hadith book logo

ইসলামের নৈতিকতা ও আচরণ

লেখকঃ ড. মারওয়ান ইবরাহীম আল-কায়সি • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৭

জাতীয় অর্থনীতে ইসলামি আদবের ভূমিকা

সুস্থ অর্থনীতির বিকাশে ইসলামি আদব মেনে চলা অপরিহার্য। বাহুল্য ব্যয় করা ইসলামে নিষিদ্ধ, মিতব্যয়িতা অবলম্বন করা প্রয়োজন; এমনকি সেটিকে উৎসাহিত করা হয়েছে। শান্তি ও যুদ্ধ-এই উভয়কালেই অর্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মূল্যের ধারক হিসেবে অ্থ-তৎক্ষণিক ক্রয়ক্ষমতা এবং বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। **১৩ সার্বিকভাবে জাতির অর্থনৈতিক শক্তি থাকা অপরিহার্য। কোন ব্যক্তি তার ইচ্ছামত যাচ্ছে তাই ভাবে যেকোন পরিমাণ অর্থ ব্যয় করার অধিকারী নয়। কেননা এর ফলে জাতীয় শক্তির ধ্বংস নেমে আসে। ইসলামি আদব মিতব্যয়িতার জন্য ‍ মুসলমানদেরকে ধর্মীয়ভাবে উদ্দীপ্ত করে। অন্য কথায় বলা যায়, অমিতব্যয়িতা থেকে বিরত থাকা প্রত্যেক ‍ মুসলমানের ধর্মীয় কর্তব্য। আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেছেন, “অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই; আর শয়তান হচ্ছে আল্লাহর কাছে চির অকৃতজ্ঞ।” **১৪

এখানে ইসলামি জীবনধারার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হলো। এতে সুস্থ অর্থনীতি গড়ে তোলার ব্যাপারে ইসলাম কতখানি গুরুত্ব দেয়, তা অনুধাবন করা যাবে।

১. পানাহারে মিতব্যয়িতা অবলম্বন করতে হবে। সামান্য পরিমাণ খাদ্যও অপচয় করা যাবে না। অপচয়ের প্রতি নিষেধাজ্ঞার ফলে বিপুল পরিমাণ জাতীয় সম্পদ সাশ্রয় হবে এবং অধিকতর প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের দিকে তা পরিচালনা করা যায়।

[**১৩Encyclopaedia Britannica,, Londob: William Bentou: Vol. 15. 1971, P-701]

[**১৪ The Holy Quran,, M.M. Pickthall অনুদিত [New York:Muslim World League সূরা মায়িদাঃ আয়াত ৩]

২. পোশাক পরিচ্ছদেও মিতাচার প্রয়োজন। পোশাকই যেন উদ্দেশ্যে পরিণত না হয়। সে ব্যাপারে লক্ষ্য রাখতে হবে। পোশাকের ব্যাপারে বিপুল অর্থ ব্যয় করা চলবে না।

৩. আসবাবপত্র ও অন্যান্য গৃহস্থালী সামগ্রী মধ্য মানের মূল্যে কেনা উচিত। বাড়ির আসবাপত্র, তৈজসপত্র বা অন্য কোন সামগ্রীর ক্ষেত্রে স্বর্ণের বা রৌপ্যের ব্যবহার চলবে না। তাছাড়া রেশম বা রেশমি কারুকার্য খচিত পোশাক বা আসবাপত্র ব্যবহার করা যাবে না।

৪. জমকালো ভবন নির্মাণ নির্মাণে অর্থের ব্যয় করা চলবে না। এমনকি মসজিদ নির্মাণেও অমিতব্যয়ী হওয়া চলবে না। উভয় ক্ষেত্রে অলংকারণও পরিহার করতে হবে।

৫. ইসলামি বিধান আদর্শ বিয়ে হয় সবচেয়ে কম খরচে এবং এক্ষেত্রে বাহুল্য ব্যয় হয় না।

৬. দাফন কাজে মিতব্যয়ী হতে হবে। এক্ষেত্রেও অমিত্যব্যয়য়িকা নিষিদ্ধ। বিশেষ বাধ্যকতা বা স্বাস্থগত কারণ ছাড়া কফিন বাক্স ব্যবহার করা চলবে না।

৭. ইসলামে অতিথি আপ্যয়ণের প্রতি বিশে গুরুত্ব দেওয়া হলেও বাহুল্য ব্যয় করতে নিষেঘধ করা হয়েছে।

৮. শুক্রবার জুমার নামাজ আদায়ের জন্য একঘন্টা ছাড়া শুক্রবারে কাজ বন্ধ করার কথা ইসলামে সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়নি। প্রয়োজনীয় কাজ অব্যাহত রাখতে হবে; কেননা এক দিনেরও জন্যও কাজ বন্ধ রাখা হলে সামগ্রিকভাবে জাতীয় অর্থনীতির ক্ষতি হতে পারে। শুক্রবার কাজ পরিত্যাগ করার জন্য উৎসাহ দেওয়া হয়নি; ইসলামে সাবাথ-এর অনুপস্থিত। তবে মুসলমানদের কোন ছুটির দিন হলে তা শনিবার বা রোববার হওয়া উচিত নয়, শুক্রবার হতে হবে।

৯. মুসলমানের ওপর অর্পিত কোন কাজের দক্ষতা ও সম্পূর্ণতা দান করা কর্তব্য বলে ইসলাম বিবেচনা করে। হাদিসে বলা হয়েছে, নিশ্চয়ই আল্লাহ সকল ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জনের ব্যবস্থা রেখেছেন। [আল নববীর ৮০ হাদিস, ৬৪ পৃঃ] কর্মোদ্যোগ ও গুণগত মানের সমন্বয়ে একটি সফল অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব।