hadith book logo

ইসলামের নৈতিকতা ও আচরণ

লেখকঃ ড. মারওয়ান ইবরাহীম আল-কায়সি • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৩১

ষোড়শ অধ্যায়ঃ বিভিন্ন পরিস্থিতিতে করণীয় আচরণ মসজিদে

১. মসজিদে যাবার কালে মুসলমানদের সর্বোত্তম এবং পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করতে হবে, আতর বা প্রসাধনী ব্যবহার করা প্রয়োজন। জুতো পরিচ্ছন্ন কিনা- সে ব্যাপারেও নিশ্চিত হতে হবে।

২. পিয়াজ বা রসুন খেলে তার দুর্গন্ধ দূর হওয়ার ব্যাপার নিশ্চিত না হওয়ার পর্যন্ত কোন ‍ মুসলমানের মসজিদে যাওয়া যথোচিত হবে না। কারণ এর দুর্গন্ধে অন্যের বিব্রত হওয়ার করণ হতে পারে।

৩. তাড়াহুড়া না করে শান্তভাবে ও নীরবে মসজিদে প্রবেশ ও মুসল্লিদের সঙ্গে উপবেশন করা উচিত।

৪. মসজিদে প্রবেশ বা বের হওয়ার সময় ঠেলাঠেলি বা ধাক্কাধাক্কি করা চলবেনা; ডান দিক থেকে প্রথমে প্রবেশ বা ত্যাগ করবে।

৫. মসজিদে প্রবেশ করতে হলে মুসলমানদের প্রথমে ডান পা ফেলে বলতে হবে “বিসমিল্লাহে আল্লাহুম্মাফ তাহলী আবওয়াবা রাহমাতিকা” (হে আল্লাহ, তোমার রহমতের দুয়ার আমার জন্য খুলে দাও।)।

৬. মসজিদের প্রবেশ করার পর দু’রাকাত নামাজ পড়া মুস্তাহাব।

৭. মসজিদে কথা বলা যেতে পারে, তবে নিম্নোক্ত বিধি মানতে হবে:

ক) মসজিদে ‍ উচ্চস্বরে কথা বলা ঠিক নয়।

খ) মসজিদে শান্তভাবে কুরআ তেলাওয়াত করতে হবে। নতুবা যারা নামাজ পড়ছে বা কুরআন পড়ছে তারদের অসুবিধা হবে।

গ) মসজিদে কেনাবেচা অথবা অন্যবিধ খোদাবিমুখ আলোচনার স্থান নয়। সুতরাং যদি কাউকে দেখা যায় মসজিদে এ ধরনের আলোচনা করতে, তাহলে তাকে এ কাজে নিষেধ করতে হবে।

ঘ) মসজিদে যারা দুনিয়াবি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে তাদের পাশে বসা উচিত নয়।

৮. জামাতে নামাজ পড়ার শুরুতে নামাজিদেরকে সোজা লাইনে দাঁড়াতে হবে- প্রথমে পুরুষ, তারপর শিশু, তারপর স্ত্রীলোক। লাইন সোজা হয়েছে কিনা সে ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে পাশাপাশি সোজা হয়ে দাঁড়াতে হতেব।

৯. ঋতুবতী মহিলা অথবা অপবিত্র অবস্থায় থাকা মহিলাদের মসজিদে প্রবেশ অবৈধ নয়। তবে তাদেরকে মসজিদে অবস্থান করতে বারণ করা হয়েছে।

১০. মসজিদ হচ্ছে পৃথিবীর উত্তম স্থান। সুতরাং মুসলমানদের নিয়মিতভাবে সেখানে যাওয়া উচিত। যে ব্যক্তি নিয়মিতভাবে মসজিদে যায়, সে উত্তম ‍ মুসলমান।

১১. নামাজরত কোন ব্যক্তির সামনে দিয়ে অতিক্রম করা অনুচিত। কেননা এর ফলে তার নামাজের ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

১২. মসজিদ ত্যাগ করার সময় তাড়াহুড়া করা অনুচিত। মসজিদ ছেড়ে আসার সময় প্রথমে বাম পা ফেলতে হবে; বলতে হবে “আল্লাহুম্মা ইনি আসআলুকা মিন ফাদলিক” (হে আল্লাহঃ আমি তোমার অনুগ্রহ চাই)।

১৩. জামাতের নামাজে মুসল্লিদের উচিত ইমামের অনুসরণ করা। ইমামের আগে আগে রুকু, সেজদায় যাওয়া নিষেধ।

১৪. মসজিদের একই স্থানে মুসলমানদের নামাজ পড়তে উৎসাহিত করা হয়নি।

১৫. মসজিদকে রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করা অনুচিত।