hadith book logo

কুরআন ও হাদীসের আলোকে সহজ আকীদা

লেখকঃ ড. আহমাদ ইবন আব্দুর রহমান আল-কাযী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৩

তৃতীয়ত: আল্লাহর উলূহিয়্যাতের উপর ঈমান স্থাপন করা

অর্থাৎ এ কথার দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করা যে, একক আল্লাহ তা‘আলাই সত্যিকার ইলাহ, মা‘বুদ/উপাস্য। তিনিই ইবাদত পাওয়ার উপযুক্ত। তিনি ছাড়া আর কেউ ইবাদাত পাওয়ার উপযুক্ত নয়। কারণ, ইলাহ অর্থ এমন উপাস্য যাকে অন্তরসমূহ ভালোবাসা ও সম্মানের সাথে ইলাহ হিসেবে মান্য করে। আর ইবাদতের হাকীকত হলো, পরিপূর্ণ ভালোবাসা, পূর্ণ বিনয়, পূর্ণ সম্মান প্রদর্শন ও পুরোপুরি অবনত হওয়া। আর তা একমাত্র একজন ইলাহের জন্যেই হতে হবে। এ ধরণের ঈমানের বিষয়টি মহা সাক্ষ্য, মহা সাক্ষ্য দাতা থেকে মহা সাক্ষী হিসেবে এসেছে। মহান আল্লাহ বলেন:

﴿شَهِدَ ٱللَّهُ أَنَّهُۥ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ وَٱلۡمَلَٰٓئِكَةُ وَأُوْلُواْ ٱلۡعِلۡمِ قَآئِمَۢا بِٱلۡقِسۡطِۚ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلۡعَزِيزُ ٱلۡحَكِيمُ ١٨﴾ [ ال عمران : ١٨ ]

“আল্লাহ সাক্ষ্য দেন যে, তিনি ছাড়া কোনো (সত্য) ইলাহ নেই, আর ফিরিশতা ও জ্ঞানীগণও। তিনি ন্যায় দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। তিনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ বা উপাস্য নেই। তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়”। [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৮]

﴿وَإِلَٰهُكُمۡ إِلَٰهٞ وَٰحِدٞۖ لَّآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلرَّحۡمَٰنُ ٱلرَّحِيمُ ١٦٣﴾ [ البقرة : ١٦٣ ]

“তোমাদের সত্য ইলাহ বা উপাস্য একই সত্য ইলাহ বা উপাস্য। তিনি ছাড়া কোন সত্য ইলাহ বা উপাস্য নেই। তিনি পরম করুনাময় ও অতি দয়ালু”। [সূরা আল বাকারাহ, আয়াত: 163]

মহান আল্লাহ মাখলুক থেকে সম্পূর্ণ অমুখাপেক্ষি হওয়ার পরও সমস্ত মাখলুক মানব দানব সবকিছুকেই তার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন:

﴿وَمَا خَلَقۡتُ ٱلۡجِنَّ وَٱلۡإِنسَ إِلَّا لِيَعۡبُدُونِ ٥٦ مَآ أُرِيدُ مِنۡهُم مِّن رِّزۡقٖ وَمَآ أُرِيدُ أَن يُطۡعِمُونِ ٥٧﴾ [ الذاريات : ٥٦، ٥٧ ]

“আর জিন্ন ও মানুষকে কেবল এজন্যই সৃষ্টি করেছি যে তারা যেন আমার ইবাদাত করে। আমি তাদের কাছে কোনো রিযিক চাই না; আর আমি চাই না যে, তারা আমাকে খাবার দিবে”। [সূরা আয-যারিয়াত, আয়াত: ৫৬, ৫৭]

এবং ঈমানকে বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে এ সব নাবী ও রাসূলদের দুনিয়াতে মানব জাতির নিকট প্রেরণ করেছেন। আর এ ঈমানের বাস্তবায়নের দাবি হলো, যাবতীয় ইবাদত একমাত্র একক আল্লাহর জন্য হবে। যদি কেউ ইবাদাতের কিছু অংশ গাইরুল্লাহর জন্য সোপর্দ করে সে অবশ্যই কাফির ও মুশরিক হয়ে যাবে। আর এ ইবাদত কয়েক প্রকার: