১
হাফেয ইবন কাসীরের তাফসীর থেকে সংক্ষেপিত সূরা আল-আনফালের তাফসীর
লেখকঃ শাইখ আহমদ মুহাম্মাদ শাকের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩৬
যারা ঈমান এনেছে কিন্তু হিজরত করে নি তাদের জন্য কোনো পৃষ্ঠপোষকতা নেই:
আল্লাহ তা‘আলার বাণী: وَٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَلَمۡ يُهَاجِرُواْ مَا لَكُم مِّن وَلَٰيَتِهِم مِّن شَيۡءٍ “আর যারা ঈমান এনেছে কিন্তু হিজরাত করে নি তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করার কোনো দায়-দায়িত্ব তোমার ওপর নেই” হামযাহ وَلَٰيَتِهِم অর্থাৎ واو এ যের দ্বারা পাঠ করেছেন, বাকিরা পড়েছেন যাবার দিয়ে। উভয়ের অর্থ একই, যেমন دِلَالَة এবং دَلَالَة আল্লাহ তা‘আলার বাণী: حَتَّى يُهَاجِرُوا “হিজরাত না করা পর্যন্ত” এ হচ্ছে মুমিনগণের তৃতীয় প্রকার, তারা ওরাই যারা ঈমান এনেছে কিন্তু হিজরত করে নি; বরং তাদের এলাকাতেই অবস্থান করেছে, গনীমতে তাদের কোনো অংশ নেই, নেই এক পঞ্চমাংশেও তবে যদি তারা এ ব্যাপারে জিহাদে উপস্থিত থাকে তবে ভিন্ন কথা। যেমন, ইমাম আহমাদ রহ. বর্ণনা করেন, বুরাইদাহ ইবনুল হুসাইব আল-আসলামী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কাউকে কোনো সারিয়্যাহ (অভিযান) এবং সৈন্যবাহিনীর কমাণ্ডার করে পাঠাতেন তখন তাকে আল্লাহভীতি এবং তার নেতৃত্বের অধীনে থাকা মুসলিমদের প্রতি দয়াপরবশ হওয়ার উপদেশ দিতেন। তিনি বলতেন, «اغْزُوا بِاسْمِ اللَّهِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، قَاتِلُوا مَنْ كَفَرَ بِالْلَّهِ، إِذَا لَقِيتَ عَدُوَّكَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ فَادْعُهُمْ إِلَى إِحْدَى ثَلَاثِ خِصَالٍ - أَوْ خِلَالٍ - فَأَيَّتُهُنَّ مَا أَجَابُوكَ إِلَيْهَا فَاقْبَلْ مِنْهُمْ، وَكُفَّ عَنْهُمْ، ادْعُهُمْ إِلَى الْإِسْلَامِ فَإِنْ أَجَابُوكَ فَاقْبَلْ مِنْهُمْ وَكُفَّ عَنْهُمْ، ثُمَّ ادْعُهُمْ إِلَى التَّحَوُّلِ مِنْ دَارِهِمْ إِلَى دَارِ الْمُهَاجِرِينَ وَأَعْلِمْهُمْ إِنْ فَعَلُوا ذَلِكَ أَنَّ لَهُمْ مَا لِلْمُهَاجِرِينَ وَأَنَّ عَلَيْهِمْ مَا عَلَى الْمُهَاجِرِينَ، فَإِنْ أَبَوْا وَاخْتَارُوا دَارَهُمْ فَأَعْلِمْهُمْ أَنَّهُمْ يَكُونُونَ كَأَعْرَابِ الْمُسْلِمِينَ يَجْرِي عَلَيْهِمْ حُكْمُ اللَّهِ الَّذِي يَجْرِي عَلَى الْمُؤْمِنِينَ وَلَا يَكُونُ لَهُمْ فِي الْفَيْءِ وَالْغَنِيمَةِ نَصِيبٌ إِلَّا أن يجاهدوا مع المسلمين، فإن أَبَوْا فَادْعُهُمْ إِلَى إِعْطَاءِ الْجِزْيَةِ، فَإِنْ أَجَابُوا فَاقْبَلْ مِنْهُمْ وَكُفَّ عَنْهُمْ، فَإِنْ أَبَوْا فَاسْتَعِنْ بالله وقاتلهم» “আল্লাহ তা‘আলার নাম নিয়ে আল্লাহর পথে লড়াই কর, আল্লাহর প্রতি অস্বীকারকারীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর, যখন তুমি তোমার কোনো মুশরিক শত্রুর সাক্ষাত পাও তখন তাদেরকে তিনটি ইখতিয়ার প্রদান কর- এর যে কোনো একটির প্রতি তারা সাড়া দেয় তাই তাদের থেকে গ্রহণ কর আর তাদের থেকে হাত গুটিয়ে নাও, তাদেরকে ইসলামের প্রতি আহ্বান জানাও, যদি তারা তোমার আহ্বানে সাড়া দেয় তবে তাই তাদের থেকে গ্রহণ করা আর তাদের থেকে ফিরে যাও, এরপর তাদেরকে তাদের এলাকা থেকে মুহাজিরদের এলাকার দিকে হিজরতের আহ্বান জানাও, আর তাদেরকে জানিয়ে দিবে যে, যদি তারা সেটা করে তবে তাদের জন্য তাই রয়েছে যা মুহাজিরবৃন্দের জন্য রয়েছে। আর তাদের ওপর তাই বর্তাবে যা মুহাজিরদের ওপর বর্তাবে; কিন্তু যদি তারা অস্বীকার করে আর তাদের এলাকাতেই থেকে যেতে পছন্দ করে তবে তাদেরকে জানিয়ে দাও যে, তারা হবে মুসলিম দেহাতিদের মতো তাদের ওপর আল্লাহ তা‘আলার সেই বিধান চলবে যা মুমিনদের ওপর চলে। আর মালে ফাই এবং গনীমতে তাদের কোনো অংশ নেই, তবে যদি তারা মুসলিমদের সাথে থেকে জিহাদ করে তবে ভিন্ন কথা। কিন্তু যদি তারা অস্বীকার করে তবে তাদেরকে জিযিয়া (কর) দিতে আহ্বান জানাও, যদি তারা তা দিতে চায় তবে তাদের থেকে তা গ্রহণ কর আর তাদের থেকে ফিরে যাও; কিন্তু তাতেও যদি তারা অস্বীকৃতি জানায়, তবে আল্লাহর নিকট সাহায্য কামনা কর, এরপর তাদের সাথে যুদ্ধ কর”। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৭৩১। ইমাম মুসলিম এককভাবে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তার আরও অতিরিক্ত বর্ণনা রয়েছে।]
আল্লাহ তা‘আলার বাণী: وَإِنِ ٱسۡتَنصَرُوكُمۡ فِي ٱلدِّينِ فَعَلَيۡكُمُ ٱلنَّصۡرُ “তবে তারা যদি দীনের ব্যাপারে তোমাদের সাহায্য চায় তাহলে তাদেরকে সাহায্য করা তোমাদের কর্তব্য” আল্লাহ তা‘আলা বলেন, এ সমস্ত দেহাতি যারা হিজরত করে নি তারা যদি তাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে দীনের জিহাদে তোমাদের নিকট সাহায্য চায় তবে তোমরা তাদেরকে সাহায্য কর, কেননা তাদেরকে সাহায্য করা তোমাদের ওপর ওয়াজিব, কেননা তারা তোমাদের দীনী ভাই, তবে যদি তারা এমন সব কাফেরদের বিরুদ্ধে সাহায্য চায় بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهُمْ مِيثَاقٌ “যাদের সঙ্গে তোমাদের মৈত্রী চুক্তি রয়েছে” অর্থাৎ নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত শান্তি চুক্তি রয়েছে, তবে তাদের চুক্তি ভঙ্গ করো না অথবা তোমাদের অঙ্গিকার ভঙ্গ করো না যাদের সাথে তোমরা তা করেছ। আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে এরূপ বর্ণিত হয়েছে।
﴿وَٱلَّذِينَ كَفَرُواْ بَعۡضُهُمۡ أَوۡلِيَآءُ بَعۡضٍۚ إِلَّا تَفۡعَلُوهُ تَكُن فِتۡنَةٞ فِي ٱلۡأَرۡضِ وَفَسَادٞ كَبِيرٞ ٧٣﴾ [ الانفال : ٧٣ ]
অর্থানুবাদ:
“আর যারা কুফুরী করে তারা একে অপরের বন্ধু। যদি তোমরা তা না কর (অর্থাৎ তোমরা পরস্পর পরস্পরের সাহায্যে এগিয়ে না আস) তাহলে দুনিয়াতে ফিতনা ও মহাবিপর্যয় দেখা দিবে”। [সূরা আল-আনফাল, আয়াত: ৭৩]
তাফসীর:
আল্লাহ তা‘আলার বাণী: وَإِنِ ٱسۡتَنصَرُوكُمۡ فِي ٱلدِّينِ فَعَلَيۡكُمُ ٱلنَّصۡرُ “তবে তারা যদি দীনের ব্যাপারে তোমাদের সাহায্য চায় তাহলে তাদেরকে সাহায্য করা তোমাদের কর্তব্য” আল্লাহ তা‘আলা বলেন, এ সমস্ত দেহাতি যারা হিজরত করে নি তারা যদি তাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে দীনের জিহাদে তোমাদের নিকট সাহায্য চায় তবে তোমরা তাদেরকে সাহায্য কর, কেননা তাদেরকে সাহায্য করা তোমাদের ওপর ওয়াজিব, কেননা তারা তোমাদের দীনী ভাই, তবে যদি তারা এমন সব কাফেরদের বিরুদ্ধে সাহায্য চায় بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهُمْ مِيثَاقٌ “যাদের সঙ্গে তোমাদের মৈত্রী চুক্তি রয়েছে” অর্থাৎ নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত শান্তি চুক্তি রয়েছে, তবে তাদের চুক্তি ভঙ্গ করো না অথবা তোমাদের অঙ্গিকার ভঙ্গ করো না যাদের সাথে তোমরা তা করেছ। আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে এরূপ বর্ণিত হয়েছে।
﴿وَٱلَّذِينَ كَفَرُواْ بَعۡضُهُمۡ أَوۡلِيَآءُ بَعۡضٍۚ إِلَّا تَفۡعَلُوهُ تَكُن فِتۡنَةٞ فِي ٱلۡأَرۡضِ وَفَسَادٞ كَبِيرٞ ٧٣﴾ [ الانفال : ٧٣ ]
অর্থানুবাদ:
“আর যারা কুফুরী করে তারা একে অপরের বন্ধু। যদি তোমরা তা না কর (অর্থাৎ তোমরা পরস্পর পরস্পরের সাহায্যে এগিয়ে না আস) তাহলে দুনিয়াতে ফিতনা ও মহাবিপর্যয় দেখা দিবে”। [সূরা আল-আনফাল, আয়াত: ৭৩]
তাফসীর: