hadith book logo

কুরআন ও হাদীসের আলোকে সহজ আকীদা

লেখকঃ ড. আহমাদ ইবন আব্দুর রহমান আল-কাযী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৭

চতুর্থত: আল্লাহর নামসমূহ ও গুণসমূহের প্রতি ঈমান স্থাপন করা

অর্থাৎ এ কথা দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করা যে, আল্লাহ তা‘আলার রয়েছে সুন্দর নামসমূহ এবং মহৎ গুনাগুণ। মহান আল্লাহ তার স্বীয় কিতাবে নিজের জন্য যা সাব্যস্ত করেছেন এবং তার রাসূল স্বীয় সুন্নাতে আল্লাহর জন্য যে সব পরিপূর্ণতা ও মহত্বের গুণাগুণ সাব্যস্ত করেছেন তা কোনো প্রকার পদ্ধতি নির্ধারণ, ধরণ ও দৃষ্টান্ত ছাড়া তার জন্য সাব্যস্ত করা। আর মহান আল্লাহ স্বীয় কিতাবে এবং তার নাবী স্বীয় সুন্নাতে যে সব অপূর্ণতা, দোষ ও মাখলুকের সাদৃশ হওয়ার গুণাগুণকে নিজের জন্য নিষেধ করেছেন তা মহান আল্লাহ থেকে নিষেধ করা। আল্লাহর নাম ও গুণের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার বিকৃতি ও অকার্যকর করার নীতিও অবলম্বন করা যাবে না। মহান আল্লাহ এ বিষয়ে বলেন:

﴿وَلِلَّهِ ٱلۡأَسۡمَآءُ ٱلۡحُسۡنَىٰ فَٱدۡعُوهُ بِهَاۖ وَذَرُواْ ٱلَّذِينَ يُلۡحِدُونَ فِيٓ أَسۡمَٰٓئِهِۦۚ سَيُجۡزَوۡنَ مَا كَانُواْ يَعۡمَلُونَ ١٨٠﴾ [ الاعراف : ١٧٩ ]

“আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ। সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাক। আর তাদেরকে বর্জন কর যারা তাঁর নামে বিকৃতি ঘটায়। তারা যা করত অচিরেই তাদেরকে তার প্রতিফল দেওয়া হবে”। [সূরা আল-আ‘রাফ, আয়াত: ১৭৯]

মহান আল্লাহ বলেন:

﴿لَيۡسَ كَمِثۡلِهِۦ شَيۡءٞۖ وَهُوَ ٱلسَّمِيعُ ٱلۡبَصِيرُ ١١﴾ [ الشورى : ١١ ]

“তাঁর মতো কিছু নেই আর তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা”। [সূরা আশ-শূরা, আয়াত: ১১]

আল্লাহ তা‘লার নাম ও সিফাতসমূহ দলীল নির্ভর। এখানে যুক্তির কোনো স্থান নেই। মহান আল্লাহ তার নিজের সম্পর্কে অথবা তার রাসূল আল্লাহ সম্পর্কে যে সব গুণের বর্ণনা দিয়েছেন তা ছাড়া অন্য কোনো গুণে তাকে গুনান্বিত বা নামকরণ করা যাবে না। এ বিষয়ে কুরআন ও হাদীসকে অতিক্রম করার কোনো সুযোগ নেই। যে সব গুণাগুণ সম্পর্কে আল্লাহ ও তার রাসূল চুপ থেকেছেন, সে সব গুণাগুণ থেকে চুপ থাকা ওয়াজিব।

কোনো গুণকে আল্লাহর জন্য না করা ও সাব্যস্ত করা উভয় ক্ষেত্রে দলীল নির্ভর হতে হবে। আল্লাহর নাম ও গুণের বর্ণনাকারী থেকে তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। যদি ভালো ও বিশুদ্ধ অর্থ উদ্দেশ্য হয়, তা গ্রহণ করা হবে এবং শব্দ প্রত্যাখান করা হবে। আর যদি অশুদ্ধ অর্থ উদ্দেশ্য হয়, তাহলে শব্দ ও অর্থ উভয়টি প্রত্যাখ্যান করা হবে। মহান আল্লাহ বলেন:

﴿وَلَا تَقۡفُ مَا لَيۡسَ لَكَ بِهِۦ عِلۡمٌۚ إِنَّ ٱلسَّمۡعَ وَٱلۡبَصَرَ وَٱلۡفُؤَادَ كُلُّ أُوْلَٰٓئِكَ كَانَ عَنۡهُ مَسۡ‍ُٔولٗا ٣٦﴾ [ الاسراء : ٣٦ ]

“আর যে বিষয় তোমার জানা নাই তার অনুসরণ করো না। নিশ্চয় কান, চোখ ও অন্তকরণ -এদের প্রতিটির ব্যাপারে সে জিজ্ঞাসিত হবে”। সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ৩৬]

আল্লাহর নামসমূহের সৌন্দর্য্য অসীম ও তুলনাহীন। এ গুলো সবই আল্লাহর সত্ত্বার উপর নিদর্শন এবং তার গুণাগুণের বর্ণনা। আর আল্লাহর গুণসমূহ স্বয়ংসম্পন্ন ও পরিপূর্ণ।

কোনো দিক থেকে তার মধ্যে কোনো প্রকার খুঁত নেই। মহান আল্লাহ বলেন:

﴿وَلَهُ ٱلۡمَثَلُ ٱلۡأَعۡلَىٰ فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِۚ وَهُوَ ٱلۡعَزِيزُ ٱلۡحَكِيمُ ٢٧﴾ [ الروم : ٢٧ ]

“আসমান ও জমিনে সর্বোচ্চ মর্যাদা তাঁরই এবং তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়”। [সূরা আর-রূম, আয়াত: ২৭]

আর তা সত্য। সুতরাং কোনো প্রকার বিকৃতি ছাড়া তার অর্থকে বাহ্যিক বা শাব্দিক অর্থের উপর প্রয়োগ করা ওয়াজিব। এগুলোর মধ্যে দৃষ্টান্ত বা অকার্যকর বানানো দ্বারা বিকৃতি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অথবা যে নামে মহান আল্লাহ তার নিজের নাম রাখেন নি এমন কোনো নাম আল্লাহর জন্য সৃষ্টি করা অথবা আল্লাহর কোনো নামকে গাইরুল্লাহর জন্য প্রয়োগ করা সম্পূর্ণ হারাম।

কোনো কিছু চাওয়ার জন্য এবং তার ইবাদতের জন্য আল্লাহকে তার নামসমূহের মাধ্যমে ডাকা ওয়াজিব। আল্লাহর নামসমূহের সংরক্ষণ, মর্মার্থ অনুধাবন করা, এ সম্পর্কীয় বিভিন্ন বর্ণনায় চিন্তা-ফিকির করা এবং সে অনুযায়ী আমল করা জরুরি। আর এ ধরণের ইলম হলো, সবচেয়ে সম্মানী ইলম।