hadith book logo

হাফেয ইবন কাসীরের তাফসীর থেকে সংক্ষেপিত সূরা আল-আনফালের তাফসীর

লেখকঃ শাইখ আহমদ মুহাম্মাদ শাকের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৮

কাফেরদেরকে তাওবার প্রতি উৎসাহ প্রদান আর কুফুরীর ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন:

আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেন, قُل لِّلَّذِينَ كَفَرُوٓاْ إِن يَنتَهُواْ “যারা কুফুরী করে তাদেরকে বল, ‘তারা যদি নিবৃত্ত হয়” অর্থাৎ তারা যে কুফুরী, বিরুদ্ধাচরণ এবং একগুঁয়েমীতে ডুবে আছে তা থেকে বিরত থাকে, আর ইসলাম, আনুগত্য এবং তাওবা গ্রহণ করে يُغۡفَرۡ لَهُم مَّا قَدۡ سَلَفَ “তাহলে তারা পূর্বে যা করেছে তা ক্ষমা করা হবে” অর্থাৎ তাদের কুফুরী, গোনাহ এবং দোষত্রুটি থেকে তাদের ক্ষমা করা হবে। যেমন, সহীহ হাদীসে এসেছে: যা আবু ওয়াইল আব্দুল্লাহ ইবন মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: «مَنْ أَحْسَنَ فِي الْإِسْلَامِ لَمْ يُؤَاخَذْ بِمَا عَمِلَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ، وَمَنْ أَسَاءَ فِي الْإِسْلَامِ أُخِذَ بِالْأَوَّلِ وَالْآخِرِ» “যে ব্যক্তি ইসলামে সৎ হয়, সে জাহেলী যুগে (ইসলামের পূর্বে) কি করেছে তার হিসাব নেওয়া হবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলামে মন্দ হয় তবে তার আগের পরের সকল হিসাব গ্রহণ করা হবে”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৯২১; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১২০] বিশুদ্ধ হাদীসে আরও বর্ণিত হয়েছে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, «الْإِسْلَامُ يُجبُّ مَا قَبْلَهُ وَالتَّوْبَةُ تجبُّ مَا كَانَ قَبْلَهَا» “ইসলাম পূর্বে কৃত গোনাহকে মিটিয়ে দেয়, তাওবাহ তার পূর্বের কৃত গোনাহকে মোচন করে”। [মুসনাদে আহমদ: ১৯৮/৭ আল্লামা হাইসামী বলেন, হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, আহমদ ও তাবরানী। উভয়ের বর্ণনা কারীগণ বিশুদ্ধ।]

আল্লাহ তা‘আলার বাণী: وَإِن يَعُودُواْ “আর যদি (কুফুরীর) পুনরাবৃত্তি করে” অর্থাৎ তারা যাতে রয়েছে তাতে নিরবচ্ছিন্ন থাকে। فَقَدۡ مَضَتۡ سُنَّتُ ٱلۡأَوَّلِينَ “তাহলে আগের লোকেদের (প্রতি অনুসৃত) নীতির দৃষ্টান্ত তো অতীতের পাতাতেই আছে” অর্থাৎ আগেকার লোকেদের ব্যাপারে আমাদের নীতির দৃষ্টান্ত অতীতের পাতাতেই আছে। তারা যখন অস্বীকার করে এবং তাদের একগুঁয়েমীর ওপর নিরবচ্ছিন্ন থাকে, তবে আমরাও তাদেরকে দ্রুত শাস্তি দিয়ে দিব।

মুজাহিদ রহ. আল্লাহর বাণী: فَقَدۡ مَضَتۡ سُنَّتُ ٱلۡأَوَّلِينَ সম্পর্কে বলেন, বদরের দিন কুরাইশদের অবস্থা এবং অন্যান্য উম্মতের অবস্থা।

সূদ্দী ও ইবন ইসহাক রহ. বলেন, অর্থাৎ বদরের দিন।