hadith book logo

হাফেয ইবন কাসীরের তাফসীর থেকে সংক্ষেপিত সূরা আল-আনফালের তাফসীর

লেখকঃ শাইখ আহমদ মুহাম্মাদ শাকের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৯

আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের আনুগত্য করার নির্দেশ:

আল্লাহ তা‘আলা তাঁর মুমিন বান্দাগণকে নির্দেশ দিচ্ছেন তাঁর এবং তাঁর রাসূলের আনুগত্য করতে আর তাদেরকে নিষেধ করছেন তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করতে এবং তাঁকে যারা অস্বীকার করে তাদের সাদৃশ্য অবলম্বন করতে যারা একগুঁয়েমীতে লিপ্ত রয়েছে। এ কারণে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَلا تَوَلَّوْا عَنْهُ “তা অমান্য কর না” অর্থাৎ (তা এভাবে যে) তাঁর আনুগত্য করা থেকে বিরত থাক, তাঁর নির্দেশ পালন করা এবং তাঁর নিষেধকৃত বিষয় বর্জন ছেড়ে দেওয়া। وَأَنْتُمْ تَسْمَعُونَ “আদেশ শোনার পর” অর্থাৎ তোমাদেরকে যেদিকে আহ্বান জানানো হচ্ছে তা জানার পরও। وَلا تَكُونُوا كَالَّذِينَ قَالُوا سَمِعْنَا وَهُمْ لا يَسْمَعُونَ “তোমরা তাদের মতো হয়ো না যারা বলেছিল, ‘আমরা শুনলাম’, প্রকৃতপক্ষে তারা শোনে নি” কেউ কেউ বলেন, এরা হলো, মুশরিকরা। ইবন জারির রহ. এ মতকে গ্রহণ করেন। ইবন ইসহাক রহ. বলেন, ওরা হচ্ছে মুনাফিক, তারা বাহ্যিকভাবে দেখায় যে, তারা শুনেছে এবং সাড়া দিয়েছে; কিন্তু বাস্তবতা তার উল্টো।

তারপর আল্লাহ তা‘আলা ঘোষণা করেন যে, আদম সন্তানদের মধ্যে এ শ্রেণিটি সবচেয়ে নিকৃষ্ট। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, إِنَّ شَرَّ الدَّوَابِّ عِنْدَ اللَّهِ الصُّمُّ “আল্লাহর নিকট সবচেয়ে নিকৃষ্ট জীব হচ্ছে যারা (হক কথা শুনার ব্যাপারে) বধির” অর্থাৎ সত্য শোনা থেকে বধির البكم “এবং (হক কথা বলার ব্যাপারে) বোবা” তা বোঝা থেকে। এ কারণে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, الَّذِينَ لا يَعْقِلُونَ “যারা কিছুই বোঝে না” এরা হচ্ছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট জীব। কেননা এরা ছাড়া আর সকল জীব আল্লাহ তা‘আলার আনুগত্য করে যার জন্য তাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আর তাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে আল্লাহর ইবাদাতের জন্য; কিন্তু তারা অস্বীকার করেছে, এ কারণে তাদেরকে চতুষ্পদ জন্তুর সাথে উপমা দেওয়া হয়েছে নিম্নের এ আয়াতে: ﴿وَمَثَلُ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ كَمَثَلِ ٱلَّذِي يَنۡعِقُ بِمَا لَا يَسۡمَعُ إِلَّا دُعَآءٗ وَنِدَآءٗۚ صُمُّۢ بُكۡمٌ عُمۡيٞ فَهُمۡ لَا يَعۡقِلُونَ ١٧١﴾ [ البقرة : ١٧١ ] “এ কাফেরদের তুলনা সেই ব্যক্তির মতো যে এমন কিছুকে ডাকে যা হাঁক-ডাক ছাড়া আর কিছুই শোনে না”। [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৭১] অপর আয়াতে তিনি বলেন, ﴿أُوْلَٰٓئِكَ كَٱلۡأَنۡعَٰمِ بَلۡ هُمۡ أَضَلُّۚ أُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡغَٰفِلُونَ ١٧٩﴾ [ الاعراف : ١٧٨ ] “তারা জন্তু-জানোয়ারের মতো; বরং তার চেয়েও পথভ্রষ্ট, তারা একেবারে বে-খবর”। [সূরা আল-আ‘রাফ, আয়াত: ১৭৮] আয়াতে উল্লিখিত এসব লোকদের দ্বারা উদ্দেশ্য কুরাইশের আব্দুদ দার গোত্র। আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা, মুজাহিদ থেকে এটি বর্ণিত হয়েছে, ইবন জারীর তা পছন্দ করেছেন। মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক রহ. বলেন, তারা হচ্ছে মুনাফিক। আমি বলি: মুনাফিক হোক আর মুশরিক হোক এ ব্যাপারে তা সাংঘর্ষিক নয়, কেননা উভয় দলই সঠিক বোঝ শক্তিহীন। সৎ আমল করার ইচ্ছা তাদের নেই।

এরপর আল্লাহ তা‘আল অবহিত করেন যে, তাদের সঠিক বোধ নেই, নেই তাদের বিশুদ্ধ ইচ্ছা। যদি ধরে নেওয়া হয় যে, তাদের বোধ রয়েছে, আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَلَوْ عَلِمَ اللَّهُ فِيهِمْ خَيْرًا لأسْمَعَهُمْ “আল্লাহ যদি জানতেন যে, তাদের মধ্যে কোনো ভালো গুণ নিহিত আছে তবে তিনি তাদেরকে শুনবার তাওফীক দিতেন”। অর্থাৎ তাদেরকে বোঝাতেন, এখানে উহ্য কথা হচ্ছে তাদের মাঝে কোনো কল্যাণ নেই, ফলে তাদেরকে বোঝান নি, কেননা তিনি জানেন যে, وَلَوْ أَسْمَعَهُمْ “যদি তিনি তাদেরকে শুনবার তাওফীক দিতেন” অর্থাৎ বোঝাতেন لَتَوَلَّوْا “তাহলে তারা মুখ ফিরিয়ে নিত” এ থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে এবং একগুঁয়েমীবশত অথচ তারা ততক্ষণে সেটা বুঝে গেছে। وَهُمْ مُعْرِضُونَ “আর তারা উপেক্ষা করে” তা থেকে।

﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱسۡتَجِيبُواْ لِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ إِذَا دَعَاكُمۡ لِمَا يُحۡيِيكُمۡۖ وَٱعۡلَمُوٓاْ أَنَّ ٱللَّهَ يَحُولُ بَيۡنَ ٱلۡمَرۡءِ وَقَلۡبِهِۦ وَأَنَّهُۥٓ إِلَيۡهِ تُحۡشَرُونَ ٢٤﴾ [ الانفال : ٢٤ ]

অর্থানুবাদ:

“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ডাকে সাড়া দাও যখন তোমাদেরকে ডাকা হয় (এমন বিষয়ের দিকে) যা তোমাদের মাঝে জীবন সঞ্চার কর, আর জেনে রেখ যে আল্লাহ মানুষ ও তার অন্তরের মধ্যবর্তী হয়ে থাকেন আর তোমাদেরকে তাঁর কাছেই একত্রিত করা হবে”। [সূরা আল-আনফাল, আয়াত: ২৪]

তাফসীর: