hadith book logo

হাফেয ইবন কাসীরের তাফসীর থেকে সংক্ষেপিত সূরা আল-আনফালের তাফসীর

লেখকঃ শাইখ আহমদ মুহাম্মাদ শাকের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৩

যুদ্ধের শিষ্টাচার শিক্ষা:

এখানে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর মুমিন বান্দাগণকে শিক্ষা দিচ্ছেন যে, যখন তারা শত্রুদের মুখোমুখী হবে তখন সাক্ষাতের আদব এবং সাহসিকতার পদ্ধতি কিরূপ হবে তা শিক্ষা দিচ্ছেন। তিনি বলেন, يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ إِذَا لَقِيتُمۡ فِئَةٗ فَٱثۡبُتُواْ “হে ঈমানদারগণ! যখন তোমরা কোনো বাহিনীর সম্মুখীন হবে তখন অবিচল থাকবে”। সহীহ বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, আব্দুল্লাহ ইবন আবু আউফা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর শত্রুদের সাথে সাক্ষাতের দিনগুলোর কোনো এক দিনের প্রতীক্ষা করেন, অবশেষে যখন সূর্য ঢলে পড়ে তখন তিনি দাঁড়িয়ে সাহাবীগণের উদ্দেশ্যে বলেন, «يَا أَيُّهَا النَّاسُ لَا تَتَمَنَّوْا لِقَاءَ الْعَدُوِّ وَاسْأَلُوا اللَّهَ الْعَافِيَةَ، فَإِذَا لَقِيتُمُوهُمْ فَاصْبِرُوا، وَاعْلَمُوا أَنَّ الْجَنَّةَ تَحْتَ ظِلَالِ السُّيُوفِ» ‘হে লোক সকল, তোমরা শত্রুদের সাথে সাক্ষাতের আকাঙ্খা করো না, আল্লাহ তা‘আলার নিকট এ থেকে আশ্রয় চাও, কিন্তু যদি সাক্ষাত হয়েই যায় তবে ধৈর্য ধারণ কর। জেনে রাখ, জান্নাত হচ্ছে তরবারীর ছায়ার নিচে’। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে বলেন, «اللَّهُمَّ مُنْزِلَ الْكِتَابِ، وَمُجْرِيَ السَّحَابِ، وَهَازِمَ الْأَحْزَابِ، اهْزِمْهُمْ وانصرنا عليهم» “হে আল্লাহ, কিতাব অবতীর্ণকারী, মেঘকে প্রবাহিতকারী, যৌথবাহিনীকে পরাজিতকারী, তাদেরকে পরাজিত করুন আর তাদের ওপর আমাদেরকে সাহায্য করুন’’। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৯৬৬; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৭৪২। অপর একটি হাদীসে আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, «إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الصَّمْتَ عِنْدَ ثَلَاثٍ : عِنْدَ تلاوة القرآن، وعند الزحف، وعند الجنازة» “আল্লাহ তা‘আলা তিনটি সময় চুপ থাকাকে পছন্দ করেন: কুরআন তিলাওয়াতের সময়, যুদ্ধের সময় এবং জানাযার সময়”। অপর একটি মারফু‘ হাদীসে বর্ণিত, আল্লাহ তা‘আলা বলেন, «إِنَّ عَبْدِي كُلَّ عَبْدِيَ الَّذِي يَذْكُرُنِي وَهُوَ مناجزٌ قِرْنَهُ» ‘আমার ঐ বান্দা পুরোপুরিই সে আমার বান্দা, যে শত্রুর মুকাবেলার সময় আমাকে স্মরণ করে’। অর্থাৎ, ঐ স্পর্শকাতর মুহুর্তটিও সে আমার যিকির, আমার কাছে চাওয়া এবং সাহায্য করার কথা ভুলে না। (অনুবাদক)]

কাতাদাহ রহ. বলেন, সর্বাধিক ব্যস্ততা তরবারীর আঘাতের সময়ও আল্লাহ তা‘আলার যিকির করাকে ফরয করে দিয়েছেন। [কা‘আব আল-আহবার বলেন, আল্লাহ তা‘আলার নিকট কুরআন তিলাওয়াত এবং যিকির-আযকার থেকে প্রিয় আর কিছু নেই। তোমরা কি দেখ না যে, তিনি যুদ্ধের সময় মানুষকে যিকির-আযকারের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ إِذَا لَقِيتُمۡ فِئَةٗ فَٱثۡبُتُوا “হে ঈমানদারগণ! যখন তোমরা কোনো বাহিনীর সম্মুখীন হবে তখন অবিচল থাক এবং আল্লাহর যিকির কর”। (অনুবাদক)]