১
ভালো ছাত্র হওয়ার উপায়
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১০
পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার উপায়
অনেক ছাত্র-ছাত্রী শিক্ষাজীবনে ভালো ফলাফল করতে পারে না- যার কারণে তারা কর্মজীবনেও ভালো কিছু করতে পারে না। একজন শিক্ষার্থীকে ভাবতে হবে ভবিষ্যতে আমাকে ভালো মানের কিছু হতে হবে। আর সে জন্য সেভাবেই পড়তে হবে এবং পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে হবে। পরীক্ষার প্রসুততি যেমন নেয়া হয় নম্বরও তেমন পাওয়া যায়। কথায় আছে-
‘‘As you sow, so you reap’’. ‘‘যেমন কর্ম তেমন ফল’’।
পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার কিছু নিয়ম নিচে আলোচনা করা হল :
১. পাঠ্যবই ভালোভাবে পড়া
দিন যত যাচ্ছে পরীক্ষার পদ্ধতিতেও তত পরিবর্তন আসছে। শুধু সাজেশনের উপর নির্ভর করলে হবে না, মূল বই ভালোভাবে পড়তে হবে। ভালো ফলাফল করতে হলে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে পাঠ্যবইয়ের প্রতি। পাঠ্যবইয়ের প্রতিটি অধ্যায় এবং পাঠ ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে। মূল পাঠ ভালোভাবে বুঝে নিলে সেখান থেকে যেকোনভাবে যেকোন প্রশ্ন আসুক না কেন উত্তর লেখা সম্ভব হবে।
২. নিয়মিত ক্লাস করা
পাঠ্যবই ভালোভাবে বুঝতে হলে নিয়মিত ক্লাস করতে হবে। কারণ শিক্ষক ক্লাসের মধ্যে বিভিন্নভাবে পাঠ্যবই বুঝিয়ে থাকেন এবং পরীক্ষার প্রশ্ন ও উত্তর সম্পর্কে ধারণা দেন। এজন্য ক্লাস ফাঁকি দেয়া একদম ঠিক হবে না।
৩. সাজেশন তৈরি করা
একেকটি অধ্যায়ে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন হতে পারে। তন্মধ্যে সব প্রশ্নই গুরুত্বপূর্ণ নয়। পরীক্ষায় সাধারণত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোই আসে। পূর্ববর্তী কয়েক বছরের প্রশ্নপত্র পড়ে দেখলেই কোন্ ধরনের প্রশ্ন পরীক্ষায় আসে সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। এ ধারণার উপর নির্ভর করে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো বাছাই করে নেবে। বাজারে প্রচলিত সাজেশন ও ক্লাসে দেয়া সাজেশনের সাথে তোমার নিজের সাজেশন তুলনা করে একটা ফাইনাল সাজেশন তৈরি করতে হবে।
৪. হ্যান্ডনোট তৈরি করা
পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করতে হলে অবশ্যই হ্যান্ডনোট তৈরি করে পড়তে হবে। মূল বই, বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন রকম গাইড বই, বিভিন্ন রেফারেন্স বই ইত্যাদির সাহায্য নিয়ে নোট তৈরি করা যায়। হ্যান্ডনোটের প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরে সূচনা, উপসংহার এবং প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে কোটেশন ও উদ্ধৃতি দিতে হবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সাহায্য নেয়া যেতে পারে।
৫. প্রশ্নের উত্তর পড়া এবং মনে রাখা
প্রশ্নের উত্তর একাধিকবার পড়ে মনে রাখতে হবে। প্রতিদিন অবশ্যই কিছু প্রশ্নের উত্তর রিভিশন দিতে হবে। মাত্র দু’চার দিন খুব পড়ে পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করা সম্ভব নয়। এজন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। ধৈর্য হারালে চলবে না।
পড়ার সময় শব্দ করে পড়ার চেয়ে নীরবে পড়াই উত্তম। কারণ নিঃশব্দে পড়লে মিনিটে প্রায় ১০ থেকে ১৫টি শব্দ বেশি পড়া যায়।
একটি বিষয় একটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পড়ে শেষ করা উচিত। এভাবে প্রতিটি বিষয় প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ে পুনরায় পঠিত বিষয়গুলো রিভিশন দিতে হবে।
সর্বোপরি পড়ার জন্য প্রয়োজন সুন্দর পরিবেশ, যেখানে মনোযোগ সহকারে লেখাপড়া করা সম্ভব। ভালো রেজাল্ট করার জন্য আরো প্রয়োজন দৃঢ়-প্রত্যয়, অধ্যবসায় এবং প্রচুর আগ্রহ। তবেই কেবল প্রত্যাশিত রেজাল্ট করা সম্ভব।
প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ করার পাশাপাশি কোন্ প্রশ্নের উত্তরে কয়টি পয়েনট আছে তা মনে রাখতে হবে।
প্রথম সারির সবকয়টি প্রশ্নের উত্তর অবশ্যই শিখতে হবে। এছাড়া অন্যান্য সকল প্রশ্নের উত্তর সম্পর্কেও ভালো ধারনা রাখতে হবে এবং নিজে নিজে উত্তর বানিয়ে লেখার অভ্যাস করতে হবে।
৬. হাতের লেখা দ্রম্নত ও সুন্দর করা
মূলত লেখা এবং পড়া- এ দু’টি কাজ নিয়মিত যথাযথভাবে করতে হয়। এজন্য প্রতিদিন কিছু লেখার অভ্যাস করতে হবে। যত বেশি লেখা হবে ততই অধিক মনে থাকবে এবং হাতের লেখা দ্রুত ও সুন্দর হবে। এছাড়া নিয়মিত লিখলে বানান শুদ্ধ হবে এবং ভাষার উপর দক্ষতা বাড়বে। ছাত্রজীবনে সফলতার জন্য এটা অত্যন্ত প্রয়োজন। সময়ের অভাবে কোনো প্রশ্নের উত্তর লিখতে না পারলে নম্বর কমে যাবে। আজকাল প্রতিযোগিতা এতটা তীব্র যে, তুমি যদি পাঁচ নম্বরের প্রশ্নও ছেড়ে দাও তাহলে অনেক পিছিয়ে পড়বে।
পরীক্ষার খাতায় যেমন করে লেখো, ঠিক সে রকমভাবেই পাতার পার্শ্বে ও উপরে মার্জিন টেনে এবং ডানে, বামে, নিচে এবং উপরে কিছুটা করে জায়গা ছেড়ে দিয়ে লেখার অভ্যাস করো। লেখার গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোকে স্কেচ পেন দিয়ে দাগিয়ে নেবে। এভাবে যদি লেখার চর্চা করা হয় তাহলে লেখা সুন্দর হবে, দ্রুত লেখা যাবে এবং পরীক্ষার হলে তোমার কোনো অসুবিধা হবে না।
৭. ভাষা ও বানান সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা
ভাষা সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। একই উত্তরে সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণ ঘটানো যাবে না। চলিত ভাষায় উত্তর লেখা ভালো। বর্তমানে বই-পুস্তক ও পত্র-পত্রিকায় চলিত ভাষাই বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। বানান সম্পর্কেও সচেতন থাকতে হবে। ভুল বানানের কারণে নম্বর কাটা যায়।
‘‘As you sow, so you reap’’. ‘‘যেমন কর্ম তেমন ফল’’।
পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার কিছু নিয়ম নিচে আলোচনা করা হল :
১. পাঠ্যবই ভালোভাবে পড়া
দিন যত যাচ্ছে পরীক্ষার পদ্ধতিতেও তত পরিবর্তন আসছে। শুধু সাজেশনের উপর নির্ভর করলে হবে না, মূল বই ভালোভাবে পড়তে হবে। ভালো ফলাফল করতে হলে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে পাঠ্যবইয়ের প্রতি। পাঠ্যবইয়ের প্রতিটি অধ্যায় এবং পাঠ ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে। মূল পাঠ ভালোভাবে বুঝে নিলে সেখান থেকে যেকোনভাবে যেকোন প্রশ্ন আসুক না কেন উত্তর লেখা সম্ভব হবে।
২. নিয়মিত ক্লাস করা
পাঠ্যবই ভালোভাবে বুঝতে হলে নিয়মিত ক্লাস করতে হবে। কারণ শিক্ষক ক্লাসের মধ্যে বিভিন্নভাবে পাঠ্যবই বুঝিয়ে থাকেন এবং পরীক্ষার প্রশ্ন ও উত্তর সম্পর্কে ধারণা দেন। এজন্য ক্লাস ফাঁকি দেয়া একদম ঠিক হবে না।
৩. সাজেশন তৈরি করা
একেকটি অধ্যায়ে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন হতে পারে। তন্মধ্যে সব প্রশ্নই গুরুত্বপূর্ণ নয়। পরীক্ষায় সাধারণত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোই আসে। পূর্ববর্তী কয়েক বছরের প্রশ্নপত্র পড়ে দেখলেই কোন্ ধরনের প্রশ্ন পরীক্ষায় আসে সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। এ ধারণার উপর নির্ভর করে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো বাছাই করে নেবে। বাজারে প্রচলিত সাজেশন ও ক্লাসে দেয়া সাজেশনের সাথে তোমার নিজের সাজেশন তুলনা করে একটা ফাইনাল সাজেশন তৈরি করতে হবে।
৪. হ্যান্ডনোট তৈরি করা
পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করতে হলে অবশ্যই হ্যান্ডনোট তৈরি করে পড়তে হবে। মূল বই, বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন রকম গাইড বই, বিভিন্ন রেফারেন্স বই ইত্যাদির সাহায্য নিয়ে নোট তৈরি করা যায়। হ্যান্ডনোটের প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরে সূচনা, উপসংহার এবং প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে কোটেশন ও উদ্ধৃতি দিতে হবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সাহায্য নেয়া যেতে পারে।
৫. প্রশ্নের উত্তর পড়া এবং মনে রাখা
প্রশ্নের উত্তর একাধিকবার পড়ে মনে রাখতে হবে। প্রতিদিন অবশ্যই কিছু প্রশ্নের উত্তর রিভিশন দিতে হবে। মাত্র দু’চার দিন খুব পড়ে পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করা সম্ভব নয়। এজন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। ধৈর্য হারালে চলবে না।
পড়ার সময় শব্দ করে পড়ার চেয়ে নীরবে পড়াই উত্তম। কারণ নিঃশব্দে পড়লে মিনিটে প্রায় ১০ থেকে ১৫টি শব্দ বেশি পড়া যায়।
একটি বিষয় একটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পড়ে শেষ করা উচিত। এভাবে প্রতিটি বিষয় প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ে পুনরায় পঠিত বিষয়গুলো রিভিশন দিতে হবে।
সর্বোপরি পড়ার জন্য প্রয়োজন সুন্দর পরিবেশ, যেখানে মনোযোগ সহকারে লেখাপড়া করা সম্ভব। ভালো রেজাল্ট করার জন্য আরো প্রয়োজন দৃঢ়-প্রত্যয়, অধ্যবসায় এবং প্রচুর আগ্রহ। তবেই কেবল প্রত্যাশিত রেজাল্ট করা সম্ভব।
প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ করার পাশাপাশি কোন্ প্রশ্নের উত্তরে কয়টি পয়েনট আছে তা মনে রাখতে হবে।
প্রথম সারির সবকয়টি প্রশ্নের উত্তর অবশ্যই শিখতে হবে। এছাড়া অন্যান্য সকল প্রশ্নের উত্তর সম্পর্কেও ভালো ধারনা রাখতে হবে এবং নিজে নিজে উত্তর বানিয়ে লেখার অভ্যাস করতে হবে।
৬. হাতের লেখা দ্রম্নত ও সুন্দর করা
মূলত লেখা এবং পড়া- এ দু’টি কাজ নিয়মিত যথাযথভাবে করতে হয়। এজন্য প্রতিদিন কিছু লেখার অভ্যাস করতে হবে। যত বেশি লেখা হবে ততই অধিক মনে থাকবে এবং হাতের লেখা দ্রুত ও সুন্দর হবে। এছাড়া নিয়মিত লিখলে বানান শুদ্ধ হবে এবং ভাষার উপর দক্ষতা বাড়বে। ছাত্রজীবনে সফলতার জন্য এটা অত্যন্ত প্রয়োজন। সময়ের অভাবে কোনো প্রশ্নের উত্তর লিখতে না পারলে নম্বর কমে যাবে। আজকাল প্রতিযোগিতা এতটা তীব্র যে, তুমি যদি পাঁচ নম্বরের প্রশ্নও ছেড়ে দাও তাহলে অনেক পিছিয়ে পড়বে।
পরীক্ষার খাতায় যেমন করে লেখো, ঠিক সে রকমভাবেই পাতার পার্শ্বে ও উপরে মার্জিন টেনে এবং ডানে, বামে, নিচে এবং উপরে কিছুটা করে জায়গা ছেড়ে দিয়ে লেখার অভ্যাস করো। লেখার গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোকে স্কেচ পেন দিয়ে দাগিয়ে নেবে। এভাবে যদি লেখার চর্চা করা হয় তাহলে লেখা সুন্দর হবে, দ্রুত লেখা যাবে এবং পরীক্ষার হলে তোমার কোনো অসুবিধা হবে না।
৭. ভাষা ও বানান সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা
ভাষা সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। একই উত্তরে সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণ ঘটানো যাবে না। চলিত ভাষায় উত্তর লেখা ভালো। বর্তমানে বই-পুস্তক ও পত্র-পত্রিকায় চলিত ভাষাই বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। বানান সম্পর্কেও সচেতন থাকতে হবে। ভুল বানানের কারণে নম্বর কাটা যায়।