১
ইসলামের নৈতিকতা ও আচরণ
লেখকঃ ড. মারওয়ান ইবরাহীম আল-কায়সি • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৭২
সন্তানদের প্রতি পিতামাতার আচরণ
১. শিশুরা প্রত্যেক মানুষের জীবনের হাসি, আনন্দ ও গৌরবের উৎস। সুতরাং পিতামাতাকে অত্যধিক আস্থা, মিথ্যা গৌরব প্রচারে লিপ্ত হওয়া যাবেনা এবং তাদের প্রতি ভালবাসার কারণে শিশুরা যাতে অপকর্মে লিপ্ত হতে না পারে, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।
২. শিশুদের ব্যক্তিত্ব গঠনে পিতামার প্রতি তাদের নির্ভরশীলতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
৩. ইসলামে শিশুদের তিনটি অবিচ্ছেদ্য অধিকার হচ্ছে: বেঁচে থাকার অধিখার, সমপর্যায়ে বাঁচার অধিকার ও বৈধতার অধিকার, যার অর্থ হচ্ছে প্রত্যেক শিশুর বৈধ পিতা থাকবে, সঠিক লালন পালন এবং সাধারণ পরিচর্যার অধিকার থাকবে।
৪. শিশুদের কল্যাণের ব্যাপারে দায়িত্ব ও আগ্রহ হচ্ছে পিতামাতার সর্বপ্রধান কর্তব্য।
৫. ত্রয়োদ অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে, শিশুর বয়স সাত দিন হলে (ক) শিশর একটি আকর্ষণীয় নাম রাখতে হবে। (খ) তার মাথা নেড়ে করে দিতে হবে। (গ) মেয়ের জন্য একটি ভেড়া বা ছাগল এবং ছেলের জন্য ২টি ভেড়া বা ছাগল জবাই করে তার গোশত আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব এবং গরিবদের মধ্যে বিলিয়ে দিতে হবে। **১ এই অনুষ্ঠানকে আকিকা বলে।
৬. পিতা তার সন্তানদেগর সুশিক্ষার চেয়ে উত্তম কিছু দিতে পারেন না। তিনি সবচেয়ে প্রয়োজনীয় যে শিক্ষা দেবেন, তা হচ্ছে ইসলামি শিক্ষা বিশেষ করে কুরআন ও সুন্নাহার শিক্ষা।
৭. ইসলামের দৃষ্টিতে উত্তম মাতা হচ্ছেন তিনি,যিনি তার ছোট ছোট শিশুদের প্রতি স্নেহশীল।
৮. কন্যা সন্তানের ওপর ছেলেদের অথবা ছেলেদের ওপর মেয়েদের প্রাধান্য দেওয়া কখনই উচিত নয়। তবে ইসলাম মেয়েদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেয়ার, তাদের সাথে সুন্দর ব্যবহার এবং তাদের প্রতি সদয় ব্যবহারের উপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
[ **১ সম্ভবত এর কারণ হচ্ছে উত্তরাধিকার আইনে মেয়েদের জন্য ১ভাগ ও ছেলেদের জন্যৗ ২ ভাগে বরাদ্দ রয়েছে।]
৯. ছেলেমেয়ে বয়ঃপ্রাপ্ত হলে তাদের বিয়ে শাদির ব্যাপারে সম্ভব হলে সহায়তা করতে হবে।*
১০. পিতামাতা জীবিত অথবা মৃত, হাজির অথবা গরহাজির, পরিচিত অথবা অপরিচিত যাই হোক না কেন, শিশুদেরকে আত্মীয়-স্বজন এবং রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম পরিচর্যা করতে হবে।
১২. সকল সন্তানের প্রতি সকল ক্ষেত্রে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত প্রয়োজন।
১৩. শিশুদের আলিঙ্গন করে অথবা চুমো খেয়ে আদর করা উত্তম আচরণ।
১৪. শিশুদের লালন পালনের ক্ষেত্রে পিতামাতাকে অবশ্যই অতি রক্ষণশীল বা অতি উদার হওয়া অনুচিত।
১৫. পিতামাতাকে শিশুদের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করার কথা বলতে হবে এবং তাদের বেশি বোঝা চাপানো চলবেনা। পিতামাতার কর্তৃত্বের অপব্যবহার করা অনুচিত।
১৬. ক্ষুদ্র হলেও ছেলেমেয়েদের উপর পিতামাতার গ্রহণ করা উচিত।
১৭. ইসলামি শিক্ষা মোতাবেক শিশুদের লালন পালন করা অত্যন্ত জরুরি। শৈশব থেকে ধর্মীয় জীবনে প্রশিক্ষণ দান প্রয়োজন। সাত বছর বয়স থেকে ছেলেমেয়েরা যাতে নামাজ পড়ে পিতামাতাকে তার ব্যবস্থা করতে হবে।
১৮. ইসলামের বিভিন্ন দিক ও ইসলামি আদব সম্পর্কে শিক্ষাদান পিতামাতার অন্যতম কর্তব্য।
১৯. পিতামাতার প্রতি ছেলেমেয়েদের আনুগত্য অনেকখানি পিতামাতার ওপর নির্ভরশীল। তাদের কাছে বেশি কিছু দাবি করা তাদেরকে বেয়াদবির দিকে ঠেলে দেওয়ার নামন্তর।
[* স্মরণ রাখতে হবে লেখক জর্দানি এবং স্বাভাবিকভাবেই সেদেশের সংস্কিৃতির দ্বারা প্রভাবিত। আমাদের দেশের ছেলেমেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা পিতামাতাই করে থাকে এবং তা ইসলামি সাংস্কৃতির সাথে সাংঘর্ষিকও নয়- অনুবাদক]
২০. দশ বছর বয়স থেকে ছেলেমেয়েদের পৃথক বিছানায় থাকতে হবে।
২১. মাতা, বোন বা কন্যার পক্ষে (ক) হাত ও মুখমণ্ডল (খ) ঘাড় ও কলার এলাকা (গ) বাহুর উধ্বাঙ্গ থেকে আঙ্গুলের প্রা্ত এবং (ঘ) পায়ের নিম্নাংশ ছাড়া সাবালক পুত্র, ভাই বা পিতার সামনে শরীর ঢেকে রাখতে হবে।
২. শিশুদের ব্যক্তিত্ব গঠনে পিতামার প্রতি তাদের নির্ভরশীলতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
৩. ইসলামে শিশুদের তিনটি অবিচ্ছেদ্য অধিকার হচ্ছে: বেঁচে থাকার অধিখার, সমপর্যায়ে বাঁচার অধিকার ও বৈধতার অধিকার, যার অর্থ হচ্ছে প্রত্যেক শিশুর বৈধ পিতা থাকবে, সঠিক লালন পালন এবং সাধারণ পরিচর্যার অধিকার থাকবে।
৪. শিশুদের কল্যাণের ব্যাপারে দায়িত্ব ও আগ্রহ হচ্ছে পিতামাতার সর্বপ্রধান কর্তব্য।
৫. ত্রয়োদ অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে, শিশুর বয়স সাত দিন হলে (ক) শিশর একটি আকর্ষণীয় নাম রাখতে হবে। (খ) তার মাথা নেড়ে করে দিতে হবে। (গ) মেয়ের জন্য একটি ভেড়া বা ছাগল এবং ছেলের জন্য ২টি ভেড়া বা ছাগল জবাই করে তার গোশত আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব এবং গরিবদের মধ্যে বিলিয়ে দিতে হবে। **১ এই অনুষ্ঠানকে আকিকা বলে।
৬. পিতা তার সন্তানদেগর সুশিক্ষার চেয়ে উত্তম কিছু দিতে পারেন না। তিনি সবচেয়ে প্রয়োজনীয় যে শিক্ষা দেবেন, তা হচ্ছে ইসলামি শিক্ষা বিশেষ করে কুরআন ও সুন্নাহার শিক্ষা।
৭. ইসলামের দৃষ্টিতে উত্তম মাতা হচ্ছেন তিনি,যিনি তার ছোট ছোট শিশুদের প্রতি স্নেহশীল।
৮. কন্যা সন্তানের ওপর ছেলেদের অথবা ছেলেদের ওপর মেয়েদের প্রাধান্য দেওয়া কখনই উচিত নয়। তবে ইসলাম মেয়েদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেয়ার, তাদের সাথে সুন্দর ব্যবহার এবং তাদের প্রতি সদয় ব্যবহারের উপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
[ **১ সম্ভবত এর কারণ হচ্ছে উত্তরাধিকার আইনে মেয়েদের জন্য ১ভাগ ও ছেলেদের জন্যৗ ২ ভাগে বরাদ্দ রয়েছে।]
৯. ছেলেমেয়ে বয়ঃপ্রাপ্ত হলে তাদের বিয়ে শাদির ব্যাপারে সম্ভব হলে সহায়তা করতে হবে।*
১০. পিতামাতা জীবিত অথবা মৃত, হাজির অথবা গরহাজির, পরিচিত অথবা অপরিচিত যাই হোক না কেন, শিশুদেরকে আত্মীয়-স্বজন এবং রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম পরিচর্যা করতে হবে।
১২. সকল সন্তানের প্রতি সকল ক্ষেত্রে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত প্রয়োজন।
১৩. শিশুদের আলিঙ্গন করে অথবা চুমো খেয়ে আদর করা উত্তম আচরণ।
১৪. শিশুদের লালন পালনের ক্ষেত্রে পিতামাতাকে অবশ্যই অতি রক্ষণশীল বা অতি উদার হওয়া অনুচিত।
১৫. পিতামাতাকে শিশুদের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করার কথা বলতে হবে এবং তাদের বেশি বোঝা চাপানো চলবেনা। পিতামাতার কর্তৃত্বের অপব্যবহার করা অনুচিত।
১৬. ক্ষুদ্র হলেও ছেলেমেয়েদের উপর পিতামাতার গ্রহণ করা উচিত।
১৭. ইসলামি শিক্ষা মোতাবেক শিশুদের লালন পালন করা অত্যন্ত জরুরি। শৈশব থেকে ধর্মীয় জীবনে প্রশিক্ষণ দান প্রয়োজন। সাত বছর বয়স থেকে ছেলেমেয়েরা যাতে নামাজ পড়ে পিতামাতাকে তার ব্যবস্থা করতে হবে।
১৮. ইসলামের বিভিন্ন দিক ও ইসলামি আদব সম্পর্কে শিক্ষাদান পিতামাতার অন্যতম কর্তব্য।
১৯. পিতামাতার প্রতি ছেলেমেয়েদের আনুগত্য অনেকখানি পিতামাতার ওপর নির্ভরশীল। তাদের কাছে বেশি কিছু দাবি করা তাদেরকে বেয়াদবির দিকে ঠেলে দেওয়ার নামন্তর।
[* স্মরণ রাখতে হবে লেখক জর্দানি এবং স্বাভাবিকভাবেই সেদেশের সংস্কিৃতির দ্বারা প্রভাবিত। আমাদের দেশের ছেলেমেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা পিতামাতাই করে থাকে এবং তা ইসলামি সাংস্কৃতির সাথে সাংঘর্ষিকও নয়- অনুবাদক]
২০. দশ বছর বয়স থেকে ছেলেমেয়েদের পৃথক বিছানায় থাকতে হবে।
২১. মাতা, বোন বা কন্যার পক্ষে (ক) হাত ও মুখমণ্ডল (খ) ঘাড় ও কলার এলাকা (গ) বাহুর উধ্বাঙ্গ থেকে আঙ্গুলের প্রা্ত এবং (ঘ) পায়ের নিম্নাংশ ছাড়া সাবালক পুত্র, ভাই বা পিতার সামনে শরীর ঢেকে রাখতে হবে।