hadith book logo

কুরআন ও সহীহ হাদীসে আলোকে সদকা-খয়রাত

লেখকঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইবন আব্দুল আযীয আল-মাদানী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৮২

সদকা দেওয়ার কিছু বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্র: ১. জনকল্যাণে পাড়ায় পাড়ায় পানি সরবরাহের জন্য পুকুর বা নলকূপ খনন করা:

সা’দ্ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু একদা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, কোনো সদকা আপনার নিকট অধিক পছন্দনীয়? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,

«الْـمَاءُ»

“জনকল্যাণে পানি সরবরাহ করা”। [সুনান আবু দাউদ, হাদীস নং ১৬৭৯]

অন্য বর্ণনায় এসেছে, সা’দ্ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু একদা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! সা'দের মা তথা আমার মা তো মরে গেলো। অতএব তাঁর জন্য কোন্ সদকা করলে বেশি ভালো হবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,

«الْـمَاءُ»

“জনকল্যাণে পানি সরবরাহ করা”। [সুনান আবু দাউদ, হাদীস নং ১৬৮১]

তখন সা’দ্ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু একটি কূপ খনন করলেন এবং বললেন, এটি সা'দের মার জন্য।

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«لَيْسَ صَدَقَةٌ أَعْظَمَ أَجْرًا مِنْ مَاءٍ»

“পানি সরবরাহের চাইতে আরো বেশি সাওয়াবের সদকা আর নেই”। [সহীহুত তারগীবি ওয়াত তারহীব, হাদীস নং ৯৬০]

জাবির রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«مَنْ حَفَرَ مَاءً لَمْ يَشْرَبْ مِنْهُ كَبِدٌ حَرَّى مِنْ جِنٍّ وَلاَ إِنْسٍ وَلاَ طَائِرٍ إِلاَّ آجَرَهُ اللهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ»

“কেউ কোনো কুয়া খনন করলে তা থেকে মানুষ, জিন, পাখি তথা যে কোনো পিপাসার্ত প্রাণীই পান করুক না কেন আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন তাকে এর সাওয়াব দিবেন”। [সহীহুত তারগীবি ওয়াত তারহীব, হাদীস নং ৯৬৩]

জনৈক ব্যক্তি কোনো মানুষকে নয় বরং একটি পিপাসার্ত কুকুরকে পানি পান করিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করলেন।

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«بَيْنَمَا رَجُلٌ يَمْشِيْ بِطَرِيْقٍ، اشْتَدَّ عَلَيْهِ الْعَطَشُ، فَوَجَـدَ بِئْرًا فَنَزَلَ فِيْهَا، فَشَرِبَ ثُمَّ خَرَجَ، فَإِذَا كَلْبٌ يَلْهَثُ، يَأْكُلُ الثَّرَى مِنَ الْعَطَشِ، فَقَالَ الرَّجُلُ : لَقَدْ بَلَغَ هَذَا الْكَلْبَ مِنَ الْعَطَشِ مِثْلُ الَّذِيْ كَانَ بَلَغَ بِيْ، فَنَزَلَ الْبِئْرَ فَمَلَأَ خُفَّهُ ثُمَّ أَمْسَكَهُ بِفِيْهِ فَسَقَى الْكَلْبَ، فَشَكَرَ اللهُ لَهُ، فَغَفَرَ لَهُ، وَفِيْ رِوَايَةٍ : فَأَدْخَلَهُ الْـجَنَّةَ، قَالُوْا : يَا رَسُوْلَ اللهِ ! وَإِنَّ لَنَا فِيْ الْبَهَائِمِ أَجْرًا؟ فَقَالَ : فِيْ كُلِّ ذَاتِ كَبِدٍ رَطْبَةٍ أَجْرٌ»

“একদা জনৈক ব্যক্তি রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলো। এমতাবস্থায় হঠাৎ তার কঠিন পিপাসা লেগে গেলো। পথিমধ্যে সে একটি কুয়া দেখতে পেয়ে তাতে নেমে পানি পান করে বেরিয়ে আসলো। উপরে উঠে সে দেখতে পেলো একটি কুকুর হাঁপাচ্ছে। পিপাসায় সে কাঁচা মাটি খাচ্ছে। তখন লোকটি মনে মনে বললো, আমার যেমন পিপাসা লেগেছিলো তেমনি তো এ কুকুরটিরও পিপাসা লেগেছে। তখন সে আবারো কুয়ায় নেমে নিজের (চামড়ার) মোজায় পানি ভর্তি করে উপরে উঠলো এবং কুকুরটিকে পানি পান করালো। আল্লাহ তা‘আলা এর প্রতিদানস্বরূপ তাকে ক্ষমা করে দিলেন। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, তাকে জান্নাত দিয়ে দিলেন। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! চতুষ্পদ জন্তুর পরিচর্যা করলেও কি আমরা সাওয়াব পাবো? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, প্রতিটি প্রাণীর পরিচর্যায়ই সাওয়াব রয়েছে”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬০০৯; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২২৪৪]