hadith book logo

ইসলামের নৈতিকতা ও আচরণ

লেখকঃ ড. মারওয়ান ইবরাহীম আল-কায়সি • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫৭

খাওয়ার সুষ্ঠু রীতি

১. একা খাবার খাওয়ার কোন আপত্তি নেই। তবে পরিবারের সকলে একসাথে মিলে খাবার গ্রহণ উত্তম। কারণ পরিবারের সবাই একটি বৃহৎ পাত্র থেকে খাওয়ার স্বাদই আলাদা।

২. ধনী-গরিব, যুবক-কিশোর-বৃদ্দ সকলের সাথে আহার করতে ঘৃণা বোধ না করা মনের উদারতার পরিচায়ক।

৩. রোগ সংক্রমণের সম্ভাবনা না থাকলে ভীতিকার প্রকৃতির রোগ না হলে শারীরিকভাবে পঙ্গু লোকদের সুস্থ সবল লোকদের সাথে খাওয়ার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।

৪. খাবার গ্রহণের আগে ও পরে হাত ধুতে হবে।

৫. উত্তপ্ত থাকা অবস্থায় খাবার গ্রহণের জন্য হুমড়ি খাওয়া উচিত নয়। খাবার ঠাণ্ডা না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করাই ভাল। খাবার ঠাণ্ডা করর জন্য ফুঁ দেওয়া স্বাস্থ্যসম্মত নয়।

৬. খাওয়ার শুরুত মুসলমানদের বলতে হবে “বিসমিল্লাহির রামানির রাহিম” (আল্লাহর নামে যিনি দয়াময়, করুণাময়) এছাড়া আরো জিকির">দোয়া পড়া যায়ঃ “আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফিমা রাজাকতানা ওয়াকিনা আজাবান্নার” (হে খোদা এই খাবারে বরকত দান কর এবং আমাদের দোযখের আগুন থেকে রক্ষা কর)।

৭. খাবার গ্রহণকালে যদি কেউ খোদার নাম নিতে ভুলে যায়, তাহরে সে বলবে, “বিসমিল্লাহ ওয়া আউয়ালাহু ওয়া আখিরুহু” (খাবারের শুরুতে খোদার নাম এবং সমাপ্তিও তার নামে)।

৮. খাবার গ্রহণ কালে কেউ কেউ বিসমিল্লাহ বলল, আবার কেউ কেউ বললনা, তা নয়। উপস্থিত সকলকেই তা বলতে হবে।

৯. বৃহৎ পাত্রের সকল দিক থেকে খাবার গ্রহণ করা ঠিক নয়, বরং নিকটবর্তী স্থান থেকেই তা নেয়া দরকার। অবশ্য পাত্রে ফলমূল বা খেজুর থাকলে কোন দিক থেকে তা নেয়া যায়।

১০. কোন মুসলমানকে খাবার দেওয়া হলে এবং নামাজের সময় উপস্থিত হলে, প্রথমে তাকে খাবার কেতে হবে এবং খাবার শেষ না করা পর্যন্ত নামাজের তাড়াহুড়া করবেনা; অবশ্য যদি এই আশংকা না থাকেযে, খাবর শেষ হওয়ার আগেই নামাজের সময় শেষ হয়ে যাবে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছেঃ সালাতে তার মনোনিবেশে সহায়তা করা আর খাবার চিন্তা থাকলে এটা সম্ভব নয়।

১১. ডান হাতে চামচ অথবা চাম না থাকলে ডান হাতে আঙ্গুলের সাহায্যে খাবার খেতে হবে।

১২. গোগ্রাসে নয়, ধীরে ধীরে খাবার খেতে হবে।

১৩. যদি খাবার পছন্দের না হয়, তাহলে সেজন্য অসন্তোষ প্রকশ বা সমালোচনা করা যাবেনা। একান্তই সে বলতে পপারে, ‘আমি খেতে চাইনা’ অথবা ‘আমি এ ধরনের খাবার বেশি পছন্দ করিনা।ৎ’

১৪. একই সাথে গরম ও ঠান্ডা খাবা গ্রহণ যথার্থ নয়; কারণ এর ফলে দাঁদ ও পাকস্থলীর ক্ষতি হতে পারে।

১৫. হালকা আলোচনা হতে পারে, তবে তা বিতর্কিত বিষয় অথবা উসকানীমূলক হবেনা এবং যে কোন মূল্যে অশোভন বর্ণনা এড়িযে যেতে হবে; কেননা, এর ফলে অন্যান্যরা বেজার হতে পারে।

১৬. খাবার ভর্তি মুখে কথা বলা অশোভন।

১৭. খাবারকালে মুখ থেকে কিছু খাদ্য পড়ে গেলে, তা সরিয়ে নিতে অথবা সম্ভব হলে খেয়ে ফেলতে হবে। অপচয় করা যাবে না। হাড়ের সাথে অনেক গোশত রেখে দেওয়ার ক্ষেত্রেও একথা প্রযোজ্য।

১৮. খাবার গ্রহণরত লোকদের সম্ভাষণ জানানো যেতে পারে, তবে তাদের সঙ্গে মোসাহাফা করা যাবে না।

১৯. মুসলমানদের বেশি পরিমাণে খাওয়া উচিত নয়। উদর পূর্তির আগেই খাওয়া বন্ধ করা উচিত। গোগ্রাসে খাওয়াটা অনৈসলামি আচরণ।

২০. খাবর পর পরেই ঘুমাতে যাওয়া অস্বাস্থ্যকর।

২১. খাবার প্লেটে খাদ্য অবশিষ্ট রাখা অনুচিত।

২২. মুসলমানদের খানা শেষ করে বলতে হবে, “আলহামদুলিল্লাহ হিল্লজিী আত’আমানা, ওয়াসাকানা ওয়াজায়ালনা মিনাল মুসলিমীন।” (সেই খোদার প্রতি কৃতজ্ঞতা, যিনি আমার আহার যুগিয়েন এবং মুসলমান বানিয়েছেন)। এছাড়া খোদার আরো প্রশংসা করা যেতে পারে একথা বলেঃ “আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফিহে ওয়া আতিমনা খায়রানা মিনহু” (হে খোদা আমাদের বরকত দাও, আমাদের আহার যোগাও এবং উত্তম আহার প্রদান কর)।

২৩. খাবার গ্রহণের পর হাত মুখ ধুতে হবে।[এ ব্যাপারে তৃতীয় পরিচ্ছেদে আলোচনা করা হয়েছে।] চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণের পর তাহ মুখ ধোয়া জরুরি। খাবার পর দাঁতের সুরক্ষার জন্য খিলাল ব্যবহার করতে হবে।

২৪. শিষ্টাচারের নিয়ম হচ্ছেঃ পিতামাতার আগে ছেলে মেয়েরা খাবার শুরু করবে না এবং অতিথিদের আগে পরিবারের সদস্যরা খাবার খাবে না। বায়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি শ্রদ্ধা ইসলামের অন্যতম নীতি।

২৫. খাবার অথবা পানিতে কোন মাছি পড়লে, সেটা না ডুবে যাওয়া পর্যন্ত ঠেসে ধরতে হবে এবং পরে তা বের করে ফেলে দিতে হবে। একটি সহিহ্ হাদিসে এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, প্রত্যেক মাছি তার এক পাখায় রোগ এবং অন্য পাখায় প্রতিষেধক বহন করে।

২৬. প্রত্যেক মুসলমানকে নিশ্চিত হতে হবে যে, সে তার বাড়ির বাইরে যা কাচ্ছে তা হালাল।

২৭. খাবার গ্রহণকালে সংবাদপত্রে বা চিঠিপত্র পড় অনুচিত, এতে খাবার সময় দীর্ঘায়িত হতে পারে।