১
ইসলামের নৈতিকতা ও আচরণ
লেখকঃ ড. মারওয়ান ইবরাহীম আল-কায়সি • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৪
কয়েকটি উদাহরণ
১. খোদা ব্যতীত অপর কারো দাস বুঝায় যেমন আব্দ আল নবী (নবীর দাস) এমন নামকরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
২. খোদার কর্তৃত্বাধীন যেমন বায়ু বৃষ্টি, প্রভৃতি প্রাকৃতিক নির্দর্শনকে অভিশাপ দেওয়া নিষিদ্ধ। একইভাবে কারো ভাগ্য দুর্বাঘ্যের জন্য খোদাকে দোষারোপ করার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
৩. বক্তব্য বা বিস্ময়সূচক উক্তি যা তৌহিদের বিরোধী যা খোদার শরীকানা স্বীকার করে বলে ধারণা করা হয়, তা নিষিদ্ধ। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, খোদা যা ইচ্ছা করেন অথবা খোদা ও তুমি ছাড়া আমার কোন সাহায্যকারী নেই- এ ধরনের বক্তব্যদান সম্পূরণ নিষিদ্ধ।
৪. কুরবাণী শুধু আল্লাহর জন্যই করতে হবে। ইচ্ছাকৃতভাবে তার নাম নেয়া না হলে অথবা অন্য কারো নামে জবাই করা হলে ঐ প্রাণীর গোশত হারাম হবে এবং কুরবানী বাতিল হবে।
৫. কারো মৃত্যু হলে ইসলাম বিরোধী বক্তব্যদান যেমন, আমাদের এখন কি হবে অথবা লোকটি অকালে মৃত্যবরণ করেছে ইত্যাদি বলা নিষেধ।
৬. খোদার নাম বা ছিফাত ছাড় অন্য কারো নামে বা বস্তুর শপথ করা নিষিদ্ধ।
৭. আল্লাহ ছাড়া অপর কারো নামে মানব বাতিল বলে গণ্য হবে এবং তা পূরণ করা যাবেনা।
৮. আল্লাহর ইচ্ছার বাহিঃপ্রকাশ ছাড়ান অন্য কারো প্রতি ভরসা করা নিষিদ্ধ বরং বলতে হবে ইনশাআল্লাহ (আল্লাহ চাহেন ত)।
৯. কোন মানুষকে সেজদা করা যাবেনা। কারণ সেজদা শুধু নামাজের মাধ্যমে আল্লাহকেই করতে হবে।
১০. কোন কিছু অশুভ আশঙ্কা করে সফর থেকে বিরত থাকা ঠিক নয়, কারণ তা তকদীরে বিশ্বাসের পরিপন্থী।
১১. ইসলামের নির্দেশিকত কবরস্থান জিয়ারতের উদ্দেশ্য হচ্ছে মৃতদের কথা স্বরণ করে আল্লাহর প্রতি জীবিতদের আনুগত্য বৃদ্ধি করা এবং অন্যদের প্রতি সদাচারে মাত্রার উন্নতি সাধন করা।
১২. কাবা শরীফ পৃথিবীতে খোদার পয়লা মসজিদ। হযরত ইবরাহীম (আ) ও তৎপুত্র হযরত ইসমাঈল (আ) মক্কায় উহা নির্মাণ করেন। সারা বিশ্বের মুসলমানরা নামাজে কিবলামুখী হয়। এটা মুসলিম ঐক্য ও ইসলামি মুসলমানরা নামাজে কিবলামুখী হয়। এটা মুসলিম ঐক্য ও ইসলামি ঐক্যের প্রতীক। কিন্তু মুসলমানদের নামাজের চেয়ে এর পারিপার্শ্বিক অবস্থানের গুরুত্ব অনেক বেশি। জীবজন্তু জবাই করার সময় পশ্চিমমুখী হয়ে জবই করা হয়। মুসলমানদের লাশ কবরে শায়িত করা হয় কিবলামুখী করে। এমনকি পায়খানা বা টয়লেটের ডিজাইন কিবলার সাথে সম্পর্কিত। এস্তেঞ্জার সময় মুসলমানদের কিবলামুখী না হওয়অ বা কিবলাকে পিছনে ফেলে না বসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মুসলিম ঐক্য ও সংহতিতে ইসলামি আদব কায়দার অবদান সম্পর্কে এই গ্রন্থে পর্যয়ক্রমে আলোচনা করা হবে। মান নির্ধারক ইসলামের আদব লেহাজ নিষ্ঠার সাথে মেনে চললে বহু বিদ্য়াত দূর করা সম্ভব। মূল ও প্রকৃত ধর্মীয় ইসলামি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নতুন কোন আকিদা বা আচরণ যুক্ত করাকে বিদয়াত বলে।
নবী করিম (ﷺ) বিদয়াত প্রথ্যাখ্যান করে বলেছেন, “যে কেউ আমাদের ধর্মের মধ্যে নতুন কোন কিছুর সংযোজন করলে তা প্রত্যাখ্যান করতে হবে। **৯ এবং দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছুর সংযোজন থেকে সাবধান থেকো; কারণ প্রতিটি বিদয়াত হচ্ছে পাপ এবং প্রত্যেক পাপ দোযখের দিকে টানবে।”
ইসলামের সঙ্গে কোন কিছুর সংযোজন করাকেই বিদয়াত বলে এবং তা বাতিল। ইসলামি জিন্দেগির বিভিন্ন পর্যায়ে বিদয়াতের প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত নেতিবাচক এবং পরিণামে ইসলামের সহজ সরল বিধান জটিল প্রক্রিয়ায় রূপান্তরিত হয় যদ্দরুণ মুসলিম জিন্দেগির দু’একটি বিশেষ দিক ছেড়ে দিতে হয় বা বাতিল করতে হয়। বিদ্য়াতকে ইজতিহাতের সঙ্গে তালগোল পাকিয়ে মিল করা ঠিক নয়। কারণ ইজতিহাদ হচ্ছে ইসলামের বিধি বিধানের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে কুরআন ও সুন্নাহ থেকে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার জন্য ব্যক্তিগত বিচারবুদ্ধির ব্যবহার। যোগ্যতাসম্পন্য ওলামায়ে কেরাম-ই এ ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন।
আগেই বলা হয়েছে, মুসলমানদের আচার ব্যবহারে বহু অনৈসলামিক বিষয় যুক্ত হয়েছে। এ ব্যাপারে কয়েকটি দৃষ্টান্ত পেশ করা হলো।
১. ইসলামে কতিপয় ধর্মীয় উৎসব চালু হয়েছে; যেমন মহানীর (ﷺ) জন্মদিন (মিলাদ), তাঁর ঊর্ধ্বাকাশে আরোহন (মিরাজ) এবং তাঁর দেশত্যাগ (হিজরত)।
[ **৯ Al-Nawaw`s Froty Hadith. P-40 ]
২. কবর স্থানে লাশ নিয়ে যাবার সময় উচ্চঃস্বরে যিকির করা এবং জোরে কুরআন তেলওয়াত করা।
প্রত্যেক জামাতে নামাজ আদায়ের পর মোসাফাহা করা।
৪. কারো মৃত্যুর বেশ কিছুদিন পর শোকসন্তপ্ত পরিবারের পক্ষ থেকে খাবার তৈরি করে তা অন্যকে খাওয়ানো। অথচ প্রকৃত ইসলমি আকিদা হলো, বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্জনকে খাবার তৈরি করে শোকাহত পরিবারকে খাওয়ানো; কারণ এ সময় তারা শোকে মুহ্যমান থাকে।
৫. কবর বাঁধানো ও সৌন্দর্যমণ্ডিত করণ।
২. খোদার কর্তৃত্বাধীন যেমন বায়ু বৃষ্টি, প্রভৃতি প্রাকৃতিক নির্দর্শনকে অভিশাপ দেওয়া নিষিদ্ধ। একইভাবে কারো ভাগ্য দুর্বাঘ্যের জন্য খোদাকে দোষারোপ করার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
৩. বক্তব্য বা বিস্ময়সূচক উক্তি যা তৌহিদের বিরোধী যা খোদার শরীকানা স্বীকার করে বলে ধারণা করা হয়, তা নিষিদ্ধ। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, খোদা যা ইচ্ছা করেন অথবা খোদা ও তুমি ছাড়া আমার কোন সাহায্যকারী নেই- এ ধরনের বক্তব্যদান সম্পূরণ নিষিদ্ধ।
৪. কুরবাণী শুধু আল্লাহর জন্যই করতে হবে। ইচ্ছাকৃতভাবে তার নাম নেয়া না হলে অথবা অন্য কারো নামে জবাই করা হলে ঐ প্রাণীর গোশত হারাম হবে এবং কুরবানী বাতিল হবে।
৫. কারো মৃত্যু হলে ইসলাম বিরোধী বক্তব্যদান যেমন, আমাদের এখন কি হবে অথবা লোকটি অকালে মৃত্যবরণ করেছে ইত্যাদি বলা নিষেধ।
৬. খোদার নাম বা ছিফাত ছাড় অন্য কারো নামে বা বস্তুর শপথ করা নিষিদ্ধ।
৭. আল্লাহ ছাড়া অপর কারো নামে মানব বাতিল বলে গণ্য হবে এবং তা পূরণ করা যাবেনা।
৮. আল্লাহর ইচ্ছার বাহিঃপ্রকাশ ছাড়ান অন্য কারো প্রতি ভরসা করা নিষিদ্ধ বরং বলতে হবে ইনশাআল্লাহ (আল্লাহ চাহেন ত)।
৯. কোন মানুষকে সেজদা করা যাবেনা। কারণ সেজদা শুধু নামাজের মাধ্যমে আল্লাহকেই করতে হবে।
১০. কোন কিছু অশুভ আশঙ্কা করে সফর থেকে বিরত থাকা ঠিক নয়, কারণ তা তকদীরে বিশ্বাসের পরিপন্থী।
১১. ইসলামের নির্দেশিকত কবরস্থান জিয়ারতের উদ্দেশ্য হচ্ছে মৃতদের কথা স্বরণ করে আল্লাহর প্রতি জীবিতদের আনুগত্য বৃদ্ধি করা এবং অন্যদের প্রতি সদাচারে মাত্রার উন্নতি সাধন করা।
১২. কাবা শরীফ পৃথিবীতে খোদার পয়লা মসজিদ। হযরত ইবরাহীম (আ) ও তৎপুত্র হযরত ইসমাঈল (আ) মক্কায় উহা নির্মাণ করেন। সারা বিশ্বের মুসলমানরা নামাজে কিবলামুখী হয়। এটা মুসলিম ঐক্য ও ইসলামি মুসলমানরা নামাজে কিবলামুখী হয়। এটা মুসলিম ঐক্য ও ইসলামি ঐক্যের প্রতীক। কিন্তু মুসলমানদের নামাজের চেয়ে এর পারিপার্শ্বিক অবস্থানের গুরুত্ব অনেক বেশি। জীবজন্তু জবাই করার সময় পশ্চিমমুখী হয়ে জবই করা হয়। মুসলমানদের লাশ কবরে শায়িত করা হয় কিবলামুখী করে। এমনকি পায়খানা বা টয়লেটের ডিজাইন কিবলার সাথে সম্পর্কিত। এস্তেঞ্জার সময় মুসলমানদের কিবলামুখী না হওয়অ বা কিবলাকে পিছনে ফেলে না বসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মুসলিম ঐক্য ও সংহতিতে ইসলামি আদব কায়দার অবদান সম্পর্কে এই গ্রন্থে পর্যয়ক্রমে আলোচনা করা হবে। মান নির্ধারক ইসলামের আদব লেহাজ নিষ্ঠার সাথে মেনে চললে বহু বিদ্য়াত দূর করা সম্ভব। মূল ও প্রকৃত ধর্মীয় ইসলামি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নতুন কোন আকিদা বা আচরণ যুক্ত করাকে বিদয়াত বলে।
নবী করিম (ﷺ) বিদয়াত প্রথ্যাখ্যান করে বলেছেন, “যে কেউ আমাদের ধর্মের মধ্যে নতুন কোন কিছুর সংযোজন করলে তা প্রত্যাখ্যান করতে হবে। **৯ এবং দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছুর সংযোজন থেকে সাবধান থেকো; কারণ প্রতিটি বিদয়াত হচ্ছে পাপ এবং প্রত্যেক পাপ দোযখের দিকে টানবে।”
ইসলামের সঙ্গে কোন কিছুর সংযোজন করাকেই বিদয়াত বলে এবং তা বাতিল। ইসলামি জিন্দেগির বিভিন্ন পর্যায়ে বিদয়াতের প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত নেতিবাচক এবং পরিণামে ইসলামের সহজ সরল বিধান জটিল প্রক্রিয়ায় রূপান্তরিত হয় যদ্দরুণ মুসলিম জিন্দেগির দু’একটি বিশেষ দিক ছেড়ে দিতে হয় বা বাতিল করতে হয়। বিদ্য়াতকে ইজতিহাতের সঙ্গে তালগোল পাকিয়ে মিল করা ঠিক নয়। কারণ ইজতিহাদ হচ্ছে ইসলামের বিধি বিধানের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে কুরআন ও সুন্নাহ থেকে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার জন্য ব্যক্তিগত বিচারবুদ্ধির ব্যবহার। যোগ্যতাসম্পন্য ওলামায়ে কেরাম-ই এ ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন।
আগেই বলা হয়েছে, মুসলমানদের আচার ব্যবহারে বহু অনৈসলামিক বিষয় যুক্ত হয়েছে। এ ব্যাপারে কয়েকটি দৃষ্টান্ত পেশ করা হলো।
১. ইসলামে কতিপয় ধর্মীয় উৎসব চালু হয়েছে; যেমন মহানীর (ﷺ) জন্মদিন (মিলাদ), তাঁর ঊর্ধ্বাকাশে আরোহন (মিরাজ) এবং তাঁর দেশত্যাগ (হিজরত)।
[ **৯ Al-Nawaw`s Froty Hadith. P-40 ]
২. কবর স্থানে লাশ নিয়ে যাবার সময় উচ্চঃস্বরে যিকির করা এবং জোরে কুরআন তেলওয়াত করা।
প্রত্যেক জামাতে নামাজ আদায়ের পর মোসাফাহা করা।
৪. কারো মৃত্যুর বেশ কিছুদিন পর শোকসন্তপ্ত পরিবারের পক্ষ থেকে খাবার তৈরি করে তা অন্যকে খাওয়ানো। অথচ প্রকৃত ইসলমি আকিদা হলো, বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্জনকে খাবার তৈরি করে শোকাহত পরিবারকে খাওয়ানো; কারণ এ সময় তারা শোকে মুহ্যমান থাকে।
৫. কবর বাঁধানো ও সৌন্দর্যমণ্ডিত করণ।