hadith book logo

হাফেয ইবন কাসীরের তাফসীর থেকে সংক্ষেপিত সূরা আল-আনফালের তাফসীর

লেখকঃ শাইখ আহমদ মুহাম্মাদ শাকের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৩

মুসলিমগণের ওপরে তন্দ্রা প্রবল হয়:

আল্লাহ তা‘আলা মুসলিমগণকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে, তিনি তাদের প্রতি তন্দ্রা প্রেরণ করেন তাদেরকে ভয়ভীতি থেকে নিরাপত্তা দিতে যা তাদেরকে পেয়ে বসেছিল। কেননা বদর যুদ্ধে তাদের শত্রুদের সংখ্যা ছিল বেশি আর তাদের সংখ্যা ছিল অল্প। যেমন, আল্লাহ তা‘আলা উহুদ যুদ্ধে ঈমানদারদের সাথে করেছিলেন। যেমন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ﴿ثُمَّ أَنزَلَ عَلَيۡكُم مِّنۢ بَعۡدِ ٱلۡغَمِّ أَمَنَةٗ نُّعَاسٗا يَغۡشَىٰ طَآئِفَةٗ مِّنكُمۡۖ وَطَآئِفَةٞ قَدۡ أَهَمَّتۡهُمۡ أَنفُسُهُمۡ يَظُنُّونَ بِٱللَّهِ غَيۡرَ ٱلۡحَقِّ ظَنَّ ٱلۡجَٰهِلِيَّةِۖ ١٥٤﴾ [ ال عمران : ١٥٤ ] “অতঃপর কষ্টের পর আল্লাহ তোমাদের প্রতি শান্তি-তন্দ্রা প্রেরণ করলেন, যা তোমাদের একদলকে আচ্ছন্ন করল এবং অন্যদল মূর্খের মতো আল্লাহর প্রতি কুধারণা পোষণ করত”। [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৫৪] আবু তালহা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, উহুদের ময়দানে যাদেরকে তন্দ্রা পেয়েছিল আমিও তাদের অন্যতম ছিলাম। আমার হাত থেকে বহুবার তরবারী পড়ে গিয়েছিল, একবার পড়ে যাচ্ছিল আবার কুড়িয়ে নিচ্ছিলাম। আমি আমার সাথীদের দিকে তাকিয়ে দেখি তাদের মাথাগুলো ঝুঁকে পড়েছে, যেন তারা পেছনের প্রহরায় রয়েছে।

হাফিয আবু ইয়া‘লা বর্ণনা করেন আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, বদরের যুদ্ধে মিকদাদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু ছাড়া আমাদের মাঝে আর কোনো অশ্বারোহী ছিল না, আমরা আমাদের নিজেদের মাঝে দেখেছি শুধু ঘুমন্তকে, তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাড়া, তিনি বৃক্ষের তলদেশে সকাল পর্যন্ত সালাত আদায় করছিলেন আর কাঁদছিলেন। [মুসনাদে আবু ইয়া‘লা, ২৮০, মুসনাদ হাদীস নং ১০২৩। শাইখ আহমদ শাকের বলেন, সনদটি বিশুদ্ধ। হাফেয ইবনে কাসীর স্বীয় তাফসীরে বর্ণনাটি (২২/৪) উল্লেখ করেন। আব্দুল্লাহ ইবন মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, যুদ্ধের মাঝে তন্দ্র আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে নিরাপত্তা, আর সলাতের মাঝে তন্দ্রা শয়তানের পক্ষ থেকে। কাতাদা রহ. বলেন, তন্দ্রা থাকে মাথায় আর ঘুম হৃদয়ে।]

আমি বলি: উহুদের ময়দানে মুসলিমগণকে তন্দ্রা পেয়ে বসেছিল আর এ বিষয়টি খুব প্রসিদ্ধ। আর এ আয়াতটি (অত্র সূরার ৮নং আয়াত) বদরের যুদ্ধের সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে। এতে প্রমাণিত হয় যে, বদর যুদ্ধেও মুসলিমগণকে তন্দ্রা পেয়েছিল। এ বিষয়টি মুসলিমের মাঝে সংঘটিত হয় যখন তাদের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হয়েছিল। যাতে করে আল্লাহর সাহায্যে তাদের অন্তরগুলো প্রশান্ত হয়। আর এটি তাদের প্রতি আল্লাহ তা‘আলার অনুগ্রহ ও দয়া এবং তাদের ওপরে তাঁর নি‘আমত। যেমন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ﴿فَإِنَّ مَعَ ٱلۡعُسۡرِ يُسۡرًا ٥ إِنَّ مَعَ ٱلۡعُسۡرِ يُسۡرٗا ٦﴾ [ الشرح : ٥، ٦ ] “কষ্টের সাথেই স্বস্তি আছে, নিঃসন্দেহে কষ্টের সাথেই স্বস্তি আছে”। [সূরা আল-ইনশিরাহ, আয়াত: ৫-৬] এ কারণে বিশুদ্ধ হাদীসে এসেছে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদর যুদ্ধে যখন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর সাথে তাঁবুতে অবস্থান করছিলেন, তারা উভয়ে দো‘আ করছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তন্দ্রা স্পর্শ করে এরপর তিনি হাস্যোজ্জল অবস্থায় ঘুম থেকে জেগে বলেন, «أَبْشِرْ يَا أَبَا بَكْرٍ هَذَا جِبْرِيلُ عَلَى ثَنَايَاهُ النَّقْعُ» “খুশি হও, হে আবু বকর, এ যে জিবরীল তার কাঁধের উপর ধুলা লেগে আছে”। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁবুর দরজা দিয়ে বের হন আর বলেন, ﴿سَيُهۡزَمُ ٱلۡجَمۡعُ وَيُوَلُّونَ ٱلدُّبُرَ ٤٥﴾ [ القمر : ٤٥ ] “এ সংঘবদ্ধ দল শীঘ্রই পরাজিত হবে আর পিছন ফিরে পালাবে”। [সূরা আল-কামার, আয়াত: ৪৫]