১
অমুসলিমদের সাথে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণ প্রসঙ্গ
লেখকঃ ড. রাগিব আস-সারজানী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৫
প্রথম পরিচ্ছেদ: অমুসলিমদের সাথে সদাচরণের ঐশী পদ্ধতি
অমুসলিমদের সাথে সদাচরণে ঐশী পদ্ধতির সৌন্দর্যের মূল উৎস তো এটা যে, এ পদ্ধতি কোনো মানুষের বানানো নিয়ম-কানুন নয়, যা করা না করার ব্যাপারে মানুষ সমঝোতা করে নিবে; বরং তা হচ্ছে আসমানী ইলাহী পদ্ধতি। মুসলিমগণ ইবাদত হিসেবেই যার সার্বদায়িক বাস্তবায়ন করে থাকেন।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿لَّا يَنۡهَىٰكُمُ ٱللَّهُ عَنِ ٱلَّذِينَ لَمۡ يُقَٰتِلُوكُمۡ فِي ٱلدِّينِ وَلَمۡ يُخۡرِجُوكُم مِّن دِيَٰرِكُمۡ أَن تَبَرُّوهُمۡ وَتُقۡسِطُوٓاْ إِلَيۡهِمۡۚ إِنَّ ٱللَّهَ يُحِبُّ ٱلۡمُقۡسِطِينَ ٨﴾ [ الممتحنة : ٨ ]
“দীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে নি এবং তোমাদেরকে দেশ থেকে বহিস্কৃত করে নি, তাদের প্রতি সদাচরণ ও ইনসাফ করতে আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে নিষেধ করেন না। নিশ্চয় আল্লাহ তা‘য়ালা ইনসাফকারীদেরকে ভালোবাসেন।” [সূরা আল-মুমতাহিনা, আয়াত: ৮]
কতোই না মহান আমাদের আল্লাহ..!
কতোই না অনুগ্রহ আল্লাহ তা‘আলার...!
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুমিনদেরকে অসিয়ত করেছেন যে, ঐ সকল মানুষদের সাথেও সদাচরণ করতে যারা আল্লাহ তা‘আলার দাওয়াতকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরুদ্ধাচরণ করেছে এবং তারা আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছার বিরোধী পথ ও পন্থার অনুসরণ করেছে!!
মুসলিমরা আকীদা-বিশ্বাসে তাদের বিরোধীদের সাথে সদাচরণ করার মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলার নৈকট্য অর্জন করতে চায়। যতক্ষন না বিরোধীরা তাদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয় অথবা তাদের প্রতি অত্যাচার করে..!!
﴿أَن تَبَرُّوهُمۡ﴾ উক্ত শব্দের ব্যাখ্যায় ইবন কাসীর রহ. তাঁর তাফসীর গ্রন্থে লিখেন যে, تحسنوا إليهم ‘তোমরা তাদের সাথে উত্তম আচরণ কর’। [. ইবন কাসীর: তাফসীরুল কুরআন (৪/৪৪৭)]
এ بر বা সদাচরণ ন্যায়-ইনসাফ থেকেও উঁচু পর্যায়ের। তাইতো আল্লাহ তা‘আলা সদাচরণ-এর সাথে ন্যায় ও ইনসাফকে সংযোজন করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: أَن تَبَرُّوهُمۡ وَتُقۡسِطُوٓاْ إِلَيۡهِمۡۚ
আবার আল্লাহ তা‘আলা উক্ত আয়াতে সদাচরণের জন্য এমন শব্দ بر ব্যবহার করেছেন, যা সাধারণত সর্বোন্নত ও মহৎ আচরণের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। কুরআন ও হাদীসে এ শব্দটিকে সন্তান কর্তৃক মাতা-পিতার সাথে উত্তম আচরণের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে। যেমন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কোনো ব্যক্তি প্রশ্ন করল যে, আল্লাহ তা‘আলার কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল কী? তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তরে বললেন, “সময় মতো সালাত আদায় করা। অতঃপর পুনরায় প্রশ্ন করল যে, তারপর কোন আমল? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,
«ثم بر الوالدين»
“অতঃপর মাতা-পিতার সাথে সদাচরণ করা” [. সহীহ বুখারী ( كتاب مواقيت الصلاة ، باب فضل الصلاة على و قتها ) হাদীস নং ৫০৪। সহীহ মুসলিম ( كتاب الإيمان ، باب كون الإيمان بالله تعالى أفضل الأعمال ) হাদীস নং ৮৫।]
আবার কল্যাণ অর্থে শব্দটিকে ব্যবহার করে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿لَن تَنَالُواْ ٱلۡبِرَّ حَتَّىٰ تُنفِقُواْ مِمَّا تُحِبُّونَۚ﴾ [ ال عمران : ٩٢ ]
“তোমরা কখনও بر বা কল্যাণ লাভ করতে পারবে না, যদি তোমাদের প্রিয় বস্তু থেকে ব্যয় না কর।” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৯২]
এভাবে কুরআন ও সুন্নাহে অসংখ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে যার প্রত্যেকটিতেই بر বা সদাচরণের মাহাত্ম্যের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
প্রিয় পাঠক! যুদ্ধ চলাকালীন সময় ছাড়া অন্য সব সময় অমুসলিমদের সাথে এ بر বা সদাচরণেরই আদেশ আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে করেছেন।
অমুসলিমদের সাথে আচরণের এ ঐশী পদ্ধতি যতটা মহৎ ও সর্বোন্নত ততটাই উন্নত ও মহৎ হবে এ পদ্ধতির চর্চা ও বাস্তবায়ন যে রাসূল করেছেন তাঁর চরিত্রও। যা বলার অপেক্ষা রাখে না।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿لَّا يَنۡهَىٰكُمُ ٱللَّهُ عَنِ ٱلَّذِينَ لَمۡ يُقَٰتِلُوكُمۡ فِي ٱلدِّينِ وَلَمۡ يُخۡرِجُوكُم مِّن دِيَٰرِكُمۡ أَن تَبَرُّوهُمۡ وَتُقۡسِطُوٓاْ إِلَيۡهِمۡۚ إِنَّ ٱللَّهَ يُحِبُّ ٱلۡمُقۡسِطِينَ ٨﴾ [ الممتحنة : ٨ ]
“দীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে নি এবং তোমাদেরকে দেশ থেকে বহিস্কৃত করে নি, তাদের প্রতি সদাচরণ ও ইনসাফ করতে আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে নিষেধ করেন না। নিশ্চয় আল্লাহ তা‘য়ালা ইনসাফকারীদেরকে ভালোবাসেন।” [সূরা আল-মুমতাহিনা, আয়াত: ৮]
কতোই না মহান আমাদের আল্লাহ..!
কতোই না অনুগ্রহ আল্লাহ তা‘আলার...!
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুমিনদেরকে অসিয়ত করেছেন যে, ঐ সকল মানুষদের সাথেও সদাচরণ করতে যারা আল্লাহ তা‘আলার দাওয়াতকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরুদ্ধাচরণ করেছে এবং তারা আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছার বিরোধী পথ ও পন্থার অনুসরণ করেছে!!
মুসলিমরা আকীদা-বিশ্বাসে তাদের বিরোধীদের সাথে সদাচরণ করার মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলার নৈকট্য অর্জন করতে চায়। যতক্ষন না বিরোধীরা তাদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয় অথবা তাদের প্রতি অত্যাচার করে..!!
﴿أَن تَبَرُّوهُمۡ﴾ উক্ত শব্দের ব্যাখ্যায় ইবন কাসীর রহ. তাঁর তাফসীর গ্রন্থে লিখেন যে, تحسنوا إليهم ‘তোমরা তাদের সাথে উত্তম আচরণ কর’। [. ইবন কাসীর: তাফসীরুল কুরআন (৪/৪৪৭)]
এ بر বা সদাচরণ ন্যায়-ইনসাফ থেকেও উঁচু পর্যায়ের। তাইতো আল্লাহ তা‘আলা সদাচরণ-এর সাথে ন্যায় ও ইনসাফকে সংযোজন করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: أَن تَبَرُّوهُمۡ وَتُقۡسِطُوٓاْ إِلَيۡهِمۡۚ
আবার আল্লাহ তা‘আলা উক্ত আয়াতে সদাচরণের জন্য এমন শব্দ بر ব্যবহার করেছেন, যা সাধারণত সর্বোন্নত ও মহৎ আচরণের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। কুরআন ও হাদীসে এ শব্দটিকে সন্তান কর্তৃক মাতা-পিতার সাথে উত্তম আচরণের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে। যেমন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কোনো ব্যক্তি প্রশ্ন করল যে, আল্লাহ তা‘আলার কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল কী? তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তরে বললেন, “সময় মতো সালাত আদায় করা। অতঃপর পুনরায় প্রশ্ন করল যে, তারপর কোন আমল? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,
«ثم بر الوالدين»
“অতঃপর মাতা-পিতার সাথে সদাচরণ করা” [. সহীহ বুখারী ( كتاب مواقيت الصلاة ، باب فضل الصلاة على و قتها ) হাদীস নং ৫০৪। সহীহ মুসলিম ( كتاب الإيمان ، باب كون الإيمان بالله تعالى أفضل الأعمال ) হাদীস নং ৮৫।]
আবার কল্যাণ অর্থে শব্দটিকে ব্যবহার করে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿لَن تَنَالُواْ ٱلۡبِرَّ حَتَّىٰ تُنفِقُواْ مِمَّا تُحِبُّونَۚ﴾ [ ال عمران : ٩٢ ]
“তোমরা কখনও بر বা কল্যাণ লাভ করতে পারবে না, যদি তোমাদের প্রিয় বস্তু থেকে ব্যয় না কর।” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৯২]
এভাবে কুরআন ও সুন্নাহে অসংখ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে যার প্রত্যেকটিতেই بر বা সদাচরণের মাহাত্ম্যের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
প্রিয় পাঠক! যুদ্ধ চলাকালীন সময় ছাড়া অন্য সব সময় অমুসলিমদের সাথে এ بر বা সদাচরণেরই আদেশ আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে করেছেন।
অমুসলিমদের সাথে আচরণের এ ঐশী পদ্ধতি যতটা মহৎ ও সর্বোন্নত ততটাই উন্নত ও মহৎ হবে এ পদ্ধতির চর্চা ও বাস্তবায়ন যে রাসূল করেছেন তাঁর চরিত্রও। যা বলার অপেক্ষা রাখে না।