hadith book logo

ইসলামের নৈতিকতা ও আচরণ

লেখকঃ ড. মারওয়ান ইবরাহীম আল-কায়সি • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৭১

মুসিলম স্ত্রীর সঠিক আচরণ

১. সৎ স্ত্রী এতই গুরুত্বপূর্ণ যে, ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি থেকে উত্তম স্ত্রীকে বিশ্বের সর্বোত্তম উপহার হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

২. বিবাহে স্ত্রীর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, বস্তুত তাই-ই হচ্ছে চূড়ান্ত বিষয়।

৩. স্বামীকে সন্তুষ্ট রাখার জন্য স্ত্রীর আপ্রাণ চেষ্টা করা কর্তব্য।

৪. আদর্শ স্ত্রীর তিনগুণ রয়েছে: স্বামী তাকে যাতে খুশি হয় সেজন্য সেজেগুজে হাজির হয়, আদেশ করলে সে মান্য করে, সে স্বামীর সম্পত্তির ব্যাপারে তার ইচ্ছার বিরোধী কাজ করে না।

৫. স্বামী যখন তাকে বিছানায় ডাকে তখন সাড়া না দেয়া একটি অপরাধ যা স্ত্রীর অবশ্যই পরিহার করতে হবে।

৬. নফল রোজা রাখতে চাইলে স্বামীর অনুমতি নিয়ে স্ত্রীর রোজা রাখতে হবে। স্বামীর অনুমতি না পেলে রোজা ভেঙ্গে ফেলতে হবে। এর কারণ হচ্ছে, স্বামী স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করতে চাইলে রোজা রাখা অবস্থায় সম্ভব নয়।

৭. স্ত্রীর কর্তব্য হচ্ছে স্বামী যাকে চায়না স্বামীর অনুমতি ছাড়া তাকে বাসগৃহে ঢোকার সুযোগ না দেওয়া।

৮. স্বামীর অনুমতি ছাড়া তার সম্পত্তি থেকে স্ত্রী কাউকে কিছু দিতে পারেনা।

৯. স্বামীর কাছ থেকে স্ত্রী অতিরিক্ত অর্থ চাইবেনা অথবা এমন জিনিস চাইবেনা যা তার সামনে নেই এবং সে দিতে পারেনা তাকে যা-ই দেওয়া হোকনা কেনো সেজন্য সে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে।

১০. স্বামী বাড়িতে কোনপ্রকার সহযোগিতা করতে চাইলে স্ত্রীর কৃতজ্ঞতচিত্তে তা গ্রহণ করা উচিত।

১১. স্বামী কোন বিষয়ের শপথ করালে তার প্রতি অনুগত থাকা উত্তম স্ত্রীর কর্তব্য।

১২. স্বামী বাসগৃহে ফিরলে স্ত্রী তাকে সহাস্যে স্বাগত জানাবে এবং রুচিশীল অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে।

১৩. স্ত্রী কখনও তার স্বামীর প্রয়োজনের প্রতি অবহেলা বা তার চাহিদার প্রতি উপেক্ষার ভাব দেখাবেনা। স্ত্রী স্বামীর যতই পরিচর্যা করবে তার প্রতি স্বামীর ভালবাসা ততই বেড়ে যাবে। অধিকাংশ স্বামী তাদের প্রতি স্ত্রীর যত্ন নেয়াকে ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে গণ্য করে থাকেন।

১৪. স্বামী বাড়িতে ফিরলে পারিবারিক সমস্যা অথবা ছেলেমেয়েদের সম্পর্কে অভিযোগ উত্থাপন না করার ব্যাপারে স্ত্রীকে সতর্ক থাকতে হবে। এর পরিবর্তে দীর্ঘ ও পরিশ্রান্ত দিনের শেসে স্ত্রীর উচিত শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করা।

১৫. পারিবারিক সমস্যা নিয়ে স্বামীর সঙ্গে উপযুক্ত সময়ে কথা বলতে হবে স্ত্রীকে।

১৬. স্বামীর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজনের প্রতি সম্মান দেখানো এবং তাদের সঙ্গে সহৃদয় ব্যবহার করা মূলতঃ স্বামীর প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের শামিল।

১৭. বেশি বেশি করে বাড়ির বাইরে যাওয়া নারীদের বদঅভ্যাস বটে। স্বামী আপত্তি করলে স্ত্রী বাড়ির বাইরে যাবে না।

১৮. স্বামীর আপত্তির মুখে আগন্তুকদের সাথে স্ত্রী কথা বলবেনা।

১৯. স্বামীর কথা স্ত্রীকে মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে।

২০. স্বামীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তার সম্পদ থেকে কাউকে ধার দেওয়ার অধিকার স্ত্রীর নেই। তবে সে নিজস্ব সম্পদ থেকে ধার দিত পারে।

২১. উপযুক্ত কারণ ছাড়া স্বামীর কাছে তালাক চাওয়া নিষেধ।

২২. স্বামীর বন্ধু তার ব্যাপারে খোঁ-খবর নিলে স্ত্রী তার জবাব দেবে, তবে দীর্ঘ কথোপকথনে যাবে না।

২৩. স্বামীর সাথে বাদানুবাদ করা, তার প্রতি গালমন্দ করা, বিতৃষ্ণায় রূপ নেয় এবং সম্পর্কের অবনতি ঘটায়।

২৮. বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ এবং গার্হস্থালি কার্য পরিচালনা করা হচ্ছে স্ত্রীর দায়িত্ব। সুতরাং বাড়িঘর, আসবাবপত্র সংরক্ষণ করেতার দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং তাকে মিতব্যয়ী হতে হবে।

২৫. স্বামীর অনুমতি ছাড়া তার সম্পদ থেকে স্ত্রী কাউকে সাহায্য করবেনা বা ভিক্ষা দেয়াও অনুচিত।

২৬. স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার যৌন সম্পর্কের কথা অন্যদের বলা ইসলামে মহাপাপ বলে বিবেচিত।

২৭. স্ত্রী তার স্বামীর প্রতি ভালবাসা ও আকর্ষণ প্রকাশে ভীত হবেনা। এর ফরে সে সন্তুষ্ট হবে এবং পরিবারের প্রতি বেশি আকর্ষণ প্রকাশে ভীতু হবেনা। এর ফলে সে সন্তুষ্ট হবে এবং পরিবারের প্রতি বেশি করে টানবে। যদি স্বামী বাড়িতে আকর্ষণীয়া, প্রেমময়ী স্ত্রী দেখতে না পায়, তাহলে সে ঘরের বাইরে অন্যত্র ভালবাসার জন্যৗ ছুটবে।

২৮. পরিবারের নেতৃত্ব স্বামীর ওপর ন্যস্ত। স্ত্রী স্বামীর সমান পরিমান দাবি করলে, তা হবে পরিবারের দুই কর্তার জঙ্গি অবস্থান এবং ইসলামে এর স্থান নেই। তবে স্বামীর স্বৈরাচারী কায়দা ব্যবহার করা এবং তার অবস্থানের অপব্যবহার করা নীচতার পরিচায়ক। প্রেম প্রীতি ভালবাসা দেখাতে হবে স্ত্রীর প্রতি এবং জীবন সঙ্গী হিসেবে আচরণ করতে হবে।