১
সূরা ফাতিহা
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৬
اَلدِّيْنِ (আদ দ্বীন)-এর অর্থ
دِيْنٌ (দ্বীন) শব্দটি একবচন; এর বহুবচন হচ্ছে أدْيَانٌ (আদইয়ান)। যার অর্থ হলো- প্রতিদান, জীবন ব্যবস্থা, আনুগত্য ইত্যাদি।
সুতরাং এখানে يَوْمِ الدِّيْنِ এর অর্থ হচ্ছে, প্রতিদানের দিন। যেমন বলা হয়ে থাকে, كَمَا تَدِيْنُ تُدَانُ তথা যেমন কর্ম তেমন ফল। আবার আরবিতে يَوْمٌ (ইয়াওমুন) শব্দটির বেশ কিছু অর্থ হয়। যেমন- দিন, যুগ, পর্যায়, লম্বা সময় ইত্যাদি। তবে বিচার দিন আমাদের একটি দিনের সমান নয়; বরং লম্বা দিন অথবা লম্বা সময়। আর এখানে যে দিনটির কথা বুঝানো হয়েছে সেটি হবে বর্তমানের দিনের তুলনায় ৫০ হাজার বছরের সমান। আলস্নাহ তা‘আলা বলেন,
تَعْرُجُ الْمَلَائِكَةُ وَ الرُّوْحُ اِلَيْهِ فِيْ يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهٗۤ خَمْسِيْنَ اَلْفَ سَنَةٍ
ফেরেশতা এবং রম্নহ (জিব্রাঈল আ) তাঁর দিকে ঊধ্বগামী হয় এমন একদিন যার পরিমাণ হবে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান। (সূরা মা‘আরিজ- ৪)
এ দুনিয়াতে মানুষ যা কিছু করে তার সঠিক বিচার ও পরিপূর্ণ প্রতিদান পাওয়ার জন্য আমাদের সামনে একটি দিন আসছে। এর নাম হলো বিচারের দিন। সে দিনের একমাত্র বিচারক হবেন আলস্নাহ তা‘আলা। আর তিনি কারো প্রতি যুলুম করবেন না। যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তাদেরকে তিনি নিয়ামতে ভরা জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। আর যারা পাপকাজ করে অপরাধী হয়েছে, তাদেরকে তিনি জাহান্নামের জ্বলমত্ম অগ্নিতে নিক্ষেপ করবেন। সে দিনের সকল ক্ষমতা একমাত্র তাঁরই হাতে থাকবে। দুনিয়ার কোন রাজা-বাদশার কর্তৃত্ব সেখানে থাকবে না।
এই আয়াতের মাধ্যমে আলস্নাহ স্বীয় বান্দাদেরকে একথা বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, সৃষ্টি জগতের আদি হতে অমত্ম পর্যমত্ম সকল কিছুর চিরমত্মন মালিকানা তাঁরই হাতে। শাসক যেমন অধীনসত্মদের নিয়োগ দেন ও তাদেরকে শাসকের নিকট দায়বদ্ধ থাকতে হয়, তেমনিভাবে দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনে বান্দাকে তিনি বিশ্বপরিচালনার বিভিন্ন পর্যায়ে সাময়িকভাবে দায়িত্ব প্রদান করেছেন। বান্দার কর্মজীবনের ছোট-বড় সবকিছুই আলস্নাহর দৃষ্টির সামনে রয়েছে এবং কিয়ামতের দিন সবকিছুর চূড়ামত্ম হিসাব তিনিই গ্রহণ করবেন ও সে অনুযায়ী প্রতিদান দিবেন। আলস্নাহ তা‘আলা বলেন,
﴿فَمَنْ يَّعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَّرَهٗ – وَمَنْ يَّعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَّرَهٗ﴾
যে ব্যক্তি অণু পরিমাণ সৎকর্ম করবে, সে তা দেখতে পাবে এবং কেউ যদি অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করে, তাও সে দেখতে পাবে। (সূরা যিলযাল- ৭, ৮)
অপর আয়াতে বলা হয়েছে,
﴿يَوْمَئِذٍ يُّوَفِّيْهِمُ اللهُ دِيْنَهُمُ الْحَقَّ﴾
যেদিন আলস্নাহ তাদেরকে প্রতিদান পরিপূর্ণরূপে দান করবেন। (সূরা নূর- ২৫)
সেদিন সমসত্মকর্তৃত্ব হবে একমাত্র আলস্নাহর। তার অনুমতি ব্যতীত কেউ কারো পক্ষে সুপারিশও করতে পারবে না। কুরআন মাজীদে এসেছে,
مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ
তাঁর হুকুম ব্যতীত এমন কে আছে, যে তাঁর নিকট সুপারিশ করতে পারে।
(সূরা বাকারা- ২৫৫)
আলস্নাহ তা‘আলা এখানে খুব অল্প কিছু শব্দ ব্যবহার করে আমাদেরকে বলে দিয়েছেন যে, যদিও তাঁর করম্নণা অসীম; কিন্তু তারপরেও আমাদেরকে আমাদের কাজের হিসাব দিতে হবে এবং হিসাবগ্রহণকারী হবেন স্বয়ং আলস্নাহ তা‘আলা। কেউ আমাদেরকে সেদিন তাঁর বিচার থেকে রক্ষা করতে পারবে না এবং কেউ কোনো কাজে আসবে না। এমনকি পিতা পুত্রের কোন কাজে আসবে না তেমনিভাবে পুত্র পিতার কোন উপকারে আসবে না। আলস্নাহ তা‘আলা বলেন,
﴿يَاۤ اَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوْا رَبَّكُمْ وَاخْشَوْا يَوْمًا لَّا يَجْزِيْ وَالِدٌ عَنْ وَّلَدِهٖؗ وَلَا مَوْلُوْدٌ هُوَ جَازٍ عَنْ وَّالِدِهٖ شَيْئًا اِنَّ وَعْدَ اللهِ حَقٌّ﴾
‘‘হে মানুষ! তোমরা ভয় করো তোমাদের প্রতিপালককে এবং সেদিনকে, যেদিন পিতা সমত্মানের কোন উপকারে আসবে না এবং সমত্মানও পিতার কোন উপকারে আসবে না, নিশ্চয় আলস্নাহর ওয়াদা সত্য’’। (সূরা লুক্বমান- ৩৩)
সেই দিন সকলেই নিজ নিজ আত্মার কি হবে সেই বিষয়ে চিমিত্মত থাকবে। মানুষ নিজের ভাই, পিতা-মাতা, স্ত্রী-সমত্মান থেকে পলায়ন করবে। আলস্নাহ তা‘আলা বলেন,
﴿فَاِذَا جَآءَتِ الصَّآخَّةُ يَوْمَ يَفِرُّ الْمَرْءُ مِنْ اَخِيْهِ – وَاُمِّهٖ وَاَبِيْهِ – وَصَاحِبَتِهٖ وَبَنِيْهِ﴾
যেদিন ঐ বিকট ধ্বনি এসে পড়বে; সেদিন মানুষ নিজের ভাই হতে পলায়ন করবে এবং তার মাতা, পিতা, স্ত্রী ও সমত্মান হতেও (পলায়ন করবে)। (সূরা আবাসা : ৩৩-৩৬)
সুতরাং এখানে يَوْمِ الدِّيْنِ এর অর্থ হচ্ছে, প্রতিদানের দিন। যেমন বলা হয়ে থাকে, كَمَا تَدِيْنُ تُدَانُ তথা যেমন কর্ম তেমন ফল। আবার আরবিতে يَوْمٌ (ইয়াওমুন) শব্দটির বেশ কিছু অর্থ হয়। যেমন- দিন, যুগ, পর্যায়, লম্বা সময় ইত্যাদি। তবে বিচার দিন আমাদের একটি দিনের সমান নয়; বরং লম্বা দিন অথবা লম্বা সময়। আর এখানে যে দিনটির কথা বুঝানো হয়েছে সেটি হবে বর্তমানের দিনের তুলনায় ৫০ হাজার বছরের সমান। আলস্নাহ তা‘আলা বলেন,
تَعْرُجُ الْمَلَائِكَةُ وَ الرُّوْحُ اِلَيْهِ فِيْ يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهٗۤ خَمْسِيْنَ اَلْفَ سَنَةٍ
ফেরেশতা এবং রম্নহ (জিব্রাঈল আ) তাঁর দিকে ঊধ্বগামী হয় এমন একদিন যার পরিমাণ হবে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান। (সূরা মা‘আরিজ- ৪)
এ দুনিয়াতে মানুষ যা কিছু করে তার সঠিক বিচার ও পরিপূর্ণ প্রতিদান পাওয়ার জন্য আমাদের সামনে একটি দিন আসছে। এর নাম হলো বিচারের দিন। সে দিনের একমাত্র বিচারক হবেন আলস্নাহ তা‘আলা। আর তিনি কারো প্রতি যুলুম করবেন না। যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তাদেরকে তিনি নিয়ামতে ভরা জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। আর যারা পাপকাজ করে অপরাধী হয়েছে, তাদেরকে তিনি জাহান্নামের জ্বলমত্ম অগ্নিতে নিক্ষেপ করবেন। সে দিনের সকল ক্ষমতা একমাত্র তাঁরই হাতে থাকবে। দুনিয়ার কোন রাজা-বাদশার কর্তৃত্ব সেখানে থাকবে না।
এই আয়াতের মাধ্যমে আলস্নাহ স্বীয় বান্দাদেরকে একথা বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, সৃষ্টি জগতের আদি হতে অমত্ম পর্যমত্ম সকল কিছুর চিরমত্মন মালিকানা তাঁরই হাতে। শাসক যেমন অধীনসত্মদের নিয়োগ দেন ও তাদেরকে শাসকের নিকট দায়বদ্ধ থাকতে হয়, তেমনিভাবে দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনে বান্দাকে তিনি বিশ্বপরিচালনার বিভিন্ন পর্যায়ে সাময়িকভাবে দায়িত্ব প্রদান করেছেন। বান্দার কর্মজীবনের ছোট-বড় সবকিছুই আলস্নাহর দৃষ্টির সামনে রয়েছে এবং কিয়ামতের দিন সবকিছুর চূড়ামত্ম হিসাব তিনিই গ্রহণ করবেন ও সে অনুযায়ী প্রতিদান দিবেন। আলস্নাহ তা‘আলা বলেন,
﴿فَمَنْ يَّعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَّرَهٗ – وَمَنْ يَّعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَّرَهٗ﴾
যে ব্যক্তি অণু পরিমাণ সৎকর্ম করবে, সে তা দেখতে পাবে এবং কেউ যদি অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করে, তাও সে দেখতে পাবে। (সূরা যিলযাল- ৭, ৮)
অপর আয়াতে বলা হয়েছে,
﴿يَوْمَئِذٍ يُّوَفِّيْهِمُ اللهُ دِيْنَهُمُ الْحَقَّ﴾
যেদিন আলস্নাহ তাদেরকে প্রতিদান পরিপূর্ণরূপে দান করবেন। (সূরা নূর- ২৫)
সেদিন সমসত্মকর্তৃত্ব হবে একমাত্র আলস্নাহর। তার অনুমতি ব্যতীত কেউ কারো পক্ষে সুপারিশও করতে পারবে না। কুরআন মাজীদে এসেছে,
مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ
তাঁর হুকুম ব্যতীত এমন কে আছে, যে তাঁর নিকট সুপারিশ করতে পারে।
(সূরা বাকারা- ২৫৫)
আলস্নাহ তা‘আলা এখানে খুব অল্প কিছু শব্দ ব্যবহার করে আমাদেরকে বলে দিয়েছেন যে, যদিও তাঁর করম্নণা অসীম; কিন্তু তারপরেও আমাদেরকে আমাদের কাজের হিসাব দিতে হবে এবং হিসাবগ্রহণকারী হবেন স্বয়ং আলস্নাহ তা‘আলা। কেউ আমাদেরকে সেদিন তাঁর বিচার থেকে রক্ষা করতে পারবে না এবং কেউ কোনো কাজে আসবে না। এমনকি পিতা পুত্রের কোন কাজে আসবে না তেমনিভাবে পুত্র পিতার কোন উপকারে আসবে না। আলস্নাহ তা‘আলা বলেন,
﴿يَاۤ اَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوْا رَبَّكُمْ وَاخْشَوْا يَوْمًا لَّا يَجْزِيْ وَالِدٌ عَنْ وَّلَدِهٖؗ وَلَا مَوْلُوْدٌ هُوَ جَازٍ عَنْ وَّالِدِهٖ شَيْئًا اِنَّ وَعْدَ اللهِ حَقٌّ﴾
‘‘হে মানুষ! তোমরা ভয় করো তোমাদের প্রতিপালককে এবং সেদিনকে, যেদিন পিতা সমত্মানের কোন উপকারে আসবে না এবং সমত্মানও পিতার কোন উপকারে আসবে না, নিশ্চয় আলস্নাহর ওয়াদা সত্য’’। (সূরা লুক্বমান- ৩৩)
সেই দিন সকলেই নিজ নিজ আত্মার কি হবে সেই বিষয়ে চিমিত্মত থাকবে। মানুষ নিজের ভাই, পিতা-মাতা, স্ত্রী-সমত্মান থেকে পলায়ন করবে। আলস্নাহ তা‘আলা বলেন,
﴿فَاِذَا جَآءَتِ الصَّآخَّةُ يَوْمَ يَفِرُّ الْمَرْءُ مِنْ اَخِيْهِ – وَاُمِّهٖ وَاَبِيْهِ – وَصَاحِبَتِهٖ وَبَنِيْهِ﴾
যেদিন ঐ বিকট ধ্বনি এসে পড়বে; সেদিন মানুষ নিজের ভাই হতে পলায়ন করবে এবং তার মাতা, পিতা, স্ত্রী ও সমত্মান হতেও (পলায়ন করবে)। (সূরা আবাসা : ৩৩-৩৬)