hadith book logo

ইসলামের নৈতিকতা ও আচরণ

লেখকঃ ড. মারওয়ান ইবরাহীম আল-কায়সি • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৮৫

পাত্রী অনুসন্ধান

১. ইসলামি আইনানুসারে যে নারী কোন পুরুষের জন্য ‘মহরম’, সে তাকে বিয়ে করতে পারে না। রক্তের সম্পর্কের কারণে ৭ শ্রেণীর স্ত্রী লোক এবং বিয়ের কারণে ৭ শ্রেণীর স্ত্রী লোকের সাথে বিয়ে নিষিদ্ধ।

২. তাকওয়া পরায়ণ নারীই হচ্ছে আদর্শ স্ত্রী। ধনসম্পত্তি, বংশ মর্যাদা অথবা সৌন্দর্যের কারণে সাধারণতঃ মেয়েদের বিয়ে করা হয়। বিয়ের এই ভিত্তি কখনও স্থায়ী হয়না এবং স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ককে তা ভারসাম্যহীন করে তোলে। সুতরাং সমঝোতা প্রতিষ্ঠা ও ভুল বুঝাবুঝি নিরসনে অভিন্ন ভিত্তি থাকতে হবে এবং তা হচ্ছে ইসলামের প্রতি আনুগত্য।

৩. সপ্রভিত লজ্জা এবং স্পর্শকাতরতা স্ত্রীর আরেকটি গুণ।

৪. মধ্যম মানের পার্থিব চাহিদার সন্তুষ্টি, মধ্যম মানের জীবনেই এবং বিলাসবহুল জীবনের প্রতি আকঙ্ক্ষী নয়, এমন স্ত্রী উত্তম। অর্থের অপচয় বিলাসবহুল জীবনের প্রতি আকঙ্ক্ষী নয়, এমন স্ত্রী উত্তম। অর্থের অপচয় স্ত্রীর দায়িত্বহীনতার পরিচায়ক।

৫. অনাত্মীয়দের মধ্যে বিয়ের ফরে নতুনদের মধ্যে আত্মীয়তার পরিধি বাড়ে।

৬. বন্ধ্যা নারীকে বিয়ে না করাই বাঞ্ছনীয়। সন্তানদের জন্মদানে সক্ষম নারীকে বিয়ে করতে হবে, কারণ সফল বিয়ের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ হচ্ছে সন্তান সন্ততি।

৭. তালাকপ্রাপ্তা নারীকে বিয়ে করায় কোন ক্ষতি নেই, তবে এক্ষেত্রে সে প্রথম স্বামীর কাছে ফিরে যেতে ইচ্ছুক হবেনা। যদিও পূর্বোক্ত নারী বিয়ে করার মধ্যে দোষের কিছু নেই।

৮. কোন মহিলার ইসলামি আমলের মাত্রা, তার পিতামাতার জীবনাচরণ থেকে তার পটভূমি এবং অন্যান্য তথ্য সম্পর্কে না হয়ে কোন পুরুষের উচিত নয় বিয়ের প্রস্তাব পেশ করা।

৯. যে ব্যক্তি কোন নারীকে বিয়ে করতে চায়, তাকে দেখে নিতে হবে। এবং নারীরও উচিত ঐ পুরুষকে দেখে নেয়া।

১০. মহরম ব্যক্তির সামনেই বিয়ের ইচ্ছুক ব্যক্তি সেই নারীকে বা সাক্ষাৎ করতে পারে।

১১. পুরুষ শুধু মহিলার মুখমণ্ডল ও হাত দেখতে পারবে। মুখমণ্ডল দেখে তার সৌন্দর্য এবং হাত দেখে তার স্বাস্থ্য সম্পর্কে অবহিত হওয়া যায়।