১
ভালো ছাত্র হওয়ার উপায়
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৯
পড়াশোনা করার নিয়ম
কোনো বিষয়ে ব্যাপক উপলব্ধি ও যোগ্যতা অর্জন করতে হলে অনেক পড়াশোনা করতে হয়। পড়ার সময় নিচের বিষয়গুলো লক্ষণীয় :
১। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগ্রহ সহকারে দায়িত্ববোধ নিয়ে মনোযোগের সাথে পড়তে হবে।
২। যখন যে বিষয়টি পড়লে আয়ত্ত করতে সুবিধা হয় তখন সে বিষয়টি পড়াই ভালো ।
৩। রুটিন মেনে প্রতিদিন নিয়মিত পড়তে থাকলে মনে রাখা সহজ হয়।
৪। অনেক সময় পড়ালেখায় মন বসে না। এভাবে বেশি সময় চলতে থাকলে ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে। তাই অনুশীলনের অভ্যাস ঠিক রাখার স্বার্থে রুটিন ভঙ্গ না করে পড়াশোনায় মন বসানোর চেষ্টা করতে হবে।
৫। পড়ার সময় কাগজ, কলম ও পেন্সিল সাথে রাখা উচিত।
৬। বইয়ের ভিতরের মূল কথাগুলোর নিচে বা পাশে আন্ডারলাইন করে রাখলে সেগুলো সহজে নজরে পড়বে।
৭। কোনো অধ্যায় বা অধ্যায়ের অংশ পড়ার পর উহার মূল কথাগুলো মনে করা এবং সারসংক্ষেপ লেখার চেষ্টা করতে হবে।
৮। কোনো অংশ না বুঝলে একাধিকবার চেষ্টা করবে। তবে সমস্ত প্যারা বা অধ্যায় পড়ার আগে বুঝার জন্য জিদ ধরা যাবে না; কারণ অনেক সময় পরবর্তী অংশ পড়ার পর পূর্ববর্তী দুর্বোধ্য অংশের অর্থ আপনা আপনি পরিষ্কার হয়ে যায় ।
৯। পড়ার সময় মাঝে মাঝে থেমে মনে মনে ভাবতে হবে এ পর্যন্ত কী জানলাম। কেননা খেতে যত সময় লাগে হজম করতে তার চেয়ে বেশি সময় লাগে। বিদ্যার্জনও ঠিক সেরকম।
১০। পড়া মনে রাখার জন্য আল্লাহর সাহায্য চেয়ে বেশি বেশি প্রার্থনা করতে হবে।
১১। ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনা করার নিয়ম বর্ণনা করতে গিয়ে মনোবিজ্ঞানী রবিনসন অধ্যয়নের একটি চমৎকার পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন। কোনো ছাত্র-ছাত্রী সে পদ্ধতি মেনে চললে তারা ভালো ও আদর্শবান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। নিচে সেই পদ্ধতি উল্লেখ করা হল :
তার উদ্ভাবিত পদ্ধতিকে Survey Q 3R (সার্ভে কিউ থ্রী আর) পদ্ধতি বলে। অর্থাৎ- Survey, Question, Read, Recite, Review.
জরিপ করা, প্রশ্ন করা, পড়া, আবৃত্তি করা ও পুনরায় স্মরণ করা।
Survey- (সার্ভে) মানে জরিপ করো। তুমি এতদিন যে কয়টি বিষয় বা অধ্যায় পড়েছ তার মধ্যে জরিপ চালাও। কয়টি বিষয় তোমার মনে আছে, কি কি মনে নেই এবং কোন্টি সম্পর্কে সাধারণ ধারণা আছে ইত্যাদি। যে বিষয়টি ভুলেগেছ তা আবার পড়ো, বুঝ এবং মুখস্ত করে ফেল। এভাবে নিয়মিত জরিপ চালিয়ে পড়লে স্মৃতি শক্তিতে অধ্যয়নকৃত বিষয়টি গেঁথে যাবে এবং তা মনে থাকবে।
Q- মানে Question (কোশ্চেন) বা প্রশ্ন। অন্যকে নয় বরং তুমি নিজেকেই বারবার প্রশ্ন করতে থাক- এখানে এ শব্দটা কেন হল? এ বাক্যটা অন্যভাবে কী বলা যাবে? এ অধ্যায়ে কী কী প্রশ্ন হতে পারে? প্রভৃতি প্রশ্নের আলোকে ভালোভাবে উত্তর খুঁজে বের করো এবং বারবার চর্চা করতে থাক, তাহলে অবশ্যই তুমি ভালো ফল পাবে।
3R- এর মধ্যকার প্রথম R- এর অর্থ হল Read (রিড) বা পড়া। যে বিষয়টি তুমি পড়বে বলে ঠিক করেছ, তা ভালো করে কয়েকবার পড়ো এবং বুঝার চেষ্টা কর। কোনো একটি বিষয় বুঝে না আসলে তা ধৈর্যসহকারে বারবার পড়তে থাক।
২য় R- এর অর্থ হল Recite (রিসাইট) বা আবৃত্তি করা। পড়া বিষয়টি যদি আকারে-ইঙ্গিতে বা ভাব-ভঙ্গিমায় প্রকাশ করা যায় বা ভালোভাবে আবৃত্তি করা যায় তাহলে ঐ বিষয়টি অনেক দিন মনে থাকবে।
৩য় R- এর অর্থ হল Review (রিভিউ) বা পুনরায় স্মরণ করা। অধ্যয়নকৃত বিষয়টিকে একবার পড়ে ছেড়ে দেয়া সম্পূর্ণ অনুচিত; বরং বারবার তা স্মরণ করতে হবে। কোনো অংশ ভুলে গেলে তা আবার পড়ে নিতে হবে।
এভাবে Survey Q 3R পদ্ধতি অনুসরণ করলে পড়াশোনায় উন্নতি হবে এবং অধ্যয়নকৃত বিষয়টিকে দীর্ঘদিন মনে রাখা সম্ভব হবে। সুতরাং ছাত্র-ছাত্রীদের নিজেদের জীবনকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে এবং দেশ ও জাতির সেবার উদ্দেশে আলোচ্য প্রবন্ধের সকল গুণাবলীর পূর্ণ অনুশীলনকারী হতে হবে এবং এগুলো যথাযথ বাস্তবায়ন করতে হবে। তাহলে একজন কম মেধাবী ছাত্র বা ছাত্রীও একজন ভালো ও আদর্শবান ছাত্র বা ছাত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।
১। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগ্রহ সহকারে দায়িত্ববোধ নিয়ে মনোযোগের সাথে পড়তে হবে।
২। যখন যে বিষয়টি পড়লে আয়ত্ত করতে সুবিধা হয় তখন সে বিষয়টি পড়াই ভালো ।
৩। রুটিন মেনে প্রতিদিন নিয়মিত পড়তে থাকলে মনে রাখা সহজ হয়।
৪। অনেক সময় পড়ালেখায় মন বসে না। এভাবে বেশি সময় চলতে থাকলে ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে। তাই অনুশীলনের অভ্যাস ঠিক রাখার স্বার্থে রুটিন ভঙ্গ না করে পড়াশোনায় মন বসানোর চেষ্টা করতে হবে।
৫। পড়ার সময় কাগজ, কলম ও পেন্সিল সাথে রাখা উচিত।
৬। বইয়ের ভিতরের মূল কথাগুলোর নিচে বা পাশে আন্ডারলাইন করে রাখলে সেগুলো সহজে নজরে পড়বে।
৭। কোনো অধ্যায় বা অধ্যায়ের অংশ পড়ার পর উহার মূল কথাগুলো মনে করা এবং সারসংক্ষেপ লেখার চেষ্টা করতে হবে।
৮। কোনো অংশ না বুঝলে একাধিকবার চেষ্টা করবে। তবে সমস্ত প্যারা বা অধ্যায় পড়ার আগে বুঝার জন্য জিদ ধরা যাবে না; কারণ অনেক সময় পরবর্তী অংশ পড়ার পর পূর্ববর্তী দুর্বোধ্য অংশের অর্থ আপনা আপনি পরিষ্কার হয়ে যায় ।
৯। পড়ার সময় মাঝে মাঝে থেমে মনে মনে ভাবতে হবে এ পর্যন্ত কী জানলাম। কেননা খেতে যত সময় লাগে হজম করতে তার চেয়ে বেশি সময় লাগে। বিদ্যার্জনও ঠিক সেরকম।
১০। পড়া মনে রাখার জন্য আল্লাহর সাহায্য চেয়ে বেশি বেশি প্রার্থনা করতে হবে।
১১। ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনা করার নিয়ম বর্ণনা করতে গিয়ে মনোবিজ্ঞানী রবিনসন অধ্যয়নের একটি চমৎকার পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন। কোনো ছাত্র-ছাত্রী সে পদ্ধতি মেনে চললে তারা ভালো ও আদর্শবান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। নিচে সেই পদ্ধতি উল্লেখ করা হল :
তার উদ্ভাবিত পদ্ধতিকে Survey Q 3R (সার্ভে কিউ থ্রী আর) পদ্ধতি বলে। অর্থাৎ- Survey, Question, Read, Recite, Review.
জরিপ করা, প্রশ্ন করা, পড়া, আবৃত্তি করা ও পুনরায় স্মরণ করা।
Survey- (সার্ভে) মানে জরিপ করো। তুমি এতদিন যে কয়টি বিষয় বা অধ্যায় পড়েছ তার মধ্যে জরিপ চালাও। কয়টি বিষয় তোমার মনে আছে, কি কি মনে নেই এবং কোন্টি সম্পর্কে সাধারণ ধারণা আছে ইত্যাদি। যে বিষয়টি ভুলেগেছ তা আবার পড়ো, বুঝ এবং মুখস্ত করে ফেল। এভাবে নিয়মিত জরিপ চালিয়ে পড়লে স্মৃতি শক্তিতে অধ্যয়নকৃত বিষয়টি গেঁথে যাবে এবং তা মনে থাকবে।
Q- মানে Question (কোশ্চেন) বা প্রশ্ন। অন্যকে নয় বরং তুমি নিজেকেই বারবার প্রশ্ন করতে থাক- এখানে এ শব্দটা কেন হল? এ বাক্যটা অন্যভাবে কী বলা যাবে? এ অধ্যায়ে কী কী প্রশ্ন হতে পারে? প্রভৃতি প্রশ্নের আলোকে ভালোভাবে উত্তর খুঁজে বের করো এবং বারবার চর্চা করতে থাক, তাহলে অবশ্যই তুমি ভালো ফল পাবে।
3R- এর মধ্যকার প্রথম R- এর অর্থ হল Read (রিড) বা পড়া। যে বিষয়টি তুমি পড়বে বলে ঠিক করেছ, তা ভালো করে কয়েকবার পড়ো এবং বুঝার চেষ্টা কর। কোনো একটি বিষয় বুঝে না আসলে তা ধৈর্যসহকারে বারবার পড়তে থাক।
২য় R- এর অর্থ হল Recite (রিসাইট) বা আবৃত্তি করা। পড়া বিষয়টি যদি আকারে-ইঙ্গিতে বা ভাব-ভঙ্গিমায় প্রকাশ করা যায় বা ভালোভাবে আবৃত্তি করা যায় তাহলে ঐ বিষয়টি অনেক দিন মনে থাকবে।
৩য় R- এর অর্থ হল Review (রিভিউ) বা পুনরায় স্মরণ করা। অধ্যয়নকৃত বিষয়টিকে একবার পড়ে ছেড়ে দেয়া সম্পূর্ণ অনুচিত; বরং বারবার তা স্মরণ করতে হবে। কোনো অংশ ভুলে গেলে তা আবার পড়ে নিতে হবে।
এভাবে Survey Q 3R পদ্ধতি অনুসরণ করলে পড়াশোনায় উন্নতি হবে এবং অধ্যয়নকৃত বিষয়টিকে দীর্ঘদিন মনে রাখা সম্ভব হবে। সুতরাং ছাত্র-ছাত্রীদের নিজেদের জীবনকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে এবং দেশ ও জাতির সেবার উদ্দেশে আলোচ্য প্রবন্ধের সকল গুণাবলীর পূর্ণ অনুশীলনকারী হতে হবে এবং এগুলো যথাযথ বাস্তবায়ন করতে হবে। তাহলে একজন কম মেধাবী ছাত্র বা ছাত্রীও একজন ভালো ও আদর্শবান ছাত্র বা ছাত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।