hadith book logo

কুরআন ও সহীহ হাদীসে আলোকে সদকা-খয়রাত

লেখকঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইবন আব্দুল আযীয আল-মাদানী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৮৫

৪. সুযোগ পেলেই কাউকে খানা খাওয়ানো:

আল্লাহ তা‘আলা সৎকর্মশীল বান্দাহদের গুণ-বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন,

﴿ يُوفُونَ بِٱلنَّذۡرِ وَيَخَافُونَ يَوۡمٗا كَانَ شَرُّهُۥ مُسۡتَطِيرٗا ٧ وَيُطۡعِمُونَ ٱلطَّعَامَ عَلَىٰ حُبِّهِۦ مِسۡكِينٗا وَيَتِيمٗا وَأَسِيرًا ٨ إِنَّمَا نُطۡعِمُكُمۡ لِوَجۡهِ ٱللَّهِ لَا نُرِيدُ مِنكُمۡ جَزَآءٗ وَلَا شُكُورًا ٩ إِنَّا نَخَافُ مِن رَّبِّنَا يَوۡمًا عَبُوسٗا قَمۡطَرِيرٗا ١٠ فَوَقَىٰهُمُ ٱللَّهُ شَرَّ ذَٰلِكَ ٱلۡيَوۡمِ وَلَقَّىٰهُمۡ نَضۡرَةٗ وَسُرُورٗا ١١ وَجَزَىٰهُم بِمَا صَبَرُواْ جَنَّةٗ وَحَرِيرٗا ١٢ ﴾ [ الانسان : ٧، ١٢ ]

“তারা মানত পুরা করে এবং সে দিনকে ভয় করে যে দিনের বিপদ হবে অত্যন্ত ব্যাপক। তারা খাবারের প্রতি নিজেদের প্রচন্ড আসক্তি থাকা সত্ত্বেও (তা নিজেরা না খেয়ে) অভাবী, এতিম ও বন্দীকে খাওয়ায়। তারা বলেঃ আমরা তো তোমাদেরকে খাওয়াচ্ছি একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টির জন্য। আমরা তোমাদের নিকট থেকে এর কোনো প্রতিদান চাই না; না চাই কোনো ধরনের কৃতজ্ঞতা। আমরা তো আমাদের প্রভুর কাছ থেকে এক চরম ভয়ঙ্কর দিনের ভয় পাচ্ছি। তাই তো আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে সে দিনের কঠিন বিপদ থেকে রক্ষা করবেন এবং তাদেরকে দিবেন অধিক আনন্দ ও উৎফুল্লতা। উপরন্তু তাদের ধৈর্যশীলতার দরুন তাদেরকে দিবেন জান্নাত ও রেশমী কাপড়”। [সূরা আল-ইনসান (দাহর), আয়াত: ৭-১২]

সাধারণত কাফির ও জাহান্নামীরাই কাউকে খানা খাওয়ায় না এবং খাওয়াতে উৎসাহও দেয় না।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿ كُلُّ نَفۡسِۢ بِمَا كَسَبَتۡ رَهِينَةٌ ٣٨ إِلَّآ أَصۡحَٰبَ ٱلۡيَمِينِ ٣٩ فِي جَنَّٰتٖ يَتَسَآءَلُونَ ٤٠ عَنِ ٱلۡمُجۡرِمِينَ ٤١ مَا سَلَكَكُمۡ فِي سَقَرَ ٤٢ قَالُواْ لَمۡ نَكُ مِنَ ٱلۡمُصَلِّينَ ٤٣ وَلَمۡ نَكُ نُطۡعِمُ ٱلۡمِسۡكِينَ ٤٤ وَكُنَّا نَخُوضُ مَعَ ٱلۡخَآئِضِينَ ٤٥ وَكُنَّا نُكَذِّبُ بِيَوۡمِ ٱلدِّينِ ٤٦ ﴾ [ المدثر : ٣٨، ٤٦ ]

“প্রতিটি ব্যক্তি নিজ কৃতকর্মের দায়ে আবদ্ধ। তবে ডান হাতে আমলনামাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা নয়। তারা তো থাকবে জান্নাতে। বরং তারা অপরাধীদেরকে জিজ্ঞাসা করবেঃ তোমরা কেন সাক্বার জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হলে? তখন তারা বলবে, আমরা তো সালাতীই ছিলাম না। অভাবীদেরকে খানাও খাওয়াতাম না। বরং আমরা সমালোচনাকারীদের সাথেই (ইসলাম ও মুসলিম বিরোধী) সমালোচনায় অংশ গ্রহণ করতাম। উপরন্তু আমরা ছিলাম কর্মফল দিবসে অবিশ্বাসী”। [সূরা আল-মুদ্দাসসির, আয়াত: ৩৮-৪৬]

আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,

﴿ أَرَءَيۡتَ ٱلَّذِي يُكَذِّبُ بِٱلدِّينِ ١ فَذَٰلِكَ ٱلَّذِي يَدُعُّ ٱلۡيَتِيمَ ٢ وَلَا يَحُضُّ عَلَىٰ طَعَامِ ٱلۡمِسۡكِينِ ٣ ﴾ [ الماعون : ١، ٣ ]

“তুমি কি দেখেছো তাকে যে কর্মফলকে মিথ্যা বলে। সেই তো ওই ব্যক্তি যে এতিমকে (ঘৃণাভরে) তাড়িয়ে দেয়। এমনকি সে কোনো অভাবীকে খানা খাওয়াতেও কাউকে উৎসাহ দেয় না”। [সূরা আল-মাঊন, আয়াত: ১-৩]

আব্দুল্লাহ্ ইবন সালাম রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«أَيُّهَا النَّاسُ ! أَفْشُوْا السَّلاَمَ، وَأَطْعِمُوْا الطَّعَامَ، وَصَلُّوْا بِاللَّيْلِ وَالنَّاسُ نِيَامٌ؛ تَدْخُلُوْا الْـجَنَّةَ بِسَلاَمٍ»

“হে মানবসকল! তোমরা একে অপরকে সালাম দাও। মানুষকে খানা খাওয়াও। রাত্রিবেলায় তাহাজ্জুদের সালাত পড়ো যখন মানুষ ঘুমিয়ে থাকে তা হলে তোমরা চরম নিরাপত্তার মাধ্যমেই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে”। [সহীহুত তারগীবি ওয়াত তারহীব, হাদীস নং ৯৪৯]

আব্দুল্লাহ্ ইবন ‘আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«اُعْبُدُوْا الرَّحْمَنَ، وَأَطْعِمُوْا الطَّعَامَ، وَأَفْشُوْا السَّلاَمَ ؛ تَدْخُلُوْا الْـجَنَّةَ بِسَلاَمٍ»

“তোমরা দয়াময় প্রভুর ইবাদাত করো। মানুষকে খানা খাওয়াও। একে অপরকে সালাম দাও তা হলে তোমরা চরম নিরাপত্তার মাধ্যমেই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে”। [সুনান তিরমিযী, হাদীস নং ১৮৫৫]