hadith book logo

ভালো ছাত্র হওয়ার উপায়

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৯

শারীরিক ব্যায়াম

শরীর সুস্থ রাখতে হলে শারীরিক পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই। আর যারা শারীরিক পরিশ্রম করে না তাদের নিয়মিত শরীরচর্চা করা একান্ত কর্তব্য। ব্যায়াম করলে শরীরে যথেষ্ঠ অক্সিজেনের চাহিদা সৃষ্টি হয়, তখন রক্তের গতি বৃদ্ধি পায়।

প্রতিদিন ব্যায়াম করার জন্য একটি সময় ঠিক করে নেবে। জার্মানের এক দার্শনিক ব্যায়ামের ব্যাপারে এতটাই সময়নিষ্ঠ ছিলেন যে, মানুষ তাকে ভ্রমণ করতে দেখে বুঝতে পারত কয়টা বাজে। অর্থাৎ তিনি প্রতিদিনই একটি নির্দিষ্ট সময়ে ব্যায়াম করতেন।

শরীরচর্চা বা ব্যায়াম করার জন্য ব্যায়ামাগারে যাওয়া জরুরী নয়। দৌড়, সাঁতার কাটা, হাঁটা, সাইকেল চালানো, একই স্থানে দাঁড়িয়ে দৌড়ের মত লাফানো এসব ব্যায়াম যথেষ্ট উপকারী।

লেখাপড়া করার যেমন একটি নিয়ম আছে অনুরূপভাবে ব্যায়াম করারও নিয়মকানুন আছে। এখানে কয়েকটি ব্যায়াম সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হল। এগুলোর মধ্য থেকে যার যার সুবিধা অনুযায়ী যেকোনো একটি ব্যায়াম করতে পারেন।

১. সাঁতার কাটা

শরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য প্রতিদিন গোসল করতে হয়। আর গোসল যদি খাল, বিল, পুকুর বা নদীতে করা যায় তবে এক সাথে দু’টি কাজ হয়ে যাবে। গ্রামে তো সাঁতার কাটার অনেক জায়গা আছে, খোঁজ করলে শহরেও সাঁতার কাটার জায়গা পাওয়া যায়। সাঁতার কাটার সময় প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সঠিকভাবে নড়াচড়া করে বিধায় সাঁতার কাটাকে শ্রেষ্ঠ ব্যায়াম হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সাঁতার বলতে ফ্রি স্টাইলে সাঁতার কাটাকেই বুঝানো হয়েছে। প্রথম দিন একশ গজ দূরত্ব অতিক্রম করতে হবে আড়াই মিনিটে। পরে আস্তে আস্তে গতি এবং দূরত্ব বৃদ্ধি করতে হবে।

২. দৌড়ানো

দৌড়ালে শরীরের সকল পেশী সঞ্চালিত হয় বিধায় পেশীগুলো দৃঢ় হয়। সর্বাধিক উপকার হয় হাত, পা এবং তলপেটের। দৌড়ানোর উপযুক্ত সময় সকালবেলা। প্রথম দিনেই অধিক দ্রুতগতিতে দৌড় দেয়া ঠিক নয়। ক্রমে ক্রমে গতি বাড়াতে হবে। প্রতিদিন ১৫/২০ মিনিট দৌড়ানো উচিত।

৩. একই স্থানে দাঁড়িয়ে দৌড়ানো

এ ব্যায়াম করতে খুব অল্প জায়গার প্রয়োজন হয়। তাই ঝড়বৃষ্টির দিনেও সময় মত ব্যায়ামটা করা যায়। একই স্থানে দাঁড়িয়ে দৌড়াতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে পা যেন মাটি থেকে অন্তত ৮ ইঞ্চি উপরে ওঠে। এ ব্যায়ামটি মেয়েদের জন্যও সহজ। কেননা তাদের পক্ষে রাস্তায় দৌড়ানো সম্ভব হয় না। এ ব্যায়ামের পূর্ণ মাত্রা ১৭ মিনিট।

৪. সাইকেল চালানো

সাইকেল চালাতে অনেকেই পছন্দ করে। তোমার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যদি বাড়ি থেকে ২/৩ কিলেমিটার দূরে হয় তবে বাসে বা রিকশায় না যেয়ে সাইকেল যোগে আসা-যাওয়া করলে তোমার ব্যায়াম হয়ে যাবে। তবে রাস্তা যদি ঝুঁকিপূর্ণ হয় তবে খোলা মাঠে সাইকেল চালাতে পারো।

৫. স্কিপিং

মেয়েরা রশি নিয়ে লাফালাফি করতে পছন্দ করে। তাই ব্যায়াম হিসেবে স্কিপিং করা যায়। অনেক ছেলেও আজকাল স্কিপিং করে থাকে।

৬. হাঁটা

প্রতিদিন অন্তত ২/৩ মাইল হাঁটতে পারলে তাতেও ব্যায়াম হয়ে যাবে। তোমার স্কুল, কলেজ বা মাদরাসা যদি বাড়ি থেকে দুই বা আড়াই কিলেমিটার দূরে অবস্থিত হয় তবে কোনো যানবাহন ব্যবহার না করে পায়ে হেঁটে যেতে পার। ছেলেদের পক্ষে পায়ে হেঁটে যাওয়া কোনো সমস্যা নয়। ছাত্রীরাও কয়েকজন মিলে একসাথে পায়ে হেঁটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসা-যাওয়া করতে পারে।