hadith book logo

হাফেয ইবন কাসীরের তাফসীর থেকে সংক্ষেপিত সূরা আল-আনফালের তাফসীর

লেখকঃ শাইখ আহমদ মুহাম্মাদ শাকের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫

সত্যবাদী মুমিনগণের গুণাবলী:

আলী ইবন আবু তলহা বর্ণনা করেন, আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা এ আয়াত - إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللَّهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُم “মুমিন তো তারাই আল্লাহর কথা আলোচিত হলেই যাদের অন্তর কেঁপে উঠে” সম্পর্কে বলেন, মুনাফিকদের অন্তরে আল্লাহ তা‘আলার যিকির ইত্যাদি কোনো কিছুই প্রবেশ করে না যখন তারা তাঁর ফরয বিষয় পালন করে। তারা আল্লাহ তা‘আলার আয়াতের কোনো কিছুই বিশ্বাস করে না, তারা তাঁর ওপর ভরসা রাখে না, যখন তারা লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকে তখন সালাত আদায় করে না, তারা তাদের সম্পদের যাকাত প্রদান করে না, আল্লাহ তা‘আলা তাদের সম্পর্কে অবহিত করছেন যে, তারা মুমিন নয়। এরপর আল্লাহ তা‘আলা মুমিনগণের গুণাবলীর কথা উল্লেখ করে বলেন, إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللَّهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ “মুমিন তো তারাই আল্লাহর কথা আলোচিত হলেই যাদের অন্তর কেঁপে উঠে”। তারা তাঁর ফরয বিষয় পালন করে। وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آيَاتُهُ زَادَتْهُمْ إِيمَانًا “আর তাদের কাছে যখন তাঁর আয়াত পঠিত হয়, তখন তা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করে”। তিনি বলেন, তাদের দৃঢ় বিশ্বাস বেড়ে যায়। وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ “আর তারা তাদের রবের ওপর নির্ভর করে” অর্থাৎ তারা তাঁকে ছাড়া আর কারও আশা রাখে না। মুজাহিদ রহ. বলেন, وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ “যাদের অন্তর কেঁপে উঠে” فرقت অর্থাৎ ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। অনুরূপ মত ব্যক্ত করেন সুদ্দী এবং অন্যান্যরা।

এটি হচ্ছে সাচ্চা ঈমানদারের বৈশিষ্ট্য যার সম্মুখে আল্লাহর যিকির বা স্মরণ করা হলে তার আত্মা কেঁপে উঠে। তাঁকে ভয় করে, ফলে সে তাঁর নির্দেশাবলী পালন করে আর তাঁর নিষেধকৃত বিষয় বর্জন করে। যেমন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ﴿وَٱلَّذِينَ إِذَا فَعَلُواْ فَٰحِشَةً أَوۡ ظَلَمُوٓاْ أَنفُسَهُمۡ ذَكَرُواْ ٱللَّهَ فَٱسۡتَغۡفَرُواْ لِذُنُوبِهِمۡ وَمَن يَغۡفِرُ ٱلذُّنُوبَ إِلَّا ٱللَّهُ وَلَمۡ يُصِرُّواْ عَلَىٰ مَا فَعَلُواْ وَهُمۡ يَعۡلَمُونَ ١٣٥﴾ [ ال عمران : ١٣٥ ] “যারা কোনো পাপ কাজ করে ফেললে কিংবা নিজেদের প্রতি যুলুম করলে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজেদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং আল্লাহ ব্যতীত গুনাহসমূহের ক্ষমাকারী কেই বা আছে এবং তারা জেনে শুনে নিজেদের (পাপ) কাজের পুনরাবৃত্তি করে না”। [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৩৫] আরও বলেন, ﴿وَأَمَّا مَنۡ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِۦ وَنَهَى ٱلنَّفۡسَ عَنِ ٱلۡهَوَىٰ ٤٠ فَإِنَّ ٱلۡجَنَّةَ هِيَ ٱلۡمَأۡوَىٰ ٤١ يَسۡ‍َٔلُونَكَ عَنِ ٱلسَّاعَةِ أَيَّانَ مُرۡسَىٰهَا ٤٢﴾ [ النازعات : ٣٩، ٤١ ] “আর যে লোক তার রবের সামনে দাঁড়ানোকে ভয় করেছিল এবং নিজেকে অন্যায় কামনা বাসনা থেকে নিবৃত্ত রেখেছিল, জান্নাতই হবে তার বাসস্থান”। [সূরা আন-নাযি‘আত, আয়াত: ৪০-৪১] এ কারণে সুফিয়ান আস সাউরী রহ. বলেন, আমি সুদ্দী রহ.-কে إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللَّهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُم “মুমিন তো তারাই আল্লাহর কথা আলোচিত হলেই যাদের অন্তর কেঁপে উঠে” এ আয়াত সম্পর্কে বলতে শুনেছি: এ হচ্ছে সেই ব্যক্তি সে যুলুম করার ইচ্ছা করে অথবা তিনি বলেন, পাপ কাজ করার চিন্তা করে, এ সময় তাকে বলা হয়: আল্লাহকে ভয় কর, তখন তাঁর অন্তর কেঁপে উঠে। উম্মে দারদা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে এ আয়াত, إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللَّهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُم “মুমিন তো তারাই আল্লাহর কথা আলোচিত হলেই যাদের অন্তর কেঁপে উঠে” বিষয়ে বর্ণিত, তিনি বলেন, الْوَجَلُ বলা হয় অন্তরের জলনকে। যেমন, খেজুর গাছের ডাল পুড়ে যায়। তখন কি তোমরা কম্পন দেখতে পাও না। বলল, হ্যাঁ, তিনি বলেন, যখন তুমি এ ধরনের অবস্থা অনুভব কর, তখন তুমি আল্লাহর নিকট দো‘আ করবে। কারণ, দো‘আ তা দূর করে দেবে।