কেবলমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং কেবলমাত্র তোমারই সাহায্যপ্রার্থনা করি।

তবে এখানে ঐসব বিষয়ের ব্যাপারে সাহায্যের কথা বলা হয়েছে, যার মাধ্যমে আলস্নাহর নৈকট্য লাভ করা যায় এবং জান্নাত লাভের পথ সুগম হয়। সুতরাং এসব ক্ষেত্রে আলস্নাহর কাছে সাহায্য চাওয়াটা কেবল বৈধই নয়, বরং আবশ্যকও বটে।

পক্ষামত্মরে যেসব বিষয়ের মাধ্যমে আলস্নাহর অবাধ্যতা করা হয় এবং জান্নাত লাভের পথে বাধা সৃষ্টি হয়, সেসব বিষয়ে সাহায্য চাওয়াটা কেবল অবৈধই নয়, বরং সেসব কাজ থেকে বিরত থাকা অত্যাবশ্যক।

২. মানুষের কাছে সাহায্য চাওয়া :

এ ধরনের সাহায্য চাওয়াটাও আবার দুই ধরনের। যেমন-

ক. এমন বিষয়ে সাহায্য চাওয়া, যার ব্যাপারে মানুষের ক্ষমতা রয়েছে। এরূপ সাহায্য চাওয়া ইসলামে বৈধ রয়েছে। তবে শর্ত হচ্ছে সেটা অবশ্যই গোনাহের কাজ থেকে মুক্ত হতে হবে। যদি এমন হয়, তাহলে এ ক্ষেত্রে সাহায্যপ্রার্থনাকারী ব্যক্তিকে সাহায্য করা আবশ্যক। কেননা আলস্নাহ তা‘আলা বলেন,

﴿تَعَاوَنُوْا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوٰى﴾

তোমরা নেকী ও তাকওয়ার কাজে পরস্পরকে সাহায্য করো। (সূরা মায়েদা- ২)

আর হাদীসে এসেছে,

عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ....... وَاللهُ فِىْ عَوْنِ الْعَبْدِ مَا كَانَ الْعَبْدُ فِىْ عَوْنِ أَخِيْهِ

আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুলস্নাহ (সাঃ) বলেছেন, আলস্নাহ তার বান্দার সাহায্যে ততক্ষণ থাকেন, যতক্ষণ বান্দা তার ভাইয়ের সাহায্যে থাকে। [সহীহ মুসলিম, হা/২৬৯৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/৭৪২১; তিরমিযী, হা/১৪২৫; আবু দাউদ, হা/৪৯৪৮; ইবনে মাজাহ, হা/২২৫; মিশকাত, হা/২০৪।]

খ. এমন বিষয়ে সাহায্য চাওয়া, যার ব্যাপারে মানুষের ক্ষমতা নেই। যেমন- কোন মানুষের কাছে সমত্মান কামনা করা, কঠিন বিপদ থেকে মুক্তি চাওয়া। এরূপ সাহায্য কামনা করা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং প্রকাশ্য শিরকের অমত্মর্ভুক্ত।

তাছাড়া নবী, অলি প্রভৃতি নেককার মৃত মানুষের নিকট সাহায্য কামনা করা ও তাদের অসীলায় মুক্তি চাওয়াই হলো পৃথিবীর সর্বাধিক প্রাচীন শিরক। যেমন- জাহেলী যুগের মুশরিকরা বলত,

﴿ هٰۤؤُلَآءِ شُفَعَآؤُنَا عِنْدَ اللهِ ﴾

ওরা আমাদের জন্য আলস্নাহর নিকট সুফারিশকারী মাত্র। (সূরা ইউনুস- ১৮)

নূহ (আঃ) থেকে শুরম্ন করে শেষনবী মুহাম্মাদ (সাঃ) পর্যমত্ম সকল নবী ও রাসূল এই শিরকের বিরম্নদ্ধে আমৃত্যু সংগ্রাম করে গেছেন।

এমনিভাবে সূর্য, চন্দ্র, তারকারাজি, গাছ, পাথর, সাগর বা অনুরূপ সৃষ্টবসুর কাছেও সাহায্য প্রার্থনা করা বৈধ নয়। কেননা কাউকে সাহায্য করার মতো ক্ষমতা তাদের নেই। সুতরাং তাদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করাও শিরকের অমত্মর্ভুক্ত। আলস্নাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَإِنْ يَّمْسَسْكَ اللهُ بِضُرٍّ فَلاَ كَاشِفَ لَهُ إِلاَّ هُوَ﴾

যদি আলস্নাহ তোমার কোন অনিষ্ট করতে চান, তবে তিনি ব্যতীত কেউ নেই যে, তা দূর করে দেয়। (সূরা আন‘আম- ১৭)

উলেস্নখ যে, বান্দা আলস্নাহ তা‘আলা কাছে যেকোন সময় সাহায্য চাইতে পারে। আলস্নাহ তা‘আলা বলেন,

﴿اُدْعُوْنِيْ أَسْتَجِبْ لَكُمْ﴾

‘‘তোমরা আমাকে ডাকো। আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব’’(সুরা মুমিন ৬০)।

অতএব সমল অবস্থায় সকল বিষয়ে আলস্নাহর নিকট সাহায্য চাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।