hadith book logo

কুরআন ও সহীহ হাদীসে আলোকে সদকা-খয়রাত

লেখকঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইবন আব্দুল আযীয আল-মাদানী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫৮

কোনো জায়গায় সদকার আলোচনা চললে যে ব্যক্তি সর্বপ্রথম সদকা করবে সে তৎপরবর্তী সকল সদকার সাওয়াব একাই পাবে:

জারীর ইবন আব্দুল্লাহ্ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা এক দুপুরবেলায় আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বসা ছিলাম। এমতাবস্থায় অর্ধ উলঙ্গ, পায়ে জুতোবিহীন, তলোয়ার কাঁধে ঝুলানো, সাদা-কালো ডোরাবিশিষ্ট চাদর পরা কিছু লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সম্মুখে উপস্থিত হলো। তাদের অধিকাংশ বা সবাই মুযার গোত্রের। তাদের দুরবস্থা দেখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চেহারা বিবর্ণ হয়ে যায়। তিনি ঘরে ঢুকলেন আবার বেরুলেন। অতঃপর বিলাল রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু কে আদেশ করলে তিনি আযান ও ইকামত দেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করে বক্তব্য দিতে শুরু করেন।

তিনি বলেন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন, হে মানব সকল! তোমরা নিজ প্রভুকে ভয় করো যিনি তোমাদেরকে একই ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁরই থেকে সৃষ্টি করেন তাঁর সহধর্মিণীকে। তাঁদের উভয় থেকে আরো সৃষ্টি করেন বহু নর-নারী। যারা পুরো দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। তোমরা আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় করো যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট কিছু চাও এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করাকে ভয় করো। নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের তত্ত্বাবধানকারী। [সূরা আন-নিসা’, আয়াদ: ১]

আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন, হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় করো এবং প্রত্যেকেরই এ কথা ভাবা আবশ্যক যে, সে আগামীকাল তথা কিয়ামতের দিনের জন্য কি তৈরি করেছে। তোমরা আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় করো। নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের কর্মকান্ড সম্পর্কে সম্যক অবগত। হাশ্র: ১৮

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, প্রত্যেকেই যেন দীনার, দিরহাম, কাপড়, গম, খেজুর এমনকি একটি খেজুরের একাংশ হলেও সদকা করে। এ কথা শুনে জনৈক আনসারী বড়ো এক থলে খেজুর নিয়ে আসলো। যা সে অনেক কষ্ট করেই বহন করছিলো। এরপর আরো অনেকেই অনেক কিছু নিয়ে আসলো। এমনকি দেখতে দেখতে খাদ্য ও কাপড়ের দু’টি স্তূপ জমে গেলো। তা দেখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চেহারা স্বর্ণের মতো জ্বলজ্বল করছিলো। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,

«مَنْ سَنَّ فِيْ الْإِسْلاَمِ سُنَّةً حَسَنَةً فَلَهُ أَجْرُهَا وَأَجْرُ مَنْ عَمِلَ بِهَا بَعْدَهُ، مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنْقُصَ مِنْ أُجُوْرِهِمْ شَيْءٌ، وَمَنْ سَنَّ فِيْ الْإِسْلاَمِ سُنَّةً سَيِّئَةً كَانَ عَلَيْهِ وِزْرُهَا وَوِزْرُ مَنْ عَمِلَ بِهَا مِنْ بَعْدِهِ، مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنْقُصَ مِنْ أَوْزَارِهِمْ شَيْءٌ»

“যে ব্যক্তি কোনো সমাজে ইসলামের কোনো একটি ভালো কাজ চালু করলো যা ইতোপূর্বে ওই সমাজে চালু ছিলো না তা হলে তার আমলনামায় সে ভালো কাজটির সাওয়াব লেখা হবে এবং আরো লেখা হবে ওই সকল আমলের সাওয়াবও যা তার পরবর্তীতে তারই অনুকরণে করা হয়েছে। তবে ওদের সাওয়াব এতটুকুও কম করা হবে না। ঠিক এরই বিপরীতে যে ব্যক্তি কোনো সমাজে ইসলামের কোনো একটি খারাপ কাজ চালু করলো যা ইতোপূর্বে ওই সমাজে চালু ছিলো না তা হলে তার আমলনামায় সে খারাপ কাজটির গুনাহ্ লেখা হবে এবং আরো লেখা হবে ওই সকল আমলের গুনাহ্ও যা তার পরবর্তীতে তারই অনুকরণে করা হয়েছে। তবে ওদের গুনাহ্ এতটুকুও কম করা হবে না”। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১০১৭]