১
ভালো ছাত্র হওয়ার উপায়
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩৯
কতিপয় জরুরী দু‘আ
১. ঘুম থেকে জাগার পর দু‘আ :
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِيْ اَحْيَانَا بَعْدَ مَا اَمَاتَنَا واِلَيْهِ النُّشُوْرُ
আল্হাম্দুলিল্লা-হিল্লাযী আহ্ইয়া-না বা‘দা মা আমা-তানা ওয়াইলাইহিন নুশূর
অর্থ : সকল প্রশংসা আল্লাহ তা‘আলার জন্য যিনি আমাদেরকে মরণের পর জীবিত করেছেন এবং তাঁর দিকেই আবার প্রত্যাবর্তর্ন করতে হবে। (বুখারী হা/৬৩১২)
২. প্রস্রাব-পায়খানায় প্রবেশের দু‘আ :
اَللّٰهُمَّ اِنِّى اَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ
আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযুবিকা মিনাল খুবুসি ওয়ালখাবা-ইস।
অর্থ : হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট অপবিত্র মহিলা ও পুরুষ জ্বিন হতে আশ্রয় চাচ্ছি। (বুখারী, হা/১৪২, মুসলিম, হা/৮৫৭)
৩. প্রস্রাব-পায়খানা থেকে বের হওয়ার পর দু‘আ :
غُفْرَانَكَ (গুফরা-নাকা); অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমি ক্ষমা চাচ্ছি। (আবু দাঊদ, হা/৩০)
৪. বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় দু‘আ :
بِسْمِ اللهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللهِ لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ اِلاَّ بِاللهِ
বিসমিল্লা-হি তাওয়াক্কালতু ‘আলাল্লাহ লা-হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ
অর্থ : আল্লাহর নামে বের হলাম, তাঁর উপর ভরসা করলাম। আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপায় ও ক্ষমতা নেই। (আবু দাঊদ, হা/৫০৯৭; তিরমিযী, হা/৩৪২৬)
৫. ওযুর শুরুতে পড়ার দু‘আ :
بِسْمِ اللهِ (বিসমিল্লাহ)। অর্থাৎ আল্লাহর নামে শুরু করছি। (তিরমিযী, হা/২৫)
৬. ওযুর শেষে পড়ার দু‘আ :
اَشْهَدُ اَنْ لَّا اِلٰهَ اِلَّا اللهُ وَحْدَهٗ لَا شَرِيْكَ لَهٗ وَاَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهٗ وَرَسُوْلُهٗ
আশহাদু আল্লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহ্দাহু লা-শারীকালাহু ওয়া আশ্হাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহূ ওয়ারাসূলুহ্।
অর্থ : আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো মা‘বুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল। (মুসলিম হা/৫৭৬)
৭. মসজিদে প্রবেশের সময় দু‘আ :
اَللّٰهُمَّ افْتَحْ لِىْ اَبْوَابَ رَحْمَتِكَ
আল্লা-হুম্মাফ তাহলী আবওয়াবা রাহ্মাতিক।
অর্থ : হে আল্লাহ! আমার জন্য তোমার রহমতের দরজা খোলে দাও। (মুসলিম, হা/১৬৮৫)
৮. মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় দু‘আ :
اَللّٰهُمَّ اِنِّى اَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ
আল্লা-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকা মিন ফাযলিক।
অর্থ : হে আল্লাহ! আমি তোমার অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি। (মুসলিম, হা/১৬৮৫)
৯. খাওয়ার শুরুতে দু‘আ :
بِسْمِ اللهِ (বিসমিল্লাহ)। অর্থাৎ আল্লাহর নামে শুরু। (বুখারী, হা/৫৩৭৬)
১০. খাওয়ার শুরুতে বিসমিলস্নাহ ভুলে গেলে বলতে হয় :
بِسْمِ اللهِ اَوَّلَهٗ وَاٰخِرَهٗ
বিসমিল্লাহি আউওয়ালাহু ওয়া আ-খিরাহ।
অর্থ : খাওয়ার শুরু ও শেষ আল্লাহর নামে। (আবু দাঊদ, হা/৩৭৬৯)
আল্লাহ তা‘আলা ঐ ব্যক্তির উপর সন্তুষ্ট হন, যে খাওয়া এবং পান করার মাঝে মাঝে ‘আলহামদু লিল্লাহ’ বলে। (মুসলিম)
১১. খাওয়ার পর দু‘আ :
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِيْ اَطْعَمَنِيْ هٰذَا وَرَزَقَنِيْهِ مِنْ غَيْرِ حَوْلٍ مِّنِّيْ وَلَا قُوَّةٍ
আলহামদু লিল্লাহিল্লাযি আত্‘আমানী হা-যা ওয়া রাযাকানীহি মিন গাইরি হাওলিম মিননী ওয়ালা কূওয়াহ। (আবু দাঊদ, হা/৪০২৫)
অর্থ : সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য যিনি আমাকে এ পানাহার করালেন এবং আমার সামর্থ্য ও উপায় না থাকা সত্ত্বেও তা আমাকে দান করেছেন।
১২. কেউ দাওয়াত খাওয়ালে তার জন্য দু‘আ :
اَللّٰهُمَّ اَطْعِمْ مَنْ اَطْعَمَنِىْ وَاسْقِ مَنْ سَقَانِىْ
আল্লা-হুম্মা আত্‘ইম মান আত্‘আমানী ওয়াস্ক্বি মান সাক্বা-নী।
অর্থ : হে আল্লাহ! যে আমাকে আহার করালো তুমি তাকে আহার করাও, যে আমাকে পান করালো তুমি তাকে পান করাও। (মুসলিম, হা/৫৪৮২)
১৩. সালাম দেয়ার সময় বলতে হয় :
اَلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَ رَحْمَةُ اللهِ
আস্সালা-মু ‘আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লা-হ।
অর্থ : আপনার উপর শান্তি এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। (মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৩৩১৬)
১৪. সালামের উত্তর দেয়ার সময় বলতে হয় :
وَ عَلَيْكُمُ السَّلَامُ وَ رَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهٗ
ওয়া ‘আলাইকুমুস্ সালা-মু ওয়া রাহমাতুল্লা-হি ওয়া বারাকা-তুহ।
অর্থ : আর আপনার উপরও শান্তি ও আল্লাহর রহমত এবং বরকত বর্ষিত হোক।
(মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৩৩১৬)
১৫. অন্যের মাধ্যমে কেউ সালাম পাঠালে উত্তরে বলতে হয় :
عَلَيْكَ وَ عَلَيْهِ السَّلَامُ
‘আলাইকা ওয়া ‘আলাইহিস্ সালা-ম
অর্থ : আপনার উপর এবং তার উপর শান্তি বর্ষিত হোক। (আবু দাঊদ, হা/৫২৩৩)
১৬. মুসাফাহার দু‘আ :
نَحْمَدُ اللهَ وَ نَسْتَغْفِرُهٗ
নাহমাদুল্লা-হা ওয়া নাস্তাগ্ফিরুহ।
অর্থ : আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি।
নবী সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যখন কোন দু’জন মুসলমান মিলিত হয় অতঃপর মুসাফাহা করে এবং আল্লাহর প্রশংসা ও ক্ষমা-প্রার্থনা করে তখন তাদের গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়। (আবূ দাউদ হা/৫২১২)
১৭. হাঁচি দাতা ও শ্রোতার জন্য পঠিতব্য দু‘আ :
হাঁচি দাতা ব্যক্তি বলবে, اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ (আলহামদুলিল্লা-হ) সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। যারা এটা শুনবে তারা বলবে - يَرْحَمُكَ اللهُ (ইয়ারহামুকাল্লাহ) আল্লাহ তোমার প্রতি দয়া করুন। অতঃপর হাঁচি দাতা ব্যক্তি পুনরায় বলবে - يَهْدِيْكُمُ اللهُ وَيُصْلِحُ بَالَكُمْ (ইয়াহ্দীকুমুল্লা-হু ওয়া ইউসলিহু বা-লাকুম। অর্থাৎ, আল্লাহ যেন তোমাদেরকে পথপ্রদর্শন করেন এবং তোমাদের অবস্থা ভালো করে দেন। (বুখারী, হা/৬২২৪; আবু দাঊদ, হা/৫০৩৫)
১৮. আত্মার পবিত্রতা লাভের দু‘আ :
اَللّٰهُمَّ اٰتِ نَفْسِيْ تَقْوَاهَا وَزَكِّهَا اَنْتَ خَيْرُ مَنْ زَكَّاهَا اَنْتَ وَلِيُّهَا وَمَوْلَاهَا
আল্লা-হুম্মা আ-তি নাফ্সী তাক্বওয়া-হা, ওয়া যাক্কিহা- আন্তা খাইরু মান যাককা-হা আন্তা ওয়ালিয়্যুহা- ওয়ামাও লা-হা।
অর্থ : হে আল্লাহ! আমার আত্মাকে সংযম দান কর এবং তাকে পবিত্র কর। আত্মা পবিত্রকারীদের মধ্যে তুমিই উত্তম, তুমিই তার মালিক। (মুসলিম, হা/৭০৮১)
১৯. অন্তর স্থির রাখার দু‘আ :
يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوْبِ ثَبِّتْ قَلْبِيْ عَلٰى دِيْنِكَ
ইয়া- মুক্বাল্লিবাল কুলূব, সাব্বিত ক্বালবী ‘আলা- দীনিক।
অর্থ : হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! তোমার দ্বীনের উপর আমার অন্তরকে প্রতিষ্ঠিত রাখ। (তিরমিযী, হা/২১৪০)
২০. হিদায়াতের উপর টিকে থাকার দু‘আ :
رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوْبَنَا بَعْدَ اِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِنْ لَّدُنْكَ رَحْمَةً اِنَّكَ اَنْتَ الْوَهَّابُ
রাববানা- লা- তুযিগ কুলূবানা- বা‘দা ইয্ হাদাইতানা- ওয়াহাব্লানা- মিল্লাদুনকা রাহমাহ্, ইন্নাকা আনতাল ওয়াহ্হা-ব।
অর্থ : হে আমাদের প্রতিপালক! হিদায়াত দানের পর তুমি আমাদের অন্তরগুলোকে বাঁকা করে দিও না, আমাদেরকে তোমার নিকট হতে রহমত দান কর, অবশ্যই তুমি মহান দাতা। (সূরা আলে ইমরান- ৮)
২১. শয়তানের কুমন্ত্রণা হতে আশ্রয় চাওয়ার দু‘আ :
رَبِّ اَعُوْذُ بِكَ مِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِيْنِ - وَاَعُوْذُ بِكَ رَبِّ اَنْ يَّحْضُرُوْنِ
রাবিব আ‘ঊযু বিকা মিন হামাযা-তিশ শায়া-তীন, ওয়া আ‘ঊযু বিকা রাবিব আই ইয়াহ্যুরূন।
অর্থ : হে আমার রব! আমি শয়তানদের কুমন্ত্রণা হতে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আর আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি যেন তারা আমার কাছে না আসতে পারে। (সূরা মু’মিনূন- ৯৭)
২২. দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের দু‘আ :
رَبَّنَا اٰتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَّ فِي الْاٰ خِرَةِ حَسَنَةً وَّ قِنَا عَذَابَ النَّارِ
রাববানা আ-তিনা ফিদ্দুন্ইয়া হাসানাতাও ওয়াফিল আ-খিরাতি হাসানাতাও ওয়াক্বিনা ‘আযা-বান্না-র।
অর্থ : হে আমাদের রব! আমাদেরকে দুনিয়া এবং আখিরাতে কল্যাণ দান করুন আর আমাদেরকে জাহান্নামের আযাব হতে রক্ষা করুন। (সূরা বাকারা- ২০১)
২৩. মাতা-পিতার জন্য দু‘আ :
رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِيْ صَغِيْرًا
রাবিবর হামহুমা কামা রাববাইয়া-নী সাগীরা।
অর্থ : হে আমার প্রতিপালক! আমার মাতা-পিতার প্রতি দয়া করুন, যেভাবে তারা আমাকে শৈশবে লালনপালন করেছেন। (সূরা বানী ইসরাঈল- ২৪)
২৪. পাপ মোচনের দু‘আ :
رَبَّنَا ظَلَمْنَا اَنْفُسَنَا وَاِنْ لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُوْنَنَّ مِنَ الْخَاسِرِيْنَ
রাববানা যালাম্না আনফুসানা ওয়া ইল্লাম তাগ্ফির্লানা ওয়া তার্হাম্না লানাকূনান্না মিনাল খা-সিরীন।
অর্থ : হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা নিজেদের প্রতি অন্যায় করেছি, যদি আপনি আমাদেরকে ক্ষমা না করেন এবং দয়া না করেন, তবে আমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব। (সূরা আ‘রাফ- ২৩)
২৫. ঘুমানোর সময় দু‘আ :
اَمُوْتُ وَ اَحْيَا اَللّٰهُمَّ بِاسْمِكَ
আল্লা-হুম্মা বিস্মিকা আমূতু ওয়া আহ্ইয়া।
অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার নামে মৃত্যুবরণ করি (ঘুমাই) এবং আপনার নামেই জাগ্রত হই। (বুখারী হাঃ ৫৯৫৫)
আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে তিনি বলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ঘুমানোর জন্য নিজের বিছানায় যেতেন তখন সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক্ব, ও সূরা নাস পাঠ করতেন ও দু’হাত মিলিয়ে তাতে ফুঁ দিতেন এবং মাথা থেকে আরম্ভ করে যতটুকু সম্ভব নিজের শরীরে হাত বুলাতেন। (সহীহ বুখারী, হা/৫০১৭; আবু দাঊদ, হা/৫০৫৮; মিশকাত- ২১৩২)
সূরা ইখলাস, ফালাক্ব ও নাস :
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْم ‐ - قُلْ هُوَ اللهُ اَحَدٌ ‐ - اَللهُ الصَّمَدُ -‐ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُوْلَدْ -‐ وَلَمْ يَكُنْ لَّهٗ كُفُوًا اَحَدٌ ‐ - بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْم - ‐ قُلْ اَعُوْذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ ‐ - مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ ‐ - وَمِنْ شَرِّ غَاسِقٍ اِذَا وَقَبَ ‐ - وَمِنْ شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِيْ الْعُقَدِ ‐ - وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ اِذَا حَسَدَ - ‐ بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ -‐ قُلْ اَعُوْذُ بِرَبِّ النَّاسِ ‐ - مَلِكِ النَّاسِ ‐ - اِلٰهِ النَّاسِ -‐ مِنْ شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ ‐ - اَلَّذِيْ يُوَسْوِسُ فِيْ صُدُوْرِ النَّاسِ ‐ - مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ ‐
কুরআনের সূরা ও দু‘আসমূহ উচ্চারণ না দেখে মূল আরবি দেখে পড়া শিখতে হবে। কারণ উচ্চারণ দেখে পড়লে পড়া ভুল হয়।
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِيْ اَحْيَانَا بَعْدَ مَا اَمَاتَنَا واِلَيْهِ النُّشُوْرُ
আল্হাম্দুলিল্লা-হিল্লাযী আহ্ইয়া-না বা‘দা মা আমা-তানা ওয়াইলাইহিন নুশূর
অর্থ : সকল প্রশংসা আল্লাহ তা‘আলার জন্য যিনি আমাদেরকে মরণের পর জীবিত করেছেন এবং তাঁর দিকেই আবার প্রত্যাবর্তর্ন করতে হবে। (বুখারী হা/৬৩১২)
২. প্রস্রাব-পায়খানায় প্রবেশের দু‘আ :
اَللّٰهُمَّ اِنِّى اَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ
আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযুবিকা মিনাল খুবুসি ওয়ালখাবা-ইস।
অর্থ : হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট অপবিত্র মহিলা ও পুরুষ জ্বিন হতে আশ্রয় চাচ্ছি। (বুখারী, হা/১৪২, মুসলিম, হা/৮৫৭)
৩. প্রস্রাব-পায়খানা থেকে বের হওয়ার পর দু‘আ :
غُفْرَانَكَ (গুফরা-নাকা); অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমি ক্ষমা চাচ্ছি। (আবু দাঊদ, হা/৩০)
৪. বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় দু‘আ :
بِسْمِ اللهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللهِ لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ اِلاَّ بِاللهِ
বিসমিল্লা-হি তাওয়াক্কালতু ‘আলাল্লাহ লা-হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ
অর্থ : আল্লাহর নামে বের হলাম, তাঁর উপর ভরসা করলাম। আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপায় ও ক্ষমতা নেই। (আবু দাঊদ, হা/৫০৯৭; তিরমিযী, হা/৩৪২৬)
৫. ওযুর শুরুতে পড়ার দু‘আ :
بِسْمِ اللهِ (বিসমিল্লাহ)। অর্থাৎ আল্লাহর নামে শুরু করছি। (তিরমিযী, হা/২৫)
৬. ওযুর শেষে পড়ার দু‘আ :
اَشْهَدُ اَنْ لَّا اِلٰهَ اِلَّا اللهُ وَحْدَهٗ لَا شَرِيْكَ لَهٗ وَاَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهٗ وَرَسُوْلُهٗ
আশহাদু আল্লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহ্দাহু লা-শারীকালাহু ওয়া আশ্হাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহূ ওয়ারাসূলুহ্।
অর্থ : আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো মা‘বুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল। (মুসলিম হা/৫৭৬)
৭. মসজিদে প্রবেশের সময় দু‘আ :
اَللّٰهُمَّ افْتَحْ لِىْ اَبْوَابَ رَحْمَتِكَ
আল্লা-হুম্মাফ তাহলী আবওয়াবা রাহ্মাতিক।
অর্থ : হে আল্লাহ! আমার জন্য তোমার রহমতের দরজা খোলে দাও। (মুসলিম, হা/১৬৮৫)
৮. মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় দু‘আ :
اَللّٰهُمَّ اِنِّى اَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ
আল্লা-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকা মিন ফাযলিক।
অর্থ : হে আল্লাহ! আমি তোমার অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি। (মুসলিম, হা/১৬৮৫)
৯. খাওয়ার শুরুতে দু‘আ :
بِسْمِ اللهِ (বিসমিল্লাহ)। অর্থাৎ আল্লাহর নামে শুরু। (বুখারী, হা/৫৩৭৬)
১০. খাওয়ার শুরুতে বিসমিলস্নাহ ভুলে গেলে বলতে হয় :
بِسْمِ اللهِ اَوَّلَهٗ وَاٰخِرَهٗ
বিসমিল্লাহি আউওয়ালাহু ওয়া আ-খিরাহ।
অর্থ : খাওয়ার শুরু ও শেষ আল্লাহর নামে। (আবু দাঊদ, হা/৩৭৬৯)
আল্লাহ তা‘আলা ঐ ব্যক্তির উপর সন্তুষ্ট হন, যে খাওয়া এবং পান করার মাঝে মাঝে ‘আলহামদু লিল্লাহ’ বলে। (মুসলিম)
১১. খাওয়ার পর দু‘আ :
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِيْ اَطْعَمَنِيْ هٰذَا وَرَزَقَنِيْهِ مِنْ غَيْرِ حَوْلٍ مِّنِّيْ وَلَا قُوَّةٍ
আলহামদু লিল্লাহিল্লাযি আত্‘আমানী হা-যা ওয়া রাযাকানীহি মিন গাইরি হাওলিম মিননী ওয়ালা কূওয়াহ। (আবু দাঊদ, হা/৪০২৫)
অর্থ : সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য যিনি আমাকে এ পানাহার করালেন এবং আমার সামর্থ্য ও উপায় না থাকা সত্ত্বেও তা আমাকে দান করেছেন।
১২. কেউ দাওয়াত খাওয়ালে তার জন্য দু‘আ :
اَللّٰهُمَّ اَطْعِمْ مَنْ اَطْعَمَنِىْ وَاسْقِ مَنْ سَقَانِىْ
আল্লা-হুম্মা আত্‘ইম মান আত্‘আমানী ওয়াস্ক্বি মান সাক্বা-নী।
অর্থ : হে আল্লাহ! যে আমাকে আহার করালো তুমি তাকে আহার করাও, যে আমাকে পান করালো তুমি তাকে পান করাও। (মুসলিম, হা/৫৪৮২)
১৩. সালাম দেয়ার সময় বলতে হয় :
اَلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَ رَحْمَةُ اللهِ
আস্সালা-মু ‘আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লা-হ।
অর্থ : আপনার উপর শান্তি এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। (মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৩৩১৬)
১৪. সালামের উত্তর দেয়ার সময় বলতে হয় :
وَ عَلَيْكُمُ السَّلَامُ وَ رَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهٗ
ওয়া ‘আলাইকুমুস্ সালা-মু ওয়া রাহমাতুল্লা-হি ওয়া বারাকা-তুহ।
অর্থ : আর আপনার উপরও শান্তি ও আল্লাহর রহমত এবং বরকত বর্ষিত হোক।
(মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৩৩১৬)
১৫. অন্যের মাধ্যমে কেউ সালাম পাঠালে উত্তরে বলতে হয় :
عَلَيْكَ وَ عَلَيْهِ السَّلَامُ
‘আলাইকা ওয়া ‘আলাইহিস্ সালা-ম
অর্থ : আপনার উপর এবং তার উপর শান্তি বর্ষিত হোক। (আবু দাঊদ, হা/৫২৩৩)
১৬. মুসাফাহার দু‘আ :
نَحْمَدُ اللهَ وَ نَسْتَغْفِرُهٗ
নাহমাদুল্লা-হা ওয়া নাস্তাগ্ফিরুহ।
অর্থ : আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি।
নবী সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যখন কোন দু’জন মুসলমান মিলিত হয় অতঃপর মুসাফাহা করে এবং আল্লাহর প্রশংসা ও ক্ষমা-প্রার্থনা করে তখন তাদের গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়। (আবূ দাউদ হা/৫২১২)
১৭. হাঁচি দাতা ও শ্রোতার জন্য পঠিতব্য দু‘আ :
হাঁচি দাতা ব্যক্তি বলবে, اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ (আলহামদুলিল্লা-হ) সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। যারা এটা শুনবে তারা বলবে - يَرْحَمُكَ اللهُ (ইয়ারহামুকাল্লাহ) আল্লাহ তোমার প্রতি দয়া করুন। অতঃপর হাঁচি দাতা ব্যক্তি পুনরায় বলবে - يَهْدِيْكُمُ اللهُ وَيُصْلِحُ بَالَكُمْ (ইয়াহ্দীকুমুল্লা-হু ওয়া ইউসলিহু বা-লাকুম। অর্থাৎ, আল্লাহ যেন তোমাদেরকে পথপ্রদর্শন করেন এবং তোমাদের অবস্থা ভালো করে দেন। (বুখারী, হা/৬২২৪; আবু দাঊদ, হা/৫০৩৫)
১৮. আত্মার পবিত্রতা লাভের দু‘আ :
اَللّٰهُمَّ اٰتِ نَفْسِيْ تَقْوَاهَا وَزَكِّهَا اَنْتَ خَيْرُ مَنْ زَكَّاهَا اَنْتَ وَلِيُّهَا وَمَوْلَاهَا
আল্লা-হুম্মা আ-তি নাফ্সী তাক্বওয়া-হা, ওয়া যাক্কিহা- আন্তা খাইরু মান যাককা-হা আন্তা ওয়ালিয়্যুহা- ওয়ামাও লা-হা।
অর্থ : হে আল্লাহ! আমার আত্মাকে সংযম দান কর এবং তাকে পবিত্র কর। আত্মা পবিত্রকারীদের মধ্যে তুমিই উত্তম, তুমিই তার মালিক। (মুসলিম, হা/৭০৮১)
১৯. অন্তর স্থির রাখার দু‘আ :
يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوْبِ ثَبِّتْ قَلْبِيْ عَلٰى دِيْنِكَ
ইয়া- মুক্বাল্লিবাল কুলূব, সাব্বিত ক্বালবী ‘আলা- দীনিক।
অর্থ : হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! তোমার দ্বীনের উপর আমার অন্তরকে প্রতিষ্ঠিত রাখ। (তিরমিযী, হা/২১৪০)
২০. হিদায়াতের উপর টিকে থাকার দু‘আ :
رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوْبَنَا بَعْدَ اِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِنْ لَّدُنْكَ رَحْمَةً اِنَّكَ اَنْتَ الْوَهَّابُ
রাববানা- লা- তুযিগ কুলূবানা- বা‘দা ইয্ হাদাইতানা- ওয়াহাব্লানা- মিল্লাদুনকা রাহমাহ্, ইন্নাকা আনতাল ওয়াহ্হা-ব।
অর্থ : হে আমাদের প্রতিপালক! হিদায়াত দানের পর তুমি আমাদের অন্তরগুলোকে বাঁকা করে দিও না, আমাদেরকে তোমার নিকট হতে রহমত দান কর, অবশ্যই তুমি মহান দাতা। (সূরা আলে ইমরান- ৮)
২১. শয়তানের কুমন্ত্রণা হতে আশ্রয় চাওয়ার দু‘আ :
رَبِّ اَعُوْذُ بِكَ مِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِيْنِ - وَاَعُوْذُ بِكَ رَبِّ اَنْ يَّحْضُرُوْنِ
রাবিব আ‘ঊযু বিকা মিন হামাযা-তিশ শায়া-তীন, ওয়া আ‘ঊযু বিকা রাবিব আই ইয়াহ্যুরূন।
অর্থ : হে আমার রব! আমি শয়তানদের কুমন্ত্রণা হতে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আর আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি যেন তারা আমার কাছে না আসতে পারে। (সূরা মু’মিনূন- ৯৭)
২২. দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের দু‘আ :
رَبَّنَا اٰتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَّ فِي الْاٰ خِرَةِ حَسَنَةً وَّ قِنَا عَذَابَ النَّارِ
রাববানা আ-তিনা ফিদ্দুন্ইয়া হাসানাতাও ওয়াফিল আ-খিরাতি হাসানাতাও ওয়াক্বিনা ‘আযা-বান্না-র।
অর্থ : হে আমাদের রব! আমাদেরকে দুনিয়া এবং আখিরাতে কল্যাণ দান করুন আর আমাদেরকে জাহান্নামের আযাব হতে রক্ষা করুন। (সূরা বাকারা- ২০১)
২৩. মাতা-পিতার জন্য দু‘আ :
رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِيْ صَغِيْرًا
রাবিবর হামহুমা কামা রাববাইয়া-নী সাগীরা।
অর্থ : হে আমার প্রতিপালক! আমার মাতা-পিতার প্রতি দয়া করুন, যেভাবে তারা আমাকে শৈশবে লালনপালন করেছেন। (সূরা বানী ইসরাঈল- ২৪)
২৪. পাপ মোচনের দু‘আ :
رَبَّنَا ظَلَمْنَا اَنْفُسَنَا وَاِنْ لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُوْنَنَّ مِنَ الْخَاسِرِيْنَ
রাববানা যালাম্না আনফুসানা ওয়া ইল্লাম তাগ্ফির্লানা ওয়া তার্হাম্না লানাকূনান্না মিনাল খা-সিরীন।
অর্থ : হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা নিজেদের প্রতি অন্যায় করেছি, যদি আপনি আমাদেরকে ক্ষমা না করেন এবং দয়া না করেন, তবে আমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব। (সূরা আ‘রাফ- ২৩)
২৫. ঘুমানোর সময় দু‘আ :
اَمُوْتُ وَ اَحْيَا اَللّٰهُمَّ بِاسْمِكَ
আল্লা-হুম্মা বিস্মিকা আমূতু ওয়া আহ্ইয়া।
অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার নামে মৃত্যুবরণ করি (ঘুমাই) এবং আপনার নামেই জাগ্রত হই। (বুখারী হাঃ ৫৯৫৫)
আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে তিনি বলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ঘুমানোর জন্য নিজের বিছানায় যেতেন তখন সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক্ব, ও সূরা নাস পাঠ করতেন ও দু’হাত মিলিয়ে তাতে ফুঁ দিতেন এবং মাথা থেকে আরম্ভ করে যতটুকু সম্ভব নিজের শরীরে হাত বুলাতেন। (সহীহ বুখারী, হা/৫০১৭; আবু দাঊদ, হা/৫০৫৮; মিশকাত- ২১৩২)
সূরা ইখলাস, ফালাক্ব ও নাস :
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْم ‐ - قُلْ هُوَ اللهُ اَحَدٌ ‐ - اَللهُ الصَّمَدُ -‐ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُوْلَدْ -‐ وَلَمْ يَكُنْ لَّهٗ كُفُوًا اَحَدٌ ‐ - بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْم - ‐ قُلْ اَعُوْذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ ‐ - مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ ‐ - وَمِنْ شَرِّ غَاسِقٍ اِذَا وَقَبَ ‐ - وَمِنْ شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِيْ الْعُقَدِ ‐ - وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ اِذَا حَسَدَ - ‐ بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ -‐ قُلْ اَعُوْذُ بِرَبِّ النَّاسِ ‐ - مَلِكِ النَّاسِ ‐ - اِلٰهِ النَّاسِ -‐ مِنْ شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ ‐ - اَلَّذِيْ يُوَسْوِسُ فِيْ صُدُوْرِ النَّاسِ ‐ - مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ ‐
কুরআনের সূরা ও দু‘আসমূহ উচ্চারণ না দেখে মূল আরবি দেখে পড়া শিখতে হবে। কারণ উচ্চারণ দেখে পড়লে পড়া ভুল হয়।