১
ইসলামের নৈতিকতা ও আচরণ
লেখকঃ ড. মারওয়ান ইবরাহীম আল-কায়সি • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৭০
স্ত্রীর প্রতি আচরণ
১. ইসলামের দৃষ্টিতে যে ব্যক্তির স্ত্রীর কাছে উত্তম ও সহানুভূতিশীল- সে-ই উত্তম মানুষ। স্ত্রীর প্রতি সদাচরণ হচ্ছে ইসলামি নীতির বহিঃপ্রকাশ।
২. মানুষের জীবন কখনই এমন একতরফাভাবে পরিচালনা করা উচিত নয়, যাতে তার বৈবাহিক জীবন ঝুজির মুখে পড়ে। পারিবারিক গ্রাসাচ্ছাদন সংগ্রহে যেরকম সময় ব্যয় করা হোকনা কেন, স্বামীর সময়ের প্রতিও তার হক রয়েছে। স্ত্রীর সাথে হাস্যকৌতুক, সঙ্গদান, খেলাধুলা করা এবং ইসলাম অনুমোদিত বিধানের আওতায় সময় ব্যয় করা যেতে পারে।
৩. ইসলাম বিরোধী না হলে স্ত্রীর সকল প্রয়োজন পূরণ করা স্বামীর অন্যতম কর্তব্য। ইসলামের দৃষ্টিতে পরিবারের ভরণপোষণ করাই অর্থব্যয়ের উত্তম পথ।
৪. মহিলাদের জন্য নামাজ পড়ার ক্ষেত্রে মসজিদের চাইতে বাসগৃহ উত্তম হলেও তারা মসজিদে যেতে চাইলে তাদের বাধা দেওয়া যাবেনা।
একা্ত বিষয় বিশেষ করে যৌন সম্পর্কের ব্যাপারে অন্যদের সাথে কথা বলা পুরোপুরি অন্যায়।
৬. স্ত্রীর ব্যাপারে স্বামী ঈর্ষাপরায়ণ হতে পারে। ভিত্তিহীন সন্দেহ অথবা যুক্তিসঙ্গত কারণে ঈর্ষা করার কিছু থাকলে তা করা যায়।
৭. স্ত্রীর এক ধরনের আচরণ স্বামী অপছন্দ করলেও অন্য ব্যাপারে সন্তুষ্ট হতে পারে- এজন্য স্বামী স্ত্রীকে ঘৃণা করবেনা। ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক নয় অথচ স্বামী পছন্দ করেনা, স্ত্রীর এমন চরিত্র বৈষিষ্ট্য পরিবর্তন করে দেওয়া ইসলামে নিষিদ্ধ। স্ত্রীর রয়েছে নিজস্ব ব্যক্তিত্ব, যা তার স্বামী থেকে পৃথক এবং স্ত্রীর এই ব্যক্তি- স্বাতন্ত্র্য ধ্বংস করে দেয়া বা স্বামীর মত সামঞ্জ্যশীল করে তোলার অধিকার নেই। স্বামীকে স্মরণ রাখতে হবে স্ত্রীর চরিত্রের কতিপয় দিক অপ্রিয় মনে হলেও তার নিজের চরিত্রের কতিপয় দিকও স্ত্রীর কাছে অপ্রিয় হতে পারে।
৮. স্বামী কখনও তার স্ত্রী অথবা তার আত্মীয় স্বজনকে গালিগালাজ করবে না।
৯. স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক হচ্ছে বিশেষ প্রকৃতির। লজ্জা ও সামাজিক বিধিনিষেদের কারণে সৃষ্ট কৃত্রিম প্রতিবন্ধকতা দূর করার চেষ্টা না করলে এই সম্পর্ক গাঢ় হবেনা।
১০. পরিবার পরিচালনার ব্যাপারে স্বামীকে যে অধিকার দেওয়া হয়েছে তার অবপ্যবহার ও বাড়াবাড়ি করা উচিত নয়। সুতরাং স্ত্রীর কাছে এমন কিছু চাওয়া ঠিক নয় যা তার সামর্থ্যের বাইরে। তাকে খুব বেশি আদেশ করাও ঠিক নয়।
১১. স্ত্রীর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজনকে শ্রদ্ধা ও সম্মান জানানো হলে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক জোরদার হয়।
১২. স্ত্রীর বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও অতিথিপরায়ণ হওয়া স্ত্রীর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের নামান্তর।
১৩. দ্বাদশ অনুচ্ছেদ বর্ণিত কাবিননামার অধিকাংশ শর্ত পূরণ করতে হবে। সুতরাং বিয়ের পর এসব শর্ত বাস্তবায়নে তৎপর হতে হবে, অবহেলা বা ভুলে গেলে চলবে না। অবশ্য এ সব শর্ত ইসলামি বিধিবিধান অনুযায়ী হতে হবে।
১৪. কথায় কথায় স্ত্রীর ভুল ধরা, তার কাজকর্ম অপছন্দ করা, তার নিন্দা করা বিবাহকে সংকটাপন্ন করে তুলবে। স্বামীকে বহুক্ষেত্রে স্ত্রীর ভুলভ্রান্তি উপেক্ষা করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
১৫. স্বামী বা পিতা যদি স্ত্রী অথবা সন্তানদের প্রতি ইসলামি বিধান লংঘন করে, উপেক্ষার ভাব প্রদর্শন করে, তাহলে তা হবে এক চরম ভুল যা কোন মুসলমানের করা উচিত নয়।
১৬. অন্য লোকদের বিশেষ করে আত্মীয়, সন্তানদের সামনে স্ত্রীর নিন্দা বা তার কাজ অগ্রাহ্য কা নিঃসন্দেহে একরূঢ় আচরণ।
১৭. স্ত্রীকে অর্থ উপার্জনের কথা বলার জন্য স্বামীকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। তার ভরন পোষণের দায়িত্ব খোদ স্বামীর।
১৮. বাসায় ফেরার পর স্বামী বেল বাজিয়ে অথবা দরজায় কড়া নেড়ে নিজের উপস্থিতি ঘোষণা না করে বাসায় ঢুকবেনা। আলহামদুলিল্লাহ বলে বাড়িতে ঢুকে দু’রাকাত নামাজ পড়বে। এরপর সকলের কুশলাদি জিজ্ঞাসা করবে।
১৯. স্বামীকে তার মুখের গন্ধ সুঘ্রাণ রাখতে হবে যাতে তার স্ত্রী ব্যথিত না হয় অথবা রাগ না করে।
২০. স্বামীর সাথে স্ত্রীর সম্পর্ক হবে কঠোরতা ব্যতীত দৃঢ়তা এবং দুর্বলতা ব্যতীত নমনীয়তার ভারসাম্যের মাধ্যমে।
২. মানুষের জীবন কখনই এমন একতরফাভাবে পরিচালনা করা উচিত নয়, যাতে তার বৈবাহিক জীবন ঝুজির মুখে পড়ে। পারিবারিক গ্রাসাচ্ছাদন সংগ্রহে যেরকম সময় ব্যয় করা হোকনা কেন, স্বামীর সময়ের প্রতিও তার হক রয়েছে। স্ত্রীর সাথে হাস্যকৌতুক, সঙ্গদান, খেলাধুলা করা এবং ইসলাম অনুমোদিত বিধানের আওতায় সময় ব্যয় করা যেতে পারে।
৩. ইসলাম বিরোধী না হলে স্ত্রীর সকল প্রয়োজন পূরণ করা স্বামীর অন্যতম কর্তব্য। ইসলামের দৃষ্টিতে পরিবারের ভরণপোষণ করাই অর্থব্যয়ের উত্তম পথ।
৪. মহিলাদের জন্য নামাজ পড়ার ক্ষেত্রে মসজিদের চাইতে বাসগৃহ উত্তম হলেও তারা মসজিদে যেতে চাইলে তাদের বাধা দেওয়া যাবেনা।
একা্ত বিষয় বিশেষ করে যৌন সম্পর্কের ব্যাপারে অন্যদের সাথে কথা বলা পুরোপুরি অন্যায়।
৬. স্ত্রীর ব্যাপারে স্বামী ঈর্ষাপরায়ণ হতে পারে। ভিত্তিহীন সন্দেহ অথবা যুক্তিসঙ্গত কারণে ঈর্ষা করার কিছু থাকলে তা করা যায়।
৭. স্ত্রীর এক ধরনের আচরণ স্বামী অপছন্দ করলেও অন্য ব্যাপারে সন্তুষ্ট হতে পারে- এজন্য স্বামী স্ত্রীকে ঘৃণা করবেনা। ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক নয় অথচ স্বামী পছন্দ করেনা, স্ত্রীর এমন চরিত্র বৈষিষ্ট্য পরিবর্তন করে দেওয়া ইসলামে নিষিদ্ধ। স্ত্রীর রয়েছে নিজস্ব ব্যক্তিত্ব, যা তার স্বামী থেকে পৃথক এবং স্ত্রীর এই ব্যক্তি- স্বাতন্ত্র্য ধ্বংস করে দেয়া বা স্বামীর মত সামঞ্জ্যশীল করে তোলার অধিকার নেই। স্বামীকে স্মরণ রাখতে হবে স্ত্রীর চরিত্রের কতিপয় দিক অপ্রিয় মনে হলেও তার নিজের চরিত্রের কতিপয় দিকও স্ত্রীর কাছে অপ্রিয় হতে পারে।
৮. স্বামী কখনও তার স্ত্রী অথবা তার আত্মীয় স্বজনকে গালিগালাজ করবে না।
৯. স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক হচ্ছে বিশেষ প্রকৃতির। লজ্জা ও সামাজিক বিধিনিষেদের কারণে সৃষ্ট কৃত্রিম প্রতিবন্ধকতা দূর করার চেষ্টা না করলে এই সম্পর্ক গাঢ় হবেনা।
১০. পরিবার পরিচালনার ব্যাপারে স্বামীকে যে অধিকার দেওয়া হয়েছে তার অবপ্যবহার ও বাড়াবাড়ি করা উচিত নয়। সুতরাং স্ত্রীর কাছে এমন কিছু চাওয়া ঠিক নয় যা তার সামর্থ্যের বাইরে। তাকে খুব বেশি আদেশ করাও ঠিক নয়।
১১. স্ত্রীর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজনকে শ্রদ্ধা ও সম্মান জানানো হলে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক জোরদার হয়।
১২. স্ত্রীর বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও অতিথিপরায়ণ হওয়া স্ত্রীর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের নামান্তর।
১৩. দ্বাদশ অনুচ্ছেদ বর্ণিত কাবিননামার অধিকাংশ শর্ত পূরণ করতে হবে। সুতরাং বিয়ের পর এসব শর্ত বাস্তবায়নে তৎপর হতে হবে, অবহেলা বা ভুলে গেলে চলবে না। অবশ্য এ সব শর্ত ইসলামি বিধিবিধান অনুযায়ী হতে হবে।
১৪. কথায় কথায় স্ত্রীর ভুল ধরা, তার কাজকর্ম অপছন্দ করা, তার নিন্দা করা বিবাহকে সংকটাপন্ন করে তুলবে। স্বামীকে বহুক্ষেত্রে স্ত্রীর ভুলভ্রান্তি উপেক্ষা করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
১৫. স্বামী বা পিতা যদি স্ত্রী অথবা সন্তানদের প্রতি ইসলামি বিধান লংঘন করে, উপেক্ষার ভাব প্রদর্শন করে, তাহলে তা হবে এক চরম ভুল যা কোন মুসলমানের করা উচিত নয়।
১৬. অন্য লোকদের বিশেষ করে আত্মীয়, সন্তানদের সামনে স্ত্রীর নিন্দা বা তার কাজ অগ্রাহ্য কা নিঃসন্দেহে একরূঢ় আচরণ।
১৭. স্ত্রীকে অর্থ উপার্জনের কথা বলার জন্য স্বামীকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। তার ভরন পোষণের দায়িত্ব খোদ স্বামীর।
১৮. বাসায় ফেরার পর স্বামী বেল বাজিয়ে অথবা দরজায় কড়া নেড়ে নিজের উপস্থিতি ঘোষণা না করে বাসায় ঢুকবেনা। আলহামদুলিল্লাহ বলে বাড়িতে ঢুকে দু’রাকাত নামাজ পড়বে। এরপর সকলের কুশলাদি জিজ্ঞাসা করবে।
১৯. স্বামীকে তার মুখের গন্ধ সুঘ্রাণ রাখতে হবে যাতে তার স্ত্রী ব্যথিত না হয় অথবা রাগ না করে।
২০. স্বামীর সাথে স্ত্রীর সম্পর্ক হবে কঠোরতা ব্যতীত দৃঢ়তা এবং দুর্বলতা ব্যতীত নমনীয়তার ভারসাম্যের মাধ্যমে।