hadith book logo

কুরআন ও হাদীসের আলোকে সহজ আকীদা

লেখকঃ ড. আহমাদ ইবন আব্দুর রহমান আল-কাযী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৯

যারা ভাগ্যের প্রতি ঈমানের অধ্যায়ে পথভ্রষ্ট:

দু’টি গ্রুপ তাকদীরের অধ্যায়ে পথভ্রষ্ট:

এক- কাদারিয়্যাহ, যারা তাকদীরকে অস্বীকার করে। তারা দু শ্রেণিতে বিভক্ত:

ক- কট্টর গোষ্ঠী: তারা এ গোষ্ঠীর প্রথমযুগের মানুষ, যারা আল্লাহ তা‘আলার ইলম ও লিখন উভয়টিকেই অস্বীকার করেছিল এবং তারা দাবি করেছিল যে, সব কিছুই ঘটে আকস্মিকভাবে।

খ- নমনীয় গোষ্ঠী: তারা মু‘তাযিলা ফের্কা, তারা আল্লাহর ইচ্ছা ও সৃষ্টিকে অস্বীকার করেছিল। তারা বিশ্বাস করত যে, বান্দা নিজেই তার কর্মের স্রষ্টা।

দুই: জাবারিয়্যাহ, যারা বলে, বান্দা তার কর্মে বাধ্য। তারা বান্দা থেকে তার ইচ্ছা, কর্মক্ষমতা ও স্বাধীনতাকে অস্বীকার করে। তারা বান্দার নড়চড় করাকে প্যারালাইসিস রুগির মত বাধ্যতামূলক মনে করে। আর তারা আল্লাহর কর্মসমূহে হিকমত ও কারণকে অস্বীকার করে।

বস্তুত কাদরিয়াহ ও জাবরিয়াহ এ উভয় শ্রেণি বাস্তবতা ও শরী‘আত উভয় দ্বারা পরাজিত ও প্রত্যাখ্যাত। কারণ,

১. চার স্তরে তাকদীর সাব্যস্তকারী সু-স্পষ্ট নসসমূহ তাকদীর অস্বীকারকারীদের দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে। আর বাস্তবতাও প্রমাণ করে যে, মানুষ কোনো কর্ম করার ইচ্ছা করে এবং তা তার ইচ্ছা ও সে কাজের মাঝখানে প্রতিবন্ধকতা এসে থাকে। (সুতরাং বুঝা যায়, মানুষের ইচ্ছা আছে তবে তাতে অন্য কোনো সত্ত্বার হস্তক্ষেপ আছে)

২. আর কট্টর জাবরিয়া গোষ্ঠী যারা তাকদীর প্রমাণে বাড়াবাড়ি করে মানুষকে কর্মকাণ্ডমুক্ত মনে করে, যে সমস্ত দলিল প্রমাণ বা ভাষ্য কর্ম ও মানুষের ইচ্ছা সাব্যস্ত করে সেগুলো তাদের উক্ত দাবীকে খণ্ডন করে দেয়। তাছাড়া বাস্তবতাও প্রমাণ করে যে, প্রতিটি মানুষ তার ইচ্ছাকৃত কর্ম ও অনিচ্ছাকৃত কর্মের মধ্যে পার্থক্য করে নিতে পারে।

অনুরূপভাবে শরী‘আতের বহু দলিল এটা প্রমাণ করছে যে আল্লাহ তা‘আলার কর্মকাণ্ডে হিকমত রয়েছে এবং তাতে কারণও রয়েছে।