hadith book logo

কুরআন ও হাদীসের আলোকে সহজ আকীদা

লেখকঃ ড. আহমাদ ইবন আব্দুর রহমান আল-কাযী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৯

কুরআন, সূন্নাহ ও ইজমা‘ দ্বারা প্রমাণিত আল্লাহর সিফাতসমূহ

এক- উঁচু বা উপরে থাকার গুণ: এ গুণটি তিন প্রকার: ক্ষমতার দিক থেকে উচ্চতা, সত্তার দিক থেকে উচ্চতা, পরাক্রমশীলতার দিক থেকে উচ্চতা; আল্লাহ সবকিছুর ঊর্ধ্বে, তার মাখলুকের কোনো মাখলুক তার ঊর্ধ্বে নয়। তিনি তার আসমানসমূহের উপর স্বীয় আরশের ঊর্ধ্বে রয়েছেন। তিনি তার মাখলুক বা সৃষ্টি থেকে আলাদা, তার মধ্যে তার সৃষ্টির কিছু নেই এবং তার মাখলুকের মধ্যে তার কোনো কিছুই নেই। এটি আল্লাহর একটি সত্বাগত গুণ।

দুই- ইস্তেওয়া বা উপরে উঠার সিফাত: অর্থাৎ মহান আল্লাহ আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টির পর স্বীয় আরশের ঊর্ধ্বে উঠেছেন। তিনি বাস্তবেই তার শান ও বড়ত্ব অনুযায়ী আরশের ঊর্ধ্বে অবস্থিত হয়েছেন। তার ঊর্ধ্বে উঠা ও থাকা মাখলুকের ঊর্ধ্বে উঠা বা থাকার মত নয়। বরং তা তার শান অনুযায়ী। এটি আল্লাহর কর্মগত গুণাগুণ।

তিন- কালাম বা কথা বলার সিফাত: অর্থাৎ মহান আল্লাহ অক্ষর ও স্বর দ্বারা বাস্তবেই কথা বলে থাকেন, তার কথা শোনা যায়। আল্লাহর কথা মাখলুকের কথার মতো নয়। তিনি যখন চান, যেভাবে চান, যা চান তা বলেন। তার কথা ইনসাফপূর্ণ ও সত্য। তার কথা কখনো শেষ হবে না। তিনি সর্বদা কথা বলার গুণে গুণান্বিত ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন। এটি মূল বৈশিষ্ট্যের দিক বিবেচনায় আল্লাহর সত্বাগত সিফাত আর তার কোনো কোনোটি সিফাত বা গুণাগুণ অংশবিশেষ বিবেচনায় কর্মগত সিফাত।

উল্লিখিত সব ধরণের সিফাত বাস্তব ও সত্য। ফলে এগুলোর বর্ণনা যেভাবে এসেছে সেভাবে সাব্যস্ত করা, তার উপর ছেড়ে দেওয়া এবং তার কোনো প্রকার পদ্ধতি বর্ণনা করা ছাড়া প্রকাশ্য অর্থের উপর প্রয়োগ করা ওয়াজিব। এ মূলনীতিটি সমস্ত সিফাতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। সুতরাং কোনো একটি সিফাতের ক্ষেত্রে কথা বলা মানে অন্য সব সিফাতের বিষয়ে কথা বলা, এতে কোনো পার্থক্য নেই। আর যে ব্যক্তি পার্থক্য করবে সে দলীল প্রমাণ ছাড়া কোনো একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণে নিয়জিত হবে।