hadith book logo

কুরআন ও সহীহ হাদীসে আলোকে সদকা-খয়রাত

লেখকঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইবন আব্দুল আযীয আল-মাদানী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৭

২. আল্লাহ তা‘আলার পথে সদকা-খয়রাত করলে তা বহু গুণে পাওয়া যায়:

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿ مَّن ذَا ٱلَّذِي يُقۡرِضُ ٱللَّهَ قَرۡضًا حَسَنٗا فَيُضَٰعِفَهُۥ لَهُۥٓ أَضۡعَافٗا كَثِيرَةٗۚ وَٱللَّهُ يَقۡبِضُ وَيَبۡصُۜطُ وَإِلَيۡهِ تُرۡجَعُونَ ٢٤٥ ﴾ [ البقرة : ٢٤٥ ]

“তোমাদের মধ্যে এমন কে আছে, যে আল্লাহ তা‘আলাকে উত্তম ঋণ দিবে তথা আল্লাহ তা‘আলার পথে সদকা করবে। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তাকে তা বহু বহু গুণে বাড়িয়ে দিবেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলাই কাউকে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ও অস্বচ্ছল করেন এবং তাঁর দিকেই তোমাদেরকে প্রত্যাবর্তিত হতে হবে”। [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৪৫]

আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,

﴿ مَّثَلُ ٱلَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمۡوَٰلَهُمۡ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِ كَمَثَلِ حَبَّةٍ أَنۢبَتَتۡ سَبۡعَ سَنَابِلَ فِي كُلِّ سُنۢبُلَةٖ مِّاْئَةُ حَبَّةٖۗ وَٱللَّهُ يُضَٰعِفُ لِمَن يَشَآءُۚ وَٱللَّهُ وَٰسِعٌ عَلِيمٌ ٢٦١ ٱلَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمۡوَٰلَهُمۡ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِ ثُمَّ لَا يُتۡبِعُونَ مَآ أَنفَقُواْ مَنّٗا وَلَآ أَذٗى لَّهُمۡ أَجۡرُهُمۡ عِندَ رَبِّهِمۡ وَلَا خَوۡفٌ عَلَيۡهِمۡ وَلَا هُمۡ يَحۡزَنُونَ ٢٦٢ ﴾ [ البقرة : ٢٦١، ٢٦٢ ]

“যারা আল্লাহ তা‘আলার পথে নিজেদের ধন-সম্পদগুলো ব্যয় করে তাদের উপমা যেমন একটি শস্য বীজ। যা থেকে উৎপন্ন হয়েছে সাতটি শীষ। প্রত্যেক শীষে রয়েছে শত শস্য। আর আল্লাহ তা‘আলা যার জন্য ইচ্ছে করবেন তাকে আরো বাড়িয়ে দিবেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা হচ্ছেন মহান দাতা ও মহাজ্ঞানী। যারা আল্লাহ তা‘আলার পথে নিজেদের ধন-সম্পদগুলো ব্যয় করে এবং সে জন্য কাউকে খোঁটাও দেয় না, না দেয় কষ্ট। তাদের জন্য রয়েছে তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে বিশেষ পুরস্কার। বস্তুতঃ তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা কখনো চিন্তাগ্রস্তও হবে না”। [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৬১-২৬২]

তিনি আরো বলেন,

﴿ إِن تُقۡرِضُواْ ٱللَّهَ قَرۡضًا حَسَنٗا يُضَٰعِفۡهُ لَكُمۡ وَيَغۡفِرۡ لَكُمۡۚ وَٱللَّهُ شَكُورٌ حَلِيمٌ ١٧ ﴾ [ التغابن : ١٧ ]

“তোমরা যদি আল্লাহ তা‘আলাকে উত্তম ঋণ দান করো তথা তাঁর পথে সদকা-খয়রাত করো তা হলে তিনি তোমাদেরকে তা বহু গুণে বাড়িয়ে দিবেন এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা মহা গুণগ্রাহী ও অত্যন্ত সহনশীল”। [সূরা আত-তাগাবুন, আয়াত: ১৭]

আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,

﴿ إِنَّ ٱلۡمُصَّدِّقِينَ وَٱلۡمُصَّدِّقَٰتِ وَأَقۡرَضُواْ ٱللَّهَ قَرۡضًا حَسَنٗا يُضَٰعَفُ لَهُمۡ وَلَهُمۡ أَجۡرٞ كَرِيمٞ ١٨ ﴾ [ الحديد : ١٨ ]

“নিশ্চয় দানশীল পুরুষ ও দানশীলা নারী এবং যারা আল্লাহ তা‘আলাকে উত্তম ঋণ দান করে তাদেরকে দেওয়া হবে বহুগুণ বেশী সাওয়াব এবং তাদের জন্য রয়েছে অত্যন্ত সম্মানজনক মহা পুরস্কার”। [সূরা আল-হাদীদ, আয়াত: ১৮]

তিনি আরো বলেন,

﴿ يَمۡحَقُ ٱللَّهُ ٱلرِّبَوٰاْ وَيُرۡبِي ٱلصَّدَقَٰتِۗ وَٱللَّهُ لَا يُحِبُّ كُلَّ كَفَّارٍ أَثِيمٍ ٢٧٦ ﴾ [ البقرة : ٢٧٦ ]

“আল্লাহ তা‘আলা সুদের বরকত উঠিয়ে নেন এবং সদকা বর্ধিত করেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা অতি কৃতঘ্ন তথা কাফির পাপাচারীদেরকে ভালোবাসেন না”। [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৭৬]

কোনো সদকায় সাতটি গুণ পাওয়া গেলে তা বহুগুণে বেড়ে যায়। যা নিম্নরূপঃ

ক. সদকা হালাল হওয়া।

খ. নিজের প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও সদকা করা।

গ. দ্রুত সদকা করা।

ঘ. পছন্দনীয় বস্তু সদকা করা।

ঙ. লুকিয়ে সদকা করা।

চ. সদকা দিয়ে তুলনা না দেওয়া।

ছ. সদকাগ্রহীতাকে কোনোভাবে কষ্ট না দেওয়া।

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«مَنْ تَصَدَّقَ بِعَدْلِ تَمْرَةٍ مِنْ كَسْبٍ طَيِّبٍ، وَلاَ يَقْبَلُ اللَّهُ إِلَّا الطَّيِّبَ، وَإِنَّ اللَّهَ يَتَقَبَّلُهَا بِيَمِينِهِ، ثُمَّ يُرَبِّيهَا لِصَاحِبِهِ، كَمَا يُرَبِّي أَحَدُكُمْ فَلُوَّهُ، حَتَّى تَكُونَ مِثْلَ الجَبَلِ»

“যে ব্যক্তি হালাল কামাই থেকে একটি খেজুর সমপরিমাণ সদকা করবে (আর আল্লাহ তা‘আলা তো একমাত্র হালাল বস্তুই গ্রহণ করে থাকেন) আল্লাহ তা‘আলা তা ডান হাতে গ্রহণ করবেন। অতঃপর তা তার কল্যাণেই বর্ধিত করবেন যেমনিভাবে তোমাদের কেউ একটি ঘোড়ার বাচ্চাকে সুন্দরভাবে লালন-পালন করে বর্ধিত করে। এমনকি আল্লাহ তা‘আলা পরিশেষে সে খেজুর সমপরিমাণ বস্তুটিকে একটি পাহাড় সমপরিমাণ বানিয়ে দেন”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৪১০]