১
ভালো ছাত্র হওয়ার উপায়
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩৬
মু’মিন ব্যক্তির বিশেষ বৈশিষ্ট্য
একজন মু’মিন ব্যক্তি বিশেষভাবে যারা কুরআন ও হাদীসের জ্ঞান লাভ করতে চায় তাদেরকে বিশেষ কিছু গুণে গুণান্বিত হতে হবে; নতুবা এর প্রভাব (ইল্মের আছর) তাদের অন্তরে পৌঁছবে না। আর তা হল :
তার লেবাস-পোশাক ও বাহ্যিক আচরণ তার জ্ঞানী হওয়ার স্বাক্ষ্য দেবে।
সে জ্ঞানে হবে গভীর দূরদৃষ্টি সম্পন্ন, কাজকর্মে হবে বিচক্ষণ।
তার নীরবতা হবে গবেষণা, দেখা হবে উপদেশ ও শিক্ষা লাভের জন্য।
তার প্রতিটি কাজ হবে আল্লাহর নির্দেশ ও নবীর সুন্নাত অনুযায়ী।
জ্ঞানীদের সাথে মিশবে জানার জন্য, নীরব থাকবে নিরাপদ থাকার জন্য।
অনর্থক কথা ও কাজে জড়িত হবে না, গুরুত্বপূর্ণ কাজে মশগুল থাকবে।
কথা বলবে কম, কাজ করবে বেশি। কথায় ও কাজে মিল রাখবে।
পরের দোষ কম দেখবে, নিজের দোষ বেশি দেখবে।
কাউকে গালি দেবে না, লজ্জা দেবে না এবং বিবাদ সৃষ্টি করবে না।
তার উপর অন্যায় করা হলেও সে ইনসাফ (ন্যায়বিচার) করবে।
কেউ ক্ষমা চাইলে ক্ষমা করে দেবে।
তার দিল হবে নরম, ঈমান হবে মযবুত।
ভালো কাজে আনন্দ পাবে, গুনাহ করলে ক্ষমা চাইবে।
নেক কাজে আগে থাকবে, পাপ থেকে দূরে থাকবে।
অভাব ও বিপদে পড়লেও শুকরিয়া আদায় করবে এবং ধৈর্যধারণ করবে।
শরীয়তের হুকুমের উপর অটল থাকবে, অন্যায় দেখলে প্রতিবাদ করবে।
আল্লাহর নবীর সাহাবীরা এমনই ছিলেন। পূর্ববর্তী নেককার মুসলমানরাও এরকম ছিলেন। শেষ পর্যন্ত তারা আল্লাহর সাথে মিলে গেছেন; কিন্তু এখন মানুষ এসব পরিবর্তন করে দিয়েছে। তাই আল্লাহ তা‘আলাও তাদের ভাগ্য পরিবর্তন করে দিয়েছেন।
اِنَّ اللهَ لَا يُغَيِّرُ مَا بِقَوْمٍ حَتّٰى يُغَيِّرُوْا مَا بِأَنْفُسِهِمْ
‘‘আল্লাহ তা‘আলা কোনো জাতির ভাগ্য ততক্ষণ পর্যন্ত পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ না তারা নিজেরা তাদের ভাগ্য পরিবর্তন করে।’’ (সূরা রা’দ- ১১)
তাফসীরে মাআরিফুল কুরআনে লেখা আছে- লোকমান যার নাম কুরআনে এসেছে, বাল্যকালে তিনি মেষ চরাতেন। কিন্তু পরে আল্লাহ তা‘আলা তাকে বহু জ্ঞানী ও সম্মানী করে তুলেন। একদিন তিনি এক জনসমাবেশে ভাষণ দিচ্ছিলেন, এমন সময় একজন লোক বলে উঠল আপনি কি সেই লোক, যে আমার সাথে ছাগল চরাত? তিনি বললেন হ্যাঁ। এরপর লোকটি বলল : তাহলে আপনি এ স্তরে কিভাবে পৌঁছলেন যে, আপনার কথা শোনার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে সমবেত হয়, আল্লাহর গোটা সৃষ্টি আপনাকে সম্মান করে। তখন তিনি বললেন, দু’টি কাজ আমাকে এ স্তরে পৌঁছিয়েছে। একটি হল- সর্বদা সত্য কথা বলা, অপরটি হল- জবানকে হেফাযত করা।
এরপর তিনি বললেন, এমন কিছু কাজ আছে যেগুলো পালন করলে তুমিও এ স্তরে পৌঁছতে পারবে। কাজগুলো হল :
হালাল রুজিতে সন্তুষ্ট থাকা।
চোখ দু’টিকে হারাম জিনিস হতে ফিরায়ে রাখা।
লজ্জাস্থানের হেফাযত করা।
সত্য কথায় অটল থাকা।
অনর্থক কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকা।
ওয়াদা পালন করা।
মেহমান ও প্রতিবেশীর সম্মান করা।
হাদীসে বর্ণিত আছে, ‘‘দু’টি কাজ করা সহজ কিন্তু মু’মিনের নেক আমলের পাল্লায় খুবই ভারী। একটি হল- বিনা প্রয়োজনে কথা না বলা, অপরটি হল- উত্তম চরিত্রের অধিকারী হওয়া।’’ (শু‘আবুল ঈমান হা/৮০০৬)
রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- ‘‘প্রকৃত মুসলিম ঐ ব্যক্তি যার জিহবা ও হাতের অনিষ্ট হতে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে।’’ (মুসলিম হা/১৭১)
তার লেবাস-পোশাক ও বাহ্যিক আচরণ তার জ্ঞানী হওয়ার স্বাক্ষ্য দেবে।
সে জ্ঞানে হবে গভীর দূরদৃষ্টি সম্পন্ন, কাজকর্মে হবে বিচক্ষণ।
তার নীরবতা হবে গবেষণা, দেখা হবে উপদেশ ও শিক্ষা লাভের জন্য।
তার প্রতিটি কাজ হবে আল্লাহর নির্দেশ ও নবীর সুন্নাত অনুযায়ী।
জ্ঞানীদের সাথে মিশবে জানার জন্য, নীরব থাকবে নিরাপদ থাকার জন্য।
অনর্থক কথা ও কাজে জড়িত হবে না, গুরুত্বপূর্ণ কাজে মশগুল থাকবে।
কথা বলবে কম, কাজ করবে বেশি। কথায় ও কাজে মিল রাখবে।
পরের দোষ কম দেখবে, নিজের দোষ বেশি দেখবে।
কাউকে গালি দেবে না, লজ্জা দেবে না এবং বিবাদ সৃষ্টি করবে না।
তার উপর অন্যায় করা হলেও সে ইনসাফ (ন্যায়বিচার) করবে।
কেউ ক্ষমা চাইলে ক্ষমা করে দেবে।
তার দিল হবে নরম, ঈমান হবে মযবুত।
ভালো কাজে আনন্দ পাবে, গুনাহ করলে ক্ষমা চাইবে।
নেক কাজে আগে থাকবে, পাপ থেকে দূরে থাকবে।
অভাব ও বিপদে পড়লেও শুকরিয়া আদায় করবে এবং ধৈর্যধারণ করবে।
শরীয়তের হুকুমের উপর অটল থাকবে, অন্যায় দেখলে প্রতিবাদ করবে।
আল্লাহর নবীর সাহাবীরা এমনই ছিলেন। পূর্ববর্তী নেককার মুসলমানরাও এরকম ছিলেন। শেষ পর্যন্ত তারা আল্লাহর সাথে মিলে গেছেন; কিন্তু এখন মানুষ এসব পরিবর্তন করে দিয়েছে। তাই আল্লাহ তা‘আলাও তাদের ভাগ্য পরিবর্তন করে দিয়েছেন।
اِنَّ اللهَ لَا يُغَيِّرُ مَا بِقَوْمٍ حَتّٰى يُغَيِّرُوْا مَا بِأَنْفُسِهِمْ
‘‘আল্লাহ তা‘আলা কোনো জাতির ভাগ্য ততক্ষণ পর্যন্ত পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ না তারা নিজেরা তাদের ভাগ্য পরিবর্তন করে।’’ (সূরা রা’দ- ১১)
তাফসীরে মাআরিফুল কুরআনে লেখা আছে- লোকমান যার নাম কুরআনে এসেছে, বাল্যকালে তিনি মেষ চরাতেন। কিন্তু পরে আল্লাহ তা‘আলা তাকে বহু জ্ঞানী ও সম্মানী করে তুলেন। একদিন তিনি এক জনসমাবেশে ভাষণ দিচ্ছিলেন, এমন সময় একজন লোক বলে উঠল আপনি কি সেই লোক, যে আমার সাথে ছাগল চরাত? তিনি বললেন হ্যাঁ। এরপর লোকটি বলল : তাহলে আপনি এ স্তরে কিভাবে পৌঁছলেন যে, আপনার কথা শোনার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে সমবেত হয়, আল্লাহর গোটা সৃষ্টি আপনাকে সম্মান করে। তখন তিনি বললেন, দু’টি কাজ আমাকে এ স্তরে পৌঁছিয়েছে। একটি হল- সর্বদা সত্য কথা বলা, অপরটি হল- জবানকে হেফাযত করা।
এরপর তিনি বললেন, এমন কিছু কাজ আছে যেগুলো পালন করলে তুমিও এ স্তরে পৌঁছতে পারবে। কাজগুলো হল :
হালাল রুজিতে সন্তুষ্ট থাকা।
চোখ দু’টিকে হারাম জিনিস হতে ফিরায়ে রাখা।
লজ্জাস্থানের হেফাযত করা।
সত্য কথায় অটল থাকা।
অনর্থক কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকা।
ওয়াদা পালন করা।
মেহমান ও প্রতিবেশীর সম্মান করা।
হাদীসে বর্ণিত আছে, ‘‘দু’টি কাজ করা সহজ কিন্তু মু’মিনের নেক আমলের পাল্লায় খুবই ভারী। একটি হল- বিনা প্রয়োজনে কথা না বলা, অপরটি হল- উত্তম চরিত্রের অধিকারী হওয়া।’’ (শু‘আবুল ঈমান হা/৮০০৬)
রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- ‘‘প্রকৃত মুসলিম ঐ ব্যক্তি যার জিহবা ও হাতের অনিষ্ট হতে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে।’’ (মুসলিম হা/১৭১)