১
কুরআন ও সহীহ হাদীসে আলোকে সদকা-খয়রাত
লেখকঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইবন আব্দুল আযীয আল-মাদানী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২২
১৭. আল্লাহ তা‘আলার পথে সদকা-খয়রাত জাহান্নাম থেকে রক্ষা পাওয়ার বিরাট একটি মাধ্যম:
আল্লাহ তা‘আলার পথে সদকা-খয়রাত করা জাহান্নাম থেকে রক্ষা পাওয়ার একটি বিরাট মাধ্যম।
‘আদি’ ইবন হাতিম রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«اتَّقُوْا النَّارَ وَلَوْ بِشِقِّ تَمْرَةٍ»
“তোমরা জাহান্নাম থেকে বাঁচো। এমনকি একটি খেজুরের একাংশ সদকা করে হলেও”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৪১৭; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১০১৬]
‘আদি ইবন হাতিম রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে আরো বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«لاَ تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى يَطُوْفَ أَحَدُكُمْ بِصَدَقَتِهِ، لاَ يَجِـدُ مَنْ يَّقْبَلُهَا مِنْهُ، ثُمَّ لَيَقِفَنَّ أَحَدُكُمْ بَيْنَ يَدَيِ اللهِ، لَيْسَ بَيْنَهُ وَبَيْنَهُ حِجَابٌ، وَلاَ تَرْجُمَانٌ يُتَرْجِمُ لَهُ، ثُمَّ لَيَقُوْلَنَّ لَهُ : أَلَمْ أُؤْْتِكَ مَالاً ؟ فَلَيَقُوْلَنَّ : بَلَى، ثُمَّ لَيَقُوْلَنَّ : أَلَمْ أُرْسِلْ إِلَيْكَ رَسُوْلاً ؟ فَلَيَقُوْلَنَّ : بَلَى، فَيَنْظُرُ عَنْ يَمِيْنِهِ فَلاَ يَرَى إِلاَّ النَّارَ، ثُمَّ يَنْظُرُ عَنْ شِمَالِهِ فَلاَ يَرَى إِلاَّ النَّارَ، فَلْيَتَّقِيَنَّ أَحَدُكُمْ النَّارَ وَلَوْ بِشِقِّ تَمْرَةٍ، فَإِنْ لَمْ يَجِدْ فَبِكَلِمَةٍ طَيِّبَةٍ»
“কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না তোমাদের কেউ সদকা নিয়ে ঘুরে বেড়াবে। সে এমন লোক খুঁজে পাবে না যে তা গ্রহণ করবে। অতঃপর তোমাদের প্রত্যেককেই কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলার সামনে উপস্থিত হতে হবে। তখন আল্লাহ তা‘আলা ও তার মাঝে কোনো পর্দা থাকবে না। না থাকবে কোনো অনুবাদক। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তাকে বলবেন, আমি কি তোমাকে সম্পদ দেইনি? তখন সে বলবে, অবশ্যই দিয়েছেন। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তাকে আরো বলবেন, আমি কি তোমার নিকট কোনো রাসূলুল্লাহ পাঠাইনি? তখন সে বলবে, অবশ্যই পাঠিয়েছেন। তখন সে তার ডানে তাকাবে এবং আগুন ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাবে না। অতঃপর সে তার বামে তাকাবে এবং আগুন ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাবে না। অতএব তোমাদের প্রত্যেকেরই জাহান্নাম থেকে বাঁচতে চেষ্টা করা অবশ্যই কর্তব্য। এমনকি একটি খেজুরের অর্ধাংশ সদকা করে হলেও। আর যদি তা না পাও তা হলে একটি সুন্দর উপদেশ মূলক কথা বলে হয়েও”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৪১৩, ৩৫৯৫]
’হারিস আশ্‘আরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«إِنَّ اللهَ أَوْحَى إِلَى يَحْيَى بْنِ زَكَرِيَّا بِخَمْسِ كَلِمَاتٍ أَنْ يَعْمَلَ بِهِنَّ، وَيَأْمُرَ بَنِيْ إِسْرَائِيْلَ أَنْ يَعْمَلُوْا بِهِنَّ – فَذَكَرَ الْـحَدِيْثَ إِلَى أَنْ قَالَ فِيْهِ -: وَآمُرُكُمْ بِالصَّدَقَةِ، وَمَثَلُ ذَلِكَ كَمَثَلِ رَجُلٍ أَسَرَهُ الْعَدُوُّ، فَأَوْثَقُوْا يَدَهُ إِلَى عُنُقِهِ، وَقَرَّبُـوْهُ لِيَضْرِبُوْا عُنُقَهُ، فَجَعَلَ يَقُوْلُ : هَلْ لَكُمْ أَنْ أَفْدِيَ نَفْسِيْ مِنْكُمْ؟ وَجَعَلَ يُعْطِيْ الْقَلِيْلَ وَالْكَثِيْرَ حَتَّى فَدَى نَفْسَهُ»
“আল্লাহ তা‘আলা ইয়াহ্ইয়া ইবন যাকারিয়া ‘আলাইহিস সালামের নিকট পাঁচটি বাক্য প্রত্যাদেশ হিসেবে পাঠান; যাতে তিনি সেগুলোর উপর আমল করেন এবং সকল বনী ইস্রাঈলকে আদেশ করেন সেগুলোর উপর আমল করার জন্য। তার মধ্যে একটি হচ্ছে, আমি তোমাদেরকে সদকার আদেশ করছি। সদকার দৃষ্টান্ত এমন এক ব্যক্তির ন্যায় যাকে শত্রু পক্ষ বন্দী করেছে। এমনকি তারা তার হাত-পা শক্ত করে বেঁধে তাকে হত্যা করার জন্য যথাস্থানে উপস্থিত করেছে। তখন সে বললো, তোমরা কি আমাকে সম্পদের বিনিময়ে ছেড়ে দেবে? এ বলে সে কম-বেশি যা পেরেছে দিয়ে তাদের হাত থেকে নিজকে মুক্ত করেছে”। [সুনান তিরমিযী, হাদীস নং ২৮৬৩]
‘আদি’ ইবন হাতিম রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«اتَّقُوْا النَّارَ وَلَوْ بِشِقِّ تَمْرَةٍ»
“তোমরা জাহান্নাম থেকে বাঁচো। এমনকি একটি খেজুরের একাংশ সদকা করে হলেও”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৪১৭; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১০১৬]
‘আদি ইবন হাতিম রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে আরো বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«لاَ تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى يَطُوْفَ أَحَدُكُمْ بِصَدَقَتِهِ، لاَ يَجِـدُ مَنْ يَّقْبَلُهَا مِنْهُ، ثُمَّ لَيَقِفَنَّ أَحَدُكُمْ بَيْنَ يَدَيِ اللهِ، لَيْسَ بَيْنَهُ وَبَيْنَهُ حِجَابٌ، وَلاَ تَرْجُمَانٌ يُتَرْجِمُ لَهُ، ثُمَّ لَيَقُوْلَنَّ لَهُ : أَلَمْ أُؤْْتِكَ مَالاً ؟ فَلَيَقُوْلَنَّ : بَلَى، ثُمَّ لَيَقُوْلَنَّ : أَلَمْ أُرْسِلْ إِلَيْكَ رَسُوْلاً ؟ فَلَيَقُوْلَنَّ : بَلَى، فَيَنْظُرُ عَنْ يَمِيْنِهِ فَلاَ يَرَى إِلاَّ النَّارَ، ثُمَّ يَنْظُرُ عَنْ شِمَالِهِ فَلاَ يَرَى إِلاَّ النَّارَ، فَلْيَتَّقِيَنَّ أَحَدُكُمْ النَّارَ وَلَوْ بِشِقِّ تَمْرَةٍ، فَإِنْ لَمْ يَجِدْ فَبِكَلِمَةٍ طَيِّبَةٍ»
“কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না তোমাদের কেউ সদকা নিয়ে ঘুরে বেড়াবে। সে এমন লোক খুঁজে পাবে না যে তা গ্রহণ করবে। অতঃপর তোমাদের প্রত্যেককেই কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলার সামনে উপস্থিত হতে হবে। তখন আল্লাহ তা‘আলা ও তার মাঝে কোনো পর্দা থাকবে না। না থাকবে কোনো অনুবাদক। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তাকে বলবেন, আমি কি তোমাকে সম্পদ দেইনি? তখন সে বলবে, অবশ্যই দিয়েছেন। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তাকে আরো বলবেন, আমি কি তোমার নিকট কোনো রাসূলুল্লাহ পাঠাইনি? তখন সে বলবে, অবশ্যই পাঠিয়েছেন। তখন সে তার ডানে তাকাবে এবং আগুন ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাবে না। অতঃপর সে তার বামে তাকাবে এবং আগুন ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাবে না। অতএব তোমাদের প্রত্যেকেরই জাহান্নাম থেকে বাঁচতে চেষ্টা করা অবশ্যই কর্তব্য। এমনকি একটি খেজুরের অর্ধাংশ সদকা করে হলেও। আর যদি তা না পাও তা হলে একটি সুন্দর উপদেশ মূলক কথা বলে হয়েও”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৪১৩, ৩৫৯৫]
’হারিস আশ্‘আরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«إِنَّ اللهَ أَوْحَى إِلَى يَحْيَى بْنِ زَكَرِيَّا بِخَمْسِ كَلِمَاتٍ أَنْ يَعْمَلَ بِهِنَّ، وَيَأْمُرَ بَنِيْ إِسْرَائِيْلَ أَنْ يَعْمَلُوْا بِهِنَّ – فَذَكَرَ الْـحَدِيْثَ إِلَى أَنْ قَالَ فِيْهِ -: وَآمُرُكُمْ بِالصَّدَقَةِ، وَمَثَلُ ذَلِكَ كَمَثَلِ رَجُلٍ أَسَرَهُ الْعَدُوُّ، فَأَوْثَقُوْا يَدَهُ إِلَى عُنُقِهِ، وَقَرَّبُـوْهُ لِيَضْرِبُوْا عُنُقَهُ، فَجَعَلَ يَقُوْلُ : هَلْ لَكُمْ أَنْ أَفْدِيَ نَفْسِيْ مِنْكُمْ؟ وَجَعَلَ يُعْطِيْ الْقَلِيْلَ وَالْكَثِيْرَ حَتَّى فَدَى نَفْسَهُ»
“আল্লাহ তা‘আলা ইয়াহ্ইয়া ইবন যাকারিয়া ‘আলাইহিস সালামের নিকট পাঁচটি বাক্য প্রত্যাদেশ হিসেবে পাঠান; যাতে তিনি সেগুলোর উপর আমল করেন এবং সকল বনী ইস্রাঈলকে আদেশ করেন সেগুলোর উপর আমল করার জন্য। তার মধ্যে একটি হচ্ছে, আমি তোমাদেরকে সদকার আদেশ করছি। সদকার দৃষ্টান্ত এমন এক ব্যক্তির ন্যায় যাকে শত্রু পক্ষ বন্দী করেছে। এমনকি তারা তার হাত-পা শক্ত করে বেঁধে তাকে হত্যা করার জন্য যথাস্থানে উপস্থিত করেছে। তখন সে বললো, তোমরা কি আমাকে সম্পদের বিনিময়ে ছেড়ে দেবে? এ বলে সে কম-বেশি যা পেরেছে দিয়ে তাদের হাত থেকে নিজকে মুক্ত করেছে”। [সুনান তিরমিযী, হাদীস নং ২৮৬৩]