hadith book logo

হাফেয ইবন কাসীরের তাফসীর থেকে সংক্ষেপিত সূরা আল-আনফালের তাফসীর

লেখকঃ শাইখ আহমদ মুহাম্মাদ শাকের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩২

আল্লাহ তা‘আলা উভয় বাহিনীকে একের চোখে অপরকে কম করে দেখান:

মুজাহিদ রহ. বলেন, আল্লাহ তা‘আলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে স্বপ্নে দেখান যে, তাদের সংখ্যা কম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীগণকে এ ব্যাপারে অবহিত করেন, এ ব্যাপারটি ছিল তাদেরকে দৃঢ় করার জন্য, এরূপ মত ব্যক্ত করেন ইবন ইসহাক এবং অন্যান্যরা।

আল্লাহ তা‘আলার বাণী: وَلَوۡ أَرَىٰكَهُمۡ كَثِيرٗا لَّفَشِلۡتُمۡ “যদি তিনি তাদের সংখ্যাকে তোমার নিকট বেশি করে দেখাতেন তাহলে তোমরা অবশ্যই সাহস হারিয়ে ফেলতে” তবে তোমরা তাদের ব্যাপারে ভীরু হয়ে পড়তে, আর তোমাদের মাঝে মতভেদ দেখা দিত, وَلَٰكِنَّ ٱللَّهَ سَلَّمَۚ “কিন্তু আল্লাহই তোমাদেরকে রক্ষা করেছিলেন” অর্থাৎ তা থেকে, তিনি তোমাদের নিকট তাদেরকে কম করে দেখিয়েছেন, إِنَّهُۥ عَلِيمُۢ بِذَاتِ ٱلصُّدُورِ “অন্তরে যা আছে সে সম্পর্কে তিনি খুবই ভালোভাবে অবহিত” অন্তর এবং অভ্যন্তর যা কিছু গোপন করে সে সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা সম্যক অবগত আছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ﴿يَعۡلَمُ خَآئِنَةَ ٱلۡأَعۡيُنِ وَمَا تُخۡفِي ٱلصُّدُورُ ١٩﴾ [ غافر : ١٩ ]

আল্লাহ তা‘আলা বাণী: وَإِذۡ يُرِيكُمُوهُمۡ إِذِ ٱلۡتَقَيۡتُمۡ فِيٓ أَعۡيُنِكُمۡ قَلِيلٗا “স্মরণ কর, যখন তোমরা পরস্পরের সম্মুখীন হয়েছিলে তখন তিনি তোমাদের চোখে তাদেরকে স্বল্প সংখ্যক দেখিয়েছিলেন” এটিও তাদের প্রতি আল্লাহ তা‘আলার অন্যতম দয়া যে, তিনি মুসলিমবৃন্দের চর্মচক্ষেও কাফেরদেরকে কম করে দেখিয়েছেন, তিনি তাদের ওপর তাদেরকে সাহস যুগিয়েছেন, আর তাদের ব্যাপারে আগ্রহী করে তুলেছেন। [আবু ইসহাক আস-সাবী‘ঈ আবু উবাইদাহ থেকে বর্ণনা করেন, আব্দুল্লাহ ইবন মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, বদরের দিন আমাদের চোখে তাদেরকে সংখ্যায় কম মনে হয়, কাজেই আমি আমার পাশের এক ব্যক্তিকে বলি, তুমি কি মনে কর তারা সত্তরজন? সে বলে, না বরং তারা একশত জন, অবশেষে আমরা তাদের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞেস করলে সে বলে, আমরা ছিলাম এক হাজার। ইবন আবু হাতিম এবং ইবন জারীর এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (অনুবাদক)]

আল্লাহ তা‘আলার বাণী: وَيُقَلِّلُكُمۡ فِيٓ أَعۡيُنِهِمۡ “এবং তাদের চোখে তোমাদেরকে স্বল্প সংখ্যক দেখিয়েছিলেন” ইবন আবু হাতিম বর্ণনা করেন, ইকরিমা বলেন, وَإِذۡ يُرِيكُمُوهُمۡ إِذِ ٱلۡتَقَيۡتُمۡ “স্মরণ কর, যখন তোমরা পরস্পরের সম্মুখীন হয়েছিলে” তিনি দু’টি দলের উভয়কে একে অপরের বিরুদ্ধে উৎসাহিত করেন, এ বর্ণনাটির বর্ণনাকারীদের ধারাবাহিকতা বিশুদ্ধ।

আল্লাহ তা‘আলা বাণী: لِيَقۡضِيَ ٱللَّهُ أَمۡرٗا كَانَ مَفۡعُولٗاۗ “যাতে আল্লাহ সে কাজ সম্পন্ন করতে পারেন যা ছিল পূর্বেই স্থিরীকৃত” তাদের উভয়ের মাঝে যুদ্ধ শুরুর জন্য, যাতে করে তিনি তার থেকে প্রতিশোধ নিতে পারেন যে প্রতিশোধ নেওয়ার ইচ্ছা করেছিলেন আর তার বন্ধুদের মধ্যেকার যার ওপর তিনি অনুগ্রহ করে নি‘আমত পরিপূর্ণ করতে চান তা করেন। এর অর্থ হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলা উভয় দলকে একে অপরের বিরুদ্ধে আগ্রহী করে তুলেন আর উভয়কে উভয়ের চোখে কম করে দেখান যেন তারা উভয়ে সাক্ষাতের ব্যাপারে আগ্রহী হয়, আর এটি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পূর্বে সংঘটিত হয়; কিন্তু যখন যুদ্ধ শুরু হয়ে যায় আর আল্লাহ তা‘আলা বিশ্বাসীদেরকে এক হাজার ফিরিশতা দ্বারা সাহায্য করেন যারা ক্রমান্বয়ে আসতে থাকে। (সে সময়) কাফেররা বিশ্বাসীদেরকে তাদরে দ্বিগুণ প্রত্যক্ষ করে। যেমন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ﴿قَدۡ كَانَ لَكُمۡ ءَايَةٞ فِي فِئَتَيۡنِ ٱلۡتَقَتَاۖ فِئَةٞ تُقَٰتِلُ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِ وَأُخۡرَىٰ كَافِرَةٞ يَرَوۡنَهُم مِّثۡلَيۡهِمۡ رَأۡيَ ٱلۡعَيۡنِۚ وَٱللَّهُ يُؤَيِّدُ بِنَصۡرِهِۦ مَن يَشَآءُۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَعِبۡرَةٗ لِّأُوْلِي ٱلۡأَبۡصَٰرِ ١٣﴾ [ ال عمران : ١٣ ] “তোমাদের জন্য অবশ্যই নিদর্শন আছে সেই দু’দল সৈন্যের মধ্যে, যারা পরস্পর প্রতিদ্বন্দীরূপে দাঁড়িয়েছিল (বদর প্রান্তরে)। একদল আল্লাহর পথে যুদ্ধ করেছিল এবং অপরদল ছিল কাফের, তারা মুসলিমগণকে প্রকাশ্য চোখে দ্বিগুণ দেখছিল। আল্লাহ যাকে ইচ্ছে স্বীয় সাহায্যের দ্বারা শক্তিশালী করে থাকেন, নিশ্চয় এতে দৃষ্টিমানদের জন্য শিক্ষা রয়েছে”। [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৩] এভাবে আমরা দু’টো আয়াতকে একত্রিত করতে পারি, আর এদের প্রতিটি ন্যায় ও সত্য। আল্লাহ তা‘আলার জন্য সকল প্রশংসা এবং তাঁরই অনুগ্রহ।

﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ إِذَا لَقِيتُمۡ فِئَةٗ فَٱثۡبُتُواْ وَٱذۡكُرُواْ ٱللَّهَ كَثِيرٗا لَّعَلَّكُمۡ تُفۡلِحُونَ ٤٥ وَأَطِيعُواْ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ وَلَا تَنَٰزَعُواْ فَتَفۡشَلُواْ وَتَذۡهَبَ رِيحُكُمۡۖ وَٱصۡبِرُوٓاْۚ إِنَّ ٱللَّهَ مَعَ ٱلصَّٰبِرِينَ ٤٦﴾ [ الانفال : ٤٥، ٤٦ ]

অর্থানুবাদ:

“হে ঈমানদারগণ! যখন তোমরা কোনো বাহিনীর সম্মুখীন হবে তখন অবিচল থাকবে আর আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করবে, যাতে তোমরা সাফল্য লাভ করতে পার। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য কর, পরস্পরে ঝগড়া বিবাদ করো না, তা করলে তোমরা সাহস হারিয়ে ফেলবে, তোমাদের শক্তি-ক্ষমতা বিলুপ্ত হবে। আর ধৈর্য ধারণ করবে, আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন”। [সূরা আল-আনফাল, আয়াত: ৪৫-৪৬]

তাফসীর: