hadith book logo

ইসলামের নৈতিকতা ও আচরণ

লেখকঃ ড. মারওয়ান ইবরাহীম আল-কায়সি • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫

মুখবন্ধ

ইতিহাসের সূচনা থেকেই মানব সমাজ এমনকি প্রাথমিক পর্যাযের গোত্রীয় সমাজেও ব্যক্তিগত ও সামাজিক সম্পর্ক পরিচালনার বিধান প্রণয়ন করা হয়েছিল। প্রাচীন মিশরীয় সমাজে প্রচলিত পতে হোতেপ-এর নির্দেশনাবলিতে (The Instructions of path Hotep) সুষ্ঠু আচরণ সম্পর্কে পুত্রের প্রতি পিতার নির্দেশনাবলি জানা যায়। প্রতিটি মানুষ তার নিজস্ব বিধিবিধান ও আচরণ মেনে চলেছে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষের আচরণবিধি ব্যাপক পরিবর্তিত হয়েছে। এমনকি কোন এক জনগোষ্ঠির ক্ষেত্রেও একই সমযে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে তা পরিবর্তি হয়েছে। মুসলমানদের বেলায়ও এটা সত্য যে, মুসলিম বিশ্বের দৈনন্দিন জনজীবনের বিভিন্ন স্তর ইসলামি আদবের বিভিন্ন দিক এখনও প্রাধান্য বিস্তার করে আছে। তথাপি, এটাও সত্য যে, বহিরাগত ভাবধারা ব্যাপক ও ক্রমবর্ধমান প্রভাব বিস্তার করেছে। ইসলমি ভাবধারার সাথে স্বল্প যোগাযোগের ফলেই এ ধরনের প্রভাব পড়েছে। তবে এ বিষয়ে কোন প্রকার উপযুক্ত গ্রন্থ না থাকায় বিদেশী ভাবধারা প্রভাব বিস্তারে সহায়ক হয়েছে। এ ধরনের গ্রন্থ না থাকায় বিদেশী ভাবধারা প্রভাব বিস্তারে সহায়ক হয়েছে। এ ধরনের গ্রন্থ রচনার প্রয়োজনের নিরিএখই এই রচনার প্রয়াস। সম্ভাব্য বৃহত্তর জনগোষ্ঠির কাছে ইসলামি আদবের বিস্তারিত দিক তুলে ধরা এর উদ্দেশ্য।

পাশ্চাত্যের সঙ্গে সাম্প্রতিক এবং অব্যাহত পারস্পরিক আন্তঃযোগাযোগের ফলে মুসলমানদে দৈনন্দিন জীবনে পশ্চিমা আচরণের কতিপয় ধারার আমাদানি ঘটেছে। কিন্তু এই আন্তঃযোগাযোগ প্রতিষ্ঠার আগেই নতুন নতুন ধ্যান-ধারাণার সঙ্গে পরিচিতির দরুণ ইসলামি জীবনধিান অনৈসলামিক ভাবধারার প্রভাবাধীনে পড়ে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ইসলামের মৌলিক সূত্র আল-কুরআন ও সুন্নাহ থেকে উপাদান সংগ্রহ করে মুসলমানদেরকে তাদের আচরণকে ইসলামিকরণ করতে হবে। তাদেরকে প্রকৃত ইসলাম ও ঐতিহাসিক ইসলাম এবং ইসলাম ও অইসলামের মধ্যকার পার্থক্য জানতে হবে। প্রাথমিক ইসলামে প্রচলিত অনেক আচার-আচরণ, যা এখনও মুসলমানদের মধ্যে বিরাজ করছে, তাদের চিহ্নত করতে হবে। এই দায়িত্ব পালনের পর, যুগ যুগ ধরে মুসলিম সমাজে অনপ্রবিষ্ট সাংস্কৃতিক প্রাধান্য থেকে ইসলামি সমাজকে মুক্ত করার পথ সুগম করতে হবে।

সবকালে এবং সর্বত্র মুসলিম শিশুদেরকে ইসলামি আদম অনুসারে জীবন যাপনের জন্য শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দানের গুরুত্বকে খাটো করে দেখার উপর নেই। আশা করা যায়, এই গ্রন্থখানি ইনশাআল্লাহ উল্লিখিত শূন্যতা পূরণে সহায়ক হবে এবং বিশেষ পরিস্থিতি বা সময়ে কি ধরনের আদম লেহাজ প্রদর্শন করা উচিত সেজন্য একটি সহজবোধ পুস্তিকা হিসেবে এটি কাজ করবে। প্রসঙ্গের () সুবিধার জন্য প্রতিটি অধ্যায় পয়েন্টভিত্তিক সাজানো হয়েছে এবং সম্পূর্ণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন পরিচ্ছেদের সাধারণ আলোচ্যসূচির ক্ষেত্রে বেশকিছু পয়েন্টের পুনরাবৃত্তি হয়েছে।

সবশেসে এই গ্রন্থের ভুল-ত্রুটি সম্পর্কে পরামর্শ দিলে লেখক পাঠকদের কাছে কৃতজ্ঞ থাকবেন।

ড. মারওয়ান ইবরাহীম আল-কায়সি

মানবিক বিভাগ

ইয়ারমুক বিশ্ববিদ্যালয়, ইরবিদ, জর্দান।

১৯৮৬ ইং।