hadith book logo

অমুসলিমদের সাথে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণ প্রসঙ্গ

লেখকঃ ড. রাগিব আস-সারজানী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৪

পাঁচ. ফুযালাহ ইবন উমায়েরের সাথে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সদাচরণ।

ফুযালাহ ইবন উমায়েরও ছিল রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘোরতর শত্রুদের একজন। তার শত্রুতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, মক্কা বিজয়ের দিন সে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হত্যা করার আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল। সেটি ছিল অত্যন্ত ভয়ংকর ষড়যন্ত্র। সেদিন সেনানায়ক হিসেবে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দশ হাজার সাহাবীদের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছিলেন। ফুযালাহ নিশ্চিত জানতো যে, এ ষড়যন্ত্র বাস্তবায়িত হলে তার প্রাণে রক্ষা নেই। তারপরও সে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হত্যা করার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করতে তৈরী হয়ে গেল...।

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাওয়াফ করছিলেন। ফুযালাহ পোষাকের নিচে তরবারী লুকিয়ে রেখে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আশে পাশে ঘুরাঘুরি করছিলো। যখন খুব নিকটবর্তী হলো তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে লক্ষ্য করে বললেন, ‘ফুযালাহ নাকি?’ সে বলল, ‘হ্যাঁ আমি ফুযালাহ, ইয়া রাসূলাল্লাহ!’ (ঐ সময় সে প্রকাশ্যে ইসলাম গ্রহণ করে মুসলিমদের বেশ ধরে ছিল)।

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি মনে মনে কী ভাবছ?

ফুযালাহ বলল, না না কিছু না, আমি আল্লাহর যিকির করছিলাম।

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেঁসে ফেললেন এবং বললেন, ফুযালাহ, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও। অতঃপর তিনি তার বক্ষে হাত রাখলেন। ফলে তার অন্তর প্রশান্ত হয়ে গেল। সে নিজেই বর্ণনা করছেন, ‘তিনি আমার বক্ষ থেকে হাত উঠানোর সাথে সাথেই আমার অনুভব হলো যে, পৃথিবীতে আমার নিকট সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তি তিনিই’। [. ইবন কাসীর: আল-বিদায়াহ ওয়ান-নিহায়াহ (৪/৩৪২)।]

এটা ছিল ঐ ব্যক্তির সাথে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণ যে তাঁকে হত্যা করার পরিকল্পনাই করে নি শুধু; বরং তা বাস্তবায়নের চেষ্টাও করেছে এবং তরবারী বহন করে তার কাছাকাছিও চলে এসেছিলো। যদি না আল্লাহ তাঁর রাসূলকে হিফাযত করতেন।